কুয়েতের শ্রমবাজারে দীর্ঘদিনের সংকট ‘ভিসা বাণিজ্য’ ও অবৈধ দালাল চক্র নির্মূল করতে যুগান্তকারী এক পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে দেশটির সরকার।
আগামী দুই মাসের মধ্যে প্রবাসীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত ফ্রিল্যান্স ভিসা বা স্বাধীনভাবে কাজ করার আবাসন অনুমতি চালু করার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি কুয়েতের পাবলিক অথরিটি ফর ম্যানপাওয়ার আয়োজিত এক সেমিনারে এই ঘোষণা দেন কুয়েতের প্রথম উপ-প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ ফাহাদ আল ইউসেফ।
ঘোষনা অনুযায়ী নতুন এই ব্যবস্থার আওতায় দক্ষ প্রবাসীরা কোনো ব্যক্তিগত কুয়েতি স্পন্সর বা কোম্পানির অধীনে না থেকে সরাসরি সরকারি অনুমতি নিয়ে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবেন। এমনকি তারা নিজেদের ছোটখাটো ব্যবসাও পরিচালনা করতে পারবেন।
ফ্রিল্যান্স ভিসার জন্য একজন প্রবাসীকে বছরে প্রায় ৭৫০ থেকে ১০০০ কুয়েতি দিনার সরকারি ফি হিসেবে প্রদান করতে হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দালালদের হাতে কয়েকশ দিনার না দিয়ে সরাসরি সরকারকে ফি দিয়ে বৈধভাবে কাজ করুন।
ভিসার যাবতীয় আইনি প্রক্রিয়া ও মেকানিজম বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আগামী দুই মাসের মধ্যেই এটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানানো হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান,অবৈধ ভিসা কেনাবেচা বন্ধ করা এবং শ্রমবাজারে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনাই এই উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য। তিনি কড়া হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, কোনো কোম্পানি বা ব্যক্তি আইন লঙ্ঘন করলে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।
তিনি বলেন গত বছরই আইন ভঙ্গের দায়ে কুয়েত থেকে প্রায় ৩৯,০০০ প্রবাসীকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ফ্রিল্যান্স ভিসার পাশাপাশি পরিবার নিয়ে থাকার (ফ্যামিলি ভিসা) এবং ১৮ বছরের কম বয়সী সন্তানদের জন্য আবাসনের নিয়মও শিথিল করার ইঙ্গিত দেওয়াও হয়েছে।
কুয়েতের এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে দেশটিতে অবস্থানরত দক্ষ প্রবাসী কর্মী এবং নতুন করে যারা দেশটিতে যেতে আগ্রহী, উভয়েই উপকৃত হবেন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দালালদের হয়রানি কমবে এবং প্রবাসীরা আইনি সুরক্ষার আওতায় স্বাধীনভাবে আয় করার সুযোগ পাবেন।

কুয়েত প্রতিনিধি 



















