রোমাঞ্চের চূড়ান্তে পৌঁছে শ্বাসরুদ্ধকর এক ম্যাচে সিলেট স্ট্রাইকার্সকে ৫ রানে হারিয়েছে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। আসরের প্রথম দেখার মতো দ্বিতীয় দেখাতেও জয় নিজেদের করে নিয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
জয়ের জন্য শেষ ওভারে সিলেটের প্রয়োজন ছিল ১১ রান। রাজশাহীর হয়ে বোলিংয়ে আসেন বিনুরা ফার্নান্দো। প্রথম পাঁচ বলে মাত্র ৩ রান দেওয়ার পর টানা দুই ওয়াইড করেন তিনি। তাতে শেষ বলের সমীকরণ দাঁড়ায় ১ বলে ৬ রান। তবে কোনো অঘটন ঘটতে দেননি বিনুরা। শেষ বলে রুয়েল মিয়াকে বোল্ড করে রাজশাহীর জয় নিশ্চিত করেন তিনি।
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় সিলেট। ১৫ রানের মধ্যে ওপেনার তৌফিক খান (৪) ও অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ (১) ফিরে যান। এরপর ইনিংস গড়েন পারভেজ হোসেন ইমন ও মুমিনুল হক। দুজনের ৪৯ রানের জুটিতে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেয় সিলেট।
৪১ রান করে ইমন আউট হলে দলীয় ৬৪ রানে ভাঙে সেই জুটি। পরে মুমিনুল হক ও আফিফ হোসেন গড়ে তোলেন ৩২ রানের আরেকটি জুটি। তবে দ্রুত ব্যবধানে দুজনের বিদায়ে আবার চাপে পড়ে সিলেট। আফিফ ১৬ রান করে দলীয় ৯৬ রানে এবং মুমিনুল ৩১ রান করে ১০০ রানে ফিরলে ৫ উইকেট হারায় দলটি।
মঈন আলী মাঠে নেমেই আগ্রাসী ব্যাটিং শুরু করেন। কিন্তু অপর প্রান্তে ইথান ব্রুকস ১ রান করে আউট হলে চাপ আরও বাড়ে। ৩ ছক্কা ও ১ চারে ১২ বলে ২৭ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেও মঈনের বিদায়ে শেষ পর্যন্ত লক্ষ্য ছোঁয়া হয়নি সিলেটের। নাসুম, শহিদুল ও রুয়েল শেষ দিকে কোনো বাউন্ডারি বের করতে না পারায় ম্যাচ হাতছাড়া হয়।
রাজশাহীর হয়ে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট নেন রিপন মন্ডল। দুটি উইকেট পান বিনুরা ফার্নান্দো। এছাড়া রুবেল হোসেন, সাকলায়েন ও জিমি নিশাম একটি করে উইকেট শিকার করেন।
এর আগে টস জিতে সিলেট রাজশাহীকে ব্যাটিংয়ে পাঠায়। ২৯ রানেই দুই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম (৯) ও সাহিবজাদা ফারহান (৩) ফিরে গেলে চাপে পড়ে রাজশাহী। তবে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুশফিকুর রহিম ৫৬ রানের জুটি গড়ে ইনিংসের হাল ধরেন।
৩৪ রান করে শান্ত ফিরলে জিমি নিশাম ১২ রানের বেশি করতে পারেননি। মুশফিকও ৪০ রান করে দলীয় ১১৮ রানে আউট হলে রাজশাহীর বিপদ বাড়ে। এরপর আকবর আলী (২) ও রায়ান বার্ল (৯) দ্রুত ফিরে গেলে ১২৭ রানে ৭ উইকেট হারায় দলটি।
শেষদিকে আব্দুল গাফফার সাকলায়েনের ১১ বলে অপরাজিত ১৬ রান এবং রিপন মন্ডলের ৭ রানের সহায়তায় ৮ উইকেটে ১৪৭ রানের লড়াকু সংগ্রহ দাঁড় করায় রাজশাহী।
সিলেটের হয়ে সর্বোচ্চ দুটি করে উইকেট নেন শহিদুল ইসলাম ও নাসুম আহমেদ। একটি করে উইকেট পান মঈন আলী, রুয়েল মিয়া ও মেহেদী হাসান মিরাজ।

স্পোর্টস ডেস্ক 



















