Dhaka , Friday, 25 September 2026
শিরোনাম :
বৈধ বিদেশযাত্রা হোক সহজ, বন্ধ হোক অযথা হয়রানি বাংলায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রবাসীদের সাবধান করল সৌদি মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং শোকেসে অংশ নিয়েছে প্রাণ মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে হাইকমিশনারের মতবিনিময় ইরাকের নয়া প্রধানমন্ত্রী হলেন শিয়া আল- সুদানি পোস্টাল ভোটিং: প্রবাসীদের নিবন্ধনের সময় ৫ দিন—কোন দেশে কবে শুরু? বাহরাইন প্রবাসীদের জন্য সচেতনতামূলক মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্প দক্ষিণ আফ্রিকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১১, আহত ৩১ লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবি, নিহতদের সবাই বাংলাদেশি ‘প্রবাসীর ভোট প্রদান সহজ করা না হলে ভোটাধিকার মূল্যহীন’

আরও বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নিতে আগ্রহী যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়

যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব পোর্টসমাউথ আরও বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ভর্তিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে ট্রান্সন্যাশনাল এডুকেশন (টিএনই) এবং প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সহযোগিতা সম্প্রসারণে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানটি।

 

গতকাল সোমবার যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার আবিদা ইসলামের পোর্টসমাউথ সফরকালে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ আগ্রহের কথা জানায়। ঢাকায় প্রাপ্ত এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

হাইকমিশনারের এই সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল ট্রান্সন্যাশনাল এডুকেশন খাতে উচ্চশিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সহযোগিতার সম্ভাবনা যাচাই করা। পাশাপাশি পোর্টসমাউথ সিটি কাউন্সিলের প্রতিনিধি ও বাংলাদেশি কমিউনিটির সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং সাংস্কৃতিক সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হয়।

 

সফরকালে হাইকমিশনার আবিদা ইসলাম ইউনিভার্সিটি অব পোর্টসমাউথের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক গ্রাহাম গ্যালব্রেইথ, ডেপুটি ভাইস-চ্যান্সেলর (গ্লোবাল এনগেজমেন্ট অ্যান্ড স্টুডেন্ট লাইফ) ক্রিস চ্যাংসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

 

বৈঠকে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য টিএনই সুযোগ সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ইউনিভার্সিটি অব পোর্টসমাউথের প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

 

এ সময় ইউনিভার্সিটি অব পোর্টসমাউথ বাংলাদেশ সরকারের কাছে ‘ব্লু বাংলাদেশ চেয়ার’ প্রতিষ্ঠার বিষয়টি বিবেচনার অনুরোধ জানায়। এর মাধ্যমে ব্লু গভর্ন্যান্স বিষয়ে গবেষণা, উন্নয়ন ও জ্ঞান বিনিময় সহজ হবে বলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ উল্লেখ করে।

 

হাইকমিশনার জানান, এ প্রস্তাবটি ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে সরকারের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে তা পর্যালোচনাধীন রয়েছে।

 

তিনি আরও বলেন, যৌথ একাডেমিক কর্মসূচি, সরকারি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও একাডেমির সঙ্গে সমন্বয়ে বিশেষায়িত কোর্স চালুর মাধ্যমে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করা যেতে পারে, যা সরকারি কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

 

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি ভাইস-চ্যান্সেলর ক্রিস চ্যাং বলেন, ইউনিভার্সিটি অব পোর্টসমাউথ নিয়মিতভাবে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানায়। এখানে ব্যবসা, মানবিক শাখা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং প্রকৌশলসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তৃত শিক্ষাক্রম রয়েছে।

 

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আর্থিক চাপ কমাতে বিশ্ববিদ্যালয়টি বৃত্তি প্রদান করে থাকে। পাশাপাশি ভিসা-সংক্রান্ত দিকনির্দেশনাসহ একাডেমিক ও প্রশাসনিক সব বিষয়ে সর্বোচ্চ সহায়তা নিশ্চিত করা হয়।

 

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য শুধু বিশ্ববিদ্যালয় নয়, পুরো পোর্টসমাউথ শহরেই একটি বন্ধুভাবাপন্ন ও উষ্ণ পরিবেশ গড়ে তোলা হয়েছে।

 

সফরের অংশ হিসেবে হাইকমিশনার আবিদা ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ডিপ্লোম্যাসি’ শীর্ষক একটি উন্মুক্ত বক্তৃতা দেন। এতে তিনি কূটনৈতিক কর্মকাণ্ড ও আন্তর্জাতিক আলোচনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব তুলে ধরেন।

 

এ সময় তিনি ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা ঝুঁকি, নৈতিক কাঠামো এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এআই-নির্ভর বিভ্রান্তিকর তথ্যের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সংলাপ ও সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Rahman

সমুদ্রপথে ইউরোপযাত্রা: ৯ মাসে ২ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী মৃত-নিখোঁজ

আরও বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নিতে আগ্রহী যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়

আপডেট টাইম : 11:20:57 pm, Tuesday, 13 January 2026

যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব পোর্টসমাউথ আরও বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ভর্তিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে ট্রান্সন্যাশনাল এডুকেশন (টিএনই) এবং প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সহযোগিতা সম্প্রসারণে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানটি।

 

গতকাল সোমবার যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার আবিদা ইসলামের পোর্টসমাউথ সফরকালে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ আগ্রহের কথা জানায়। ঢাকায় প্রাপ্ত এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

হাইকমিশনারের এই সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল ট্রান্সন্যাশনাল এডুকেশন খাতে উচ্চশিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সহযোগিতার সম্ভাবনা যাচাই করা। পাশাপাশি পোর্টসমাউথ সিটি কাউন্সিলের প্রতিনিধি ও বাংলাদেশি কমিউনিটির সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং সাংস্কৃতিক সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হয়।

 

সফরকালে হাইকমিশনার আবিদা ইসলাম ইউনিভার্সিটি অব পোর্টসমাউথের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক গ্রাহাম গ্যালব্রেইথ, ডেপুটি ভাইস-চ্যান্সেলর (গ্লোবাল এনগেজমেন্ট অ্যান্ড স্টুডেন্ট লাইফ) ক্রিস চ্যাংসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

 

বৈঠকে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য টিএনই সুযোগ সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ইউনিভার্সিটি অব পোর্টসমাউথের প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

 

এ সময় ইউনিভার্সিটি অব পোর্টসমাউথ বাংলাদেশ সরকারের কাছে ‘ব্লু বাংলাদেশ চেয়ার’ প্রতিষ্ঠার বিষয়টি বিবেচনার অনুরোধ জানায়। এর মাধ্যমে ব্লু গভর্ন্যান্স বিষয়ে গবেষণা, উন্নয়ন ও জ্ঞান বিনিময় সহজ হবে বলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ উল্লেখ করে।

 

হাইকমিশনার জানান, এ প্রস্তাবটি ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে সরকারের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে তা পর্যালোচনাধীন রয়েছে।

 

তিনি আরও বলেন, যৌথ একাডেমিক কর্মসূচি, সরকারি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও একাডেমির সঙ্গে সমন্বয়ে বিশেষায়িত কোর্স চালুর মাধ্যমে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করা যেতে পারে, যা সরকারি কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

 

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি ভাইস-চ্যান্সেলর ক্রিস চ্যাং বলেন, ইউনিভার্সিটি অব পোর্টসমাউথ নিয়মিতভাবে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানায়। এখানে ব্যবসা, মানবিক শাখা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং প্রকৌশলসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তৃত শিক্ষাক্রম রয়েছে।

 

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আর্থিক চাপ কমাতে বিশ্ববিদ্যালয়টি বৃত্তি প্রদান করে থাকে। পাশাপাশি ভিসা-সংক্রান্ত দিকনির্দেশনাসহ একাডেমিক ও প্রশাসনিক সব বিষয়ে সর্বোচ্চ সহায়তা নিশ্চিত করা হয়।

 

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য শুধু বিশ্ববিদ্যালয় নয়, পুরো পোর্টসমাউথ শহরেই একটি বন্ধুভাবাপন্ন ও উষ্ণ পরিবেশ গড়ে তোলা হয়েছে।

 

সফরের অংশ হিসেবে হাইকমিশনার আবিদা ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ডিপ্লোম্যাসি’ শীর্ষক একটি উন্মুক্ত বক্তৃতা দেন। এতে তিনি কূটনৈতিক কর্মকাণ্ড ও আন্তর্জাতিক আলোচনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব তুলে ধরেন।

 

এ সময় তিনি ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা ঝুঁকি, নৈতিক কাঠামো এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এআই-নির্ভর বিভ্রান্তিকর তথ্যের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সংলাপ ও সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।