হলুদ রঙের আবেশে মেতে উঠেছে জয়পুরহাটের মাঠ-প্রান্তর। দিগন্তজুড়ে সরিষা ফুলের মনোমুগ্ধকর হাসি আর মৌমাছির গুঞ্জনে প্রকৃতি ধারণ করেছে এক অনন্য সৌন্দর্য। এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে ঘিরে জয়পুরহাটের বিভিন্ন এলাকায় এখন চলছে মধু সংগ্রহের ব্যস্ত মৌসুম। সরিষা ফুল থেকে মধু আহরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা মৌসুমি মৌচাষিরা।
সরেজমিনে জয়পুরহাট সদর উপজেলার হাইল্ট্রী এলাকায় দেখা যায়, রাস্তার দু’পাশে সারিবদ্ধভাবে স্থাপন করা হয়েছে শত শত মৌমাছির বাক্স। বাক্সগুলোর পাশে তাঁবু টাঙিয়ে অস্থায়ীভাবে বসবাস করছেন মৌচাষিরা। প্রতি বছর সরিষা মৌসুম এলেই দিনাজপুর, রংপুর ও গাইবান্ধাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে তারা জয়পুরহাটের বিস্তীর্ণ সরিষা ক্ষেতে ছুটে আসেন। ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয় মধু সংগ্রহ ও সংরক্ষণের কর্মযজ্ঞ।
মৌচাষিরা জানান, সরিষা মৌসুমই তাদের আয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে প্রতি সপ্তাহে একটি বাক্স থেকে চার থেকে পাঁচ কেজি পর্যন্ত মধু সংগ্রহ করা সম্ভব হয়। সরিষা ফুলের খাঁটি মধু স্বাদে ও গুণে উৎকৃষ্ট হওয়ায় বাজারে এর চাহিদাও বেশ ভালো। একই সঙ্গে মৌমাছির পরাগায়নের কারণে স্থানীয় কৃষকদের সরিষার ফলন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জয়পুরহাটের উপপরিচালক এ কে এম সাদিকুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে জেলায় ১৬ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। মধু সংগ্রহের জন্য বিভিন্ন জেলা থেকে আসা মৌচাষিরা ইতোমধ্যে প্রায় ১ হাজার ৫০০টি মৌবাক্স স্থাপন করেছেন। এ বছর জেলায় প্রায় ২৫ হাজার মেট্রিক টন মধু সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সংগৃহীত মধু স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাজারজাত করা হচ্ছে, যা স্থানীয় ও জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।

প্রবাসীর কথা ডেস্ক 



















