Dhaka , Saturday, 8 August 2026
শিরোনাম :
বাংলায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রবাসীদের সাবধান করল সৌদি মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং শোকেসে অংশ নিয়েছে প্রাণ মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে হাইকমিশনারের মতবিনিময় ইরাকের নয়া প্রধানমন্ত্রী হলেন শিয়া আল- সুদানি পোস্টাল ভোটিং: প্রবাসীদের নিবন্ধনের সময় ৫ দিন—কোন দেশে কবে শুরু? বাহরাইন প্রবাসীদের জন্য সচেতনতামূলক মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্প দক্ষিণ আফ্রিকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১১, আহত ৩১ লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবি, নিহতদের সবাই বাংলাদেশি ‘প্রবাসীর ভোট প্রদান সহজ করা না হলে ভোটাধিকার মূল্যহীন’ স্বল্প খরচে জনশক্তি রপ্তানির মাধ্যমে রেমিট্যান্স বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ

কুয়ালালামপুরে অবৈধ ‘সেফ হাউস’ থেকে ৭ বাংলাদেশি আটক

মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে অবৈধভাবে অভিবাসী পাচারের কাজে ব্যবহৃত একটি ‘সেফ হাউস’ থেকে সাতজন বাংলাদেশিকে আটক করেছে ইমিগ্রেশন বিভাগ (জেআইএম)। রাজধানীর তামান মালুরি এলাকায় মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) পরিচালিত বিশেষ অভিযানে তাদের আটক করা হয়।

 

মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান জানান, অভিযানে একটি সার্ভিস অ্যাপার্টমেন্ট থেকে পাঁচজন পুরুষকে আটক করা হয়েছে, যাদের বয়স ২৭ থেকে ৪৪ বছরের মধ্যে। তারা সবাই পাচার হয়ে আসা অভিবাসী বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

অভিযানে আরও দুইজনকে আটক করা হয়, যাদের বয়স যথাক্রমে ৫৬ ও ২৮ বছর। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এদের একজন ‘সেফ হাউস’-এর তত্ত্বাবধায়ক বা ব্যবস্থাপক এবং আরেকজন পাচারচক্রের পরিবহন (ট্রান্সপোর্টার) হিসেবে কাজ করছিল।

 

মহাপরিচালক জানান, আটক অভিবাসীদের পাসপোর্ট পরীক্ষা করে দেখা গেছে, সেগুলোতে মালয়েশিয়ায় বৈধভাবে প্রবেশের কোনো অনুমোদিত সিল বা ছাপ নেই। ধারণা করা হচ্ছে, তারা কেলান্তান সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পথ বা তথাকথিত ‘ইঁদুরপথ’ ব্যবহার করে দেশে প্রবেশ করেছে।

 

তিনি আরও বলেন, গোয়েন্দা তথ্যে দেখা গেছে আটক ব্যক্তিরা ‘সিন্ডিকেট ইকবাল’-এর সঙ্গে সম্পর্কিত। সম্প্রতি কেলান্তানে এ চক্রের বিরুদ্ধে সফল অভিযান চালানো হয়েছিল।

 

তদন্তে উঠে এসেছে, পাচারচক্রটি মূলত স্থলপথ ব্যবহার করে অভিবাসী পাচারের কাজ চালিয়ে আসছিল। তামান মালুরির ওই অ্যাপার্টমেন্টটি সদ্য প্রবেশ করা অভিবাসীদের জন্য অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র বা ‘সেফ হাউস’ হিসেবে ব্যবহৃত হতো। পরে তাদের মালয়েশিয়ার বিভিন্ন গন্তব্যে পাঠানো হতো।

 

আটক সবাইকে পরবর্তী তদন্তের জন্য পুত্রজা ইমিগ্রেশন সদর দপ্তরে নেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মানবপাচার ও অভিবাসী পাচারবিরোধী আইন ২০০৭ (এটিপিসম আইন ৬৭০) এবং ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩ (আইন ১৫৫)-এর আওতায় তদন্ত চলছে।

 

দাতুক জাকারিয়া শাবান বলেন, “যারা অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয়, নিয়োগ বা সহায়তা দেবে—চক্র, নিয়োগকর্তা কিংবা সম্পত্তির মালিক—সবার বিরুদ্ধেই কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Rahman

জনপ্রিয় সংবাদ

কুয়ালালামপুরে অবৈধ ‘সেফ হাউস’ থেকে ৭ বাংলাদেশি আটক

আপডেট টাইম : 07:28:47 pm, Thursday, 22 January 2026

মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে অবৈধভাবে অভিবাসী পাচারের কাজে ব্যবহৃত একটি ‘সেফ হাউস’ থেকে সাতজন বাংলাদেশিকে আটক করেছে ইমিগ্রেশন বিভাগ (জেআইএম)। রাজধানীর তামান মালুরি এলাকায় মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) পরিচালিত বিশেষ অভিযানে তাদের আটক করা হয়।

 

মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান জানান, অভিযানে একটি সার্ভিস অ্যাপার্টমেন্ট থেকে পাঁচজন পুরুষকে আটক করা হয়েছে, যাদের বয়স ২৭ থেকে ৪৪ বছরের মধ্যে। তারা সবাই পাচার হয়ে আসা অভিবাসী বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

অভিযানে আরও দুইজনকে আটক করা হয়, যাদের বয়স যথাক্রমে ৫৬ ও ২৮ বছর। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এদের একজন ‘সেফ হাউস’-এর তত্ত্বাবধায়ক বা ব্যবস্থাপক এবং আরেকজন পাচারচক্রের পরিবহন (ট্রান্সপোর্টার) হিসেবে কাজ করছিল।

 

মহাপরিচালক জানান, আটক অভিবাসীদের পাসপোর্ট পরীক্ষা করে দেখা গেছে, সেগুলোতে মালয়েশিয়ায় বৈধভাবে প্রবেশের কোনো অনুমোদিত সিল বা ছাপ নেই। ধারণা করা হচ্ছে, তারা কেলান্তান সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পথ বা তথাকথিত ‘ইঁদুরপথ’ ব্যবহার করে দেশে প্রবেশ করেছে।

 

তিনি আরও বলেন, গোয়েন্দা তথ্যে দেখা গেছে আটক ব্যক্তিরা ‘সিন্ডিকেট ইকবাল’-এর সঙ্গে সম্পর্কিত। সম্প্রতি কেলান্তানে এ চক্রের বিরুদ্ধে সফল অভিযান চালানো হয়েছিল।

 

তদন্তে উঠে এসেছে, পাচারচক্রটি মূলত স্থলপথ ব্যবহার করে অভিবাসী পাচারের কাজ চালিয়ে আসছিল। তামান মালুরির ওই অ্যাপার্টমেন্টটি সদ্য প্রবেশ করা অভিবাসীদের জন্য অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র বা ‘সেফ হাউস’ হিসেবে ব্যবহৃত হতো। পরে তাদের মালয়েশিয়ার বিভিন্ন গন্তব্যে পাঠানো হতো।

 

আটক সবাইকে পরবর্তী তদন্তের জন্য পুত্রজা ইমিগ্রেশন সদর দপ্তরে নেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মানবপাচার ও অভিবাসী পাচারবিরোধী আইন ২০০৭ (এটিপিসম আইন ৬৭০) এবং ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩ (আইন ১৫৫)-এর আওতায় তদন্ত চলছে।

 

দাতুক জাকারিয়া শাবান বলেন, “যারা অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয়, নিয়োগ বা সহায়তা দেবে—চক্র, নিয়োগকর্তা কিংবা সম্পত্তির মালিক—সবার বিরুদ্ধেই কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”