Dhaka , Friday, 24 May 2024

পবিত্রতায় ঘেরা জিলহজ মাস

  • Robiul Islam
  • আপডেট টাইম : 08:03:59 am, Wednesday, 21 June 2023
  • 41 বার

ইসলাম ডেস্ক: ইসলামের দৃষ্টিতে জিলহজ অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ মাস। রসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘জিলহজের প্রথম ১০ দিনের আমল আল্লাহর কাছে যতটা প্রিয় তা অন্য কোনো সময়ে নয়। সাহাবিরা আরজ করেন, আল্লাহর পথের জিহাদ থেকেও প্রিয়? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তবে কোনো ব্যক্তি যদি জানমাল নিয়ে আল্লাহর পথে বেরিয়ে আর ফিরে না আসে তার কথা ভিন্ন’ (বুখারি)। আল্লাহ আল কোরআনে জিলহজের ১০ রাতের কসম করে এর সম্মান ও মর্যাদা বহুগুণে বৃদ্ধি করেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘শপথ ফজরের। ১০ রাতের। জোড় ও বিজোড়ের’ (সুরা ফজর ১-৩)।

মুফাসসিরদের মতে, এখানে ১০ রাত বলতে জিলহজের প্রথম ১০ রাত, বিজোড় দ্বারা আরাফার দিন এবং জোড় দ্বারা কোরবানির দিন উদ্দেশ্য। (তাফসিরে মাআরেফুল কোরআন) জিলহজের নবম তারিখটি আরাফার দিন। সে দিন আরাফার ময়দানে অবস্থান করা হজের সবচেয়ে বড় রোকন। এর মর্যাদা ও গুরুত্ব অপরিসীম। রসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আরাফার দিনের মতো অন্য কোনো দিন আল্লাহ অধিকসংখ্যক ব্যক্তিকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন না।

সে দিন তিনি দুনিয়ার নিকটবর্তী হয়ে ফেরেশতাদের সঙ্গে গর্ব করে বলেন, দেখ, আমার বান্দারা এলোমেলো চুল ও ধূলি-ধূসরিত শরীরে আমার দরবারে আগমন করেছে। লাব্বাইকা বলে চিৎকার করছে। তোমাদের সাক্ষী রেখে বলছি, আমি সবাইকে মাফ করে দিলাম।’ অনন্য এ মাসে বিশেষ কিছু আমল রয়েছে। সেসব আমলের উল্লেখযোগ্য হলো- নখ, চুল, মোচ ইত্যাদি না কাটা : জিলহজের চাঁদ দেখার পর হাত-পায়ের নখ না কাটা। এ প্রসঙ্গে রসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি কোরবানি করতে চায়, সে যেন জিলহজের চাঁদ দেখার পর চুল ও নখ না কাটে’ (ইবনে মাজাহ)।

রোজা রাখা : তাফসিরে মাআরেফুল কোরআনে বলা হয়েছে, ‘জিলহজের প্রথম দশকের প্রতিদিনের রোজা সওয়াবের বিচারে এক বছরের রোজার সমান এবং প্রতি রাতের ইবাদত শবেকদরের ইবাদতের সমতুল্য।’ বিশেষ করে রসুলুল্লাহ (সা.) আরাফার দিনের রোজার ব্যাপারে উৎসাহিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আরাফার রোজার ব্যাপারে আমি আল্লাহর কাছে আশাবাদী যে, তিনি এর বিনিময়ে পেছনের ও সামনের এক বছরের পাপ মাফ করে দেবেন’ (মুসলিম)। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তারা যেন নির্দিষ্ট দিনগুলোয় আল্লাহর নাম স্মরণ করে’ (সুরা হজ-২৮)।

আলেমদের মতে, এখানে নির্দিষ্ট দিন বলতে জিলহজের প্রথম ১০ দিন উদ্দেশ্য। এ প্রসঙ্গে রসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘জিলহজের প্রথম দিন আল্লাহর কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং এ দিনগুলোর ইবাদত তাঁর কাছে অন্য সময়ের চেয়ে অধিক প্রিয়। সুতরাং তোমরা এ দিনগুলোয় বেশি বেশি তাহলিল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ), তাহমিদ (আলহামদুলিল্লাহ) ও তাকবির (আল্লাহু আকবার) উচ্চারণ কর’ (মুসনাদে আহমাদ)।

বর্ণিত আছে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বাজারে গিয়ে উচ্চৈঃস্বরে তাকবির বলতেন। তার তাকবির শুনে অন্যরা তাকবির বলত। বিশেষ করে ৯ জিলহজের ফজর থেকে ১৩ জিলহজের আসর পর্যন্ত প্রতি ফরজ নামাজের পর উচ্চ আওয়াজে একবার তাকবির পাঠ করা সবার জন্য আবশ্যক। একে তাকবিরে তাশরিক বলা হয়। তাকবিরটি হলো- ‘আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, ওয়ালিল্লাহিল হামদ’।

গুনাহ পরিহার করা : এ দিবসগুলোয় ইবাদতের সওয়াব যেমন বেশি, তেমনি পাপকাজে জড়িয়ে পড়াও গুরুতর। তাই এ মাসে যাবতীয় পাপ থেকে মুক্ত থাকা এবং কৃত পাপের জন্য তওবা করা অপরিহার্য।

ঈদের দিন কোরবানি করা : রসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘ঈদের দিন পশুর রক্ত প্রবাহিত করা অপেক্ষা আল্লাহর কাছে অন্য কোনো আমল অধিক প্রিয় নয়। আর কোরবানির পশু তার শিং, চুল ও পায়ের ক্ষুরসহ কেয়ামতের দিন উপস্থিত হবে এবং কোরবানির জন্তুর রক্ত মাটি স্পর্শ করার আগেই আল্লাহর দরবারে পৌঁছে যায়’ (তিরমিজি)।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Robiul Islam

পবিত্রতায় ঘেরা জিলহজ মাস

আপডেট টাইম : 08:03:59 am, Wednesday, 21 June 2023

ইসলাম ডেস্ক: ইসলামের দৃষ্টিতে জিলহজ অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ মাস। রসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘জিলহজের প্রথম ১০ দিনের আমল আল্লাহর কাছে যতটা প্রিয় তা অন্য কোনো সময়ে নয়। সাহাবিরা আরজ করেন, আল্লাহর পথের জিহাদ থেকেও প্রিয়? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তবে কোনো ব্যক্তি যদি জানমাল নিয়ে আল্লাহর পথে বেরিয়ে আর ফিরে না আসে তার কথা ভিন্ন’ (বুখারি)। আল্লাহ আল কোরআনে জিলহজের ১০ রাতের কসম করে এর সম্মান ও মর্যাদা বহুগুণে বৃদ্ধি করেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘শপথ ফজরের। ১০ রাতের। জোড় ও বিজোড়ের’ (সুরা ফজর ১-৩)।

মুফাসসিরদের মতে, এখানে ১০ রাত বলতে জিলহজের প্রথম ১০ রাত, বিজোড় দ্বারা আরাফার দিন এবং জোড় দ্বারা কোরবানির দিন উদ্দেশ্য। (তাফসিরে মাআরেফুল কোরআন) জিলহজের নবম তারিখটি আরাফার দিন। সে দিন আরাফার ময়দানে অবস্থান করা হজের সবচেয়ে বড় রোকন। এর মর্যাদা ও গুরুত্ব অপরিসীম। রসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আরাফার দিনের মতো অন্য কোনো দিন আল্লাহ অধিকসংখ্যক ব্যক্তিকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন না।

সে দিন তিনি দুনিয়ার নিকটবর্তী হয়ে ফেরেশতাদের সঙ্গে গর্ব করে বলেন, দেখ, আমার বান্দারা এলোমেলো চুল ও ধূলি-ধূসরিত শরীরে আমার দরবারে আগমন করেছে। লাব্বাইকা বলে চিৎকার করছে। তোমাদের সাক্ষী রেখে বলছি, আমি সবাইকে মাফ করে দিলাম।’ অনন্য এ মাসে বিশেষ কিছু আমল রয়েছে। সেসব আমলের উল্লেখযোগ্য হলো- নখ, চুল, মোচ ইত্যাদি না কাটা : জিলহজের চাঁদ দেখার পর হাত-পায়ের নখ না কাটা। এ প্রসঙ্গে রসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি কোরবানি করতে চায়, সে যেন জিলহজের চাঁদ দেখার পর চুল ও নখ না কাটে’ (ইবনে মাজাহ)।

রোজা রাখা : তাফসিরে মাআরেফুল কোরআনে বলা হয়েছে, ‘জিলহজের প্রথম দশকের প্রতিদিনের রোজা সওয়াবের বিচারে এক বছরের রোজার সমান এবং প্রতি রাতের ইবাদত শবেকদরের ইবাদতের সমতুল্য।’ বিশেষ করে রসুলুল্লাহ (সা.) আরাফার দিনের রোজার ব্যাপারে উৎসাহিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আরাফার রোজার ব্যাপারে আমি আল্লাহর কাছে আশাবাদী যে, তিনি এর বিনিময়ে পেছনের ও সামনের এক বছরের পাপ মাফ করে দেবেন’ (মুসলিম)। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তারা যেন নির্দিষ্ট দিনগুলোয় আল্লাহর নাম স্মরণ করে’ (সুরা হজ-২৮)।

আলেমদের মতে, এখানে নির্দিষ্ট দিন বলতে জিলহজের প্রথম ১০ দিন উদ্দেশ্য। এ প্রসঙ্গে রসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘জিলহজের প্রথম দিন আল্লাহর কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং এ দিনগুলোর ইবাদত তাঁর কাছে অন্য সময়ের চেয়ে অধিক প্রিয়। সুতরাং তোমরা এ দিনগুলোয় বেশি বেশি তাহলিল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ), তাহমিদ (আলহামদুলিল্লাহ) ও তাকবির (আল্লাহু আকবার) উচ্চারণ কর’ (মুসনাদে আহমাদ)।

বর্ণিত আছে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বাজারে গিয়ে উচ্চৈঃস্বরে তাকবির বলতেন। তার তাকবির শুনে অন্যরা তাকবির বলত। বিশেষ করে ৯ জিলহজের ফজর থেকে ১৩ জিলহজের আসর পর্যন্ত প্রতি ফরজ নামাজের পর উচ্চ আওয়াজে একবার তাকবির পাঠ করা সবার জন্য আবশ্যক। একে তাকবিরে তাশরিক বলা হয়। তাকবিরটি হলো- ‘আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, ওয়ালিল্লাহিল হামদ’।

গুনাহ পরিহার করা : এ দিবসগুলোয় ইবাদতের সওয়াব যেমন বেশি, তেমনি পাপকাজে জড়িয়ে পড়াও গুরুতর। তাই এ মাসে যাবতীয় পাপ থেকে মুক্ত থাকা এবং কৃত পাপের জন্য তওবা করা অপরিহার্য।

ঈদের দিন কোরবানি করা : রসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘ঈদের দিন পশুর রক্ত প্রবাহিত করা অপেক্ষা আল্লাহর কাছে অন্য কোনো আমল অধিক প্রিয় নয়। আর কোরবানির পশু তার শিং, চুল ও পায়ের ক্ষুরসহ কেয়ামতের দিন উপস্থিত হবে এবং কোরবানির জন্তুর রক্ত মাটি স্পর্শ করার আগেই আল্লাহর দরবারে পৌঁছে যায়’ (তিরমিজি)।