Dhaka , Monday, 17 June 2024

মালয়েশিয়ায় সাধারণ ক্ষমা : ৫ দিনে ৫০ হাজার প্রবাসীর আবেদন

  • Robiul Islam
  • আপডেট টাইম : 08:33:50 am, Friday, 3 February 2023
  • 47 বার

মালয়েশিয়া ডেস্ক: মালয়েশিয়ায় অনথিভুক্ত অভিবাসী শ্রমিকদের বৈধ করার প্রক্রিয়ায় পাঁচ দিনে ৫০ হাজার আবেদন জমা পড়েছে। দেশটির সরকার গত ২৭ জানুয়ারি থেকে ‘লেবার রিক্যালিব্রেশন প্রোগ্রাম’ (সাধারণ ক্ষমা) শুরু করে।

 

অনথিভুক্ত অভিবাসী শ্রমিকদের জন্য সরকারের সর্বশেষ সাধারণ ক্ষমার প্রথম পাঁচ দিনে এ পর্যন্ত নিয়োগকর্তাদের কাছ থেকে প্রায় ৫০ হাজার আবেদন রেকর্ড করেছে অভিবাসন বিভাগ।

 

টিভি তিগার ‘মালয়েশিয়া হারি ইনি’র অনুষ্ঠানে এক সাক্ষাতকারে অভিবাসন মহাপরিচালক খায়রুল জাইমি দাউদ এ তথ্য জানিয়েছেন।

 

পরিচালক রিক্যালিব্রেশন প্রোগ্রাম ২.০ (আরটিকে ২.০) এর প্রক্রিয়াকে প্রত্যাশার বাইরে বলে বর্ণনা করেছেন এবং অনথিভুক্ত কর্মীদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া অতীতের তুলনায় এবারের উদ্যোগের সফলতা দেখছেন তিনি।

 

এর আগে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফ উদ্দিন নাসুশন ইসমাইল বলেছেন, দেশে বিদেশি কর্মীর চাহিদা পূরণে এই প্রোগ্রাম খুবই কার্যকর। নিয়োগদাতাদের জন্যও এটি সস্তা কারণ তাদের এখন কর্মী নেওয়ার জন্য কোনো এজেন্সিকে বাড়তি খরচ দিতে হচ্ছে না।

 

দেশটিতে বিভিন্ন খাতে কাজ করে চলা অবৈধ শ্রমিকদের যেন রিক্যালিব্রেশন প্রক্রিয়ায় তাদের মালিকরা বৈধভাবে নিয়োগ দান করতে পারে। মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ অবশ্য নির্দিষ্ট করে দেয় কোন কোন খাতে আর কোন কোন দেশের শ্রমিকরা এই সুবিধা নিতে পারবেন।

 

এই প্রোগ্রাম সেসব বিদেশি কর্মীর জন্য যারা এরই মধ্যে এখানে কাজ করছে কিন্তু সঠিক কাগজপত্র নেই। তারা এখন পেমেন্ট করে এই সুবিধা নিয়ে বৈধভাবে কাজ করতে পারে অথবা দেশে ফেরত যেতে পারে।

 

কালো তালিকাভুক্ত অর্থাৎ যার বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশনে অভিযোগ রয়েছে এমন শ্রমিক এবং ক্রিমিনাল রেকর্ড রয়েছে এমন অভিবাসী ছাড়া যে কেউ এই লেবার রিক্যালিব্রেশন প্রোগ্রামে আবেদন করতে পারবে।

 

যে আটটি খাতে বিদেশি কর্মী নিয়োগের অনুমতি দেওয়া হয়েছে সেগুলো হলো উৎপাদন, নির্মাণ, খনি ও খনন, নিরাপত্তা রক্ষী, সেবা, কৃষি, বাগান এবং গৃহকর্মী।

 

আর এসব কাজের জন্য ১৫টি ‘সোর্স কান্ট্রির’ কথা উল্লেখ করেছে মালয়েশিয়া, যার অন্যতম বাংলাদেশ। বৈধতার ক্ষেত্রে কর্মীর বয়স ১৮ থেকে ৪৯ বছর হতে হবে।

 

অনুমোদন প্রক্রিয়া শেষ হতে মাত্র একদিন সময় লাগবে। এরপর হবে বিদেশি কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা। যা পরিচালনা করবে ফরেন ওয়ার্কার্স মেডিকেল এক্সামিনেশন মনিটরিং এজেন্সি।

 

এই প্রোগ্রামে সর্বনিম্ন ফি ধরা হয়েছে ১৫০০ রিঙ্গিত যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৮ হাজার টাকা। এর সঙ্গে মেডিকেল ও অন্যান্য ফি মিলিয়ে মোট খরচ হয় তিন হাজার রিঙ্গিতের ওপর।

 

২৭ জানুয়ারি শুরু হওয়া ‘লেবার রিক্যালিব্রেশন প্রোগ্রাম’ চলবে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। ইমিগ্রেশন বিভাগ বলছে গত বছরের মতো এবারও তারা কোনো ব্যক্তি বা সংস্থাকে এজেন্ট বা মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিয়োগ করেনি। সরাসরি নিয়োগদাতা ইমিগ্রেশনে আবেদন করতে হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Robiul Islam

জনপ্রিয় সংবাদ

মালয়েশিয়ায় সাধারণ ক্ষমা : ৫ দিনে ৫০ হাজার প্রবাসীর আবেদন

আপডেট টাইম : 08:33:50 am, Friday, 3 February 2023

মালয়েশিয়া ডেস্ক: মালয়েশিয়ায় অনথিভুক্ত অভিবাসী শ্রমিকদের বৈধ করার প্রক্রিয়ায় পাঁচ দিনে ৫০ হাজার আবেদন জমা পড়েছে। দেশটির সরকার গত ২৭ জানুয়ারি থেকে ‘লেবার রিক্যালিব্রেশন প্রোগ্রাম’ (সাধারণ ক্ষমা) শুরু করে।

 

অনথিভুক্ত অভিবাসী শ্রমিকদের জন্য সরকারের সর্বশেষ সাধারণ ক্ষমার প্রথম পাঁচ দিনে এ পর্যন্ত নিয়োগকর্তাদের কাছ থেকে প্রায় ৫০ হাজার আবেদন রেকর্ড করেছে অভিবাসন বিভাগ।

 

টিভি তিগার ‘মালয়েশিয়া হারি ইনি’র অনুষ্ঠানে এক সাক্ষাতকারে অভিবাসন মহাপরিচালক খায়রুল জাইমি দাউদ এ তথ্য জানিয়েছেন।

 

পরিচালক রিক্যালিব্রেশন প্রোগ্রাম ২.০ (আরটিকে ২.০) এর প্রক্রিয়াকে প্রত্যাশার বাইরে বলে বর্ণনা করেছেন এবং অনথিভুক্ত কর্মীদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া অতীতের তুলনায় এবারের উদ্যোগের সফলতা দেখছেন তিনি।

 

এর আগে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফ উদ্দিন নাসুশন ইসমাইল বলেছেন, দেশে বিদেশি কর্মীর চাহিদা পূরণে এই প্রোগ্রাম খুবই কার্যকর। নিয়োগদাতাদের জন্যও এটি সস্তা কারণ তাদের এখন কর্মী নেওয়ার জন্য কোনো এজেন্সিকে বাড়তি খরচ দিতে হচ্ছে না।

 

দেশটিতে বিভিন্ন খাতে কাজ করে চলা অবৈধ শ্রমিকদের যেন রিক্যালিব্রেশন প্রক্রিয়ায় তাদের মালিকরা বৈধভাবে নিয়োগ দান করতে পারে। মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ অবশ্য নির্দিষ্ট করে দেয় কোন কোন খাতে আর কোন কোন দেশের শ্রমিকরা এই সুবিধা নিতে পারবেন।

 

এই প্রোগ্রাম সেসব বিদেশি কর্মীর জন্য যারা এরই মধ্যে এখানে কাজ করছে কিন্তু সঠিক কাগজপত্র নেই। তারা এখন পেমেন্ট করে এই সুবিধা নিয়ে বৈধভাবে কাজ করতে পারে অথবা দেশে ফেরত যেতে পারে।

 

কালো তালিকাভুক্ত অর্থাৎ যার বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশনে অভিযোগ রয়েছে এমন শ্রমিক এবং ক্রিমিনাল রেকর্ড রয়েছে এমন অভিবাসী ছাড়া যে কেউ এই লেবার রিক্যালিব্রেশন প্রোগ্রামে আবেদন করতে পারবে।

 

যে আটটি খাতে বিদেশি কর্মী নিয়োগের অনুমতি দেওয়া হয়েছে সেগুলো হলো উৎপাদন, নির্মাণ, খনি ও খনন, নিরাপত্তা রক্ষী, সেবা, কৃষি, বাগান এবং গৃহকর্মী।

 

আর এসব কাজের জন্য ১৫টি ‘সোর্স কান্ট্রির’ কথা উল্লেখ করেছে মালয়েশিয়া, যার অন্যতম বাংলাদেশ। বৈধতার ক্ষেত্রে কর্মীর বয়স ১৮ থেকে ৪৯ বছর হতে হবে।

 

অনুমোদন প্রক্রিয়া শেষ হতে মাত্র একদিন সময় লাগবে। এরপর হবে বিদেশি কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা। যা পরিচালনা করবে ফরেন ওয়ার্কার্স মেডিকেল এক্সামিনেশন মনিটরিং এজেন্সি।

 

এই প্রোগ্রামে সর্বনিম্ন ফি ধরা হয়েছে ১৫০০ রিঙ্গিত যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৮ হাজার টাকা। এর সঙ্গে মেডিকেল ও অন্যান্য ফি মিলিয়ে মোট খরচ হয় তিন হাজার রিঙ্গিতের ওপর।

 

২৭ জানুয়ারি শুরু হওয়া ‘লেবার রিক্যালিব্রেশন প্রোগ্রাম’ চলবে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। ইমিগ্রেশন বিভাগ বলছে গত বছরের মতো এবারও তারা কোনো ব্যক্তি বা সংস্থাকে এজেন্ট বা মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিয়োগ করেনি। সরাসরি নিয়োগদাতা ইমিগ্রেশনে আবেদন করতে হবে।