Dhaka , Friday, 24 May 2024

কমেছে লোডশেডিং, চলতি সপ্তাহেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক

  • Robiul Islam
  • আপডেট টাইম : 08:13:27 am, Sunday, 11 June 2023
  • 58 বার

নিউজ ডেস্ক: ডলার সঙ্কটে কয়লা আমদানি করা যাচ্ছিল না। এরপর কয়লা সঙ্কটে রামপালে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। যার প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ ব্যবহারের ওপর। তাপপ্রবাহের সঙ্গে লোডশেডিং সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু সপ্তাহের ব্যবধানেই উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে লোডশেডিং। এরই মধ্যে জাতীয় গ্রিডে যোগ হয়েছে ভারতের আদানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদিত বাড়তি বিদ্যুৎ। এর সঙ্গে সরকারি পদক্ষেপে বিদ্যুতের উৎপাদনও কিছুটা বেড়েছে। ফলে চলতি সপ্তাহেই পরিস্থিতি আরও স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশা করছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দেশে চাহিদার পূর্বাভাস ছিল দিনের সর্বোচ্চ ১২০০০ এবং সন্ধ্যায় ১৪০০০ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে শুক্রবারের প্রকৃত উৎপাদন ছিল দিনে সর্বোচ্চ ১১০৮৯ এবং সন্ধ্যায় ১২৬৯৯ মেগাওয়াট। অর্থাৎ মাত্র এক দিনের ব্যবধানে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও চাহিদার পার্থক্য খুব সামান্যতে নেমে এসেছে। এই অবস্থায় চাহিদার হঠাৎ উচ্চলম্ফন না হলে শনিবার লোডশেডিং হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

এদিকে, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তথ্যমতে, শুক্রবার দিনে পিক আওয়ারে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল ১১ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট। আর উৎপাদন হয় ১১ হাজার ২৪ মেগাওয়াট। ফলে দেশের বিভিন্ন স্থানে এদিন মাত্র ২৪৬ মেগাওয়াটের লোডশেডিং করতে হয়। এদিন গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো থেকে উৎপাদিত হয় ৬ হাজার ১৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।

একইভাবে, তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলো থেকে উৎপাদিত হয় ২০০৫ মেগাওয়াট, কয়লাভিত্তিক থেকে ১৭৪৩, হাইড্রো থেকে ২৫, সোলার থেকে ২০৯, বায়ু থেকে ২, ভেড়ামারা থেকে ৯২৮ এবং ত্রিপুরা থেকে ১১২ মেগাওয়াট।

একইদিন ভারতের আদানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিট থেকে যোগ হয়েছে ৭৫৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। এর আগের দিনও এই কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে যোগ হয় ৬৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। প্রথম ইউনিট এবং দ্বিতীয় ইউনিট মিলে সংকটকালে দেশের গ্রিডে আদানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে যোগ হচ্ছে ১ হাজার মেগাওয়াটের থেকে বেশি বিদ্যুৎ।

এ ছাড়া, তিন দিন আগেই কক্সবাজারের খুরুশকুলে পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু করেছে দেশের বৃহত্তম বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্র। তার মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয় ৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।

বিদ্যুৎ বিভাগ দাবি করছে, এটি সাম্প্রতিক সংকট মোকাবিলায় অনেকটাই ভূমিকা রাখছে।

ন্যাশনাল লোড ডেসপাস সেন্টার সূত্রে জানা গেছে, আগের দিন রাত ৮টায় দেশের কোনও কোনও এলাকা লোডশেডিংয়ের আওতার বাইরে ছিল। এর মধ্যে ঢাকার দুই বিতরণ কোম্পানি কোনও লোডশেডিং করেনি। এ ছাড়া, দেশের অন্যান্য এলাকাতেও বিদ্যুৎ পরিস্থিতির আশাব্যঞ্জক উন্নতি হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. হাবিবুর রহমান (বিপিএএ) বলেন, বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানে সম্ভাব্য সব পক্ষ যথেষ্ট আন্তরিকতার সাথে কাজ করছে। বর্তমান সরকারের আমলে সর্বোচ্চ পর্যায়ে মানুষ বিদ্যুতের আওতায় এসেছে। আমাদের পরিকল্পনা, কাভারেজ বাড়ানোর পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করা। সেই লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। চলমান যে সংকটের কথা বলা হচ্ছে, তা বলা যায় কেটে গেছে। পরিস্থিতি আরও উন্নতির আশা করছি।

এদিকে, লোডশেডিংয়ের মধ্যে বৃষ্টিকে আশীর্বাদ হিসেবে ধরা হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে শুক্রবার বৃষ্টি নেমেছে। এতে বিদ্যুতের চাহিদায় ভালো প্রভাব ফেলেছে। গত কয়েক দিন ধরে যা ছিল ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি। এ ছাড়া, দেশের তাপমাত্রাও বৃষ্টির কারণে অন্তত ৪ থেকে ৫ ডিগ্রি কমেছে। এতে বিদ্যুতের চাহিদা কমে গেছে।

ন্যাশনাল লোড ডেসপাস সেন্টার বলছে, বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় ঢাকায় ডেসকোর ১১৩০ এবং ডিপিডিসির ১৫৬৪ মেগাওয়াট চাহিদার পুরোটাই সরবরাহ করা হয়েছে। ঢাকার আরইবি এলাকায় ২২৭৪ মেগাওয়াটের পুরোটাই সরবরাহ করা হয়েছে। একইভাবে চট্টগ্রামে পিডিবির চাহিদা ছিল ১০৭৫ মেগাওয়াট এবং আরইবির চাহিদা ছিল ৪০৯। এনএলডিসি বলছে, চাহিদার পুরোটাই সরবরাহ ছিল। কোথাও লোডশেডিং হয়নি। লোডশেডিংয়ের বাইরে ছিল খুলনাও। ওয়েস্ট জোন ৫৪৩ এবং আরইবির ১৩৫১ মেগাওয়াট চাহিদার পুরোটা সরবরাহ করেছে।

বরিশালে লোডশেডিং ছিল মাত্র ২ মেগাওয়াট। বরিশালে ওয়েস্ট জোনে ১৩১ চাহিদার পুরোটাই সরবরাহ করা হয়েছে। এ ছাড়া, আরইবির ৩৬৬ মেগাওয়াট চাহিদার মধ্যে সরবরাহ করা হয়েছে ৩৬৪ মেগাওয়াট। কুমিল্লায় পিডিবির ৩২৪ এবং আরইবির ১০৭৮ মেগাওয়াটের পুরোটা সরবরাহ করা হয়েছে।

এ ছাড়া, ময়মনসিংহে পিডিবির ৬৬৭ মেগাওয়াটের মধ্যে ৪২৭ সরবরাহ ছিল। লোডশেডিং হয়েছে ৪০ মেগাওয়াট। আরইবির ৯৯৪ মেগাওয়াটের স্থলে সরবরাহ হয়েছে ৭২১, লোডশেডিং ছিল ২৭৩ মেগাওয়াট। সিলেটে পিডিবির ১৯৯ মেগাওয়াটের স্থলে সরবরাহ ছিল ১৯০। মাত্র ৯ মেগাওয়াট লোডশেডিং ছিল।

অন্যদিকে, আরইবির ১৩৫১ মেগাওয়াটের মধ্যে ১৩২৯ সরবরাহ ছিল। লোডশেডিং ছিল ২২ মেগাওয়াট। রাজশাহীতে নেসকোর ৪৮৫ চাহিদার ৪৫৫ মেগাওয়াট সরবরাহ করা হয়েছে। মাত্র ৩০ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে। এ ছাড়া, আরইবির ১১৭২ চাহিদার মধ্যে ১০৪৫ মেগাওয়াট সরবরাহ করা হয়েছে। লোডশেডিং হয়েছে ১২৭ মেগাওয়াট। রংপুরে নেসকোর ৩৫১ চাহিদার বিপরীতে ২৯৫ মেগাওয়াট সরবরাহ করা হয়েছে। আর আরইবির ৭২৫ মেগাওয়াটের স্থলে ৫৫২ লোডশেডিং করা হয়েছে।

সারাদেশে বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় ৭৭২ মেগাওয়াট লোডশেডিং করা হয়েছে। দুই দিন আগেও যেসব এলাকার পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। পিডিবি’র তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার দিনের বেলা দেশে সর্বোচ্চ বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৪ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে উৎপাদন হয় ১২ হাজার ৬৭৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Robiul Islam

কমেছে লোডশেডিং, চলতি সপ্তাহেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক

আপডেট টাইম : 08:13:27 am, Sunday, 11 June 2023

নিউজ ডেস্ক: ডলার সঙ্কটে কয়লা আমদানি করা যাচ্ছিল না। এরপর কয়লা সঙ্কটে রামপালে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। যার প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ ব্যবহারের ওপর। তাপপ্রবাহের সঙ্গে লোডশেডিং সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু সপ্তাহের ব্যবধানেই উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে লোডশেডিং। এরই মধ্যে জাতীয় গ্রিডে যোগ হয়েছে ভারতের আদানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদিত বাড়তি বিদ্যুৎ। এর সঙ্গে সরকারি পদক্ষেপে বিদ্যুতের উৎপাদনও কিছুটা বেড়েছে। ফলে চলতি সপ্তাহেই পরিস্থিতি আরও স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশা করছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দেশে চাহিদার পূর্বাভাস ছিল দিনের সর্বোচ্চ ১২০০০ এবং সন্ধ্যায় ১৪০০০ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে শুক্রবারের প্রকৃত উৎপাদন ছিল দিনে সর্বোচ্চ ১১০৮৯ এবং সন্ধ্যায় ১২৬৯৯ মেগাওয়াট। অর্থাৎ মাত্র এক দিনের ব্যবধানে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও চাহিদার পার্থক্য খুব সামান্যতে নেমে এসেছে। এই অবস্থায় চাহিদার হঠাৎ উচ্চলম্ফন না হলে শনিবার লোডশেডিং হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

এদিকে, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তথ্যমতে, শুক্রবার দিনে পিক আওয়ারে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল ১১ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট। আর উৎপাদন হয় ১১ হাজার ২৪ মেগাওয়াট। ফলে দেশের বিভিন্ন স্থানে এদিন মাত্র ২৪৬ মেগাওয়াটের লোডশেডিং করতে হয়। এদিন গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো থেকে উৎপাদিত হয় ৬ হাজার ১৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।

একইভাবে, তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলো থেকে উৎপাদিত হয় ২০০৫ মেগাওয়াট, কয়লাভিত্তিক থেকে ১৭৪৩, হাইড্রো থেকে ২৫, সোলার থেকে ২০৯, বায়ু থেকে ২, ভেড়ামারা থেকে ৯২৮ এবং ত্রিপুরা থেকে ১১২ মেগাওয়াট।

একইদিন ভারতের আদানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিট থেকে যোগ হয়েছে ৭৫৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। এর আগের দিনও এই কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে যোগ হয় ৬৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। প্রথম ইউনিট এবং দ্বিতীয় ইউনিট মিলে সংকটকালে দেশের গ্রিডে আদানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে যোগ হচ্ছে ১ হাজার মেগাওয়াটের থেকে বেশি বিদ্যুৎ।

এ ছাড়া, তিন দিন আগেই কক্সবাজারের খুরুশকুলে পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু করেছে দেশের বৃহত্তম বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্র। তার মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয় ৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।

বিদ্যুৎ বিভাগ দাবি করছে, এটি সাম্প্রতিক সংকট মোকাবিলায় অনেকটাই ভূমিকা রাখছে।

ন্যাশনাল লোড ডেসপাস সেন্টার সূত্রে জানা গেছে, আগের দিন রাত ৮টায় দেশের কোনও কোনও এলাকা লোডশেডিংয়ের আওতার বাইরে ছিল। এর মধ্যে ঢাকার দুই বিতরণ কোম্পানি কোনও লোডশেডিং করেনি। এ ছাড়া, দেশের অন্যান্য এলাকাতেও বিদ্যুৎ পরিস্থিতির আশাব্যঞ্জক উন্নতি হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. হাবিবুর রহমান (বিপিএএ) বলেন, বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানে সম্ভাব্য সব পক্ষ যথেষ্ট আন্তরিকতার সাথে কাজ করছে। বর্তমান সরকারের আমলে সর্বোচ্চ পর্যায়ে মানুষ বিদ্যুতের আওতায় এসেছে। আমাদের পরিকল্পনা, কাভারেজ বাড়ানোর পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করা। সেই লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। চলমান যে সংকটের কথা বলা হচ্ছে, তা বলা যায় কেটে গেছে। পরিস্থিতি আরও উন্নতির আশা করছি।

এদিকে, লোডশেডিংয়ের মধ্যে বৃষ্টিকে আশীর্বাদ হিসেবে ধরা হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে শুক্রবার বৃষ্টি নেমেছে। এতে বিদ্যুতের চাহিদায় ভালো প্রভাব ফেলেছে। গত কয়েক দিন ধরে যা ছিল ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি। এ ছাড়া, দেশের তাপমাত্রাও বৃষ্টির কারণে অন্তত ৪ থেকে ৫ ডিগ্রি কমেছে। এতে বিদ্যুতের চাহিদা কমে গেছে।

ন্যাশনাল লোড ডেসপাস সেন্টার বলছে, বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় ঢাকায় ডেসকোর ১১৩০ এবং ডিপিডিসির ১৫৬৪ মেগাওয়াট চাহিদার পুরোটাই সরবরাহ করা হয়েছে। ঢাকার আরইবি এলাকায় ২২৭৪ মেগাওয়াটের পুরোটাই সরবরাহ করা হয়েছে। একইভাবে চট্টগ্রামে পিডিবির চাহিদা ছিল ১০৭৫ মেগাওয়াট এবং আরইবির চাহিদা ছিল ৪০৯। এনএলডিসি বলছে, চাহিদার পুরোটাই সরবরাহ ছিল। কোথাও লোডশেডিং হয়নি। লোডশেডিংয়ের বাইরে ছিল খুলনাও। ওয়েস্ট জোন ৫৪৩ এবং আরইবির ১৩৫১ মেগাওয়াট চাহিদার পুরোটা সরবরাহ করেছে।

বরিশালে লোডশেডিং ছিল মাত্র ২ মেগাওয়াট। বরিশালে ওয়েস্ট জোনে ১৩১ চাহিদার পুরোটাই সরবরাহ করা হয়েছে। এ ছাড়া, আরইবির ৩৬৬ মেগাওয়াট চাহিদার মধ্যে সরবরাহ করা হয়েছে ৩৬৪ মেগাওয়াট। কুমিল্লায় পিডিবির ৩২৪ এবং আরইবির ১০৭৮ মেগাওয়াটের পুরোটা সরবরাহ করা হয়েছে।

এ ছাড়া, ময়মনসিংহে পিডিবির ৬৬৭ মেগাওয়াটের মধ্যে ৪২৭ সরবরাহ ছিল। লোডশেডিং হয়েছে ৪০ মেগাওয়াট। আরইবির ৯৯৪ মেগাওয়াটের স্থলে সরবরাহ হয়েছে ৭২১, লোডশেডিং ছিল ২৭৩ মেগাওয়াট। সিলেটে পিডিবির ১৯৯ মেগাওয়াটের স্থলে সরবরাহ ছিল ১৯০। মাত্র ৯ মেগাওয়াট লোডশেডিং ছিল।

অন্যদিকে, আরইবির ১৩৫১ মেগাওয়াটের মধ্যে ১৩২৯ সরবরাহ ছিল। লোডশেডিং ছিল ২২ মেগাওয়াট। রাজশাহীতে নেসকোর ৪৮৫ চাহিদার ৪৫৫ মেগাওয়াট সরবরাহ করা হয়েছে। মাত্র ৩০ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে। এ ছাড়া, আরইবির ১১৭২ চাহিদার মধ্যে ১০৪৫ মেগাওয়াট সরবরাহ করা হয়েছে। লোডশেডিং হয়েছে ১২৭ মেগাওয়াট। রংপুরে নেসকোর ৩৫১ চাহিদার বিপরীতে ২৯৫ মেগাওয়াট সরবরাহ করা হয়েছে। আর আরইবির ৭২৫ মেগাওয়াটের স্থলে ৫৫২ লোডশেডিং করা হয়েছে।

সারাদেশে বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় ৭৭২ মেগাওয়াট লোডশেডিং করা হয়েছে। দুই দিন আগেও যেসব এলাকার পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। পিডিবি’র তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার দিনের বেলা দেশে সর্বোচ্চ বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৪ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে উৎপাদন হয় ১২ হাজার ৬৭৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।