যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব পোর্টসমাউথ আরও বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ভর্তিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে ট্রান্সন্যাশনাল এডুকেশন (টিএনই) এবং প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সহযোগিতা সম্প্রসারণে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানটি।
গতকাল সোমবার যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার আবিদা ইসলামের পোর্টসমাউথ সফরকালে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ আগ্রহের কথা জানায়। ঢাকায় প্রাপ্ত এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।
হাইকমিশনারের এই সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল ট্রান্সন্যাশনাল এডুকেশন খাতে উচ্চশিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সহযোগিতার সম্ভাবনা যাচাই করা। পাশাপাশি পোর্টসমাউথ সিটি কাউন্সিলের প্রতিনিধি ও বাংলাদেশি কমিউনিটির সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং সাংস্কৃতিক সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হয়।
সফরকালে হাইকমিশনার আবিদা ইসলাম ইউনিভার্সিটি অব পোর্টসমাউথের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক গ্রাহাম গ্যালব্রেইথ, ডেপুটি ভাইস-চ্যান্সেলর (গ্লোবাল এনগেজমেন্ট অ্যান্ড স্টুডেন্ট লাইফ) ক্রিস চ্যাংসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
বৈঠকে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য টিএনই সুযোগ সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ইউনিভার্সিটি অব পোর্টসমাউথের প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
এ সময় ইউনিভার্সিটি অব পোর্টসমাউথ বাংলাদেশ সরকারের কাছে ‘ব্লু বাংলাদেশ চেয়ার’ প্রতিষ্ঠার বিষয়টি বিবেচনার অনুরোধ জানায়। এর মাধ্যমে ব্লু গভর্ন্যান্স বিষয়ে গবেষণা, উন্নয়ন ও জ্ঞান বিনিময় সহজ হবে বলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ উল্লেখ করে।
হাইকমিশনার জানান, এ প্রস্তাবটি ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে সরকারের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে তা পর্যালোচনাধীন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যৌথ একাডেমিক কর্মসূচি, সরকারি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও একাডেমির সঙ্গে সমন্বয়ে বিশেষায়িত কোর্স চালুর মাধ্যমে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করা যেতে পারে, যা সরকারি কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি ভাইস-চ্যান্সেলর ক্রিস চ্যাং বলেন, ইউনিভার্সিটি অব পোর্টসমাউথ নিয়মিতভাবে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানায়। এখানে ব্যবসা, মানবিক শাখা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং প্রকৌশলসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তৃত শিক্ষাক্রম রয়েছে।
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আর্থিক চাপ কমাতে বিশ্ববিদ্যালয়টি বৃত্তি প্রদান করে থাকে। পাশাপাশি ভিসা-সংক্রান্ত দিকনির্দেশনাসহ একাডেমিক ও প্রশাসনিক সব বিষয়ে সর্বোচ্চ সহায়তা নিশ্চিত করা হয়।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য শুধু বিশ্ববিদ্যালয় নয়, পুরো পোর্টসমাউথ শহরেই একটি বন্ধুভাবাপন্ন ও উষ্ণ পরিবেশ গড়ে তোলা হয়েছে।
সফরের অংশ হিসেবে হাইকমিশনার আবিদা ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ডিপ্লোম্যাসি’ শীর্ষক একটি উন্মুক্ত বক্তৃতা দেন। এতে তিনি কূটনৈতিক কর্মকাণ্ড ও আন্তর্জাতিক আলোচনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব তুলে ধরেন।
এ সময় তিনি ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা ঝুঁকি, নৈতিক কাঠামো এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এআই-নির্ভর বিভ্রান্তিকর তথ্যের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সংলাপ ও সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রবাসীর কথা ডেস্ক 



















