Dhaka , Saturday, 22 June 2024

মুমিনের মর্যাদা সম্পর্কে রসুল (সা.)

  • Robiul Islam
  • আপডেট টাইম : 08:07:25 am, Saturday, 11 February 2023
  • 41 বার

ইসলাম ডেস্ক: মুমিনদের যে কোনো অবস্থায় ইমানের ওপর অটল থাকতে হবে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল (সা.) বলেছেন, ‘মুমিনের দৃষ্টান্ত নরম কোমল শস্যের মতো। বাতাস যেদিকে দোলা দেয় শস্যের পাতা সেদিকেই দুলতে থাকে। বাতাস থেমে গেলে স্থির হয়ে যায়। মুমিনকে তেমনি বিভিন্ন আপদ-বিপদ দিয়ে দোলা দেওয়া হয়। আর অবিশ্বাসীর দৃষ্টান্ত দেবদারু গাছের মতো, দৃঢ় স্থর, অবশেষে আল্লাহ যখন ইচ্ছা করেন তাকে মূলোৎপাটন করেন।’ (বুখারি)।

উপরোক্ত হাদিসে বোঝানো হয়েছে দুনিয়ার জীবনে সময়ে সময়ে মুমিনের ওপর বিপদ-মুসিবত আসে। এগুলোর মাধ্যমেও মুমিন বান্দা আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রভূত কল্যাণ লাভ করে। বিপদ-মুসিবতে ইমানে অটল থাকলে তার গুনাহ মাফ হয়। বান্দার আমল-ইবাদতের কমতি থাকলে পূরণ হয়। সৌভাগ্যবান বান্দা যারা তাদের আত্মশুদ্ধির কাজ সম্পন্ন হয় আল্লাহর তরফ থেকে নেওয়া পরীক্ষায়। এরপর আল্লাহই তাদের রোগ-শোক, বিপদাপদ দূর করে দেন, তাঁর নিয়ামত দ্বারা তাদের পরিপূর্ণ করে দেন। আল্লাহতায়ালা দুনিয়ায় অনেক আরাম-আয়েশ, স্বচ্ছন্দ দান করলেও আখিরাতে তার জন্য কিছুই থাকে না। থাকে শুধুই যন্ত্রণা আর যন্ত্রণা। অবশেষে যখন আল্লাহ তাকে ধ্বংস করার ইচ্ছা করেন, তখন তাকে যন্ত্রণাদায়ক ভয়ংকর মৃত্যুর মুখোমুখি করেন এবং অনন্তকাল তার জন্য আজাব ও শাস্তির ফয়সালা করেন।

প্রকৃত মুমিনের গুণাবলি : হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে মুমিন মানুষের সঙ্গে মেশে এবং তাদের উৎপাত-উপদ্রব সহ্য করে সে তার চেয়ে উত্তম যে মানুষের সঙ্গে মেশে না এবং তাদের উপদ্রবও সহ্য করে না।’ (আল আদাবুল মুফরাদ)।

মুমিন ব্যক্তি সব সময় মাওলার সাক্ষাতের আশায় ব্যতিব্যস্ত থাকে। এ সম্পর্কে হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, ‘আল্লাহর রসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর সাক্ষাৎ পছন্দ করে আল্লাহও তার সাক্ষাৎ পছন্দ করেন। আর যে আল্লাহর সাক্ষাৎ অপছন্দ করে আল্লাহও তার সাক্ষাৎ অপছন্দ করেন। এ কথা শুনে আমি জিজ্ঞাসা করলাম, হে আল্লাহর নবী! মৃত্যুকে অপছন্দের কথা বলছেন? আমরা প্রত্যেকেই মৃত্যুকে অপছন্দ করি।

তিনি বললেন, তা নয়, বরং (মৃত্যুর সময়) যখন মুমিনকে আল্লাহর রহমত, সন্তুষ্টি ও জান্নাতের খোঁজখবর দেওয়া হয় তখন সে আল্লাহর সাক্ষাৎ পছন্দ করে, আল্লাহও তার সাক্ষাৎ পছন্দ করেন। আর অবিশ্বাসীকে যখন (মৃত্যুর সময়) আল্লাহর আজাব ও গজবের (সুখবর) দেওয়া হয় তখন সে আল্লাহর সাক্ষাৎ অপছন্দ করে। আল্লাহও তার সাক্ষাৎ অপছন্দ করেন।’ (মুসলিম)

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Robiul Islam

জনপ্রিয় সংবাদ

মুমিনের মর্যাদা সম্পর্কে রসুল (সা.)

আপডেট টাইম : 08:07:25 am, Saturday, 11 February 2023

ইসলাম ডেস্ক: মুমিনদের যে কোনো অবস্থায় ইমানের ওপর অটল থাকতে হবে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল (সা.) বলেছেন, ‘মুমিনের দৃষ্টান্ত নরম কোমল শস্যের মতো। বাতাস যেদিকে দোলা দেয় শস্যের পাতা সেদিকেই দুলতে থাকে। বাতাস থেমে গেলে স্থির হয়ে যায়। মুমিনকে তেমনি বিভিন্ন আপদ-বিপদ দিয়ে দোলা দেওয়া হয়। আর অবিশ্বাসীর দৃষ্টান্ত দেবদারু গাছের মতো, দৃঢ় স্থর, অবশেষে আল্লাহ যখন ইচ্ছা করেন তাকে মূলোৎপাটন করেন।’ (বুখারি)।

উপরোক্ত হাদিসে বোঝানো হয়েছে দুনিয়ার জীবনে সময়ে সময়ে মুমিনের ওপর বিপদ-মুসিবত আসে। এগুলোর মাধ্যমেও মুমিন বান্দা আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রভূত কল্যাণ লাভ করে। বিপদ-মুসিবতে ইমানে অটল থাকলে তার গুনাহ মাফ হয়। বান্দার আমল-ইবাদতের কমতি থাকলে পূরণ হয়। সৌভাগ্যবান বান্দা যারা তাদের আত্মশুদ্ধির কাজ সম্পন্ন হয় আল্লাহর তরফ থেকে নেওয়া পরীক্ষায়। এরপর আল্লাহই তাদের রোগ-শোক, বিপদাপদ দূর করে দেন, তাঁর নিয়ামত দ্বারা তাদের পরিপূর্ণ করে দেন। আল্লাহতায়ালা দুনিয়ায় অনেক আরাম-আয়েশ, স্বচ্ছন্দ দান করলেও আখিরাতে তার জন্য কিছুই থাকে না। থাকে শুধুই যন্ত্রণা আর যন্ত্রণা। অবশেষে যখন আল্লাহ তাকে ধ্বংস করার ইচ্ছা করেন, তখন তাকে যন্ত্রণাদায়ক ভয়ংকর মৃত্যুর মুখোমুখি করেন এবং অনন্তকাল তার জন্য আজাব ও শাস্তির ফয়সালা করেন।

প্রকৃত মুমিনের গুণাবলি : হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে মুমিন মানুষের সঙ্গে মেশে এবং তাদের উৎপাত-উপদ্রব সহ্য করে সে তার চেয়ে উত্তম যে মানুষের সঙ্গে মেশে না এবং তাদের উপদ্রবও সহ্য করে না।’ (আল আদাবুল মুফরাদ)।

মুমিন ব্যক্তি সব সময় মাওলার সাক্ষাতের আশায় ব্যতিব্যস্ত থাকে। এ সম্পর্কে হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, ‘আল্লাহর রসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর সাক্ষাৎ পছন্দ করে আল্লাহও তার সাক্ষাৎ পছন্দ করেন। আর যে আল্লাহর সাক্ষাৎ অপছন্দ করে আল্লাহও তার সাক্ষাৎ অপছন্দ করেন। এ কথা শুনে আমি জিজ্ঞাসা করলাম, হে আল্লাহর নবী! মৃত্যুকে অপছন্দের কথা বলছেন? আমরা প্রত্যেকেই মৃত্যুকে অপছন্দ করি।

তিনি বললেন, তা নয়, বরং (মৃত্যুর সময়) যখন মুমিনকে আল্লাহর রহমত, সন্তুষ্টি ও জান্নাতের খোঁজখবর দেওয়া হয় তখন সে আল্লাহর সাক্ষাৎ পছন্দ করে, আল্লাহও তার সাক্ষাৎ পছন্দ করেন। আর অবিশ্বাসীকে যখন (মৃত্যুর সময়) আল্লাহর আজাব ও গজবের (সুখবর) দেওয়া হয় তখন সে আল্লাহর সাক্ষাৎ অপছন্দ করে। আল্লাহও তার সাক্ষাৎ অপছন্দ করেন।’ (মুসলিম)