Dhaka , Friday, 23 February 2024
শিরোনাম :
চোখ লাফানোও হতে পারে মারাত্মক অসুখ মেক্সিকো সিটিতে রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী রাস্তা প্রশস্ত করতে ইরাকে ভাঙা হল তিনশ’ বছরের পুরনো মিনার, চারিদিকে নিন্দা অবৈধ অভিবাসীদের ঠেকাতে তিউনিসিয়া-ইইউ সমঝোতা শস্য চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা, ইউক্রেন ছাড়ল শেষ শস্যবাহী জাহাজ ফ্রাঙ্কফুর্টে সান বাঁধানো লেকের ধারে জমে উঠেছিল প্রবাসীদের ঈদ উৎসব দশ মাস পর আবারও রাস্তায় ইরানের বিতর্কিত ‘নীতি পুলিশ’ বার্সেলোনায় ঐতিহ্যবাহী ‘বাংলার মেলা’ মার্কিন গুচ্ছ বোমা ব্যবহার করলেই ইউক্রেনের ‘সর্বনাশ’, পুতিনের হুঁশিয়ারি ফ্রাঙ্কফুর্টে বাংলাদেশ দূতাবাসে প্রবাসীদের কনস্যুলার সেবা প্রদান কর্মসূচি পালিত

রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখলে আল্লাহ খুশি হবেন

  • Robiul Islam
  • আপডেট টাইম : 08:09:35 am, Tuesday, 14 March 2023
  • 33 বার

ইসলাম ডেস্ক: আলহামদুলিল্লাহ! আর কিছুদিন পরই আমাদের মাঝে হাজির হবে সম্মানিত মেহমান মাহে রমজান। রমজান শব্দটার সঙ্গে মুমিন-বিশ্বাসীদের আবেগ-অনুভূতি জড়ানো। রমজানকে আমরা মনে করি নেক আমল কামাইয়ের মাস। আল্লাহর প্রিয় বান্দা হওয়ার মাস। রমজান ঘিরে আমাদের কত পরিকল্পনা থাকে। কেউ ইতিকাফে বসার নিয়ত করে। কেউ সাত সাগর তেরো নদী পারি দিয়ে চলে যায় ওমরায়। কেউবা মানুষকে খাওয়ানোর কর্মসূচি হাতে নেয়। কেউ দারিদ্র্য ঘোচাতে কাজ করে। সব কাজই নেক কাজ।

কিন্তু রমজান আসে, রমজান চলে যায়। আমরা আল্লাহর প্রিয় বান্দা হতে পারি না। যদি পারতাম তাহলে আমাদের চরিত্রে, আচরণে, মনে সে প্রভাব অবশ্যই পড়ত। আমার দীর্ঘ জীবনে দেখেছি, রমজান এলে আমাদের বাহ্যিক পরিবর্তন হয়। কিন্তু ভিতরজগৎ আলোকিত করতে পারি না। অন্য সময় মাথায় টুপি থাকে না। রমজানে সব সময় মাথায় টুপি থাকে। জামাতের সঙ্গে নামাজ পড়ার আগ্রহ বাড়ে। মুসল্লিতে মসজিদ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। বাইরের এ অবস্থা দেখে আমাদের আত্মতৃপ্তির সীমা থাকে না। কিন্তু বাস্তব সত্য হলো, আমরা রমজানকে আত্মশুদ্ধির মাস হিসেবে নিতে পারি না।

যদি আমরা রমজানকে আত্মশুদ্ধির মাস হিসেবে নিতে পারতাম, তাহলে রমজানে কেন দ্রব্যমূল্যের বাজারে আগুন লাগবে। কেন রোজার মাস আসার আগে থেকেই মুসলমানদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়বে। এখন আপনি যার সঙ্গেই কথা বলবেন একটা বিষয়ই শুনতে পাবেন, রমজানে কীভাবে সংসার চালাব। সব কিছুর দাম হু হু করে বেড়েই চলছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি বা করোনা-পরবর্তী অর্থনৈতিক মন্দার কথাও যদি বাদ দিই, বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের একটা শ্রেণি রমজানকে ক্রেতার গলাকাটার মাস হিসেবে গ্রহণ করে থাকে।

রমজান আসার তিন মাস আগে থেকে, কেউ কেউ ছয় মাস আগে থেকে নিত্যপণ্য মজুদ করতে থাকে। রমজান এলে রোজাদারের গলা কেটে তারা পকেট পুড়েন। সে টাকায় বাড়ি করেন, গাড়ি করেন, হজ করেন, এতিমখানায় দান করেন। আফসোস! এত ওয়াজ, এত মাদরাসা, এত ইসলামী জলসা, খানকা, ধর্মীয় রাজনীতি করেও এ দেশের মানুষকে আমরা বোঝাতে ব্যর্থ হয়েছি, মাহে রমজান ক্রেতার পকেট কাটার মাস নয় বরং রোজাদারদের ডিসকাউন্ট দিয়ে জান্নাতে সম্পদ বাড়ানোর মাস।

রোজার আগে আগে প্রতিবারই আমরা ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে নসিহত করি, পত্রিকায় লেখালেখি হয়, খুতবায় আলোচনা হয়, কিন্তু বেশির ভাগ ব্যবসায়ীর মাঝে কোনো পরিবর্তন দেখা যায় না। দ্রব্যমূল্যের আগুন দাম তো আছেই, সঙ্গে আছে ভেজাল খাবারের আজাব। ও আমার ব্যবসায়ী ভাই! কী অপরাধ করেছি আমরা। ১০ টাকার জিনিস ৫০ টাকায় বিক্রি করছো, নিরাপদ খাবারটাই দাও আমাদের।

কেন আমাদের তোমরা ভেজাল খাওয়াচ্ছো। গতবার একটা লেখায় বলেছিলাম, হে ব্যবসায়ীবৃন্দ! এই যে রোজাদারদের কষ্ট দিয়ে সম্পদের পাহাড় গড়ছো, এত সম্পদ দিয়ে কী হবে? চোখ বুজলেই তো অন্ধকার কবর। যাদের জন্য আমাদের ঠকিয়ে তুমি পয়সা কামাচ্ছো, তারা কি তোমার কবরের জবাব দেবে? ফেরেশতারা যখন তোমাকে নির্মমভাবে শাস্তি দেবে তখন কি তোমার বাবা-মা, স্ত্রী-সন্তান গিয়ে তোমাকে রক্ষা করবেন? হে আমার ব্যবসায়ী ভাই! সবচেয়ে নির্মম কথা কী জান? কাফনের কিন্তু পকেট নেই। একটা ফুটো পয়সাও তোমার সঙ্গে দেওয়া হবে না।

তাহলে কেন ফজিলতের মাস রমজানকে তুমি জাহান্নাম কামানোর মাস হিসেবে নিচ্ছো? হে আমার ব্যবসায়ী ভাই! তুমি কি শুননি রসুল (সা.) এর সেই বিখ্যাত হাদিস, নবীজি বলেছেন, ‘যারা ইচ্ছাকৃতভাবে মানুষকে কষ্ট দেওয়ার নিয়তে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি করে, মজুদ করে তাদের ওপর আল্লাহর লানত’ (মিশকাত)। আল্লাহর লানত মানে কী বুঝ? তোমার ওপর থেকে সব ধরনের রমহত যেন সরে যায়। চিন্তা করো! একজন কাফেরের ওপরও কিন্তু আল্লাহর রহমত আছে।

তাই বলেই তো সে দুনিয়াতে এত সুন্দরভাবে বসবাস করতে পারছে। তোমার ওপর থেকে যদি একবার আল্লাহতায়ালা রহমতের চাদর তুলে নেন, কোথায় যাবে তুমি? যেখানেই যাবে সেখানেই দূর দূর করে তাড়া খাবে। ঘরে তোমার শান্তি থাকবে না। এই যে তোমার আমার বসবাসের এ শহরটি দিন দিন বসবাস উপযোগিতা হারাচ্ছে, এটা কি খোদার গজব নয়? শহরই যদি না থাকে, বসবাসই যদি না করা যায়, তাহলে কী হবে তোমার ব্যবসার? কী হবে ব্যাংকের কাঁড়ি কাঁড়ি টাকার?

হ্যাঁ! তোমার হাতে সব নিয়ন্ত্রণ নেই। আল্লাহ এটা ভালো করে জানেন। কিন্তু যতটুকু আছে ততটুকই কি তুমি সুব্যবহার করছ কি না এই জবাব নেবেন আল্লাহতায়ালা। প্রতিবারই দেখা যায়, কোনো একটা জিনিসের দাম বেড়েছে ঘোষণা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবসায়ীরা ওই পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন। অথচ এটা তার কেনা পড়েছে কম মূল্যে।

আবার কোনো পণ্যের দাম কমানোর ঘোষণা দেওয়ার পর কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে সেটার দাম ব্যবসায়ীরা কমান না। বলেন, আমার বেশি দামে কেনা আছে। নতুন চালান এলে তারপর কম দামে বিক্রি করতে পারব। এই যে চালাকি, আল্লাহ কি এটা ধরতে পারবেন না? এর কি কোনো বিচার হবে না? আসলে আমাদের দায়িত্ব সতর্ক করা, হেদায়াতের মালিক আল্লাহ। হে আল্লাহ! আমার ব্যবসায়ী ভাইদের সহি বুঝ দান করেন। আমিন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Robiul Islam

জনপ্রিয় সংবাদ

চোখ লাফানোও হতে পারে মারাত্মক অসুখ

রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখলে আল্লাহ খুশি হবেন

আপডেট টাইম : 08:09:35 am, Tuesday, 14 March 2023

ইসলাম ডেস্ক: আলহামদুলিল্লাহ! আর কিছুদিন পরই আমাদের মাঝে হাজির হবে সম্মানিত মেহমান মাহে রমজান। রমজান শব্দটার সঙ্গে মুমিন-বিশ্বাসীদের আবেগ-অনুভূতি জড়ানো। রমজানকে আমরা মনে করি নেক আমল কামাইয়ের মাস। আল্লাহর প্রিয় বান্দা হওয়ার মাস। রমজান ঘিরে আমাদের কত পরিকল্পনা থাকে। কেউ ইতিকাফে বসার নিয়ত করে। কেউ সাত সাগর তেরো নদী পারি দিয়ে চলে যায় ওমরায়। কেউবা মানুষকে খাওয়ানোর কর্মসূচি হাতে নেয়। কেউ দারিদ্র্য ঘোচাতে কাজ করে। সব কাজই নেক কাজ।

কিন্তু রমজান আসে, রমজান চলে যায়। আমরা আল্লাহর প্রিয় বান্দা হতে পারি না। যদি পারতাম তাহলে আমাদের চরিত্রে, আচরণে, মনে সে প্রভাব অবশ্যই পড়ত। আমার দীর্ঘ জীবনে দেখেছি, রমজান এলে আমাদের বাহ্যিক পরিবর্তন হয়। কিন্তু ভিতরজগৎ আলোকিত করতে পারি না। অন্য সময় মাথায় টুপি থাকে না। রমজানে সব সময় মাথায় টুপি থাকে। জামাতের সঙ্গে নামাজ পড়ার আগ্রহ বাড়ে। মুসল্লিতে মসজিদ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। বাইরের এ অবস্থা দেখে আমাদের আত্মতৃপ্তির সীমা থাকে না। কিন্তু বাস্তব সত্য হলো, আমরা রমজানকে আত্মশুদ্ধির মাস হিসেবে নিতে পারি না।

যদি আমরা রমজানকে আত্মশুদ্ধির মাস হিসেবে নিতে পারতাম, তাহলে রমজানে কেন দ্রব্যমূল্যের বাজারে আগুন লাগবে। কেন রোজার মাস আসার আগে থেকেই মুসলমানদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়বে। এখন আপনি যার সঙ্গেই কথা বলবেন একটা বিষয়ই শুনতে পাবেন, রমজানে কীভাবে সংসার চালাব। সব কিছুর দাম হু হু করে বেড়েই চলছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি বা করোনা-পরবর্তী অর্থনৈতিক মন্দার কথাও যদি বাদ দিই, বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের একটা শ্রেণি রমজানকে ক্রেতার গলাকাটার মাস হিসেবে গ্রহণ করে থাকে।

রমজান আসার তিন মাস আগে থেকে, কেউ কেউ ছয় মাস আগে থেকে নিত্যপণ্য মজুদ করতে থাকে। রমজান এলে রোজাদারের গলা কেটে তারা পকেট পুড়েন। সে টাকায় বাড়ি করেন, গাড়ি করেন, হজ করেন, এতিমখানায় দান করেন। আফসোস! এত ওয়াজ, এত মাদরাসা, এত ইসলামী জলসা, খানকা, ধর্মীয় রাজনীতি করেও এ দেশের মানুষকে আমরা বোঝাতে ব্যর্থ হয়েছি, মাহে রমজান ক্রেতার পকেট কাটার মাস নয় বরং রোজাদারদের ডিসকাউন্ট দিয়ে জান্নাতে সম্পদ বাড়ানোর মাস।

রোজার আগে আগে প্রতিবারই আমরা ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে নসিহত করি, পত্রিকায় লেখালেখি হয়, খুতবায় আলোচনা হয়, কিন্তু বেশির ভাগ ব্যবসায়ীর মাঝে কোনো পরিবর্তন দেখা যায় না। দ্রব্যমূল্যের আগুন দাম তো আছেই, সঙ্গে আছে ভেজাল খাবারের আজাব। ও আমার ব্যবসায়ী ভাই! কী অপরাধ করেছি আমরা। ১০ টাকার জিনিস ৫০ টাকায় বিক্রি করছো, নিরাপদ খাবারটাই দাও আমাদের।

কেন আমাদের তোমরা ভেজাল খাওয়াচ্ছো। গতবার একটা লেখায় বলেছিলাম, হে ব্যবসায়ীবৃন্দ! এই যে রোজাদারদের কষ্ট দিয়ে সম্পদের পাহাড় গড়ছো, এত সম্পদ দিয়ে কী হবে? চোখ বুজলেই তো অন্ধকার কবর। যাদের জন্য আমাদের ঠকিয়ে তুমি পয়সা কামাচ্ছো, তারা কি তোমার কবরের জবাব দেবে? ফেরেশতারা যখন তোমাকে নির্মমভাবে শাস্তি দেবে তখন কি তোমার বাবা-মা, স্ত্রী-সন্তান গিয়ে তোমাকে রক্ষা করবেন? হে আমার ব্যবসায়ী ভাই! সবচেয়ে নির্মম কথা কী জান? কাফনের কিন্তু পকেট নেই। একটা ফুটো পয়সাও তোমার সঙ্গে দেওয়া হবে না।

তাহলে কেন ফজিলতের মাস রমজানকে তুমি জাহান্নাম কামানোর মাস হিসেবে নিচ্ছো? হে আমার ব্যবসায়ী ভাই! তুমি কি শুননি রসুল (সা.) এর সেই বিখ্যাত হাদিস, নবীজি বলেছেন, ‘যারা ইচ্ছাকৃতভাবে মানুষকে কষ্ট দেওয়ার নিয়তে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি করে, মজুদ করে তাদের ওপর আল্লাহর লানত’ (মিশকাত)। আল্লাহর লানত মানে কী বুঝ? তোমার ওপর থেকে সব ধরনের রমহত যেন সরে যায়। চিন্তা করো! একজন কাফেরের ওপরও কিন্তু আল্লাহর রহমত আছে।

তাই বলেই তো সে দুনিয়াতে এত সুন্দরভাবে বসবাস করতে পারছে। তোমার ওপর থেকে যদি একবার আল্লাহতায়ালা রহমতের চাদর তুলে নেন, কোথায় যাবে তুমি? যেখানেই যাবে সেখানেই দূর দূর করে তাড়া খাবে। ঘরে তোমার শান্তি থাকবে না। এই যে তোমার আমার বসবাসের এ শহরটি দিন দিন বসবাস উপযোগিতা হারাচ্ছে, এটা কি খোদার গজব নয়? শহরই যদি না থাকে, বসবাসই যদি না করা যায়, তাহলে কী হবে তোমার ব্যবসার? কী হবে ব্যাংকের কাঁড়ি কাঁড়ি টাকার?

হ্যাঁ! তোমার হাতে সব নিয়ন্ত্রণ নেই। আল্লাহ এটা ভালো করে জানেন। কিন্তু যতটুকু আছে ততটুকই কি তুমি সুব্যবহার করছ কি না এই জবাব নেবেন আল্লাহতায়ালা। প্রতিবারই দেখা যায়, কোনো একটা জিনিসের দাম বেড়েছে ঘোষণা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবসায়ীরা ওই পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন। অথচ এটা তার কেনা পড়েছে কম মূল্যে।

আবার কোনো পণ্যের দাম কমানোর ঘোষণা দেওয়ার পর কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে সেটার দাম ব্যবসায়ীরা কমান না। বলেন, আমার বেশি দামে কেনা আছে। নতুন চালান এলে তারপর কম দামে বিক্রি করতে পারব। এই যে চালাকি, আল্লাহ কি এটা ধরতে পারবেন না? এর কি কোনো বিচার হবে না? আসলে আমাদের দায়িত্ব সতর্ক করা, হেদায়াতের মালিক আল্লাহ। হে আল্লাহ! আমার ব্যবসায়ী ভাইদের সহি বুঝ দান করেন। আমিন।