Dhaka , Wednesday, 29 May 2024

মালয়েশিয়ায় বাংলা নববর্ষ ১৪৩১ উদযাপন

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : 01:45:08 am, Monday, 6 May 2024
  • 40 বার

মালয়েশিয়া প্রতিনিধি : মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশন বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বাংলা নববর্ষ-১৪৩১ উদযাপন করেছে। এ উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (২ মে) রাজধানী কুয়ালালামপুরের ক্রাফট কমপ্লেক্সে মঙ্গল শোভাযাত্রা, আলোচনা ও বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

গান, নাচ, ফ্যাশন শো, মুকাভিনয়, একক অভিনয় এবং ঐতিহ্যবাহী দেশীয় খাবারের মাধ্যমে আবহমান বাংলার ঐতিহ্য ও সমৃদ্ধ সংস্কৃতি তুলে ধরা হয় এ বর্ণিল আয়োজনে। এছাড়া বাংলাদেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রার ওপর প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়।

হাইকমিশনার মো. শামীম আহসান ও তার সহধর্মিণী পেন্ডোরা চৌধুরী আমন্ত্রিত অতিথিদের বৈশাখের উত্তরীয় দিয়ে উষ্ণভাবে বরণ করে নেন এবং সবার সঙ্গে নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

মালয়েশিয়ার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের মহাপরিচালক জুবাইদাহ বিনতি মুখতার অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। মালয়েশিয়ার বিভিন্ন দপ্তরের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা, কুয়ালালামপুরে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, শতাধিক কূটনীতিক ছাড়াও শিক্ষাবিদ, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্সে অংশ নেওয়া অবসরপ্রাপ্ত আর্মি অফিসার, কুয়ালালামপুরে প্রশিক্ষণে আসা বাংলাদেশ ফরেন সার্ভিস একাডেমির মহাপরিচালকসহ ২৭ জন প্রশিক্ষণার্থী/প্রশিক্ষক, প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি নেতারা, সাংবাদিক এবং হাইকমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

কুয়ালালামপুরে ক্রাফট কমপ্লেক্সে আয়োজিত বাংলার ঐতিহ্যবাহী মঙ্গল শোভাযাত্রায় বিদেশি অতিথিসহ দূতাবাস পরিবারের সদস্যরা বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনার সঙ্গে অংশগ্রহণ করেন।

হাইকমিশনার মো. শামীম আহসান তার শুভেচ্ছা বক্তব্যে বাঙালি সংস্কৃতির দীর্ঘ ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কূটনীতিক উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় ইউনেস্কো কর্তৃক মঙ্গল শোভাযাত্রাকে মানবজাতির বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দানের কথা উল্লেখ করে বলেন, এটি বাংলাদেশের নববর্ষ উদযাপনে একটি নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে। দেশে ও প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশের সব নাগরিকের জন্য নববর্ষ আরও সুখ ও স্বাচ্ছন্দ্য বয়ে আনবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। হাইকমিশনার তার বক্তব্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক পহেলা বৈশাখকে সরকারি ছুটি ঘোষণা ও দিনটি সাড়ম্বরে উদযাপনের কথা উল্লেখ করে তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

আলোচনা সভার পর প্রবাসী বাংলাদেশি ও মালয়েশিয়ার শিল্পী ও হাইকমিশন পরিবারের সদস্যদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অতিথিদের মুগ্ধ করে। নববর্ষ উপলক্ষ্যে হাইকমিশনের একটি রঙিন প্রকাশনা অতিথিদের মধ্যে বিতরণ করা হয়, যা উপস্থিত সবার মাঝে বাংলা নববর্ষের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও ঐতিহ্যগত দিকগুলো ফুটিয়ে তোলে।

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিদের ঐতিহ্যবাহী রকমারি বাংলাদেশি খাবার এবং বাংলাদেশের প্রখ্যাত ‘রস’ মিষ্টি দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়। অনুষ্ঠান প্রাঙ্গণে স্থাপিত বাংলাদেশ কর্নার, পালকি, মেহেদী, সাজঘর, ফুচকা, পান ও ঝাল-মুড়ির স্টল, পিঠা ঘর উপস্থিত বিদেশি অতিথিদের মাঝে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়। বিভিন্ন স্টলে নারীদের প্ল্যাটফর্ম উইমেন অ্যান্ড ই-কমার্স মালয়েশিয়া চ্যাপ্টার ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশি খাবার ও পণ্য প্রদর্শন করে। এছাড়া বাংলাদেশি কোম্পানি প্রাণ ও মৈত্রী তাদের পণ্য প্রদর্শন করে এবং ন্যাশনাল ব্যাংক ও সিটি ব্যাংক রেমিট্যান্স হাউজ বুথ স্থাপনের মাধ্যমে তাদের সেবা সম্পর্কে প্রবাসীদের অবহিত করে। অতিথিদের মৈত্রী কোম্পানির পক্ষ থেকে কৃষি পণ্য উপহার দেওয়া হয়।

দিবসটি উদযাপন উপলক্ষ্যে ক্রাফট কমপ্লেক্সকে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির অনেক অনুষঙ্গ দিয়ে সুসজ্জিত করা হয়, যা সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং সবার মাঝে উৎসবের আমেজ তৈরি করে।

উল্লেখ্য, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে মালয়েশিয়ায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তর বন্ধ থাকায় বাংলা নববর্ষের অনুষ্ঠানটি ১৪ এপ্রিলের পরিবর্তে ২ মে হয়।

 

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Robiul Islam

মালয়েশিয়ায় বাংলা নববর্ষ ১৪৩১ উদযাপন

আপডেট টাইম : 01:45:08 am, Monday, 6 May 2024

মালয়েশিয়া প্রতিনিধি : মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশন বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বাংলা নববর্ষ-১৪৩১ উদযাপন করেছে। এ উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (২ মে) রাজধানী কুয়ালালামপুরের ক্রাফট কমপ্লেক্সে মঙ্গল শোভাযাত্রা, আলোচনা ও বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

গান, নাচ, ফ্যাশন শো, মুকাভিনয়, একক অভিনয় এবং ঐতিহ্যবাহী দেশীয় খাবারের মাধ্যমে আবহমান বাংলার ঐতিহ্য ও সমৃদ্ধ সংস্কৃতি তুলে ধরা হয় এ বর্ণিল আয়োজনে। এছাড়া বাংলাদেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রার ওপর প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়।

হাইকমিশনার মো. শামীম আহসান ও তার সহধর্মিণী পেন্ডোরা চৌধুরী আমন্ত্রিত অতিথিদের বৈশাখের উত্তরীয় দিয়ে উষ্ণভাবে বরণ করে নেন এবং সবার সঙ্গে নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

মালয়েশিয়ার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের মহাপরিচালক জুবাইদাহ বিনতি মুখতার অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। মালয়েশিয়ার বিভিন্ন দপ্তরের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা, কুয়ালালামপুরে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, শতাধিক কূটনীতিক ছাড়াও শিক্ষাবিদ, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্সে অংশ নেওয়া অবসরপ্রাপ্ত আর্মি অফিসার, কুয়ালালামপুরে প্রশিক্ষণে আসা বাংলাদেশ ফরেন সার্ভিস একাডেমির মহাপরিচালকসহ ২৭ জন প্রশিক্ষণার্থী/প্রশিক্ষক, প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি নেতারা, সাংবাদিক এবং হাইকমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

কুয়ালালামপুরে ক্রাফট কমপ্লেক্সে আয়োজিত বাংলার ঐতিহ্যবাহী মঙ্গল শোভাযাত্রায় বিদেশি অতিথিসহ দূতাবাস পরিবারের সদস্যরা বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনার সঙ্গে অংশগ্রহণ করেন।

হাইকমিশনার মো. শামীম আহসান তার শুভেচ্ছা বক্তব্যে বাঙালি সংস্কৃতির দীর্ঘ ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কূটনীতিক উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় ইউনেস্কো কর্তৃক মঙ্গল শোভাযাত্রাকে মানবজাতির বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দানের কথা উল্লেখ করে বলেন, এটি বাংলাদেশের নববর্ষ উদযাপনে একটি নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে। দেশে ও প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশের সব নাগরিকের জন্য নববর্ষ আরও সুখ ও স্বাচ্ছন্দ্য বয়ে আনবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। হাইকমিশনার তার বক্তব্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক পহেলা বৈশাখকে সরকারি ছুটি ঘোষণা ও দিনটি সাড়ম্বরে উদযাপনের কথা উল্লেখ করে তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

আলোচনা সভার পর প্রবাসী বাংলাদেশি ও মালয়েশিয়ার শিল্পী ও হাইকমিশন পরিবারের সদস্যদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অতিথিদের মুগ্ধ করে। নববর্ষ উপলক্ষ্যে হাইকমিশনের একটি রঙিন প্রকাশনা অতিথিদের মধ্যে বিতরণ করা হয়, যা উপস্থিত সবার মাঝে বাংলা নববর্ষের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও ঐতিহ্যগত দিকগুলো ফুটিয়ে তোলে।

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিদের ঐতিহ্যবাহী রকমারি বাংলাদেশি খাবার এবং বাংলাদেশের প্রখ্যাত ‘রস’ মিষ্টি দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়। অনুষ্ঠান প্রাঙ্গণে স্থাপিত বাংলাদেশ কর্নার, পালকি, মেহেদী, সাজঘর, ফুচকা, পান ও ঝাল-মুড়ির স্টল, পিঠা ঘর উপস্থিত বিদেশি অতিথিদের মাঝে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়। বিভিন্ন স্টলে নারীদের প্ল্যাটফর্ম উইমেন অ্যান্ড ই-কমার্স মালয়েশিয়া চ্যাপ্টার ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশি খাবার ও পণ্য প্রদর্শন করে। এছাড়া বাংলাদেশি কোম্পানি প্রাণ ও মৈত্রী তাদের পণ্য প্রদর্শন করে এবং ন্যাশনাল ব্যাংক ও সিটি ব্যাংক রেমিট্যান্স হাউজ বুথ স্থাপনের মাধ্যমে তাদের সেবা সম্পর্কে প্রবাসীদের অবহিত করে। অতিথিদের মৈত্রী কোম্পানির পক্ষ থেকে কৃষি পণ্য উপহার দেওয়া হয়।

দিবসটি উদযাপন উপলক্ষ্যে ক্রাফট কমপ্লেক্সকে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির অনেক অনুষঙ্গ দিয়ে সুসজ্জিত করা হয়, যা সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং সবার মাঝে উৎসবের আমেজ তৈরি করে।

উল্লেখ্য, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে মালয়েশিয়ায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তর বন্ধ থাকায় বাংলা নববর্ষের অনুষ্ঠানটি ১৪ এপ্রিলের পরিবর্তে ২ মে হয়।