Dhaka , Friday, 23 February 2024
শিরোনাম :
চোখ লাফানোও হতে পারে মারাত্মক অসুখ মেক্সিকো সিটিতে রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী রাস্তা প্রশস্ত করতে ইরাকে ভাঙা হল তিনশ’ বছরের পুরনো মিনার, চারিদিকে নিন্দা অবৈধ অভিবাসীদের ঠেকাতে তিউনিসিয়া-ইইউ সমঝোতা শস্য চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা, ইউক্রেন ছাড়ল শেষ শস্যবাহী জাহাজ ফ্রাঙ্কফুর্টে সান বাঁধানো লেকের ধারে জমে উঠেছিল প্রবাসীদের ঈদ উৎসব দশ মাস পর আবারও রাস্তায় ইরানের বিতর্কিত ‘নীতি পুলিশ’ বার্সেলোনায় ঐতিহ্যবাহী ‘বাংলার মেলা’ মার্কিন গুচ্ছ বোমা ব্যবহার করলেই ইউক্রেনের ‘সর্বনাশ’, পুতিনের হুঁশিয়ারি ফ্রাঙ্কফুর্টে বাংলাদেশ দূতাবাসে প্রবাসীদের কনস্যুলার সেবা প্রদান কর্মসূচি পালিত

প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের হয়রানি বন্ধের দাবি ব্রিটিশ বাংলাদেশিদের

  • Robiul Islam
  • আপডেট টাইম : 08:00:44 am, Sunday, 21 May 2023
  • 29 বার

প্রবাস ডেস্ক: বাংলাদেশে প্রবাসীদের হয়রানি বন্ধ ও বিনিয়োগ সুরক্ষার দাবি জানিয়েছেন ব্রিটিশ বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা। লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান তারা।

হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের যুক্তরাজ্য প্রবাসী ৮ পরিচালক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। পরিচালকদের ৭ জন গত বছর বাংলাদেশে হয়রানিমূলক মামলায় গ্রেফতার হয়েছিলেন এবং ৮ দিনের কারাবাস শেষে জামিনে ছাড়া পান বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

এসব বিনিয়োগকারী প্রবাসীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়েরের পথ অবিলম্বে বন্ধ করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি দাবি জানিয়ে তারা বলেন, বাংলাদেশে প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়। এসব মামলার সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী প্রবাসী বিনিয়োগকারীরা। প্রবাসীদের বিনিয়োগ আত্মসাৎ করতে দুর্নীতিবাজরা মিথ্যা মামলা দায়েরকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে। যেন প্রবাসী বিনিয়োগকারীরা মামলার ভয়ে বিনিয়োগ রেখে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন।

তারা বলেন, নিজেদের গ্রেফতার ও কারাবরণের নেপথ্যে এমন দূরভিসন্ধি কাজ করেছে বলে মনে করেন তারা। আগের মামলার নিষ্পত্তি হওয়ার পর আবারও নতুন করে দুটি মামলা এবং একটি রিট পিটিশন দায়ের করা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বিনিয়োগকারীরা বলছেন, আইন মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য। কিন্তু এই আইনকে যদি হয়রানির অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়, অন্যের সম্পদ দখলের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়-সেটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির যুক্তরাজ্য প্রবাসী এসব বিনিয়োগকারী হলেন- ভাইস চেয়ারম্যান জামাল মিয়া, পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক, পরিচালক কামাল মিয়া, পরিচালক আব্দুল আহাদ, পরিচালক আব্দুল হাই, পরিচালক জামাল উদ্দিন, পরিচালক এম এ রব ও পরিচালক ফয়জুল হক।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক। তারা সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। বাংলাদেশে বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগকারী যুক্তরাজ্য প্রবাসী আরও অনেকেই এই সংবাদ সম্মেলনের দাবির সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে উপস্থিত হন।

লিখিত বক্তব্যে তারা বলেন, হোমল্যান্ড লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভায় যোগ দিতে গেলে গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাজ্য প্রবাসী এই ৭ পরিচালককে ঢাকার মতিঝিলে কোম্পানির প্রধান কার্যালয় থেকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায় পুলিশ। গ্রেফতারের কোনো কারণও ব্যখ্যা করা হয়নি। শুধু বলেছেন, ‘আপনাদের সঙ্গে কথা আছে’। থানায় নেওয়ার পর জানানো হয় মাগুরায় তাদের বিরুদ্ধে ২৭টি মামলা হয়েছে। বিমার টাকা না পেয়ে হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির চার গ্রাহক এসব মামলা করেছেন।

বিনিয়োগকারীরা বলেন, কোম্পানির চেয়ারম্যান ছাড়াও তখন ১০ জন পরিচালক ছিলেন। তাদের মধ্যে আমরা ৭ জন ব্রিটেনের, একজন থাকেন যুক্তরাষ্ট্রে। চেয়ারম্যান ও দুই পরিচালক থাকেন বাংলাদেশে। কিন্তু বিমার টাকা না পাওয়ায় বেছে বেছে শুশু যুক্তরাজ্য প্রবাসী ৭ পরিচালক এবং একজন শেয়ারহোল্ডারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলো মাগুরার চার গ্রাহক। আবার ওই মামলা সম্পর্কে কোনো কিছু জানার আগেই কোম্পানির সভা থেকে আমাদের গ্রেফতার করা হলো- এ ঘটনা থেকে ধারণা করা যায়, এটি কোনো সাধারণ মামলার ঘটনা নয়। এটি প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে কোম্পানি দখলের গভীর কোনো ষড়যন্ত্রের অংশ।

সাংবাদিকদের মাধ্যমে তারা জনসাধারণের কাছে প্রশ্ন রাখেন, গ্রাহক টাকা না পেলে কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা করতে পারে। আর বিষয়টি দেওয়ানি। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা নেওয়া হলো কী করে? লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, তারা মামলাগুলো মোকাবিলা করে গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর মাগুরার আদালত থেকে মুক্তি পান। এরপর তারা নতুন করে কোম্পানি পরিচালনার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছেন। কিন্তু বোর্ড মিটিং এলেই তাদের বিরুদ্ধে নানা কিছু শুরু হয়ে যায়।

তাদের জড়িয়ে হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সকে নিয়ে নানা ধরনের মিথ্যা সংবাদ প্রচার করা হয় বাংলাদেশের কয়েকটি কাগজে। ওইসব খবরে যুক্তরাজ্য প্রবাসী বিনিয়োগকারীরা কোম্পানির ১০৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে বানোয়াট অভিযোগ করা হয়। যার পরিপ্রেক্ষিতে এসব প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবিতে রিট পিটিশনও হয়। এছাড়া গত এপ্রিল মাসে আরও দুটি মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। এই মামলাগুলোও গ্রাহকের টাকা ফেরত না দেওয়ার অভিযোগে করা।

তারা বলেন, আগের মামলা কেবল আমরা ৮ জন যুক্তরাজ্য প্রবাসীর বিরুদ্ধে করা হয়েছিল। এবারের মামলাগুলোতে যুক্তরাজ্য প্রবাসী ৮ জনের পাশাপাশি কোম্পানির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ অন্যদেরও রাখা হয়েছে। যাতে মনে না হয় কেবল যুক্তরাজ্য প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের টার্গেট করা হয়েছে।

বাংলাদেশ সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে এসব বিনিয়োগকারী বলেন, আমরা প্রবাসীরা মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসা ও আবেগের টানে সব-সময় যাতায়াত করি, সম্পর্ক রাখি এবং বিনিয়োগ করি। আমরা চাই বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং বাংলাদেশ এগিয়ে যাক। আর সেই অগ্রযাত্রায় আমরা প্রবাসীরা বাংলাদেশের সঙ্গী থাকতে চাই। কিন্তু কিছু কুচক্রি মহল বিনিয়োগ আত্মসাৎ করার জন্য আমাদের নানাভাবে হয়রানি করে বাংলাদেশ থেকে তাড়াতে চায়। মিথ্যা মামলা দিয়ে, প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তার মাধ্যমে আইনের অপব্যবহার করে আমাদের হয়রানি করে।

বাংলাদেশ সরকার, পুলিশ প্রশাসন ও আদালতের কাছে অনুরোধ জানিয়ে তারা বলেন, প্রবাসীদের বিরুদ্ধে মামলা নেওয়ার আগে ভালোভাবে খোঁজখবর নেওয়া হয়। উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা মামলা যাতে কেউ করতে না পারে সেই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।

প্রবাসী বিনিয়োগ আত্মসাতের চেষ্টাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

তারা বলেন, প্রবাসীরা রেমিট্যান্স যোদ্ধা, বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি। তাই প্রবাসীদের বিনিয়োগকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য সরকারের উচিত কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা। তারা স্থায়ীভাবে প্রবাসীদের হয়রানি বন্ধে এবং প্রবাসী বিনিয়োগ ও বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষার জন্য জাতীয় সংসদে সুনির্দিষ্ট আইন প্রণয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি বিণীত আবেদন জানান।

তারা আরও বলেন, হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির প্রবাসী বিনিয়োগকারীরা যদি কোনো অন্যায়ের শিকার হয়, তাদের বিনিয়োগ হারায় সেটি বাংলাদেশে প্রবাসী বিনিয়োগের ক্ষেত্রে চরম খারাপ উদাহরণ তৈরি করবে। হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে বাংলাদেশ সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তারা।

এই ৭ বিনিয়োগকারী বাংলাদেশে অন্যায়ভাবে গ্রেফতারের শিকার হওয়ার পর যুক্তরাজ্যের বাংলা মিডিয়া, বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনসহ কমিউনিটির পক্ষ থেকে জোরালো প্রতিবাদ হয়েছিল। তাদের মুক্তির দাবি করা হয়েছিল। দাবি তোলা হয়েছিলো- বাংলাদেশে প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য।

এই সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে যুক্তরাজ্যে বাংলা মিডিয়ার সাংবাদিক, কমিউনিটির বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনসহ তাদের নিজেদের পরিবার- যে যেভাবে তাদের পাশে ছিলেন, সমর্থন ও সহানুভূতি দেখিয়েছেন, মুক্তির দাবি তুলেছেন- সবার প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা এবং ধন্যবাদ জানান হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির সাত পরিচালক।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Robiul Islam

জনপ্রিয় সংবাদ

চোখ লাফানোও হতে পারে মারাত্মক অসুখ

প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের হয়রানি বন্ধের দাবি ব্রিটিশ বাংলাদেশিদের

আপডেট টাইম : 08:00:44 am, Sunday, 21 May 2023

প্রবাস ডেস্ক: বাংলাদেশে প্রবাসীদের হয়রানি বন্ধ ও বিনিয়োগ সুরক্ষার দাবি জানিয়েছেন ব্রিটিশ বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা। লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান তারা।

হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের যুক্তরাজ্য প্রবাসী ৮ পরিচালক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। পরিচালকদের ৭ জন গত বছর বাংলাদেশে হয়রানিমূলক মামলায় গ্রেফতার হয়েছিলেন এবং ৮ দিনের কারাবাস শেষে জামিনে ছাড়া পান বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

এসব বিনিয়োগকারী প্রবাসীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়েরের পথ অবিলম্বে বন্ধ করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি দাবি জানিয়ে তারা বলেন, বাংলাদেশে প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়। এসব মামলার সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী প্রবাসী বিনিয়োগকারীরা। প্রবাসীদের বিনিয়োগ আত্মসাৎ করতে দুর্নীতিবাজরা মিথ্যা মামলা দায়েরকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে। যেন প্রবাসী বিনিয়োগকারীরা মামলার ভয়ে বিনিয়োগ রেখে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন।

তারা বলেন, নিজেদের গ্রেফতার ও কারাবরণের নেপথ্যে এমন দূরভিসন্ধি কাজ করেছে বলে মনে করেন তারা। আগের মামলার নিষ্পত্তি হওয়ার পর আবারও নতুন করে দুটি মামলা এবং একটি রিট পিটিশন দায়ের করা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বিনিয়োগকারীরা বলছেন, আইন মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য। কিন্তু এই আইনকে যদি হয়রানির অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়, অন্যের সম্পদ দখলের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়-সেটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির যুক্তরাজ্য প্রবাসী এসব বিনিয়োগকারী হলেন- ভাইস চেয়ারম্যান জামাল মিয়া, পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক, পরিচালক কামাল মিয়া, পরিচালক আব্দুল আহাদ, পরিচালক আব্দুল হাই, পরিচালক জামাল উদ্দিন, পরিচালক এম এ রব ও পরিচালক ফয়জুল হক।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক। তারা সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। বাংলাদেশে বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগকারী যুক্তরাজ্য প্রবাসী আরও অনেকেই এই সংবাদ সম্মেলনের দাবির সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে উপস্থিত হন।

লিখিত বক্তব্যে তারা বলেন, হোমল্যান্ড লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভায় যোগ দিতে গেলে গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাজ্য প্রবাসী এই ৭ পরিচালককে ঢাকার মতিঝিলে কোম্পানির প্রধান কার্যালয় থেকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায় পুলিশ। গ্রেফতারের কোনো কারণও ব্যখ্যা করা হয়নি। শুধু বলেছেন, ‘আপনাদের সঙ্গে কথা আছে’। থানায় নেওয়ার পর জানানো হয় মাগুরায় তাদের বিরুদ্ধে ২৭টি মামলা হয়েছে। বিমার টাকা না পেয়ে হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির চার গ্রাহক এসব মামলা করেছেন।

বিনিয়োগকারীরা বলেন, কোম্পানির চেয়ারম্যান ছাড়াও তখন ১০ জন পরিচালক ছিলেন। তাদের মধ্যে আমরা ৭ জন ব্রিটেনের, একজন থাকেন যুক্তরাষ্ট্রে। চেয়ারম্যান ও দুই পরিচালক থাকেন বাংলাদেশে। কিন্তু বিমার টাকা না পাওয়ায় বেছে বেছে শুশু যুক্তরাজ্য প্রবাসী ৭ পরিচালক এবং একজন শেয়ারহোল্ডারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলো মাগুরার চার গ্রাহক। আবার ওই মামলা সম্পর্কে কোনো কিছু জানার আগেই কোম্পানির সভা থেকে আমাদের গ্রেফতার করা হলো- এ ঘটনা থেকে ধারণা করা যায়, এটি কোনো সাধারণ মামলার ঘটনা নয়। এটি প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে কোম্পানি দখলের গভীর কোনো ষড়যন্ত্রের অংশ।

সাংবাদিকদের মাধ্যমে তারা জনসাধারণের কাছে প্রশ্ন রাখেন, গ্রাহক টাকা না পেলে কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা করতে পারে। আর বিষয়টি দেওয়ানি। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা নেওয়া হলো কী করে? লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, তারা মামলাগুলো মোকাবিলা করে গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর মাগুরার আদালত থেকে মুক্তি পান। এরপর তারা নতুন করে কোম্পানি পরিচালনার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছেন। কিন্তু বোর্ড মিটিং এলেই তাদের বিরুদ্ধে নানা কিছু শুরু হয়ে যায়।

তাদের জড়িয়ে হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সকে নিয়ে নানা ধরনের মিথ্যা সংবাদ প্রচার করা হয় বাংলাদেশের কয়েকটি কাগজে। ওইসব খবরে যুক্তরাজ্য প্রবাসী বিনিয়োগকারীরা কোম্পানির ১০৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে বানোয়াট অভিযোগ করা হয়। যার পরিপ্রেক্ষিতে এসব প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবিতে রিট পিটিশনও হয়। এছাড়া গত এপ্রিল মাসে আরও দুটি মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। এই মামলাগুলোও গ্রাহকের টাকা ফেরত না দেওয়ার অভিযোগে করা।

তারা বলেন, আগের মামলা কেবল আমরা ৮ জন যুক্তরাজ্য প্রবাসীর বিরুদ্ধে করা হয়েছিল। এবারের মামলাগুলোতে যুক্তরাজ্য প্রবাসী ৮ জনের পাশাপাশি কোম্পানির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ অন্যদেরও রাখা হয়েছে। যাতে মনে না হয় কেবল যুক্তরাজ্য প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের টার্গেট করা হয়েছে।

বাংলাদেশ সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে এসব বিনিয়োগকারী বলেন, আমরা প্রবাসীরা মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসা ও আবেগের টানে সব-সময় যাতায়াত করি, সম্পর্ক রাখি এবং বিনিয়োগ করি। আমরা চাই বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং বাংলাদেশ এগিয়ে যাক। আর সেই অগ্রযাত্রায় আমরা প্রবাসীরা বাংলাদেশের সঙ্গী থাকতে চাই। কিন্তু কিছু কুচক্রি মহল বিনিয়োগ আত্মসাৎ করার জন্য আমাদের নানাভাবে হয়রানি করে বাংলাদেশ থেকে তাড়াতে চায়। মিথ্যা মামলা দিয়ে, প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তার মাধ্যমে আইনের অপব্যবহার করে আমাদের হয়রানি করে।

বাংলাদেশ সরকার, পুলিশ প্রশাসন ও আদালতের কাছে অনুরোধ জানিয়ে তারা বলেন, প্রবাসীদের বিরুদ্ধে মামলা নেওয়ার আগে ভালোভাবে খোঁজখবর নেওয়া হয়। উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা মামলা যাতে কেউ করতে না পারে সেই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।

প্রবাসী বিনিয়োগ আত্মসাতের চেষ্টাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

তারা বলেন, প্রবাসীরা রেমিট্যান্স যোদ্ধা, বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি। তাই প্রবাসীদের বিনিয়োগকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য সরকারের উচিত কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা। তারা স্থায়ীভাবে প্রবাসীদের হয়রানি বন্ধে এবং প্রবাসী বিনিয়োগ ও বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষার জন্য জাতীয় সংসদে সুনির্দিষ্ট আইন প্রণয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি বিণীত আবেদন জানান।

তারা আরও বলেন, হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির প্রবাসী বিনিয়োগকারীরা যদি কোনো অন্যায়ের শিকার হয়, তাদের বিনিয়োগ হারায় সেটি বাংলাদেশে প্রবাসী বিনিয়োগের ক্ষেত্রে চরম খারাপ উদাহরণ তৈরি করবে। হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে বাংলাদেশ সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তারা।

এই ৭ বিনিয়োগকারী বাংলাদেশে অন্যায়ভাবে গ্রেফতারের শিকার হওয়ার পর যুক্তরাজ্যের বাংলা মিডিয়া, বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনসহ কমিউনিটির পক্ষ থেকে জোরালো প্রতিবাদ হয়েছিল। তাদের মুক্তির দাবি করা হয়েছিল। দাবি তোলা হয়েছিলো- বাংলাদেশে প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য।

এই সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে যুক্তরাজ্যে বাংলা মিডিয়ার সাংবাদিক, কমিউনিটির বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনসহ তাদের নিজেদের পরিবার- যে যেভাবে তাদের পাশে ছিলেন, সমর্থন ও সহানুভূতি দেখিয়েছেন, মুক্তির দাবি তুলেছেন- সবার প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা এবং ধন্যবাদ জানান হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির সাত পরিচালক।