Dhaka , Saturday, 2 March 2024

সিডনির রামাদান নাইটস

  • Robiul Islam
  • আপডেট টাইম : 08:15:54 am, Friday, 14 April 2023
  • 39 বার

প্রবাস ডেস্ক: বহু সংস্কৃতির দেশ অস্ট্রেলিয়া। এখানে সরকারিভাবে সংস্কৃতিকে উদযাপন করা হয়। তাই বছরব্যাপী চলতে থাকে বিভিন্ন ধরনের উৎসব আয়োজন। রমজান মাস আসলেই উৎসবের আমেজ তৈরি হয়। সিডনিতে রমজান মাসের সবচেয়ে বড় উৎসব হচ্ছে ‘লাকেম্বা রমাদান নাইটস’।

রমজান মাসের প্রত্যেকদিন সন্ধ্যা থেকে শুরু হয়ে এই উৎসব চলে ভোররাত অবধি। এ বছর রমাদান নাইটস শুরু হয়েছে ২১শে মার্চ থেকে, চলবে ২০শে এপ্রিল পর্যন্ত। ক্যান্টাবুরি সিটি কাউন্সিলের অধীনে মূলত লাকেম্বা সাবার্বের হেলডন স্ট্রিটের দুপাশে বসে এই মেলা। বিকেল হতেই লাকেম্বা স্টেশনের কাছ থেকে হেলডন স্ট্রিট বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এরপর দুপাশের দোকান এবং ফুটপাতে চলে এই বাহারি আয়োজন। এখানে মূলত বিভিন্ন দেশের ঐতিহ্যবাহী খাবার পরিবেশন করা হয়। অবশ্য পাশাপাশি খোলা থাকে কিছু পোশাকের দোকানও। পাশাপাশি থাকে বাচ্চাদের খেলনার দোকান।

এই মেলা ২০১২ সালে প্রথম শুরু হয়েছিল মাত্র একটা বারবিকিউ দোকানের মাধ্যমে। আর এখন এখানে পঁচাত্তরের ওপরে দোকান বসে। দোকানগুলোতে লেবানিজ, সিরিয়ান, ফিলিস্তিনি, ইন্দোনেশিয়ান, বাংলাদেশি, পাকিস্তানি, আফগানীসহ বিভিন্ন দেশের সব মুখরোচক খাবার ও পানীয়। এ সময় পুরো হেলডন স্ট্রিট লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠে।

সব বয়সী মানুষই এখানে খাবারের স্বাদ নিতে আসেন। অনেকেই আসেন ইফতারের আগে। এখানে পরিবারের সবাইকে নিয়ে ইফতার করেন। এরপর বিভিন্ন ধরনের খাবার খেয়ে বাসায় ফেরেন। আবার অনেকেই আসেন একটু বেশি রাত করে যাতে একবারে সেহরি খেয়ে বাসায় ফিরতে পারেন। মেলা উপলক্ষে হেলডন স্ট্রিটে আলাদাভাবে আলোকসজ্জাও করা হয়।

বেশিরভাগ মানুষই আসেন উটের মাংসের তৈরি বার্গার খেতে। তাই বার্গারের দোকানগুলোর সামনে দেখা যায় লম্বা লাইন। একটা বার্গার পেতে কমপক্ষে আধাঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়। তবুও মানুষের কোনো আক্ষেপ নেয়। কারণ এই উৎসবের অংশ হতে পারাটাই আসল কথা। পাশাপাশি বার্গারের দোকানগুলোতে হরিণের মাংসসহ অন্যান্য মাংসের বার্গারও বিক্রি হয়।

এছাড়াও পাওয়া যায় বিভিন্ন দেশের ঐতিহ্যবাহী পানীয় ও ফলের রস। বাচ্চাদের জন্য থাকে ‘চিপস ইন স্টিক’। খাবারের পাশাপাশি বেজে চলে বিভিন্ন দেশের সংগীত। সংগীতের মূর্ছনা এই মেলাকে যেন পূর্ণতা দেন করে।

সম্প্রতি লিভারপুল সিটি কাউন্সিলের অধীনে লিভারপুল সাবার্বে শুরু হয়েছে ‘মোস্ট ব্লেসড নাইটস’। লিভারপুলের ম্যাকুয়ারি স্ট্রিটেমাসব্যাপী প্রতি সপ্তাহান্তের শুক্র, শনি ও রোববার চলে এই মেলা। এখানেও হরেক রকমের খাবারের স্টলে বিভিন্ন দেশের ঐতিহ্যবাহী খাবার ও পানীয় পাওয়া যায়। পাশাপাশি এই জায়গাটাকে চোখ ধাঁধানো আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়।

এখানেও আশপাশের এলাকা থেকে মানুষ ভিড় করেন বিভিন্ন রকমের খাবারের স্বাদ নিতে। সিডনির এই ‘রমাদান নাইটস’ মেলাগুলো দিনে দিনে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ২০২২ সালের লাকেম্বা রমাদান নাইটসে দর্শনার্থীর সংখ্যা ছিল বাইশ লাখেরও বেশি। একইভাবে লিভাপুলের ‘মোস্ট ব্লেসড নাইটস’ও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এবং বছর বছর বাড়ছে দর্শনার্থী।

এখন সিডনির অন্যান্য সাবার্বেও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় এ ধরনের আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় আগামী ১৫ এপ্রিল ২০২৩ ক্যাম্বেলটাউন সিটি কাউন্সিলও আয়োজন করতে যাচ্ছে ‘রমাদান অন কিউ’।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Robiul Islam

জনপ্রিয় সংবাদ

সিডনির রামাদান নাইটস

আপডেট টাইম : 08:15:54 am, Friday, 14 April 2023

প্রবাস ডেস্ক: বহু সংস্কৃতির দেশ অস্ট্রেলিয়া। এখানে সরকারিভাবে সংস্কৃতিকে উদযাপন করা হয়। তাই বছরব্যাপী চলতে থাকে বিভিন্ন ধরনের উৎসব আয়োজন। রমজান মাস আসলেই উৎসবের আমেজ তৈরি হয়। সিডনিতে রমজান মাসের সবচেয়ে বড় উৎসব হচ্ছে ‘লাকেম্বা রমাদান নাইটস’।

রমজান মাসের প্রত্যেকদিন সন্ধ্যা থেকে শুরু হয়ে এই উৎসব চলে ভোররাত অবধি। এ বছর রমাদান নাইটস শুরু হয়েছে ২১শে মার্চ থেকে, চলবে ২০শে এপ্রিল পর্যন্ত। ক্যান্টাবুরি সিটি কাউন্সিলের অধীনে মূলত লাকেম্বা সাবার্বের হেলডন স্ট্রিটের দুপাশে বসে এই মেলা। বিকেল হতেই লাকেম্বা স্টেশনের কাছ থেকে হেলডন স্ট্রিট বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এরপর দুপাশের দোকান এবং ফুটপাতে চলে এই বাহারি আয়োজন। এখানে মূলত বিভিন্ন দেশের ঐতিহ্যবাহী খাবার পরিবেশন করা হয়। অবশ্য পাশাপাশি খোলা থাকে কিছু পোশাকের দোকানও। পাশাপাশি থাকে বাচ্চাদের খেলনার দোকান।

এই মেলা ২০১২ সালে প্রথম শুরু হয়েছিল মাত্র একটা বারবিকিউ দোকানের মাধ্যমে। আর এখন এখানে পঁচাত্তরের ওপরে দোকান বসে। দোকানগুলোতে লেবানিজ, সিরিয়ান, ফিলিস্তিনি, ইন্দোনেশিয়ান, বাংলাদেশি, পাকিস্তানি, আফগানীসহ বিভিন্ন দেশের সব মুখরোচক খাবার ও পানীয়। এ সময় পুরো হেলডন স্ট্রিট লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠে।

সব বয়সী মানুষই এখানে খাবারের স্বাদ নিতে আসেন। অনেকেই আসেন ইফতারের আগে। এখানে পরিবারের সবাইকে নিয়ে ইফতার করেন। এরপর বিভিন্ন ধরনের খাবার খেয়ে বাসায় ফেরেন। আবার অনেকেই আসেন একটু বেশি রাত করে যাতে একবারে সেহরি খেয়ে বাসায় ফিরতে পারেন। মেলা উপলক্ষে হেলডন স্ট্রিটে আলাদাভাবে আলোকসজ্জাও করা হয়।

বেশিরভাগ মানুষই আসেন উটের মাংসের তৈরি বার্গার খেতে। তাই বার্গারের দোকানগুলোর সামনে দেখা যায় লম্বা লাইন। একটা বার্গার পেতে কমপক্ষে আধাঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়। তবুও মানুষের কোনো আক্ষেপ নেয়। কারণ এই উৎসবের অংশ হতে পারাটাই আসল কথা। পাশাপাশি বার্গারের দোকানগুলোতে হরিণের মাংসসহ অন্যান্য মাংসের বার্গারও বিক্রি হয়।

এছাড়াও পাওয়া যায় বিভিন্ন দেশের ঐতিহ্যবাহী পানীয় ও ফলের রস। বাচ্চাদের জন্য থাকে ‘চিপস ইন স্টিক’। খাবারের পাশাপাশি বেজে চলে বিভিন্ন দেশের সংগীত। সংগীতের মূর্ছনা এই মেলাকে যেন পূর্ণতা দেন করে।

সম্প্রতি লিভারপুল সিটি কাউন্সিলের অধীনে লিভারপুল সাবার্বে শুরু হয়েছে ‘মোস্ট ব্লেসড নাইটস’। লিভারপুলের ম্যাকুয়ারি স্ট্রিটেমাসব্যাপী প্রতি সপ্তাহান্তের শুক্র, শনি ও রোববার চলে এই মেলা। এখানেও হরেক রকমের খাবারের স্টলে বিভিন্ন দেশের ঐতিহ্যবাহী খাবার ও পানীয় পাওয়া যায়। পাশাপাশি এই জায়গাটাকে চোখ ধাঁধানো আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়।

এখানেও আশপাশের এলাকা থেকে মানুষ ভিড় করেন বিভিন্ন রকমের খাবারের স্বাদ নিতে। সিডনির এই ‘রমাদান নাইটস’ মেলাগুলো দিনে দিনে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ২০২২ সালের লাকেম্বা রমাদান নাইটসে দর্শনার্থীর সংখ্যা ছিল বাইশ লাখেরও বেশি। একইভাবে লিভাপুলের ‘মোস্ট ব্লেসড নাইটস’ও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এবং বছর বছর বাড়ছে দর্শনার্থী।

এখন সিডনির অন্যান্য সাবার্বেও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় এ ধরনের আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় আগামী ১৫ এপ্রিল ২০২৩ ক্যাম্বেলটাউন সিটি কাউন্সিলও আয়োজন করতে যাচ্ছে ‘রমাদান অন কিউ’।