Dhaka , Thursday, 24 September 2026
শিরোনাম :
বৈধ বিদেশযাত্রা হোক সহজ, বন্ধ হোক অযথা হয়রানি বাংলায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রবাসীদের সাবধান করল সৌদি মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং শোকেসে অংশ নিয়েছে প্রাণ মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে হাইকমিশনারের মতবিনিময় ইরাকের নয়া প্রধানমন্ত্রী হলেন শিয়া আল- সুদানি পোস্টাল ভোটিং: প্রবাসীদের নিবন্ধনের সময় ৫ দিন—কোন দেশে কবে শুরু? বাহরাইন প্রবাসীদের জন্য সচেতনতামূলক মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্প দক্ষিণ আফ্রিকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১১, আহত ৩১ লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবি, নিহতদের সবাই বাংলাদেশি ‘প্রবাসীর ভোট প্রদান সহজ করা না হলে ভোটাধিকার মূল্যহীন’

নারীরা ঘরে বসে কীভাবে ইতিকাফ করবেন

রমজানের শেষ দশকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো ইতিকাফ। বিশেষ করে লাইলাতুল কদর লাভের উত্তম উপায় হিসেবে ইতিকাফের গুরুত্ব অপরিসীম।

 

ইতিকাফের ফজিলত সম্পর্কে মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন—আল্লাহর সন্তুষ্টির নিয়তে যে ব্যক্তি একদিন ইতিকাফ করবে, আল্লাহ তার ও জাহান্নামের মাঝে তিনটি পরিখার সমান দূরত্ব সৃষ্টি করবেন। প্রতিটি পরিখার দূরত্ব হবে আসমান-জমিনের মধ্যবর্তী দূরত্বের সমান। (তবারানি, শুয়াবুল ঈমান)

নারীদের জন্য ইতিকাফের বিধান

ইতিকাফ শুধু পুরুষদের জন্য নয়; নারীদের জন্যও এ আমল প্রযোজ্য। উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত—নবীজি (সা.) মৃত্যু পর্যন্ত রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করেছেন। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রীগণও ইতিকাফ করেছেন। (বুখারি, মুসলিম)

অতএব, নারীরাও ঘরে বসে শরিয়তের বিধান মেনে সহজেই ইতিকাফ করতে পারেন।

নারীদের ইতিকাফের নিয়মাবলি

১. ইতিকাফের স্থান নির্ধারণ

নারীদের নামাজের উত্তম স্থান তাদের ঘর। ঘরের যে স্থানে নিয়মিত নামাজ আদায় করেন, সেই স্থানেই ইতিকাফ করবেন।

যদি পূর্বনির্ধারিত নামাজের জায়গা না থাকে, তবে ইতিকাফের আগে একটি নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করে নেবেন।

২. স্থানটি পর্দায় আবৃত রাখা

ইতিকাফের স্থানটি পর্দা দিয়ে আচ্ছাদিত রাখা উত্তম। যেন ঘরে বেগানা পুরুষ এলে স্থান পরিবর্তনের প্রয়োজন না হয়।

৩. স্বামীর অনুমতি

বিবাহিত নারীর জন্য ইতিকাফের আগে স্বামীর অনুমতি নেওয়া আবশ্যক।
স্বামীরও উচিত যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া স্ত্রীকে বাধা না দেওয়া। এতে উভয়েই সওয়াবের অংশীদার হবেন।

৪. ঋতুস্রাব অবস্থায় ইতিকাফ

ঋতুস্রাব অবস্থায় ইতিকাফ সহিহ নয়। কারণ সুন্নত ইতিকাফের জন্য রোজা রাখা শর্ত, আর এ অবস্থায় রোজা রাখা যায় না।

৫. ইতিকাফ অবস্থায় ঋতুস্রাব শুরু হলে

ইতিকাফ শুরু করার পর ঋতুস্রাব শুরু হলে ইতিকাফ ভেঙে যাবে। পরে একদিন রোজাসহ কাজা আদায় করতে হবে।

৬. ইতিকাফের স্থান থেকে বের হওয়া

ইতিকাফের জন্য নির্ধারিত স্থান নারীর ক্ষেত্রে মসজিদের হুকুমে গণ্য হবে।

প্রাকৃতিক প্রয়োজন (প্রস্রাব-পায়খানা) ছাড়া স্থান ত্যাগ করা যাবে না।

ওজুর প্রয়োজন হলে বাইরে যেতে পারবেন। তবে যদি সংযুক্ত বাথরুম থাকে, তাহলে বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন নেই।

প্রয়োজন ছাড়া ঘরের অন্যত্র গেলেও ইতিকাফ নষ্ট হয়ে যাবে।

ইতিকাফ অবস্থায় করণীয় আমল

ইতিকাফ অবস্থায় যেসব আমল করা যায়—

নফল নামাজ আদায়

কোরআন তিলাওয়াত

হাদিস পাঠ

জিকির-আযকার

ইসলামি জ্ঞান অর্জন ও শিক্ষা প্রদান

ইসলামি বইপত্র অধ্যয়ন

তবে অপ্রয়োজনীয় দুনিয়াবি আলোচনা ও উদ্দেশ্যহীন কথাবার্তা থেকে বিরত থাকতে হবে।

নারীদের জন্য ইতিকাফ অত্যন্ত সহজ ও ফজিলতপূর্ণ একটি ইবাদত। ঘরে থেকেই সংসারের প্রয়োজনীয় বিষয় সামলে শরিয়তের বিধান মেনে ইতিকাফ করা সম্ভব। সচেতনতা, নিয়ত ও নিয়ম মেনে চললেই এ আমলের পূর্ণ সওয়াব অর্জন করা যাবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Rahman

সমুদ্রপথে ইউরোপযাত্রা: ৯ মাসে ২ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী মৃত-নিখোঁজ

নারীরা ঘরে বসে কীভাবে ইতিকাফ করবেন

আপডেট টাইম : 11:33:41 am, Wednesday, 4 March 2026

রমজানের শেষ দশকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো ইতিকাফ। বিশেষ করে লাইলাতুল কদর লাভের উত্তম উপায় হিসেবে ইতিকাফের গুরুত্ব অপরিসীম।

 

ইতিকাফের ফজিলত সম্পর্কে মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন—আল্লাহর সন্তুষ্টির নিয়তে যে ব্যক্তি একদিন ইতিকাফ করবে, আল্লাহ তার ও জাহান্নামের মাঝে তিনটি পরিখার সমান দূরত্ব সৃষ্টি করবেন। প্রতিটি পরিখার দূরত্ব হবে আসমান-জমিনের মধ্যবর্তী দূরত্বের সমান। (তবারানি, শুয়াবুল ঈমান)

নারীদের জন্য ইতিকাফের বিধান

ইতিকাফ শুধু পুরুষদের জন্য নয়; নারীদের জন্যও এ আমল প্রযোজ্য। উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত—নবীজি (সা.) মৃত্যু পর্যন্ত রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করেছেন। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রীগণও ইতিকাফ করেছেন। (বুখারি, মুসলিম)

অতএব, নারীরাও ঘরে বসে শরিয়তের বিধান মেনে সহজেই ইতিকাফ করতে পারেন।

নারীদের ইতিকাফের নিয়মাবলি

১. ইতিকাফের স্থান নির্ধারণ

নারীদের নামাজের উত্তম স্থান তাদের ঘর। ঘরের যে স্থানে নিয়মিত নামাজ আদায় করেন, সেই স্থানেই ইতিকাফ করবেন।

যদি পূর্বনির্ধারিত নামাজের জায়গা না থাকে, তবে ইতিকাফের আগে একটি নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করে নেবেন।

২. স্থানটি পর্দায় আবৃত রাখা

ইতিকাফের স্থানটি পর্দা দিয়ে আচ্ছাদিত রাখা উত্তম। যেন ঘরে বেগানা পুরুষ এলে স্থান পরিবর্তনের প্রয়োজন না হয়।

৩. স্বামীর অনুমতি

বিবাহিত নারীর জন্য ইতিকাফের আগে স্বামীর অনুমতি নেওয়া আবশ্যক।
স্বামীরও উচিত যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া স্ত্রীকে বাধা না দেওয়া। এতে উভয়েই সওয়াবের অংশীদার হবেন।

৪. ঋতুস্রাব অবস্থায় ইতিকাফ

ঋতুস্রাব অবস্থায় ইতিকাফ সহিহ নয়। কারণ সুন্নত ইতিকাফের জন্য রোজা রাখা শর্ত, আর এ অবস্থায় রোজা রাখা যায় না।

৫. ইতিকাফ অবস্থায় ঋতুস্রাব শুরু হলে

ইতিকাফ শুরু করার পর ঋতুস্রাব শুরু হলে ইতিকাফ ভেঙে যাবে। পরে একদিন রোজাসহ কাজা আদায় করতে হবে।

৬. ইতিকাফের স্থান থেকে বের হওয়া

ইতিকাফের জন্য নির্ধারিত স্থান নারীর ক্ষেত্রে মসজিদের হুকুমে গণ্য হবে।

প্রাকৃতিক প্রয়োজন (প্রস্রাব-পায়খানা) ছাড়া স্থান ত্যাগ করা যাবে না।

ওজুর প্রয়োজন হলে বাইরে যেতে পারবেন। তবে যদি সংযুক্ত বাথরুম থাকে, তাহলে বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন নেই।

প্রয়োজন ছাড়া ঘরের অন্যত্র গেলেও ইতিকাফ নষ্ট হয়ে যাবে।

ইতিকাফ অবস্থায় করণীয় আমল

ইতিকাফ অবস্থায় যেসব আমল করা যায়—

নফল নামাজ আদায়

কোরআন তিলাওয়াত

হাদিস পাঠ

জিকির-আযকার

ইসলামি জ্ঞান অর্জন ও শিক্ষা প্রদান

ইসলামি বইপত্র অধ্যয়ন

তবে অপ্রয়োজনীয় দুনিয়াবি আলোচনা ও উদ্দেশ্যহীন কথাবার্তা থেকে বিরত থাকতে হবে।

নারীদের জন্য ইতিকাফ অত্যন্ত সহজ ও ফজিলতপূর্ণ একটি ইবাদত। ঘরে থেকেই সংসারের প্রয়োজনীয় বিষয় সামলে শরিয়তের বিধান মেনে ইতিকাফ করা সম্ভব। সচেতনতা, নিয়ত ও নিয়ম মেনে চললেই এ আমলের পূর্ণ সওয়াব অর্জন করা যাবে।