আজ সোমবার ২৫শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ বিকাল ৪:৫০

add

স্বাধীনতার ৪৮বছর পরেও ১৩৫ শহীদের বধ্যভূমি গৌরনদীর মরার ভিটায় কোন স্মৃতিস্তম্ভ করা হয়নি

প্রবাসীর কথা ডেস্ক
প্রকাশিত: মার্চ ১২, ২০১৯

খোন্দকার মনিরুজ্জামান মনির গৌরনদী (বরিশাল) থেকে : ১৯৭১এর দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত আমাদের প্রিয় স্বাধীনতার ৪৮ বছর পরেও একসাথে ১৩৫ শহীদকে ফেলে রাখা বধ্যভ‚মি বরিশালের গৌরনদীর মরার ভিটাকে সংরক্ষনে সরকারি বা বে-সরকারি উদ্যোগে কোন স্মৃতিস্তম্ভ নির্মান করা হয়নি। দীর্ঘ ৪৬ বছর ধরে অবহেলা পড়েছিল ১৩৫ শহীদের রক্তে ভেজা ওই পবিত্র ভিটেটি। মহান মুক্তিযুদ্ধের ৪৬ বছর পর গত ২০১৭ সালের মার্চ মাসে প্রথম স্থানীয় প্রশাসনের নজড়ে পড়ে পবিত্র এ মাটির অঙ্গনটি। ফলে ওই বছর ২৫ মার্চ গৌরনদী উপজেলা প্রশাসন ১৩৫ জন শহীদের রক্তে ভেজা ওই বধ্যভ‚মিতে প্রথম বারের মতো মোমবাতি প্রজ্জলন ও পুষ্পস্তবক অর্পন করে ওই শহীদদের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা জানায়।

স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও এলাকাবাসী সূত্রে জানাগেছে, মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাক হানাদার বাহিনীর আক্রমন থেকে বাঁচতে ১৯৭১ সালের ১৫মে উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়নের হরহর গ্রামের নন্দী পাড়ার তৎকালীন দুর্গম ও নির্জন জঙ্গলে ঘেরা শুকনা একটি জলাভ‚মিতে আশ্রয় নিয়েছিল ওই এলাকার কয়েকশত হিন্দু নর-নারী ও শিশুরা। স্থানীয় রাজাকারদের মাধ্যমে এ খবর জানতে পেরে পাক হানাদার বাহিনীর সদস্যরা জঙ্গলটি ঘীরে ফেলে সেখানে আশ্রয় নেয়া শতশত নর-নারী ও শিশুদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালায়। এতে মোট ১৩৫জন নর-নারী ও শিশু সেখানে নিহত হয়। এ গনহত্যার পর পাক হানাদার বাহিনীর সদস্যরা নিহতদের লাশগুলো সেখানে ফেলে রেখে চলে যায়। এর পর থেকে ওই জঙ্গলটির ভেতরের রক্তে ভেজা ভিটেটির নাম করণ করা হয় মরার ভিটা। যেটি আজও ১৩৫ শহীদের বধ্যভ‚মি হিসেবে ৭১ এর সেই ভয়াল দিনের স্মৃতি বহন করে কালের স্বাক্ষী হয়ে পড়ে আছে। ওই ভিটের মাটি খুড়লে এখনও সেখানে সেদিনের শহীদদের মাথার খুলি, কংকাল ও হাড়গোড় পাওয়া যায়। ওই ভিটেতে গেলে আজও সেই ভয়াল দিনের কথা স্মরন করে এলাকার মানুষের গা ছমছম করে ওঠে। সেই দিনের সেই ভয়াল দৃশ্য প্রত্যক্ষকারীরা এখনও সেখানে গেলে তাদের মনে হয় তারা যেন এখনও সেই দিনের সেই শহীদদের মৃত্যু যন্ত্রনার করুন আর্তনাদ তাদের কানে শুনতে পান।

স্থানীয় প্রত্যক্ষ দর্শীরা জানান, মরার ভিটায় সেদিনের নিহতদের মধ্যে ৫ মাসের শিশু থেকে ৮৫ বছরের বৃদ্ধরাও ছিল। যাদের বেশীর ভাগই ছিল নারী ও শিশু। সেদিন নিজ স্বজনদের হারালেও গুলিবিদ্ধ অবস্থায় বেঁচে যান বেশ কয়েকজন। এমনি একজন সৌভাগ্যবান হলেন সেই সময়ের তিন বছরের শিশু নন্দি পাড়ার অভিলাষ নন্দি (৫১)। যিনি সেদিন মায়ের কোলে বসে পায়ে গুলিবিদ্ধ হন। মা মারা গেলেও ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান তিনি। আজও সেই লোমহর্ষক স্মৃতি তাকে কুড়েকুড়ে খাচ্ছে।

মহান মুক্তিযুদ্ধের ৪৮বছর পেরিয়ে গেলেও ওই হত্যাযজ্ঞের সাথে সরাসরি জড়িত স্থানীয় রাজাকারদের কোন বিচার হয়নি এখনও। তৎকালীন রাজাকার কমান্ডার আদম আলী মাষ্টার, যিনি ওই হত্যাকান্ডের সাথে সরাসরি জড়িত। আজ পর্যন্ত তার কোন বিচার হয়নি। তার অন্যতম সহযোগী মানিক রাঢ়ী ইতোমধ্যে মারা গেছেন। বেঁচে আছেন তাদের আরো বেশ কয়েকজন সহযোগী। ওই গনহত্যার সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থাকলেও যুদ্ধাপরাধের দায়ে সরকার পাক-হানাদার বাহিনীর দোসর ওই রাজাকারদেরকে এখনও বিচারের আওতায় আনেনি। অপর দিকে গত ৪৮ বছরেও ১৩৫ শহীদের এ বধ্যভূমিতে নির্মান করা হয়নি কোন স্মৃতিস্তম্ভ। এ কারনে ক্ষুব্ধ এখানকার এলাকাবাসীসহ শহীদ পরিবারগুলোর সদস্য ও তাদের স্বজনেরা।

বাটাজোর ইউনিয়নের দেওপাড়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা বিমল চন্দ্র দাস (চন্দর) (৬৮) জানান, ওইদিন পাকসেনাদের আসার খবর পেয়ে প্রান বাচঁতে মরার ভিটা খ্যাত ওই জঙ্গলে ঘেরা জলাভ‚মিতে আশ্রয় নিয়েছিল এলাকার শতশত হিন্দু নারী-পুরুষ ও শিশুরা। কিন্তু নরপশুদের কবল থেকে সেদিন তারা রেহাই পায়নি। ওইদিন সকালে পাক বাহিনীর একটি দল পার্শ্ববর্তি আধুনা গ্রামে আক্রমন চালায়। তারা ওই গ্রামের বহু নিরীহ মানুষকে গুলি করে হত্যা করে ও অসংখ্য ঘর-বাড়ি পুড়িয়ে দেয়। মিলিটারী আসছে এ খবর পেয়ে সকাল থেকে নন্দি পাড়ার প্রায় ৪ শতাধিক নর-নারী ও শিশুরা তাদের পাড়ার ওই নির্জন জঙ্গলের শুকিয়ে যাওয়া জলাশয়ের মধ্যে আশ্রয় নিয়েছিল।

ক্ষোভ প্রকাশ করে পার্শ্ববর্তি চন্দ্রহার গ্রামের মোঃ ওসমান গনি (৬৭) জানান, ঘটনার দিন আধুনা আক্রমন শেষে ফেরার পথে আদম আলী মাষ্টার, খাদেম মিলিটারী ও মানিক রাঢ়ীসহ বাটাজোর ক্যাম্পের রাজাকাররা পাকসেনাদের নিয়ে ওই স্থানে হানা দেয়। পাক সেনাদের এলোপাতারী গুলিতে সেদিন ১৩৫ জন নিরাপরাধ সাধারন মানুষ প্রান হারায়।

হরহর গ্রামের অশ্বিনী দাসসহ তার পরিবারের ৫জন ওইদিন পাক বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়। স্থানীয় বাসিন্ধাদের অভিযোগ, এলাকার রাজাকাররা পথ না দেখালে নির্জন জঙ্গলে ঘেরা ওই দুর্গম স্থানে পাকসেনারা পৌছতে পারতো না। গনহত্যার পর নিহতদের লাশগুলো ঘটনাস্থলে পড়ে থাকে। এতলাশ সৎকার করতে না পেরে এলাকাবাসী তখন লাশগুলোকে সেখানে গনকবর দেয়। বাটাজোর ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল কাদের হাওলাদার জানান, মরার ভিটার ওই বধ্যভ‚মিতে একটি স্মৃতি স্তম্ভ নির্মান এখন সময়ের দাবি। এ দাবি পূরনে সরকারের এগিয়ে আসা উচিত।

এলাকার একাধিক বীর মুক্তিযোদ্ধা জানান, মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ওই গনহত্যার সাথে সরাসরি জড়িত পাক-হানাদার বাহিনীর সহযোগী স্থানীয় রাজাকার কমান্ডার আদম আলী মাষ্টার ও তার সহযোগী যুদ্ধপরাধীদের বিচার না হওয়ায় চরম ক্ষুব্দ এখানকার বীর মুক্তিযোদ্ধা ও এলাকার মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তি। তারা যুদ্ধাপরাধ আইনে রাজাকার কমান্ডার আদম আলী মাষ্টার ও তার সহযোগীদের অবিলম্বে বিচার ও ১৩৫ শহীদের বধ্যভ‚মিতে সরকারি উদ্যোগে জরুরী ভিত্তিতে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মান করার দাবি জানিয়েছেন।

Print Friendly, PDF & Email
চারশ বছর আগে তৈরি ঢাকার খ্রীস্টান কবরস্থান
বিদ্রোহীদের সঙ্গে সংঘর্ষে মিয়ানমারের ৩০ সেনা নিহত
চুন্নু মহাসচিব হওয়ায় ‘নিম্নচাপ’মুক্ত জাপা
বাংলাদেশে যাত্রা করলো সংবাদ সংস্থা ‘A24’
How you can Cook BBQ GRILL Chicken Breast Formulas
Work Search Guidelines – How come Following Previous Advice Makes You Unemployed Quickly!
Eset Review – Home Owners Must Read the Eset Technology Review Before Making a selection
Homeworkmarket Essays on Jonathan Swift. Free essay topics and examples about Jonathan Swift
5.6 মিলিয়ন টিকা আসার পর বাংলাদেশে আবার টিকাকরণ কর্মসূচি শুরু
Nationwide retail theft, deterrents and the determination of risk Essay
Internet Gambling Clubs
Strengthen your Chances of Winning An issue Best Online Slots
Service-Pa Teaching Application Essays
How to Use Sample Job Descriptions to Enhance Your Resume ResumeWritingService
Sample Admission Essays For Grad School Edu Helper
TopEssayCompanies Mba Essay Writing Service Uk
For you to Look for in Casino Classic
Online Geometry Homework Help
Leading Slot Machine Strategies to actually Win at Online Gambling dens With Progressive Jackpots
Writers Help-Essay On Abortion Should Be Legalised
বাংলাদেশে যাত্রা করলো সংবাদ সংস্থা ‘A24’
আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের নতুন কমিটি গঠন
সর্বকনিষ্ঠ প্রার্থী মালয়েশিয়া প্রবাসী ছাত্র নেতা মোঃ রবিউল ইসলামের মনোনয়ন পত্র দাখিল
মালয়েশিয়া প্রবাসীদের দুঃখ গাথা জীবন
ঢাবি উপাচার্যের বাসভবনের সামনে ছাত্রলীগের অবস্থান
বি এস ইউ এম-এর বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা ও বৈশাখী উৎসব
মালয়েশিয়ায় হঠাৎ পুলিশের ফাঁদ : ৩২০ প্রবাসী আটক
আউট সোর্সিংয়ের নামে ডিজিটাল প্রতারণা, ২০০ কোটির মালিক পলাশ
মালয়েশিয়া প্রফেসর ড. বদরুল হুদা খানকে সংবর্ধনা
সুখ পেতে বহুতল বাড়ি লাগে না
মালয়েশিয়ার কেএলসিসিতে ঘুরতে এসে ৯২ বাংলাদেশী গ্রেফতার!
মালয়েশিয়াতে শরীয়তপুর প্রবাসীদের নৌকায় ভোট চেয়ে প্রচারনা
মালয়েশিয়ার নতুন সুলতান কে এই টেঙ্কু আবদুল্লাহ
বাংলাদেশ কমিউনিটি প্রেসক্লাব মালয়েশিয়ার পূর্ণাঙ্গ কমিটি
বাংলাদেশি শ্রমিক নির্যাতন : ডব্লিউআরপির বিরুদ্ধে মামলা করবে মালয় সরকার
বিয়ে-বিচ্ছেদের খবরে ক্ষুব্ধ নুসরাত জাহান
বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন মালয়েশিয়া শাখার উদ্যেগে নির্বাচন প্রস্ততি সভা অনুষ্ঠিত
মালয়েশিয়ায় আরাফাত রহমান কোকোর ৪র্থ মৃত্যুবার্ষিকী পালিত
শেখ হাসিনাকে ৫ দেশের রাষ্ট্র-সরকার প্রধানের অভিনন্দন
ছোট শিশুদের গরুর দুধ খাওয়ানো কি ঠিক?

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
প্রয়োজনীয় নাম্বার