Dhaka , Tuesday, 23 April 2024

জাপানে বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী উদযাপন

  • Robiul Islam
  • আপডেট টাইম : 08:02:48 am, Monday, 20 March 2023
  • 43 বার

প্রবাস ডেস্ক: জাপানের টোকিওস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৩তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উদযাপন করা হয়েছে।

প্রথম পর্বে সকালের অনুষ্ঠানের শুরুতে দূতাবাস প্রাঙ্গণে কর্মকর্তা–কর্মচারী এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আমন্ত্রিত প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শাহাবুদ্দিন আহমদ।

পরে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে রাষ্ট্রদূত জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুসহ তার পরিবারের সকল সদস্যের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। পরে দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী প্রদত্ত বাণী পাঠ করা হয়।

রাষ্ট্রদূত শাহাবুদ্দিন আহমদ গভীর শ্রদ্ধায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করেন এবং বঙ্গবন্ধুর কর্মময় জীবন এবং ১৭ মার্চের তাৎপর্য সম্পর্কে আলোচনা করেন।

রাষ্ট্রদূত বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে বাংলাদেশের সৃষ্টি হতো না, তিনি ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টা ও মুক্তির দূত। বঙ্গবন্ধু শিশুদের ভালোবাসতেন, শিশুরাও বঙ্গবন্ধুকে আপন করে নিতো। আর তাই এই মহান নেতার জন্মদিনকে জাতীয় শিশু দিবস হিসাবে পালন করা হয়।

রাষ্ট্রদূত শিশু-কিশোরদের বঙ্গবন্ধুর আদর্শে জীবন গড়ার ও বঙ্গবন্ধুর মতো মানবীয় গুণাবলী সম্পন্ন হয়ে দেশের উন্নয়নে আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানান। রাষ্ট্রদূত তার বক্তব্যে দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘স্মার্ট বাংলাদেশের স্বপ্নে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন, শিশুদের চোখ সমৃদ্ধির স্বপ্নে রঙিন’- এর ওপর আলোচনা করেন।

তিনি বলেন, একটি স্মার্ট বাংলাদেশের স্বপ্ন তখনই বাস্তবায়িত হবে যখন দেশের আগামী প্রজন্মকে ছোটবেলা থেকেই আধুনিক শিক্ষায় আলোকিত করার মাধ্যমে চরমপন্থামুক্ত মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন সৃজনশীল ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

আলোচনা পর্বে জাপানে বসবাসরত প্রবাসী বালাদেশি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস-২০২৩-এর গুরুত্ব ও তাৎপর্য সম্পর্কে আলোচনা করেন। বক্তারা বলেন, বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের সংবিধানে শিশুদের অধিকার সংরক্ষণ করেন। তিনি ১৯৭৪ সালে শিশু আইন প্রণয়ন করেন এবং গার্লস গাইড অ্যাসোসিয়েশনকে ঢেলে সাজান।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে কিশোরদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়েজন করা হয়। টোকিও ও আশেপাশের অঞ্চল থেকে আগত প্রবাসী ও তাদের সন্তানদের উৎসাহ ও উদ্দীপনায় মুখর ও প্রাণোচ্ছল হয়ে উঠেছিলো দূতাবাসের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তন।

এ সময় সমবেত শিশুদের সাথে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শাহাবুদ্দিন আহমদ। তিনি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে রচিত বিভিন্ন বই-পুস্তক পাঠের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর জীবনাদর্শ সম্পর্কে জানতে শিশু-কিশোরদের উৎসাহিত করেন।

এ সময় বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনকে আরো আনন্দময় করতে শিশু-কিশোরদের সাথে নিয়ে কেক কাটেন রাষ্ট্রদূত। পরে শিশু-কিশোরদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় এবং জাতির পিতার জীবন ও কর্মের ওপর বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানে আগত সকল শিশুকেই উপহার দেন রাষ্ট্রদূত।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Robiul Islam

জাপানে বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী উদযাপন

আপডেট টাইম : 08:02:48 am, Monday, 20 March 2023

প্রবাস ডেস্ক: জাপানের টোকিওস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৩তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উদযাপন করা হয়েছে।

প্রথম পর্বে সকালের অনুষ্ঠানের শুরুতে দূতাবাস প্রাঙ্গণে কর্মকর্তা–কর্মচারী এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আমন্ত্রিত প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শাহাবুদ্দিন আহমদ।

পরে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে রাষ্ট্রদূত জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুসহ তার পরিবারের সকল সদস্যের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। পরে দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী প্রদত্ত বাণী পাঠ করা হয়।

রাষ্ট্রদূত শাহাবুদ্দিন আহমদ গভীর শ্রদ্ধায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করেন এবং বঙ্গবন্ধুর কর্মময় জীবন এবং ১৭ মার্চের তাৎপর্য সম্পর্কে আলোচনা করেন।

রাষ্ট্রদূত বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে বাংলাদেশের সৃষ্টি হতো না, তিনি ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টা ও মুক্তির দূত। বঙ্গবন্ধু শিশুদের ভালোবাসতেন, শিশুরাও বঙ্গবন্ধুকে আপন করে নিতো। আর তাই এই মহান নেতার জন্মদিনকে জাতীয় শিশু দিবস হিসাবে পালন করা হয়।

রাষ্ট্রদূত শিশু-কিশোরদের বঙ্গবন্ধুর আদর্শে জীবন গড়ার ও বঙ্গবন্ধুর মতো মানবীয় গুণাবলী সম্পন্ন হয়ে দেশের উন্নয়নে আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানান। রাষ্ট্রদূত তার বক্তব্যে দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘স্মার্ট বাংলাদেশের স্বপ্নে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন, শিশুদের চোখ সমৃদ্ধির স্বপ্নে রঙিন’- এর ওপর আলোচনা করেন।

তিনি বলেন, একটি স্মার্ট বাংলাদেশের স্বপ্ন তখনই বাস্তবায়িত হবে যখন দেশের আগামী প্রজন্মকে ছোটবেলা থেকেই আধুনিক শিক্ষায় আলোকিত করার মাধ্যমে চরমপন্থামুক্ত মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন সৃজনশীল ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

আলোচনা পর্বে জাপানে বসবাসরত প্রবাসী বালাদেশি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস-২০২৩-এর গুরুত্ব ও তাৎপর্য সম্পর্কে আলোচনা করেন। বক্তারা বলেন, বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের সংবিধানে শিশুদের অধিকার সংরক্ষণ করেন। তিনি ১৯৭৪ সালে শিশু আইন প্রণয়ন করেন এবং গার্লস গাইড অ্যাসোসিয়েশনকে ঢেলে সাজান।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে কিশোরদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়েজন করা হয়। টোকিও ও আশেপাশের অঞ্চল থেকে আগত প্রবাসী ও তাদের সন্তানদের উৎসাহ ও উদ্দীপনায় মুখর ও প্রাণোচ্ছল হয়ে উঠেছিলো দূতাবাসের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তন।

এ সময় সমবেত শিশুদের সাথে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শাহাবুদ্দিন আহমদ। তিনি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে রচিত বিভিন্ন বই-পুস্তক পাঠের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর জীবনাদর্শ সম্পর্কে জানতে শিশু-কিশোরদের উৎসাহিত করেন।

এ সময় বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনকে আরো আনন্দময় করতে শিশু-কিশোরদের সাথে নিয়ে কেক কাটেন রাষ্ট্রদূত। পরে শিশু-কিশোরদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় এবং জাতির পিতার জীবন ও কর্মের ওপর বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানে আগত সকল শিশুকেই উপহার দেন রাষ্ট্রদূত।