Dhaka , Sunday, 13 September 2026
শিরোনাম :
বৈধ বিদেশযাত্রা হোক সহজ, বন্ধ হোক অযথা হয়রানি বাংলায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রবাসীদের সাবধান করল সৌদি মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং শোকেসে অংশ নিয়েছে প্রাণ মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে হাইকমিশনারের মতবিনিময় ইরাকের নয়া প্রধানমন্ত্রী হলেন শিয়া আল- সুদানি পোস্টাল ভোটিং: প্রবাসীদের নিবন্ধনের সময় ৫ দিন—কোন দেশে কবে শুরু? বাহরাইন প্রবাসীদের জন্য সচেতনতামূলক মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্প দক্ষিণ আফ্রিকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১১, আহত ৩১ লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবি, নিহতদের সবাই বাংলাদেশি ‘প্রবাসীর ভোট প্রদান সহজ করা না হলে ভোটাধিকার মূল্যহীন’

বৈধ পথে ইতালি যাওয়ার সুযোগ ১০ হাজার বাংলাদেশির

ইতালিতে অবৈধভাবে সমুদ্রপথে যাওয়ার প্রবণতা বন্ধে বাংলাদেশের তিন জেলায় সচেতনতামূলক কর্মশালা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বৈধ প্রক্রিয়ায় প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশি শ্রমিকের ইতালি যাওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত অ্যান্তোনিও আলেসান্দ্রো।

 

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান এবং প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সঙ্গে বৈঠক করেন ইতালির রাষ্ট্রদূত। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী।

 

মীর শাহে আলম বলেন, বাংলাদেশ থেকে ইতালিতে সবচেয়ে বেশি জনশক্তি যায় শরীয়তপুর ও মাদারীপুর অঞ্চল থেকে। এসব এলাকার অনেক মানুষ দালালের মাধ্যমে লিবিয়া হয়ে সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইতালি যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে বৈঠকে উদ্বেগ প্রকাশ করেন ইতালির রাষ্ট্রদূত।

 

এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসন ঠেকাতে শরীয়তপুর, মাদারীপুর ও ফরিদপুরে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে যৌথ সচেতনতামূলক কর্মশালা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ইতালি। কর্মশালাগুলোতে অবৈধ পথের ঝুঁকি এবং বৈধভাবে ইতালি যাওয়ার সুযোগ সম্পর্কে মানুষকে জানানো হবে।

 

প্রতিমন্ত্রী জানান, ইতালি বৈধ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নিয়োগ করে। বর্তমানে প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশির বৈধভাবে ইতালি যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তাই দালালের মাধ্যমে অবৈধ পথে না গিয়ে সরকারি ও বৈধ প্রক্রিয়ায় যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বর্তমানে প্রায় আড়াই লাখ বাংলাদেশি ইতালিতে বসবাস করছেন বলেও জানান তিনি।

 

বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয়ও উঠে আসে। খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে বাংলাদেশের একটি শহরের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহ দেখিয়েছে ইতালির মিলান। এ বিষয়ে খুলনা সিটি করপোরেশনকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

 

বাংলাদেশি স্থপতিদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার ক্ষেত্রেও ইতালি আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এ উদ্দেশ্যে একজন সিটি মেয়র ও কয়েকজন স্থপতিকে ইতালিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

 

এ ছাড়া তৃতীয় ভাষা হিসেবে ইতালিয়ান ভাষা শিক্ষার প্রসারে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। এতে ইতালি সম্মতি দিয়েছে এবং বাংলাদেশের একটি প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষক পাঠানোর কথা জানিয়েছে।

 

ইতালিকে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে মীর শাহে আলম বলেন, দেশটি থেকে বাংলাদেশ বছরে প্রায় ২ বিলিয়ন ইউরোর পণ্য আমদানি করে। বিপরীতে প্রায় ১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ইউরোর পণ্য রপ্তানি করা হয়। বাংলাদেশের মোট রেমিট্যান্সের প্রায় ৫ শতাংশও আসে ইতালি থেকে।

 

বৈঠকে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী পাঠানো নিয়ে তাঁর সাম্প্রতিক বক্তব্যের বিষয়েও ব্যাখ্যা দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশিদের সুযোগের বিষয়ে তিনি দেশটির রাষ্ট্রদূতকে ব্যক্তিগতভাবে অনুরোধ করেছিলেন। এটি সরকারের কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ছিল না। রাষ্ট্রদূত বিষয়টি বিবেচনার কথা জানিয়েছিলেন এবং সেই তথ্যই তিনি গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন।

 

বৈঠক শেষে ইতালির রাষ্ট্রদূত অ্যান্তোনিও আলেসান্দ্রো বলেন, বাংলাদেশ ও ইতালির দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করতে কীভাবে কাজ করা যায়, বৈঠকে তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিত করে কাজ করতে ইতালি অত্যন্ত আগ্রহী।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Rahman

বৈধ পথে ইতালি যাওয়ার সুযোগ ১০ হাজার বাংলাদেশির

আপডেট টাইম : 07:48:08 pm, Monday, 7 September 2026

ইতালিতে অবৈধভাবে সমুদ্রপথে যাওয়ার প্রবণতা বন্ধে বাংলাদেশের তিন জেলায় সচেতনতামূলক কর্মশালা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বৈধ প্রক্রিয়ায় প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশি শ্রমিকের ইতালি যাওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত অ্যান্তোনিও আলেসান্দ্রো।

 

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান এবং প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সঙ্গে বৈঠক করেন ইতালির রাষ্ট্রদূত। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী।

 

মীর শাহে আলম বলেন, বাংলাদেশ থেকে ইতালিতে সবচেয়ে বেশি জনশক্তি যায় শরীয়তপুর ও মাদারীপুর অঞ্চল থেকে। এসব এলাকার অনেক মানুষ দালালের মাধ্যমে লিবিয়া হয়ে সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইতালি যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে বৈঠকে উদ্বেগ প্রকাশ করেন ইতালির রাষ্ট্রদূত।

 

এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসন ঠেকাতে শরীয়তপুর, মাদারীপুর ও ফরিদপুরে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে যৌথ সচেতনতামূলক কর্মশালা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ইতালি। কর্মশালাগুলোতে অবৈধ পথের ঝুঁকি এবং বৈধভাবে ইতালি যাওয়ার সুযোগ সম্পর্কে মানুষকে জানানো হবে।

 

প্রতিমন্ত্রী জানান, ইতালি বৈধ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নিয়োগ করে। বর্তমানে প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশির বৈধভাবে ইতালি যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তাই দালালের মাধ্যমে অবৈধ পথে না গিয়ে সরকারি ও বৈধ প্রক্রিয়ায় যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বর্তমানে প্রায় আড়াই লাখ বাংলাদেশি ইতালিতে বসবাস করছেন বলেও জানান তিনি।

 

বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয়ও উঠে আসে। খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে বাংলাদেশের একটি শহরের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহ দেখিয়েছে ইতালির মিলান। এ বিষয়ে খুলনা সিটি করপোরেশনকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

 

বাংলাদেশি স্থপতিদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার ক্ষেত্রেও ইতালি আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এ উদ্দেশ্যে একজন সিটি মেয়র ও কয়েকজন স্থপতিকে ইতালিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

 

এ ছাড়া তৃতীয় ভাষা হিসেবে ইতালিয়ান ভাষা শিক্ষার প্রসারে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। এতে ইতালি সম্মতি দিয়েছে এবং বাংলাদেশের একটি প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষক পাঠানোর কথা জানিয়েছে।

 

ইতালিকে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে মীর শাহে আলম বলেন, দেশটি থেকে বাংলাদেশ বছরে প্রায় ২ বিলিয়ন ইউরোর পণ্য আমদানি করে। বিপরীতে প্রায় ১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ইউরোর পণ্য রপ্তানি করা হয়। বাংলাদেশের মোট রেমিট্যান্সের প্রায় ৫ শতাংশও আসে ইতালি থেকে।

 

বৈঠকে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী পাঠানো নিয়ে তাঁর সাম্প্রতিক বক্তব্যের বিষয়েও ব্যাখ্যা দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশিদের সুযোগের বিষয়ে তিনি দেশটির রাষ্ট্রদূতকে ব্যক্তিগতভাবে অনুরোধ করেছিলেন। এটি সরকারের কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ছিল না। রাষ্ট্রদূত বিষয়টি বিবেচনার কথা জানিয়েছিলেন এবং সেই তথ্যই তিনি গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন।

 

বৈঠক শেষে ইতালির রাষ্ট্রদূত অ্যান্তোনিও আলেসান্দ্রো বলেন, বাংলাদেশ ও ইতালির দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করতে কীভাবে কাজ করা যায়, বৈঠকে তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিত করে কাজ করতে ইতালি অত্যন্ত আগ্রহী।