Dhaka , Friday, 25 September 2026
শিরোনাম :
বৈধ বিদেশযাত্রা হোক সহজ, বন্ধ হোক অযথা হয়রানি বাংলায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রবাসীদের সাবধান করল সৌদি মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং শোকেসে অংশ নিয়েছে প্রাণ মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে হাইকমিশনারের মতবিনিময় ইরাকের নয়া প্রধানমন্ত্রী হলেন শিয়া আল- সুদানি পোস্টাল ভোটিং: প্রবাসীদের নিবন্ধনের সময় ৫ দিন—কোন দেশে কবে শুরু? বাহরাইন প্রবাসীদের জন্য সচেতনতামূলক মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্প দক্ষিণ আফ্রিকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১১, আহত ৩১ লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবি, নিহতদের সবাই বাংলাদেশি ‘প্রবাসীর ভোট প্রদান সহজ করা না হলে ভোটাধিকার মূল্যহীন’

মালয়েশিয়ায় উচ্চশিক্ষা শেষে বিপাকে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার সম্পর্ক কেবল কূটনীতি বা বাণিজ্যের সীমাবদ্ধ নয়, বরং দুই দেশের সাধারণ মানুষের হৃদস্পন্দনেও শক্তভাবে প্রতিষ্ঠিত। মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রসার এবং বাংলাদেশে মালয়েশিয়ান ব্র্যান্ডের জনপ্রিয়তা এই ভ্রাতৃত্বকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।

তবে এই ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মাঝেও সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে মালয়েশিয়ায় অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে। ২০২৩ সাল থেকে মালয়েশিয়া সরকার ‘গ্র্যাজুয়েট পাস’ চালু করেছে, যা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা শেষ করে এক বছর বৈধভাবে দেশটিতে থেকে কাজ করার সুযোগ দেয়।

 

বিশ্বের ৩২টি দেশের নাগরিক এই সুবিধা পাচ্ছে, কিন্তু তালিকায় বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ফলে ডিগ্রি অর্জন শেষে বাংলাদেশের মেধাবী শিক্ষার্থীরা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কাজে অংশ নিতে পারছেন না।

 

মালয়েশিয়ার উচ্চশিক্ষামন্ত্রী সম্প্রতি ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশিদের অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা আনুষ্ঠানিকভাবে অস্বীকার করেছেন, যা শিক্ষার্থীদের হতাশা আরও বাড়িয়েছে। প্রতিবেশী এশীয় দেশগুলো এই সুবিধা পেয়ে থাকলেও বাংলাদেশিদের বঞ্চনা চলছে।

 

ইউনিভার্সিটি টেকনোলোজি মালয়েশিয়ায় কম্পিউটার সায়েন্স ও সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল নাহিদ বলেন, “বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার সম্পর্ক ব্যবসা ও অর্থনীতিতে শক্তিশালী এবং কূটনীতিতে সহযোগিতাপূর্ণ। সেই সম্পর্কের নৈতিক ভিত্তি হওয়া উচিত সমতা ও মানবিক ন্যায়বিচার। গ্র্যাজুয়েট পাস কোনো বিশেষ সুবিধা নয়; এটি সম্মান, আত্মবিশ্বাস এবং দুই দেশের ভবিষ্যৎ অংশীদারিত্ব গড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।”

 

গ্র্যাজুয়েট পাস পেতে হলে শিক্ষার্থীকে অন্তত স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করতে হবে এবং একজন মালয়েশিয়ান স্পন্সর থাকা আবশ্যক। সুবিধাটি পেলে শিক্ষার্থীরা এক বছর দেশের বাইরে অবস্থান করে খণ্ডকালীন কাজ করতে পারেন।

 

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রবাসী ব্যবসায়ীরা যেমন রেমিট্যান্সের মাধ্যমে অর্থনীতি সচল রাখছেন, তেমনি শিক্ষার্থীরাও দেশের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডরের ভূমিকা পালন করছেন। জাতীয়তার ভিত্তিতে এই বৈষম্য দুই দেশের নৈতিক সম্পর্কের পরিপন্থি।

 

বাংলাদেশ দূতাবাস কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে, কিন্তু ‘গ্র্যাজুয়েট পাস’-এর স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের বঞ্চনা চলতেই থাকবে। শিক্ষার্থীদের দাবি, এই সুবিধা নিশ্চিত করে দুই দেশের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের মর্যাদা রক্ষা করা হোক।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Rahman

সমুদ্রপথে ইউরোপযাত্রা: ৯ মাসে ২ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী মৃত-নিখোঁজ

মালয়েশিয়ায় উচ্চশিক্ষা শেষে বিপাকে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা

আপডেট টাইম : 07:53:04 pm, Tuesday, 23 December 2025

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার সম্পর্ক কেবল কূটনীতি বা বাণিজ্যের সীমাবদ্ধ নয়, বরং দুই দেশের সাধারণ মানুষের হৃদস্পন্দনেও শক্তভাবে প্রতিষ্ঠিত। মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রসার এবং বাংলাদেশে মালয়েশিয়ান ব্র্যান্ডের জনপ্রিয়তা এই ভ্রাতৃত্বকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।

তবে এই ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মাঝেও সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে মালয়েশিয়ায় অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে। ২০২৩ সাল থেকে মালয়েশিয়া সরকার ‘গ্র্যাজুয়েট পাস’ চালু করেছে, যা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা শেষ করে এক বছর বৈধভাবে দেশটিতে থেকে কাজ করার সুযোগ দেয়।

 

বিশ্বের ৩২টি দেশের নাগরিক এই সুবিধা পাচ্ছে, কিন্তু তালিকায় বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ফলে ডিগ্রি অর্জন শেষে বাংলাদেশের মেধাবী শিক্ষার্থীরা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কাজে অংশ নিতে পারছেন না।

 

মালয়েশিয়ার উচ্চশিক্ষামন্ত্রী সম্প্রতি ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশিদের অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা আনুষ্ঠানিকভাবে অস্বীকার করেছেন, যা শিক্ষার্থীদের হতাশা আরও বাড়িয়েছে। প্রতিবেশী এশীয় দেশগুলো এই সুবিধা পেয়ে থাকলেও বাংলাদেশিদের বঞ্চনা চলছে।

 

ইউনিভার্সিটি টেকনোলোজি মালয়েশিয়ায় কম্পিউটার সায়েন্স ও সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল নাহিদ বলেন, “বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার সম্পর্ক ব্যবসা ও অর্থনীতিতে শক্তিশালী এবং কূটনীতিতে সহযোগিতাপূর্ণ। সেই সম্পর্কের নৈতিক ভিত্তি হওয়া উচিত সমতা ও মানবিক ন্যায়বিচার। গ্র্যাজুয়েট পাস কোনো বিশেষ সুবিধা নয়; এটি সম্মান, আত্মবিশ্বাস এবং দুই দেশের ভবিষ্যৎ অংশীদারিত্ব গড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।”

 

গ্র্যাজুয়েট পাস পেতে হলে শিক্ষার্থীকে অন্তত স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করতে হবে এবং একজন মালয়েশিয়ান স্পন্সর থাকা আবশ্যক। সুবিধাটি পেলে শিক্ষার্থীরা এক বছর দেশের বাইরে অবস্থান করে খণ্ডকালীন কাজ করতে পারেন।

 

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রবাসী ব্যবসায়ীরা যেমন রেমিট্যান্সের মাধ্যমে অর্থনীতি সচল রাখছেন, তেমনি শিক্ষার্থীরাও দেশের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডরের ভূমিকা পালন করছেন। জাতীয়তার ভিত্তিতে এই বৈষম্য দুই দেশের নৈতিক সম্পর্কের পরিপন্থি।

 

বাংলাদেশ দূতাবাস কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে, কিন্তু ‘গ্র্যাজুয়েট পাস’-এর স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের বঞ্চনা চলতেই থাকবে। শিক্ষার্থীদের দাবি, এই সুবিধা নিশ্চিত করে দুই দেশের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের মর্যাদা রক্ষা করা হোক।