Dhaka , Saturday, 8 August 2026
শিরোনাম :
বাংলায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রবাসীদের সাবধান করল সৌদি মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং শোকেসে অংশ নিয়েছে প্রাণ মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে হাইকমিশনারের মতবিনিময় ইরাকের নয়া প্রধানমন্ত্রী হলেন শিয়া আল- সুদানি পোস্টাল ভোটিং: প্রবাসীদের নিবন্ধনের সময় ৫ দিন—কোন দেশে কবে শুরু? বাহরাইন প্রবাসীদের জন্য সচেতনতামূলক মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্প দক্ষিণ আফ্রিকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১১, আহত ৩১ লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবি, নিহতদের সবাই বাংলাদেশি ‘প্রবাসীর ভোট প্রদান সহজ করা না হলে ভোটাধিকার মূল্যহীন’ স্বল্প খরচে জনশক্তি রপ্তানির মাধ্যমে রেমিট্যান্স বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ

সৌদি প্রবাসী সুলতান সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন

সৌদি প্রবাসী সুলতান সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন

 

হাসপাতালে যাওয়ার পথেই থেমে গেল বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার রুহিতা গ্রামের সুলতান হাওলাদারের প্রবাস জীবনের দশ বছরের অধ্যায়। বুধবার (স্থানীয় সময়) বেলা ৩টার দিকে সৌদি আরবের আল খারিজ সড়ক এলাকায় রাবেয়া হাসপাতালে প্রবেশের সময় মাইক্রোবাসের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। খবরটি নিশ্চিত করেছেন সৌদি প্রবাসী আব্দুর রহিম মোল্লা।

নিহতের স্বজন ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দশ বছর ধরে সৌদির একটি মিসরীয় কেমিক্যাল কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন সুলতান। সম্প্রতি হার্নিয়া অপারেশনের পর সুস্থ হচ্ছিলেন তিনি। ঘটনার দিন তার হাসপাতালে যাওয়ার কথা ছিল শুধুমাত্র ড্রেসিং করাতে। হাসপাতালে প্রবেশের সময় রাস্তা পার হয়ে হাসপাতালের ভেতরে ঢোকার সময় সুলতানকে একটি দ্রুতগামী মাইক্রোবাস চাপা দেয়। মাইক্রোবাসটি তাঁকে প্রায় ২০০ গজ পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান তিনি। মরদেহ বর্তমানে সৌদি আরবের একটি হিমঘরে রাখা হয়েছে। প্রবাসে থাকা সহকর্মীরা সুলতানের কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করে লাশ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করছেন। তবে প্রক্রিয়াটি দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল হওয়ায় পরিবারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।

সৌদি প্রবাসী আব্দুর রহিম বলেন, সুলতান খুবই ভালো মানুষ ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি অসুস্থ ছিলেন। এখানেরই একটি হাসপাতালে অপারেশনও করিয়েছিলেন। ঘটনার দিন তিনি সেখানে ড্রেসিং করাতে গিয়েছিলেন। কিন্তু নিয়তির কী নির্মম পরিহাস সেখানেই সড়ক দুর্ঘটনায় তাকে প্রাণ দিতে হয়।

নিহত সুলতান পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। তার ১৩ বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। স্ত্রীর চোখে এখন শুধুই অনিশ্চয়তা আর শোক। পাথরঘাটার মানুষও শোকে মুহ্যমান।

প্রতিবেশীরা বলছেন, সুলতান ছিলেন অত্যন্ত সদালাপী ও পরিশ্রমি মানুষ। তার এই মর্মান্তিক মৃত্যু শুধু পরিবারের নয়, পুরো এলাকার অপূরণীয় ক্ষতি।

স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, দুপুরে বলেছিলেন হাসপাতালে যাচ্ছেন, রাতে ফোনে জানলাম, তিনি আর নেই। আমার স্বামীকে দেশে ফিরিয়ে আনতে কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ করছি। আমি শুধু তার মুখটা শেষবার দেখতে চাই।

এ বিষয়ে পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, নিহত সুলতানের পরিবারের খোঁজ নেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারটিকে সহযোগিতা করা হবে। লাশ ফেরত আনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Rahman

জনপ্রিয় সংবাদ

সৌদি প্রবাসী সুলতান সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন

আপডেট টাইম : 12:21:16 pm, Friday, 23 May 2025

 

হাসপাতালে যাওয়ার পথেই থেমে গেল বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার রুহিতা গ্রামের সুলতান হাওলাদারের প্রবাস জীবনের দশ বছরের অধ্যায়। বুধবার (স্থানীয় সময়) বেলা ৩টার দিকে সৌদি আরবের আল খারিজ সড়ক এলাকায় রাবেয়া হাসপাতালে প্রবেশের সময় মাইক্রোবাসের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। খবরটি নিশ্চিত করেছেন সৌদি প্রবাসী আব্দুর রহিম মোল্লা।

নিহতের স্বজন ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দশ বছর ধরে সৌদির একটি মিসরীয় কেমিক্যাল কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন সুলতান। সম্প্রতি হার্নিয়া অপারেশনের পর সুস্থ হচ্ছিলেন তিনি। ঘটনার দিন তার হাসপাতালে যাওয়ার কথা ছিল শুধুমাত্র ড্রেসিং করাতে। হাসপাতালে প্রবেশের সময় রাস্তা পার হয়ে হাসপাতালের ভেতরে ঢোকার সময় সুলতানকে একটি দ্রুতগামী মাইক্রোবাস চাপা দেয়। মাইক্রোবাসটি তাঁকে প্রায় ২০০ গজ পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান তিনি। মরদেহ বর্তমানে সৌদি আরবের একটি হিমঘরে রাখা হয়েছে। প্রবাসে থাকা সহকর্মীরা সুলতানের কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করে লাশ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করছেন। তবে প্রক্রিয়াটি দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল হওয়ায় পরিবারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।

সৌদি প্রবাসী আব্দুর রহিম বলেন, সুলতান খুবই ভালো মানুষ ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি অসুস্থ ছিলেন। এখানেরই একটি হাসপাতালে অপারেশনও করিয়েছিলেন। ঘটনার দিন তিনি সেখানে ড্রেসিং করাতে গিয়েছিলেন। কিন্তু নিয়তির কী নির্মম পরিহাস সেখানেই সড়ক দুর্ঘটনায় তাকে প্রাণ দিতে হয়।

নিহত সুলতান পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। তার ১৩ বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। স্ত্রীর চোখে এখন শুধুই অনিশ্চয়তা আর শোক। পাথরঘাটার মানুষও শোকে মুহ্যমান।

প্রতিবেশীরা বলছেন, সুলতান ছিলেন অত্যন্ত সদালাপী ও পরিশ্রমি মানুষ। তার এই মর্মান্তিক মৃত্যু শুধু পরিবারের নয়, পুরো এলাকার অপূরণীয় ক্ষতি।

স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, দুপুরে বলেছিলেন হাসপাতালে যাচ্ছেন, রাতে ফোনে জানলাম, তিনি আর নেই। আমার স্বামীকে দেশে ফিরিয়ে আনতে কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ করছি। আমি শুধু তার মুখটা শেষবার দেখতে চাই।

এ বিষয়ে পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, নিহত সুলতানের পরিবারের খোঁজ নেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারটিকে সহযোগিতা করা হবে। লাশ ফেরত আনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করা হবে।