Dhaka , Sunday, 8 November 2026
শিরোনাম :
বৈধ বিদেশযাত্রা হোক সহজ, বন্ধ হোক অযথা হয়রানি বাংলায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রবাসীদের সাবধান করল সৌদি মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং শোকেসে অংশ নিয়েছে প্রাণ মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে হাইকমিশনারের মতবিনিময় ইরাকের নয়া প্রধানমন্ত্রী হলেন শিয়া আল- সুদানি পোস্টাল ভোটিং: প্রবাসীদের নিবন্ধনের সময় ৫ দিন—কোন দেশে কবে শুরু? বাহরাইন প্রবাসীদের জন্য সচেতনতামূলক মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্প দক্ষিণ আফ্রিকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১১, আহত ৩১ লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবি, নিহতদের সবাই বাংলাদেশি ‘প্রবাসীর ভোট প্রদান সহজ করা না হলে ভোটাধিকার মূল্যহীন’

ভুয়া পারমিটে ইতালিতে মানবপাচার, আটক ৭

ইতালিতে বৈধ উপায়ে অভিবাসন করানোর নামে ভুয়া ওয়ার্ক পারমিট ও জাল নথি বিক্রি করে কোটি টাকার অবৈধ ব্যবসা চালানো একটি আন্তর্জাতিক চক্রের সন্ধান পেয়েছে দেশটির পুলিশ ও অ্যান্টিমাফিয়া ইউনিট (ডিডিএ)। চক্রটির প্রতারণার লক্ষ্য ছিল মরক্কো, তিউনিশিয়া, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার অভিবাসীরা।

 

ইতালির কর্তৃপক্ষ জানায়, চক্রটি ‘কাফ’ নামের সরকারি দপ্তরের পরিচয় ব্যবহার করে অনিয়মিত অভিবাসীদের কাছ থেকে জনপ্রতি তিন হাজার থেকে ১০ হাজার ইউরো পর্যন্ত হাতিয়ে নিত। ২৫ সদস্যের এই সংঘবদ্ধ দলের বিরুদ্ধে অবৈধ অভিবাসন সহায়তা, রাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতারণা ও নথিজাল করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

 

আদালত আটজনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের নজরদারি ব্যবস্থা জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছে। সন্দেহভাজন প্রধানকে কারাগারে রাখা হয়েছে, পাঁচজন গৃহবন্দি এবং দুইজনকে নিয়মিত থানায় রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে। সাতজনকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করা হলেও একজন বিদেশে পলাতক রয়েছে।

 

কীভাবে চলত ভুয়া পারমিট ব্যবসা

 

প্রায় ছয় মাসের তদন্তে জানা যায়, চক্রটি ইমোলা শহরে দুটি এবং মাসালোমবার্দা ও আনকোনা শহরে দুটি (উদ্বোধনাধীন) ভুয়া ‘কাফ’ অফিস পরিচালনা করত। ফ্লুসি ডিক্রির ফাঁকফোকর কাজে লাগিয়ে তারা শত শত ভুয়া আবেদন পাঠাতো।

আসল নথির বদলে সাদা কাগজ, মেয়দোত্তীর্ণ পাসপোর্ট বা জাল নথি আপলোড করলেও আবেদন যাচাইয়ের চাপ বেশি হওয়ায় অনেক আবেদনে ত্রুটি ধরা পড়ত না। আইন অনুযায়ী ৩০ দিনের মধ্যে জবাব না আসলে আবেদন অনুমোদিত ধরে নেওয়ার সুযোগও কাজে লাগানো হয়।

চক্রের সদস্য ও ভূমিকা

চক্রটির নেতৃত্বে ছিলেন আব্রুজ্জো অঞ্চলের বহুবার দণ্ডিত এক ইতালীয় নাগরিক। তার দুই ছেলে, বোলনিয়ার একজন সহযোগী এবং সিরিনিওলার এক নারী তাকে সহায়তা করতেন। এছাড়া বেশ কিছু ইতালীয় ও বিদেশি মধ্যস্থতাকারী ভুয়াভাবে নিজেদের কোম্পানিকে নিয়োগদাতা দেখিয়ে আবেদন জমা দিতেন, যদিও বাস্তবে এসব কোম্পানিতে কোনো কাজই ছিল না।

তদন্তে দেখা গেছে, তারা প্রায় ৫০০ ভুয়া আবেদন জমা দেয় এবং অভিবাসীদের থেকে তিন থেকে ১০ হাজার ইউরো পর্যন্ত নেয়। অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা প্রতারণা বুঝতেই পারতেন না।

তিন ধাপের তদন্তে জালিয়াতি উন্মোচন

ইতালির কর্তৃপক্ষ তিন ধাপে তদন্ত পরিচালনা করে—

নথি যাচাই: বোলনিয়া প্রিফেকচার ও আইএনআইএলের সহযোগিতায় শত শত ভুয়া আবেদন শনাক্ত করা হয়।

ফোন–আড়িপাতা ও গোপন ক্যামেরা: অফিসেই দেখা যায় পাসপোর্ট জোগাড়, জাল পারমিট তৈরি, নথি ভাগাভাগি ও নগদ লেনদেন হচ্ছে।

পরিচয় নিশ্চিতকরণ: সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ ও পরিচয় যাচাই করে চক্রের কার্যক্রম নিশ্চিত করা হয়।

ইতালিতে অভিবাসীদের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে প্রতারণার ঘটনা নতুন নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, মৌসুমি ভিসা বা বৈধ হওয়ার আশায় থাকা অভিবাসীদের টার্গেট করেই এমন চক্রগুলো সক্রিয় থাকে।

সূত্র: ইনফোমাইগ্রেন্টস

About Author Information

News Update

জনপ্রিয় সংবাদ

ভুয়া পারমিটে ইতালিতে মানবপাচার, আটক ৭

আপডেট টাইম : 01:51:33 pm, Tuesday, 2 December 2025

ইতালিতে বৈধ উপায়ে অভিবাসন করানোর নামে ভুয়া ওয়ার্ক পারমিট ও জাল নথি বিক্রি করে কোটি টাকার অবৈধ ব্যবসা চালানো একটি আন্তর্জাতিক চক্রের সন্ধান পেয়েছে দেশটির পুলিশ ও অ্যান্টিমাফিয়া ইউনিট (ডিডিএ)। চক্রটির প্রতারণার লক্ষ্য ছিল মরক্কো, তিউনিশিয়া, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার অভিবাসীরা।

 

ইতালির কর্তৃপক্ষ জানায়, চক্রটি ‘কাফ’ নামের সরকারি দপ্তরের পরিচয় ব্যবহার করে অনিয়মিত অভিবাসীদের কাছ থেকে জনপ্রতি তিন হাজার থেকে ১০ হাজার ইউরো পর্যন্ত হাতিয়ে নিত। ২৫ সদস্যের এই সংঘবদ্ধ দলের বিরুদ্ধে অবৈধ অভিবাসন সহায়তা, রাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতারণা ও নথিজাল করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

 

আদালত আটজনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের নজরদারি ব্যবস্থা জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছে। সন্দেহভাজন প্রধানকে কারাগারে রাখা হয়েছে, পাঁচজন গৃহবন্দি এবং দুইজনকে নিয়মিত থানায় রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে। সাতজনকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করা হলেও একজন বিদেশে পলাতক রয়েছে।

 

কীভাবে চলত ভুয়া পারমিট ব্যবসা

 

প্রায় ছয় মাসের তদন্তে জানা যায়, চক্রটি ইমোলা শহরে দুটি এবং মাসালোমবার্দা ও আনকোনা শহরে দুটি (উদ্বোধনাধীন) ভুয়া ‘কাফ’ অফিস পরিচালনা করত। ফ্লুসি ডিক্রির ফাঁকফোকর কাজে লাগিয়ে তারা শত শত ভুয়া আবেদন পাঠাতো।

আসল নথির বদলে সাদা কাগজ, মেয়দোত্তীর্ণ পাসপোর্ট বা জাল নথি আপলোড করলেও আবেদন যাচাইয়ের চাপ বেশি হওয়ায় অনেক আবেদনে ত্রুটি ধরা পড়ত না। আইন অনুযায়ী ৩০ দিনের মধ্যে জবাব না আসলে আবেদন অনুমোদিত ধরে নেওয়ার সুযোগও কাজে লাগানো হয়।

চক্রের সদস্য ও ভূমিকা

চক্রটির নেতৃত্বে ছিলেন আব্রুজ্জো অঞ্চলের বহুবার দণ্ডিত এক ইতালীয় নাগরিক। তার দুই ছেলে, বোলনিয়ার একজন সহযোগী এবং সিরিনিওলার এক নারী তাকে সহায়তা করতেন। এছাড়া বেশ কিছু ইতালীয় ও বিদেশি মধ্যস্থতাকারী ভুয়াভাবে নিজেদের কোম্পানিকে নিয়োগদাতা দেখিয়ে আবেদন জমা দিতেন, যদিও বাস্তবে এসব কোম্পানিতে কোনো কাজই ছিল না।

তদন্তে দেখা গেছে, তারা প্রায় ৫০০ ভুয়া আবেদন জমা দেয় এবং অভিবাসীদের থেকে তিন থেকে ১০ হাজার ইউরো পর্যন্ত নেয়। অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা প্রতারণা বুঝতেই পারতেন না।

তিন ধাপের তদন্তে জালিয়াতি উন্মোচন

ইতালির কর্তৃপক্ষ তিন ধাপে তদন্ত পরিচালনা করে—

নথি যাচাই: বোলনিয়া প্রিফেকচার ও আইএনআইএলের সহযোগিতায় শত শত ভুয়া আবেদন শনাক্ত করা হয়।

ফোন–আড়িপাতা ও গোপন ক্যামেরা: অফিসেই দেখা যায় পাসপোর্ট জোগাড়, জাল পারমিট তৈরি, নথি ভাগাভাগি ও নগদ লেনদেন হচ্ছে।

পরিচয় নিশ্চিতকরণ: সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ ও পরিচয় যাচাই করে চক্রের কার্যক্রম নিশ্চিত করা হয়।

ইতালিতে অভিবাসীদের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে প্রতারণার ঘটনা নতুন নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, মৌসুমি ভিসা বা বৈধ হওয়ার আশায় থাকা অভিবাসীদের টার্গেট করেই এমন চক্রগুলো সক্রিয় থাকে।

সূত্র: ইনফোমাইগ্রেন্টস