Dhaka , Saturday, 8 August 2026
শিরোনাম :
বাংলায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রবাসীদের সাবধান করল সৌদি মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং শোকেসে অংশ নিয়েছে প্রাণ মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে হাইকমিশনারের মতবিনিময় ইরাকের নয়া প্রধানমন্ত্রী হলেন শিয়া আল- সুদানি পোস্টাল ভোটিং: প্রবাসীদের নিবন্ধনের সময় ৫ দিন—কোন দেশে কবে শুরু? বাহরাইন প্রবাসীদের জন্য সচেতনতামূলক মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্প দক্ষিণ আফ্রিকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১১, আহত ৩১ লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবি, নিহতদের সবাই বাংলাদেশি ‘প্রবাসীর ভোট প্রদান সহজ করা না হলে ভোটাধিকার মূল্যহীন’ স্বল্প খরচে জনশক্তি রপ্তানির মাধ্যমে রেমিট্যান্স বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ

পর্তুগালে নতুন অভিবাসন আইন সংসদে অনুমোদিত

অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে পর্তুগালের জাতীয় সংসদ নতুন আইন পাস করেছে। গত জুলাইয়ে সাংবিধানিক আদালত ও রাষ্ট্রপতির ভেটোর কারণে আটকে থাকা আইনটি আংশিক সংশোধন করে এবার সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) পুনরায় অনুমোদন দেওয়া হয়। এ আইন পাসে সংসদের ডানপন্থী সদস্যদের সমর্থন ছিল মুখ্য।

নতুন আইনে জনপ্রিয় ‘জব সার্চ ভিসা’ বাতিল করা হয়েছে। এর পরিবর্তে চালু হয়েছে ‘হাই স্কিল ভিসা’। কেবলমাত্র উচ্চ যোগ্যতা সম্পন্ন ব্যক্তিরাই এই ভিসায় আবেদন করতে পারবেন, এবং কোন বিষয়কে উচ্চ যোগ্যতা হিসেবে ধরা হবে তা সরকার নির্ধারণ করবে।

পারিবারিক পুনর্মিলন ভিসায় কড়াকড়ি আনা হয়েছে। রেসিডেন্ট কার্ড পাওয়ার পর যদি বিবাহিত না হয়ে থাকেন, তবে পরিবার আনতে হলে কমপক্ষে দুই বছর অপেক্ষা করতে হবে। আর বিবাহিত হলে সময়সীমা এক বছর। তবে অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তান বা নির্ভরশীল থাকলে সঙ্গে সঙ্গেই আবেদন করা যাবে। অনুমোদনের জন্য আবেদনকারীর নামে আবাসন ও পর্যাপ্ত আয় থাকতে হবে। তবে ধনী অভিবাসীদের জন্য চালু থাকা গোল্ডেন ভিসা বা হাই স্কিল ভিসায় এ শর্ত প্রযোজ্য নয়।

পর্তুগিজ ভাষাভাষী দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য সহজ শর্তে বসবাসের সুযোগও বাতিল করা হয়েছে। এখন থেকে পর্তুগালে কাজ বা স্থায়ী হতে হলে সংশ্লিষ্ট দেশের কনসুলেট থেকে রেসিডেন্ট বা ওয়ার্ক পারমিট ভিসা নিয়ে প্রবেশ করতে হবে।

অভিবাসী সংগঠন সলিডারিয়েডাড ইমিগ্রান্টের সভাপতি টিমোটিও মাসেডো নতুন আইনটির সমালোচনা করে বলেছেন, এ আইন ধনী-গরিবের মধ্যে বিভাজন তৈরি করবে। ধনী অভিবাসীরা সব সুযোগ পাবে, অথচ যারা শ্রম দিয়ে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছে তারা বঞ্চিত হবে।

প্রবাসী বাংলাদেশিরাও এ আইন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। প্রবাসী নেতা আনোয়ার খান আজাদ মনে করেন, পারিবারিক পুনর্মিলনে কড়াকড়ি বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য জটিল পরিস্থিতি তৈরি করবে। তিনি সরকারকে আরও সহনশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত জুলাইয়ে সংসদে আইনটি অনুমোদন হলেও সাংবিধানিক আদালত কিছু ধারা অসাংবিধানিক ঘোষণা করে এবং রাষ্ট্রপতি তা ভেটো দেন। পরে আংশিক সংশোধনের মাধ্যমে আবারও সংসদে তোলা হলে ২৩০ আসনের মধ্যে ১৬০ ভোটে এটি পাস হয়। এখন রাষ্ট্রপতির চূড়ান্ত অনুমোদনের পর আইনটি কার্যকর হবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Rahman

জনপ্রিয় সংবাদ

পর্তুগালে নতুন অভিবাসন আইন সংসদে অনুমোদিত

আপডেট টাইম : 11:42:19 am, Thursday, 2 October 2025

অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে পর্তুগালের জাতীয় সংসদ নতুন আইন পাস করেছে। গত জুলাইয়ে সাংবিধানিক আদালত ও রাষ্ট্রপতির ভেটোর কারণে আটকে থাকা আইনটি আংশিক সংশোধন করে এবার সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) পুনরায় অনুমোদন দেওয়া হয়। এ আইন পাসে সংসদের ডানপন্থী সদস্যদের সমর্থন ছিল মুখ্য।

নতুন আইনে জনপ্রিয় ‘জব সার্চ ভিসা’ বাতিল করা হয়েছে। এর পরিবর্তে চালু হয়েছে ‘হাই স্কিল ভিসা’। কেবলমাত্র উচ্চ যোগ্যতা সম্পন্ন ব্যক্তিরাই এই ভিসায় আবেদন করতে পারবেন, এবং কোন বিষয়কে উচ্চ যোগ্যতা হিসেবে ধরা হবে তা সরকার নির্ধারণ করবে।

পারিবারিক পুনর্মিলন ভিসায় কড়াকড়ি আনা হয়েছে। রেসিডেন্ট কার্ড পাওয়ার পর যদি বিবাহিত না হয়ে থাকেন, তবে পরিবার আনতে হলে কমপক্ষে দুই বছর অপেক্ষা করতে হবে। আর বিবাহিত হলে সময়সীমা এক বছর। তবে অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তান বা নির্ভরশীল থাকলে সঙ্গে সঙ্গেই আবেদন করা যাবে। অনুমোদনের জন্য আবেদনকারীর নামে আবাসন ও পর্যাপ্ত আয় থাকতে হবে। তবে ধনী অভিবাসীদের জন্য চালু থাকা গোল্ডেন ভিসা বা হাই স্কিল ভিসায় এ শর্ত প্রযোজ্য নয়।

পর্তুগিজ ভাষাভাষী দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য সহজ শর্তে বসবাসের সুযোগও বাতিল করা হয়েছে। এখন থেকে পর্তুগালে কাজ বা স্থায়ী হতে হলে সংশ্লিষ্ট দেশের কনসুলেট থেকে রেসিডেন্ট বা ওয়ার্ক পারমিট ভিসা নিয়ে প্রবেশ করতে হবে।

অভিবাসী সংগঠন সলিডারিয়েডাড ইমিগ্রান্টের সভাপতি টিমোটিও মাসেডো নতুন আইনটির সমালোচনা করে বলেছেন, এ আইন ধনী-গরিবের মধ্যে বিভাজন তৈরি করবে। ধনী অভিবাসীরা সব সুযোগ পাবে, অথচ যারা শ্রম দিয়ে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছে তারা বঞ্চিত হবে।

প্রবাসী বাংলাদেশিরাও এ আইন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। প্রবাসী নেতা আনোয়ার খান আজাদ মনে করেন, পারিবারিক পুনর্মিলনে কড়াকড়ি বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য জটিল পরিস্থিতি তৈরি করবে। তিনি সরকারকে আরও সহনশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত জুলাইয়ে সংসদে আইনটি অনুমোদন হলেও সাংবিধানিক আদালত কিছু ধারা অসাংবিধানিক ঘোষণা করে এবং রাষ্ট্রপতি তা ভেটো দেন। পরে আংশিক সংশোধনের মাধ্যমে আবারও সংসদে তোলা হলে ২৩০ আসনের মধ্যে ১৬০ ভোটে এটি পাস হয়। এখন রাষ্ট্রপতির চূড়ান্ত অনুমোদনের পর আইনটি কার্যকর হবে।