Dhaka , Friday, 23 February 2024
শিরোনাম :
চোখ লাফানোও হতে পারে মারাত্মক অসুখ মেক্সিকো সিটিতে রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী রাস্তা প্রশস্ত করতে ইরাকে ভাঙা হল তিনশ’ বছরের পুরনো মিনার, চারিদিকে নিন্দা অবৈধ অভিবাসীদের ঠেকাতে তিউনিসিয়া-ইইউ সমঝোতা শস্য চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা, ইউক্রেন ছাড়ল শেষ শস্যবাহী জাহাজ ফ্রাঙ্কফুর্টে সান বাঁধানো লেকের ধারে জমে উঠেছিল প্রবাসীদের ঈদ উৎসব দশ মাস পর আবারও রাস্তায় ইরানের বিতর্কিত ‘নীতি পুলিশ’ বার্সেলোনায় ঐতিহ্যবাহী ‘বাংলার মেলা’ মার্কিন গুচ্ছ বোমা ব্যবহার করলেই ইউক্রেনের ‘সর্বনাশ’, পুতিনের হুঁশিয়ারি ফ্রাঙ্কফুর্টে বাংলাদেশ দূতাবাসে প্রবাসীদের কনস্যুলার সেবা প্রদান কর্মসূচি পালিত

শীতকালে পোষা পাখির যত্নে করণীয়

  • Robiul Islam
  • আপডেট টাইম : 08:05:49 am, Sunday, 22 January 2023
  • 43 বার

ফিচার ডেস্ক: শীতকালে পোষাপ্রাণীর জন্য বাড়তি যত্ন জরুরি। যাতে শীতে ওরা কাবু না হয়। সাধারণত শীতকালে পোষা পাখি বেশি অসুস্থ হয়। খাঁচা কিংবা কলোনি যেভাবেই পাখি পালন করুন। আগে খেয়াল করুন, সারসরি ঠান্ডা বাতাস পাখির গায়ে লাগে কি না। সরাসরি বাতাস লাগার সুযোগ একদম বন্ধ করুন। অল্প বাতাসেও ওদের ঠান্ডা লেগে যেতে পারে। তাপমাত্রা কত তা মিটারে দেখুন। ডিজিটাল, ম্যানুয়াল তাপমাত্রা মাপার মিটার, যেটাই হোক একটি পাখির রুমে রাখুন।

সাধারণত পাখি যদি সুস্থ-সবল হয়। সারাবছর উন্নত মানের খাবার খেয়ে থাকে। পরিচ্ছন্ন পরিবেশে থাকে। তাহলে তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি হবে। তাপমাত্রার হেরফেরে সহসা কিছু হওয়ার কথা নয়। বিশেষ করে লাভবাডর্স, ম্যাকাও, সান কুনুরসহ বড় পাখিদের। ফিঞ্চের মতো ছোট পাখিরা আমাদের দেশে তাপমাত্রা জনিত কারণে বেশি অসুস্থ হয়। পাখির রুমের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রুম হিটার ব্যবহার করতে পারেন। আবার হিট বাল্বও ব্যবহার করা যায়। তবে ১০০ বা ২০০ পাওয়ারের লাইট না জ্বালানোই ভালো। এ লাইট পাখির মল্টিংয়ের কারণ হতে পারে।

অনেকে পুরো খাঁচা মোটা কাপড়, চট দিয়ে ঢেকে দেন। এটি করবেন না। আলো, বাতাসের আসা যাওয়ার অভাবে পাখি অসুস্থ হতে পারে। কারণ পাখির মল, মূত্রে এক রকম গ্যাস তৈরি হয়। সিড মিক্সের গুজিতিল, ক্যানারি, মিলেটের পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে পারেন। ড্রাই এগ ফুড থাকুক সব সময়। এ খাবারগুলো পাখির শরীরকে গরম রাখে। পাখির খাঁচা, কলোনি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। প্রতিদিন পরিষ্কার পানি দিন। সফট ফুড দিলেও তা খাঁচায় পড়ে যেন না থাকে। খাচায় সফট ফুড পড়ে থাকলে তা পচে জীবাণুর সৃষ্টি করতে পারে। অপেল সিডার ভিনেগার (অপরিশোধিত) ৫ এমএল এক লিটার পানিতে মিশিয়ে পাখিকে দেওয়া যেতে পারে। এতে পাখির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে।

পাখির প্রতি নজর রাখতে হবে। ঝিমায় কি না। স্বাভাবিক তৎপরতা লোপ পেয়েছে কি না। মল ঠিক আছে কি না। ঠিকমত খায় কি না। এসবের কোনোটা স্বাভাবিক মনে না হলে ব্যবস্থা নিতে হবে। কোনো পাখি অসুস্থ মনে হলে সাথে আলাদা খাঁচায় নিতে হবে। যেটাকে বলে হসপিটাল কেস। ৪০ ওয়াটের লাইট জ্বালিয়ে দিতে হবে। তারপর লক্ষণ বুঝে ব্যবস্থা নিতে হবে। পাখির দোকান, অনলাইনে পাখির চিকিৎসকদের সন্ধান পাওয়া যায়। তাদের দেখিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া ভালো।

পোষা পাখির মধ্যে ওয়াক্সবিল ফিঞ্চসহ অনেক প্রজাতি আছে, যারা রোগ লুকিয়ে রাখতে পছন্দ করে। মানুষ দেখলে স্বাভাবিক তৎপরতা দেখায়। বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে। পোষা পাখি বনের পাখির মতো শক্তপোক্ত নয়। এ জন্য সব সময় এদের সঠিক পরিচর্যা করতে হয়। প্রয়োজনীয় খাবার দেওয়া চাই। বনের পাখির মতো এরা প্রয়োজনমতো খাদ্য উপাদন সংগ্রহ করতে পারে না। যতটুকু তাকে দেওয়া হবে ততটুকু ছাড়া। এ বিষয়গুলো মনে রাখা চাই।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Robiul Islam

জনপ্রিয় সংবাদ

চোখ লাফানোও হতে পারে মারাত্মক অসুখ

শীতকালে পোষা পাখির যত্নে করণীয়

আপডেট টাইম : 08:05:49 am, Sunday, 22 January 2023

ফিচার ডেস্ক: শীতকালে পোষাপ্রাণীর জন্য বাড়তি যত্ন জরুরি। যাতে শীতে ওরা কাবু না হয়। সাধারণত শীতকালে পোষা পাখি বেশি অসুস্থ হয়। খাঁচা কিংবা কলোনি যেভাবেই পাখি পালন করুন। আগে খেয়াল করুন, সারসরি ঠান্ডা বাতাস পাখির গায়ে লাগে কি না। সরাসরি বাতাস লাগার সুযোগ একদম বন্ধ করুন। অল্প বাতাসেও ওদের ঠান্ডা লেগে যেতে পারে। তাপমাত্রা কত তা মিটারে দেখুন। ডিজিটাল, ম্যানুয়াল তাপমাত্রা মাপার মিটার, যেটাই হোক একটি পাখির রুমে রাখুন।

সাধারণত পাখি যদি সুস্থ-সবল হয়। সারাবছর উন্নত মানের খাবার খেয়ে থাকে। পরিচ্ছন্ন পরিবেশে থাকে। তাহলে তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি হবে। তাপমাত্রার হেরফেরে সহসা কিছু হওয়ার কথা নয়। বিশেষ করে লাভবাডর্স, ম্যাকাও, সান কুনুরসহ বড় পাখিদের। ফিঞ্চের মতো ছোট পাখিরা আমাদের দেশে তাপমাত্রা জনিত কারণে বেশি অসুস্থ হয়। পাখির রুমের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রুম হিটার ব্যবহার করতে পারেন। আবার হিট বাল্বও ব্যবহার করা যায়। তবে ১০০ বা ২০০ পাওয়ারের লাইট না জ্বালানোই ভালো। এ লাইট পাখির মল্টিংয়ের কারণ হতে পারে।

অনেকে পুরো খাঁচা মোটা কাপড়, চট দিয়ে ঢেকে দেন। এটি করবেন না। আলো, বাতাসের আসা যাওয়ার অভাবে পাখি অসুস্থ হতে পারে। কারণ পাখির মল, মূত্রে এক রকম গ্যাস তৈরি হয়। সিড মিক্সের গুজিতিল, ক্যানারি, মিলেটের পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে পারেন। ড্রাই এগ ফুড থাকুক সব সময়। এ খাবারগুলো পাখির শরীরকে গরম রাখে। পাখির খাঁচা, কলোনি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। প্রতিদিন পরিষ্কার পানি দিন। সফট ফুড দিলেও তা খাঁচায় পড়ে যেন না থাকে। খাচায় সফট ফুড পড়ে থাকলে তা পচে জীবাণুর সৃষ্টি করতে পারে। অপেল সিডার ভিনেগার (অপরিশোধিত) ৫ এমএল এক লিটার পানিতে মিশিয়ে পাখিকে দেওয়া যেতে পারে। এতে পাখির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে।

পাখির প্রতি নজর রাখতে হবে। ঝিমায় কি না। স্বাভাবিক তৎপরতা লোপ পেয়েছে কি না। মল ঠিক আছে কি না। ঠিকমত খায় কি না। এসবের কোনোটা স্বাভাবিক মনে না হলে ব্যবস্থা নিতে হবে। কোনো পাখি অসুস্থ মনে হলে সাথে আলাদা খাঁচায় নিতে হবে। যেটাকে বলে হসপিটাল কেস। ৪০ ওয়াটের লাইট জ্বালিয়ে দিতে হবে। তারপর লক্ষণ বুঝে ব্যবস্থা নিতে হবে। পাখির দোকান, অনলাইনে পাখির চিকিৎসকদের সন্ধান পাওয়া যায়। তাদের দেখিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া ভালো।

পোষা পাখির মধ্যে ওয়াক্সবিল ফিঞ্চসহ অনেক প্রজাতি আছে, যারা রোগ লুকিয়ে রাখতে পছন্দ করে। মানুষ দেখলে স্বাভাবিক তৎপরতা দেখায়। বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে। পোষা পাখি বনের পাখির মতো শক্তপোক্ত নয়। এ জন্য সব সময় এদের সঠিক পরিচর্যা করতে হয়। প্রয়োজনীয় খাবার দেওয়া চাই। বনের পাখির মতো এরা প্রয়োজনমতো খাদ্য উপাদন সংগ্রহ করতে পারে না। যতটুকু তাকে দেওয়া হবে ততটুকু ছাড়া। এ বিষয়গুলো মনে রাখা চাই।