Dhaka , Wednesday, 29 May 2024

দুবাইয়ে ইমাম-মুয়াজ্জিনের গোল্ডেন ভিসা ও বেতন বৃদ্ধির নির্দেশ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : 02:53:51 am, Monday, 8 April 2024
  • 15 বার

সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাণিজ্যিক রাজধানী দুবাই। এখানে বিভিন্ন মসজিদে স্থানীয়রা ছাড়াও বিভিন্ন দেশের দক্ষ ও অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ইমাম-মুয়াজ্জিনরা কর্মরত রয়েছেন। তারা দেশটিতে থাকা-খাওয়াসহ সরকারি প্রায় সব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন।

যেসব বিদেশি ইমাম, মুফতি ও ইসলামি বক্তা গত ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে দুবাইয়ে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন, পুরস্কার হিসেবে গোল্ডেন ভিসাসহ চলতি রমজানে বেতন বৃদ্ধির নির্দেশ দিয়েছেন ক্রাউন প্রিন্স শেখ হামদান বিন মোহাম্মদ বিন রাশিদ আল মাকতুম। এতে লাভবান হবেন এ পেশায় জড়িত বাংলাদেশিরাও।

প্রায় ৯ হাজারের বেশি মসজিদ রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মসজিদ শারজায়। এরপর আবুধাবি ও দুবাইয়ের অবস্থান। দেশটির অন্য প্রদেশগুলোতেও কয়েকশ মসজিদ রয়েছে। যেখানে প্রতিদিন লাখো মুসল্লিকে নামাজ পড়ান হাফেজ-ইমামরা। স্থানীয়রা ছাড়াও এসব মসজিদে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দক্ষ-অভিজ্ঞ ইমাম ও মুয়াজ্জিন নিয়োজিত রয়েছেন। যারা সরকারি প্রায় সব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন।

চলতি রমজানে দুবাইয়ের ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড চ্যারিটেবল অ্যাক্টিভিটিস বিভাগের অধীনে পরিচালিত মসজিদে যারা কাজ করছেন তাদের বেতন বৃদ্ধির নির্দেশ দিয়েছেন আমিরাতের ক্রাউন প্রিন্স শেখ হামদান বিন মোহাম্মদ বিন রাশিদ আল মাকতুম।

এর আগে গত মাসে শেখ হামদান দুবাইয়ে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বেতন বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। দুবাইয়ের ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড চ্যারিটেবল অ্যাক্টিভিটিস বিভাগের অধীনে পরিচালিত সব মসজিদে যারা কর্মরত রয়েছেন তাদের এ সুবিধা দেওয়ার কথা জানান তিনি।

দুবাইয়ের গোল্ডেন ভিসার মেয়াদ সর্বনিম্ন পাঁচ বছর থেকে সর্বোচ্চ ১০ বছরের হয়ে থাকে। অভিবাসী বা অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য এ ভিসা অনেকটা সোনার হরিণের মতো।

গোল্ডেন ভিসাধারীরা আমিরাতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করতে পারেন, স্ত্রী-সন্তানসহ নিজেদের পরিবারের সদস্যদের দুবাইয়ে আনতে পারেন, বিভিন্ন পরিষেবার ক্ষেত্রে সাধারণ ভিসাধারীর চেয়ে বেশি সুবিধা ভোগ করেন, দীর্ঘদিন দেশের বাইরে থাকতে পারেন এবং আরও অনেক সুবিধা পান।

দুবাই বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কনসাল জেনারেল বি এম জামাল হোসেন বলেন, শুধু ইমাম নয়, এখানে অন্য পেশার সঙ্গে যারা আছেন তারাও সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন।

আমিরাতে অবস্থানরতদের পাশাপাশি এ পেশায় যোগ দিতে আবেদন করা যায় দেশ থেকেও। যথাযথ যোগ্যতা ও আরবি ভাষায় অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ব্যক্তিরা অনলাইনে আবেদনের সুযোগ পান।

এ বিষয়ে দুবাইয়ের ইসলামী সাহিত্যিক ও ফিকহবিদ ড. মাওলানা আব্দুস সালাম বলেন, আরবি বলার সক্ষমতা থাকতে হবে এবং খুতবা পড়তে পারতে হবে। এই দক্ষতা থাকলে অনলাইনে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে।

গত বছর দেশটিতে ইমাম, মুয়াজ্জিন, ইসলাম ধর্ম প্রচারকারী ও ধর্মীয় গবেষকদের ১০ বছরের গোল্ডেন ভিসার আওতায় আনা হয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Robiul Islam

দুবাইয়ে ইমাম-মুয়াজ্জিনের গোল্ডেন ভিসা ও বেতন বৃদ্ধির নির্দেশ

আপডেট টাইম : 02:53:51 am, Monday, 8 April 2024

সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাণিজ্যিক রাজধানী দুবাই। এখানে বিভিন্ন মসজিদে স্থানীয়রা ছাড়াও বিভিন্ন দেশের দক্ষ ও অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ইমাম-মুয়াজ্জিনরা কর্মরত রয়েছেন। তারা দেশটিতে থাকা-খাওয়াসহ সরকারি প্রায় সব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন।

যেসব বিদেশি ইমাম, মুফতি ও ইসলামি বক্তা গত ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে দুবাইয়ে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন, পুরস্কার হিসেবে গোল্ডেন ভিসাসহ চলতি রমজানে বেতন বৃদ্ধির নির্দেশ দিয়েছেন ক্রাউন প্রিন্স শেখ হামদান বিন মোহাম্মদ বিন রাশিদ আল মাকতুম। এতে লাভবান হবেন এ পেশায় জড়িত বাংলাদেশিরাও।

প্রায় ৯ হাজারের বেশি মসজিদ রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মসজিদ শারজায়। এরপর আবুধাবি ও দুবাইয়ের অবস্থান। দেশটির অন্য প্রদেশগুলোতেও কয়েকশ মসজিদ রয়েছে। যেখানে প্রতিদিন লাখো মুসল্লিকে নামাজ পড়ান হাফেজ-ইমামরা। স্থানীয়রা ছাড়াও এসব মসজিদে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দক্ষ-অভিজ্ঞ ইমাম ও মুয়াজ্জিন নিয়োজিত রয়েছেন। যারা সরকারি প্রায় সব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন।

চলতি রমজানে দুবাইয়ের ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড চ্যারিটেবল অ্যাক্টিভিটিস বিভাগের অধীনে পরিচালিত মসজিদে যারা কাজ করছেন তাদের বেতন বৃদ্ধির নির্দেশ দিয়েছেন আমিরাতের ক্রাউন প্রিন্স শেখ হামদান বিন মোহাম্মদ বিন রাশিদ আল মাকতুম।

এর আগে গত মাসে শেখ হামদান দুবাইয়ে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বেতন বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। দুবাইয়ের ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড চ্যারিটেবল অ্যাক্টিভিটিস বিভাগের অধীনে পরিচালিত সব মসজিদে যারা কর্মরত রয়েছেন তাদের এ সুবিধা দেওয়ার কথা জানান তিনি।

দুবাইয়ের গোল্ডেন ভিসার মেয়াদ সর্বনিম্ন পাঁচ বছর থেকে সর্বোচ্চ ১০ বছরের হয়ে থাকে। অভিবাসী বা অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য এ ভিসা অনেকটা সোনার হরিণের মতো।

গোল্ডেন ভিসাধারীরা আমিরাতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করতে পারেন, স্ত্রী-সন্তানসহ নিজেদের পরিবারের সদস্যদের দুবাইয়ে আনতে পারেন, বিভিন্ন পরিষেবার ক্ষেত্রে সাধারণ ভিসাধারীর চেয়ে বেশি সুবিধা ভোগ করেন, দীর্ঘদিন দেশের বাইরে থাকতে পারেন এবং আরও অনেক সুবিধা পান।

দুবাই বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কনসাল জেনারেল বি এম জামাল হোসেন বলেন, শুধু ইমাম নয়, এখানে অন্য পেশার সঙ্গে যারা আছেন তারাও সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন।

আমিরাতে অবস্থানরতদের পাশাপাশি এ পেশায় যোগ দিতে আবেদন করা যায় দেশ থেকেও। যথাযথ যোগ্যতা ও আরবি ভাষায় অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ব্যক্তিরা অনলাইনে আবেদনের সুযোগ পান।

এ বিষয়ে দুবাইয়ের ইসলামী সাহিত্যিক ও ফিকহবিদ ড. মাওলানা আব্দুস সালাম বলেন, আরবি বলার সক্ষমতা থাকতে হবে এবং খুতবা পড়তে পারতে হবে। এই দক্ষতা থাকলে অনলাইনে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে।

গত বছর দেশটিতে ইমাম, মুয়াজ্জিন, ইসলাম ধর্ম প্রচারকারী ও ধর্মীয় গবেষকদের ১০ বছরের গোল্ডেন ভিসার আওতায় আনা হয়।