Dhaka , Wednesday, 8 February 2023

লাভ বেশি হওয়ায় ফেনীতে বেড়েছে সরিষা চাষ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : 03:03:21 pm, Friday, 13 January 2023
  • 7 বার

ফিচার ডেস্ক: ফেনীর ৬টি উপজেলায় সরিষার আবাদ ব্যাপকভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সরিষা চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। অন্য ফসলের তুলনায় সরিষা চাষে লাভ বেশি হওয়ায় কৃষকদের আগ্রহ আরও বেড়েছে। আগামীতে সরিষার আবাদ আরও বাড়বে বলে জানান কৃষকরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, গত বছর জেলায় সরিষার আবাদ হয়েছিল ১,৮০৬ হেক্টর জমিতে। চলতি বছরে চাষ হয়েছে ৩,৪৯৪ হেক্টর। লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়ে আবাদের পরিমাণ বেড়েছে ১,১৪৭ হেক্টর। চলতি বছরের চাষাবাদের হিসেবে ৪,৬৭০ মেট্রিক টন সরিষা উৎপাদন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতি এক কেজি সরিষা থেকে ৪০০ গ্রাম তেল পাওয়া যায়।

কৃষক হারাধন দাশ জানান, বোরো আবাদের আগে খরচ পোষাতেই সরিষা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন এখানকার কৃষকরা। নতুন জাতের বারি সরিষা-১৪ রোপণে উৎসাহিত করায় কৃষকরা ভালো ফলন পাচ্ছেন। প্রতি হেক্টরে প্রায় দেড় টন ফলন হয় সরিষায়।

এ ছাড়া বারি সরিষা-৯, বারি সরিষা-১০, বারি সরিষা-১১, বারি সরিষা-১২, বারি সরিষা-১৩, বারি সরিষা-১৪, বারি সরিষা-১৫, বারি সরিষা-১৬, বারি সরিষা-১৭, বিনা সরিষা-৪, বিনা সরিষা-৭, বিনা সরিষা-৮, বিনা সরিষা-৯ এবং বিনা সরিষা-১০ জাতের সরিষাও চাষ করছেন কৃষকরা।

পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের কাশিমপুর গ্রামের আবদুল হক জানান, তিনি ৪২ শতক জমিতে বারি-১৪ সরিষার আবাদ করেছেন। কোনো ধরনের সমস্যায় পড়তে হয়নি। গত বছরের মতো এবারও ভালো ফলনের আশা করছেন তিনি। পরিবারের জন্য তেল এবং গবাদি পশুর জন্য খৈলও মিলবে সরিষা থেকে। পরিবারের চাহিদার অতিরিক্ত তেল বিক্রি করেও ভালো আয় হবে।

ফেনী সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়ন কৃষি কর্মকর্তা প্রনব চন্দ্র মজুমদার বলেন, ‘সরকার নির্দেশনা দিয়েছে যাতে কোনো জমি খালি না থেকে। সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। আমরা কৃষকদের বিনা মূল্যে সার ও বীজ সরবরাহ করছি। আমার ব্লকে মোট ৪০০ কৃষককে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে।’

ফুলগাজীর উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মনোজ কুমার বলেন, ‘সরকারের নির্দেশনার আলোকে সার, বীজ থেকে শুরু করে প্রশিক্ষণ সবই দেওয়া হচ্ছে কৃষকদের।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলায় সরিষা আবাদের জন্য ১৩,৫০০ জন কৃষককে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। প্রতিজনে ১ বিঘা জমির জন্য সার ও বীজ সরবরাহ করা হয়েছে। সরিষার আবাদ বাড়ানোর জন্য ৪৬৭টি প্রদর্শনী করা হয়েছে। সেসব কৃষককে বিনা মূল্যে দেওয়া হয়েছে সার, বীজ, ট্রেনিংসহ যাবতীয় সহযোগিতা।’

ফেনী সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমীন আক্তার বলেন, ‘কৃষক পর্যায়ে সরিষার আবাদে আগ্রহ বাড়ছে। লাভের মুখ দেখায় কৃষকরা সরিষার আবাদ বাড়াচ্ছেন। চলতি মৌসুমে ফেনী সদর উপজেলায় ১,৪৬২ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ হয়েছে। গত বছর যা ছিল ৮,০৫০ হেক্টর।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অনুরূপভাবে সরিষার আবাদ জেলার সোনাগাজী, ফুলগাজী, পরশুরাম, ছাগলনাইয়া ও দাগনভূঞাতেও লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে।

ফেনী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. একরাম উদ্দিন বলেন, ‘সরকার চাইছে আমদানি নির্ভরতা কিছুটা কমিয়ে দেশেই উৎপাদন বৃদ্ধি করতে। এ জন্য বিভিন্ন ধরনের পরিকল্পনা ও প্রকল্প হাতে নিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়। প্রতি বছর ২৮-৩০ হাজার কোটি টাকার ভোজ্যতেল আমদানি করতে হয়। সরকারের লক্ষ্য হলো তিন বছরের মধ্যে ভোজ্যতেল আমদানি ৫০ শতাংশ কমিয়ে নিয়ে আসা।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Robiul Islam

লাভ বেশি হওয়ায় ফেনীতে বেড়েছে সরিষা চাষ

আপডেট টাইম : 03:03:21 pm, Friday, 13 January 2023

ফিচার ডেস্ক: ফেনীর ৬টি উপজেলায় সরিষার আবাদ ব্যাপকভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সরিষা চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। অন্য ফসলের তুলনায় সরিষা চাষে লাভ বেশি হওয়ায় কৃষকদের আগ্রহ আরও বেড়েছে। আগামীতে সরিষার আবাদ আরও বাড়বে বলে জানান কৃষকরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, গত বছর জেলায় সরিষার আবাদ হয়েছিল ১,৮০৬ হেক্টর জমিতে। চলতি বছরে চাষ হয়েছে ৩,৪৯৪ হেক্টর। লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়ে আবাদের পরিমাণ বেড়েছে ১,১৪৭ হেক্টর। চলতি বছরের চাষাবাদের হিসেবে ৪,৬৭০ মেট্রিক টন সরিষা উৎপাদন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতি এক কেজি সরিষা থেকে ৪০০ গ্রাম তেল পাওয়া যায়।

কৃষক হারাধন দাশ জানান, বোরো আবাদের আগে খরচ পোষাতেই সরিষা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন এখানকার কৃষকরা। নতুন জাতের বারি সরিষা-১৪ রোপণে উৎসাহিত করায় কৃষকরা ভালো ফলন পাচ্ছেন। প্রতি হেক্টরে প্রায় দেড় টন ফলন হয় সরিষায়।

এ ছাড়া বারি সরিষা-৯, বারি সরিষা-১০, বারি সরিষা-১১, বারি সরিষা-১২, বারি সরিষা-১৩, বারি সরিষা-১৪, বারি সরিষা-১৫, বারি সরিষা-১৬, বারি সরিষা-১৭, বিনা সরিষা-৪, বিনা সরিষা-৭, বিনা সরিষা-৮, বিনা সরিষা-৯ এবং বিনা সরিষা-১০ জাতের সরিষাও চাষ করছেন কৃষকরা।

পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের কাশিমপুর গ্রামের আবদুল হক জানান, তিনি ৪২ শতক জমিতে বারি-১৪ সরিষার আবাদ করেছেন। কোনো ধরনের সমস্যায় পড়তে হয়নি। গত বছরের মতো এবারও ভালো ফলনের আশা করছেন তিনি। পরিবারের জন্য তেল এবং গবাদি পশুর জন্য খৈলও মিলবে সরিষা থেকে। পরিবারের চাহিদার অতিরিক্ত তেল বিক্রি করেও ভালো আয় হবে।

ফেনী সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়ন কৃষি কর্মকর্তা প্রনব চন্দ্র মজুমদার বলেন, ‘সরকার নির্দেশনা দিয়েছে যাতে কোনো জমি খালি না থেকে। সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। আমরা কৃষকদের বিনা মূল্যে সার ও বীজ সরবরাহ করছি। আমার ব্লকে মোট ৪০০ কৃষককে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে।’

ফুলগাজীর উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মনোজ কুমার বলেন, ‘সরকারের নির্দেশনার আলোকে সার, বীজ থেকে শুরু করে প্রশিক্ষণ সবই দেওয়া হচ্ছে কৃষকদের।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলায় সরিষা আবাদের জন্য ১৩,৫০০ জন কৃষককে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। প্রতিজনে ১ বিঘা জমির জন্য সার ও বীজ সরবরাহ করা হয়েছে। সরিষার আবাদ বাড়ানোর জন্য ৪৬৭টি প্রদর্শনী করা হয়েছে। সেসব কৃষককে বিনা মূল্যে দেওয়া হয়েছে সার, বীজ, ট্রেনিংসহ যাবতীয় সহযোগিতা।’

ফেনী সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমীন আক্তার বলেন, ‘কৃষক পর্যায়ে সরিষার আবাদে আগ্রহ বাড়ছে। লাভের মুখ দেখায় কৃষকরা সরিষার আবাদ বাড়াচ্ছেন। চলতি মৌসুমে ফেনী সদর উপজেলায় ১,৪৬২ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ হয়েছে। গত বছর যা ছিল ৮,০৫০ হেক্টর।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অনুরূপভাবে সরিষার আবাদ জেলার সোনাগাজী, ফুলগাজী, পরশুরাম, ছাগলনাইয়া ও দাগনভূঞাতেও লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে।

ফেনী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. একরাম উদ্দিন বলেন, ‘সরকার চাইছে আমদানি নির্ভরতা কিছুটা কমিয়ে দেশেই উৎপাদন বৃদ্ধি করতে। এ জন্য বিভিন্ন ধরনের পরিকল্পনা ও প্রকল্প হাতে নিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়। প্রতি বছর ২৮-৩০ হাজার কোটি টাকার ভোজ্যতেল আমদানি করতে হয়। সরকারের লক্ষ্য হলো তিন বছরের মধ্যে ভোজ্যতেল আমদানি ৫০ শতাংশ কমিয়ে নিয়ে আসা।’