Dhaka , Monday, 15 July 2024

বাংলাদেশি শামস আহমেদের ‘এমি অ্যাওয়ার্ড’ জয়

  • Robiul Islam
  • আপডেট টাইম : 08:32:58 am, Monday, 29 May 2023
  • 45 বার

প্রবাস ডেস্ক: গত বছর সুপার বৌলে (আমেরিকান ফুটবলের সবচেয়ে জনপ্রিয় আসর) ‘র‌্যাগড ওল্ড ফ্ল্যাগ : অ্যান আমেরিকান কোরাস’টি অসম্ভব জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। কোটি আমেরিকানের হৃদয়ে কাঁপুনি সৃষ্টি করা এই সংগীত পরিচালনা করেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকান শামস আহমেদ।

অসাধারণ শৈল্পিক চিন্তার প্রতিফলন ঘটানোর জন্য গত এপ্রিলে পরিচালক শামস আহমেদকে ‘এমি এওয়ার্ড’র জন্য মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। সে সূত্রেই গত ২২ মে নিউইয়র্ক সিটির লিঙ্কস সেন্টারে ‘৪৪তম স্পোর্টস এমি অ্যাওয়ার্ড’র আসরে শামস আহমেদকে প্রদান করা হয়েছে অ্যাওয়ার্ড।

বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমেদের নাতি (নিউজার্সিতে বসবাসরত সালাহউদ্দিন আহমেদের পুত্র) শামস এই অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্তির মাধ্যমে মার্কিন মুল্লুকে বাঙালি প্রজন্মের জন্য আরেকটি ইতিহাসের সাক্ষী হলেন। এর আগে কোনো বাংলাদেশি এই মর্যাদাসম্পন্ন অ্যাওয়ার্ড পাননি।
‘ন্যাশনাল একাডেমি অব টেলিভিশন আর্টস অ্যান্ড সায়েন্স’ এই অ্যাওয়ার্ড বিতরণ করেছে।

বিরল এই সম্মান লাভের প্রতিক্রিয়ায় শামস বলেন, ‘সত্যিই আমি আনন্দিত যে, আমরা সুপার বৌল অংশে সেরা সংগীত পরিচালনার জন্য এমি পুরস্কার জিতেছি। যে আশ্চর্যজনক দলটি এটি ঘটিয়েছে তার জন্য আমি আবেগ ও গর্ব অনুভব করছি। আপনাদের মতো সহকর্মীদের দুর্দান্ত সহযোগিতা এবং বন্ধু হওয়ার জন্য -আমি নিজেকে খুবই ভাগ্যবান মনে করছি। আমি এমন সম্মানের অধিকারী হবো বুঝতে পারিনি।

আমি সবসময় অনুভব করতাম যে, সত্যিকারের বিজয় লক্ষ লক্ষ আমেরিকানের সামনে প্রতিভাবান তরুণদের একটি বৈচিত্রময় দলকে তোলে ধরার চেষ্ঠা করবো – এবং তাই হলো আজ। এখন, এই পুরস্কারটি হলো আমাদের সকলের প্রচেষ্টার স্বীকৃতি। বাচ্চাদের এবং তাদের বাবা-মা, ক্রু, প্রত্যেকের কঠোর পরিশ্রমের ফল। এ জন্য আমি দলের সকলকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

কিছুদিন আগেও শামস ব্যতিক্রমী রচনা ও অসাধারণ সংগীত প্রযোজনার জন্য পাশ্চাত্য সংগীতের বিশ্বে শিরোনাম হয়েছিলেন। একটি গার্ল গ্রুপ, সিটিজেন কুইন, একটি বাচ্চাদের মিউজিক ব্র্যান্ড, অ্যাকাপপসহ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের বৈচিত্রমণ্ডিত সুর লহড়ি প্রতিষ্ঠার জন্য।

শাসসের এই সম্মানে প্রবাসীরাও উল্লাস করছেন। উত্তর আমেরিকায় খ্যাতনামা সমাজকর্মী শাসসের চাচা বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাঙালি প্রজন্মের অসাধারণ এ কৃতিত্বের খবর জানিয়ে বলেন, ‘সিলেটের পারিবারিক ঐতিহ্যের রক্ত শামসকে বহুজাতিক এ সমাজেও উজ্জীবিত রেখেছে। এর মধ্য দিয়ে প্রকারান্তরে বাঙালি সংস্কৃতির ধারা আবারো বিশ্বময় উদ্ভাসিত হলো।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Robiul Islam

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশি শামস আহমেদের ‘এমি অ্যাওয়ার্ড’ জয়

আপডেট টাইম : 08:32:58 am, Monday, 29 May 2023

প্রবাস ডেস্ক: গত বছর সুপার বৌলে (আমেরিকান ফুটবলের সবচেয়ে জনপ্রিয় আসর) ‘র‌্যাগড ওল্ড ফ্ল্যাগ : অ্যান আমেরিকান কোরাস’টি অসম্ভব জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। কোটি আমেরিকানের হৃদয়ে কাঁপুনি সৃষ্টি করা এই সংগীত পরিচালনা করেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকান শামস আহমেদ।

অসাধারণ শৈল্পিক চিন্তার প্রতিফলন ঘটানোর জন্য গত এপ্রিলে পরিচালক শামস আহমেদকে ‘এমি এওয়ার্ড’র জন্য মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। সে সূত্রেই গত ২২ মে নিউইয়র্ক সিটির লিঙ্কস সেন্টারে ‘৪৪তম স্পোর্টস এমি অ্যাওয়ার্ড’র আসরে শামস আহমেদকে প্রদান করা হয়েছে অ্যাওয়ার্ড।

বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমেদের নাতি (নিউজার্সিতে বসবাসরত সালাহউদ্দিন আহমেদের পুত্র) শামস এই অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্তির মাধ্যমে মার্কিন মুল্লুকে বাঙালি প্রজন্মের জন্য আরেকটি ইতিহাসের সাক্ষী হলেন। এর আগে কোনো বাংলাদেশি এই মর্যাদাসম্পন্ন অ্যাওয়ার্ড পাননি।
‘ন্যাশনাল একাডেমি অব টেলিভিশন আর্টস অ্যান্ড সায়েন্স’ এই অ্যাওয়ার্ড বিতরণ করেছে।

বিরল এই সম্মান লাভের প্রতিক্রিয়ায় শামস বলেন, ‘সত্যিই আমি আনন্দিত যে, আমরা সুপার বৌল অংশে সেরা সংগীত পরিচালনার জন্য এমি পুরস্কার জিতেছি। যে আশ্চর্যজনক দলটি এটি ঘটিয়েছে তার জন্য আমি আবেগ ও গর্ব অনুভব করছি। আপনাদের মতো সহকর্মীদের দুর্দান্ত সহযোগিতা এবং বন্ধু হওয়ার জন্য -আমি নিজেকে খুবই ভাগ্যবান মনে করছি। আমি এমন সম্মানের অধিকারী হবো বুঝতে পারিনি।

আমি সবসময় অনুভব করতাম যে, সত্যিকারের বিজয় লক্ষ লক্ষ আমেরিকানের সামনে প্রতিভাবান তরুণদের একটি বৈচিত্রময় দলকে তোলে ধরার চেষ্ঠা করবো – এবং তাই হলো আজ। এখন, এই পুরস্কারটি হলো আমাদের সকলের প্রচেষ্টার স্বীকৃতি। বাচ্চাদের এবং তাদের বাবা-মা, ক্রু, প্রত্যেকের কঠোর পরিশ্রমের ফল। এ জন্য আমি দলের সকলকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

কিছুদিন আগেও শামস ব্যতিক্রমী রচনা ও অসাধারণ সংগীত প্রযোজনার জন্য পাশ্চাত্য সংগীতের বিশ্বে শিরোনাম হয়েছিলেন। একটি গার্ল গ্রুপ, সিটিজেন কুইন, একটি বাচ্চাদের মিউজিক ব্র্যান্ড, অ্যাকাপপসহ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের বৈচিত্রমণ্ডিত সুর লহড়ি প্রতিষ্ঠার জন্য।

শাসসের এই সম্মানে প্রবাসীরাও উল্লাস করছেন। উত্তর আমেরিকায় খ্যাতনামা সমাজকর্মী শাসসের চাচা বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাঙালি প্রজন্মের অসাধারণ এ কৃতিত্বের খবর জানিয়ে বলেন, ‘সিলেটের পারিবারিক ঐতিহ্যের রক্ত শামসকে বহুজাতিক এ সমাজেও উজ্জীবিত রেখেছে। এর মধ্য দিয়ে প্রকারান্তরে বাঙালি সংস্কৃতির ধারা আবারো বিশ্বময় উদ্ভাসিত হলো।’