Dhaka , Monday, 30 January 2023

ডলার সংকটের ধাক্কা চট্টগ্রাম বন্দরে

  • Robiul Islam
  • আপডেট টাইম : 08:08:17 am, Tuesday, 3 January 2023
  • 14 বার

অর্থনীতি ডেস্ক: দেশে ডলার সংকট, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং আমদানি কমে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে। ফলে সর্বশেষ বছরে বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের পরিমাণ কমেছে প্রায় আড়াই শতাংশ। এতে করে গত সাত বছর ধরে টানা কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের রেকর্ড ভাঙাগড়ার যে স্বপ্ন যাত্রা হচ্ছিল- তা থমকে গেছে। তবে বন্দর সংশ্লিষ্টদের দাবি- বিশ্ব পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বন্দর ফিরে যাবে পুরনো রূপে।

চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব ওমর ফারুক বলেন, ‘বিশ্ব অর্থনীতি মন্দা, রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ এবং করোনা পরবর্তী প্রভাবের কারণে আমদানি-রপ্তানি কম হয়েছে। এ ছাড়া দেশে ডলার সংকট এবং বিলাসী পণ্য আমদানি নিষেধাজ্ঞার প্রভাবের কারণে আমদানি কমও হয়েছে। তাই কনটেইনার হ্যান্ডলিংও কম হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বন্দরে কনটেইনার হ্যান্ডলিং বাড়বে।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশে আমদানি-রপ্তানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গত সাত বছর ধরেই কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের একের পর এক রেকর্ড ভঙ্গ করে আসছিল চট্টগ্রাম বন্দর। করোনা প্রাদুর্ভাব চলাকালীন সময়েও ঊর্ধ্বগতি ছিল এ যাত্রা। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ধাক্কা লাগে বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের সেই স্বপ্নযাত্রা। ২০২২ সালের আগস্টের পর ডলার সংকট থাকার কারণে আমদানিকারকরা প্রত্যাশিত আমদানি ঋণপত্র (এলসি) খুলতে পারেনি আমদানিকারকরা।

ডলার সংকটের কারণে বিলাসী পণ্য আমদানিতে সরকারি নিষেধাজ্ঞা তো রয়েছেই। এসব কারণে প্রভাব পড়েছে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে। অথচ বিগত বছরগুলোতে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে নিজেদের গড়া রেকর্ড একের পর এক ভঙ্গ করে আসছিল চট্টগ্রাম বন্দর। ফলে বিশ্বের ব্যস্ততম বন্দরের সেরা ১০০-এর মধ্যে ঠাঁই হয় দেশের অর্থনীতির এ প্রাণভোমরা।

শিপিং সংক্রান্ত সবচেয়ে পুরনো সংবাদ মাধ্যম লন্ডনভিত্তিক ‘লয়েডস লিস্টে’র সর্বশেষ তালিকায় ৬৪তম অবস্থানে ছিল বন্দরের। ২০২১ সালে লয়েডস লিস্টের তালিকায় চট্টগ্রাম বন্দরের অবস্থান ছিল ৬৭তম স্থানে। ২০২২ সালে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে ৩১ লাখ ৪২ হাজার ৫০৪ টিইইউএস। অথচ ২০২১ সালে এ সংখ্যা ছিল ৩২ লাখ ১৪ হাজার ৫৪৮ টিইইউএস। চলতি বছর চট্টগ্রাম বন্দরে অন্যান্য বছরের চেয়ে জাহাজ ভিড়েছে ৪ হাজার ৩৬১টি। যা আগের বছর এ সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ২০৯টি। কিন্তু কনটেইনার হ্যান্ডলিং সংখ্যা কমেছে প্রায় আড়াই শতাংশ।

এর আগে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ২২ লাখ ৬১ হাজার ৩০২ টিইইউএস, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ২৫ লাখ ৪ হাজার ৪৭৬ টিইইউএস, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ২৮ লাখ ৯ হাজার ৩৫৪ টিইইউএস, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ২৯ লাখ ১৯ হাজার ২৩ টিইইউএস, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৩০ লাখ ৪ হাজার ১৪২ টিইইউএস এবং ২০২০-২১ অর্থবছরে ৩০ লাখ ৯৭ হাজার ২৩৬ টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং করে চট্টগ্রাম বন্দর।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Robiul Islam

ডলার সংকটের ধাক্কা চট্টগ্রাম বন্দরে

আপডেট টাইম : 08:08:17 am, Tuesday, 3 January 2023

অর্থনীতি ডেস্ক: দেশে ডলার সংকট, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং আমদানি কমে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে। ফলে সর্বশেষ বছরে বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের পরিমাণ কমেছে প্রায় আড়াই শতাংশ। এতে করে গত সাত বছর ধরে টানা কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের রেকর্ড ভাঙাগড়ার যে স্বপ্ন যাত্রা হচ্ছিল- তা থমকে গেছে। তবে বন্দর সংশ্লিষ্টদের দাবি- বিশ্ব পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বন্দর ফিরে যাবে পুরনো রূপে।

চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব ওমর ফারুক বলেন, ‘বিশ্ব অর্থনীতি মন্দা, রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ এবং করোনা পরবর্তী প্রভাবের কারণে আমদানি-রপ্তানি কম হয়েছে। এ ছাড়া দেশে ডলার সংকট এবং বিলাসী পণ্য আমদানি নিষেধাজ্ঞার প্রভাবের কারণে আমদানি কমও হয়েছে। তাই কনটেইনার হ্যান্ডলিংও কম হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বন্দরে কনটেইনার হ্যান্ডলিং বাড়বে।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশে আমদানি-রপ্তানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গত সাত বছর ধরেই কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের একের পর এক রেকর্ড ভঙ্গ করে আসছিল চট্টগ্রাম বন্দর। করোনা প্রাদুর্ভাব চলাকালীন সময়েও ঊর্ধ্বগতি ছিল এ যাত্রা। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ধাক্কা লাগে বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের সেই স্বপ্নযাত্রা। ২০২২ সালের আগস্টের পর ডলার সংকট থাকার কারণে আমদানিকারকরা প্রত্যাশিত আমদানি ঋণপত্র (এলসি) খুলতে পারেনি আমদানিকারকরা।

ডলার সংকটের কারণে বিলাসী পণ্য আমদানিতে সরকারি নিষেধাজ্ঞা তো রয়েছেই। এসব কারণে প্রভাব পড়েছে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে। অথচ বিগত বছরগুলোতে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে নিজেদের গড়া রেকর্ড একের পর এক ভঙ্গ করে আসছিল চট্টগ্রাম বন্দর। ফলে বিশ্বের ব্যস্ততম বন্দরের সেরা ১০০-এর মধ্যে ঠাঁই হয় দেশের অর্থনীতির এ প্রাণভোমরা।

শিপিং সংক্রান্ত সবচেয়ে পুরনো সংবাদ মাধ্যম লন্ডনভিত্তিক ‘লয়েডস লিস্টে’র সর্বশেষ তালিকায় ৬৪তম অবস্থানে ছিল বন্দরের। ২০২১ সালে লয়েডস লিস্টের তালিকায় চট্টগ্রাম বন্দরের অবস্থান ছিল ৬৭তম স্থানে। ২০২২ সালে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে ৩১ লাখ ৪২ হাজার ৫০৪ টিইইউএস। অথচ ২০২১ সালে এ সংখ্যা ছিল ৩২ লাখ ১৪ হাজার ৫৪৮ টিইইউএস। চলতি বছর চট্টগ্রাম বন্দরে অন্যান্য বছরের চেয়ে জাহাজ ভিড়েছে ৪ হাজার ৩৬১টি। যা আগের বছর এ সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ২০৯টি। কিন্তু কনটেইনার হ্যান্ডলিং সংখ্যা কমেছে প্রায় আড়াই শতাংশ।

এর আগে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ২২ লাখ ৬১ হাজার ৩০২ টিইইউএস, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ২৫ লাখ ৪ হাজার ৪৭৬ টিইইউএস, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ২৮ লাখ ৯ হাজার ৩৫৪ টিইইউএস, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ২৯ লাখ ১৯ হাজার ২৩ টিইইউএস, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৩০ লাখ ৪ হাজার ১৪২ টিইইউএস এবং ২০২০-২১ অর্থবছরে ৩০ লাখ ৯৭ হাজার ২৩৬ টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং করে চট্টগ্রাম বন্দর।