Dhaka , Wednesday, 8 February 2023

পাম তেলের বিরুদ্ধে ‘বৈষম্য’ মোকাবিলায় কাজ করবে দুই দেশ

  • Robiul Islam
  • আপডেট টাইম : 01:16:51 pm, Wednesday, 11 January 2023
  • 16 বার

মালয়েশিয়া ডেস্ক: পাম তেলের বিরুদ্ধে ‘বৈষম্য’ মোকাবিলায় একযোগে কাজ করতে সম্মত হয়েছে পণ্যটির বড় দুই উৎপাদক ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া। দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে এ ব্যাপারে একমত হয়।

২০২২ সালের নভেম্বরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন আনোয়ার ইব্রাহিম। দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজের প্রথম বিদেশ সফরে প্রতিবেশী ইন্দোনেশিয়া যান তিনি।

ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো বলেছেন, দুই দেশ পাম তেলের বিরুদ্ধে বৈষম্য মোকাবিলায় একযোগে লড়াই করবে। এ সংক্রান্ত উদ্বেগ দূর করতে উৎপাদক দেশগুলোর কাউন্সিলের মাধ্যমে সহযোগিতা জোরদার করা হবে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২০৩০ সালের মধ্যে পাম তেলভিত্তিক জ্বালানি ব্যবহার বন্ধের পরিকল্পনা করছে। এমন বাস্তবতায় দুই দেশের এই সমঝোতা তাৎপর্যপূর্ণ বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।

ইন্দোনেশিয়ার নেতা দেশটির নতুন রাজধানী নুসান্তারায় বিনিয়োগে মালয়েশিয়ার কোম্পানিগুলোর আগ্রহেরও প্রশংসা করেছেন, যা আগামী বছর বোর্নিও দ্বীপে খোলার জন্য নির্ধারিত রয়েছে।

আলোচনার আগে ইন্দোনেশিয়ার নেতা আনোয়ারকে একটি বৈদ্যুতিক বগিতে করে প্রাসাদের বাগানে ঘুরে বেড়ানোর আগে তাকে অভ্যর্থনা জানান। এরপর দুই নেতা বাণিজ্য, সীমান্ত বিরোধ এবং অভ্যুত্থান-বিধ্বস্ত মিয়ানমারের পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন।

ইন্দোনেশিয়া, বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম গণতন্ত্র, এই বছর দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর আশিয়ানের সভাপতিত্ব গ্রহণ করে। যেখানে জান্তা নেতৃত্বাধীন মিয়ানমার সদস্য রয়ে গেছে। নভেম্বরে আশিয়ান নেতাদের শীর্ষ সম্মেলন আয়োজন করবে ইন্দোনেশিয়া।

ইন্দোনেশিয়া গত বছর মালয়েশিয়ায় নিয়োগের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পরে যেখানে বেশিরভাগ ইন্দোনেশিয়ান অভিবাসী কর্মী বাস করে তারা অভিবাসী কর্মীদের অধিকার সম্পর্কেও কথা বলেছিল।

মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আটটি মালয়েশিয়ান কোম্পানি ইন্দোনেশিয়ান ফার্মগুলোর সঙ্গে ১.৬৬ বিলিয়ন মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত (৩৭৯ মিলিয়ন ইউএস ডলার), সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে।

এর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, সবুজ জ্বালানি ও ব্যাটারি শিল্পের বিকাশের মতো বিষয়গুলো রয়েছে। দুই নেতার প্রত্যাশা এসব পদক্ষেপ সীমান্ত বাণিজ্য এবং পারস্পরিক বিনিয়োগকে আরও জোরালো করবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Robiul Islam

পাম তেলের বিরুদ্ধে ‘বৈষম্য’ মোকাবিলায় কাজ করবে দুই দেশ

আপডেট টাইম : 01:16:51 pm, Wednesday, 11 January 2023

মালয়েশিয়া ডেস্ক: পাম তেলের বিরুদ্ধে ‘বৈষম্য’ মোকাবিলায় একযোগে কাজ করতে সম্মত হয়েছে পণ্যটির বড় দুই উৎপাদক ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া। দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে এ ব্যাপারে একমত হয়।

২০২২ সালের নভেম্বরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন আনোয়ার ইব্রাহিম। দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজের প্রথম বিদেশ সফরে প্রতিবেশী ইন্দোনেশিয়া যান তিনি।

ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো বলেছেন, দুই দেশ পাম তেলের বিরুদ্ধে বৈষম্য মোকাবিলায় একযোগে লড়াই করবে। এ সংক্রান্ত উদ্বেগ দূর করতে উৎপাদক দেশগুলোর কাউন্সিলের মাধ্যমে সহযোগিতা জোরদার করা হবে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২০৩০ সালের মধ্যে পাম তেলভিত্তিক জ্বালানি ব্যবহার বন্ধের পরিকল্পনা করছে। এমন বাস্তবতায় দুই দেশের এই সমঝোতা তাৎপর্যপূর্ণ বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।

ইন্দোনেশিয়ার নেতা দেশটির নতুন রাজধানী নুসান্তারায় বিনিয়োগে মালয়েশিয়ার কোম্পানিগুলোর আগ্রহেরও প্রশংসা করেছেন, যা আগামী বছর বোর্নিও দ্বীপে খোলার জন্য নির্ধারিত রয়েছে।

আলোচনার আগে ইন্দোনেশিয়ার নেতা আনোয়ারকে একটি বৈদ্যুতিক বগিতে করে প্রাসাদের বাগানে ঘুরে বেড়ানোর আগে তাকে অভ্যর্থনা জানান। এরপর দুই নেতা বাণিজ্য, সীমান্ত বিরোধ এবং অভ্যুত্থান-বিধ্বস্ত মিয়ানমারের পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন।

ইন্দোনেশিয়া, বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম গণতন্ত্র, এই বছর দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর আশিয়ানের সভাপতিত্ব গ্রহণ করে। যেখানে জান্তা নেতৃত্বাধীন মিয়ানমার সদস্য রয়ে গেছে। নভেম্বরে আশিয়ান নেতাদের শীর্ষ সম্মেলন আয়োজন করবে ইন্দোনেশিয়া।

ইন্দোনেশিয়া গত বছর মালয়েশিয়ায় নিয়োগের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পরে যেখানে বেশিরভাগ ইন্দোনেশিয়ান অভিবাসী কর্মী বাস করে তারা অভিবাসী কর্মীদের অধিকার সম্পর্কেও কথা বলেছিল।

মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আটটি মালয়েশিয়ান কোম্পানি ইন্দোনেশিয়ান ফার্মগুলোর সঙ্গে ১.৬৬ বিলিয়ন মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত (৩৭৯ মিলিয়ন ইউএস ডলার), সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে।

এর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, সবুজ জ্বালানি ও ব্যাটারি শিল্পের বিকাশের মতো বিষয়গুলো রয়েছে। দুই নেতার প্রত্যাশা এসব পদক্ষেপ সীমান্ত বাণিজ্য এবং পারস্পরিক বিনিয়োগকে আরও জোরালো করবে।