মালয়েশিয়ায় সামাজিক ভিজিট পাস ও অন্যান্য অস্থায়ী ভিসা অপব্যবহারের অভিযোগে ব্যাপক অভিযান চালিয়ে ৯ হাজার ৪৯৭ জন প্রবাসীকে আটক করেছে দেশটির মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন বিভাগ।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৯ মার্চ পর্যন্ত দেশজুড়ে পরিচালিত ২ হাজার ৬১৮টি পৃথক অভিযানে এসব প্রবাসীকে আটক করা হয়। ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, আটক হওয়া অনেকেই সামাজিক ভিজিট পাস ব্যবহার করে অবৈধভাবে কাজ করা কিংবা পাসের শর্ত ভঙ্গের অভিযোগে ধরা পড়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) এক বিবৃতিতে ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক জাকারিয়া শাবান জানান, আটকদের মধ্যে ১ হাজার ১৫৮ জনকে ইমিগ্রেশন রেগুলেশন ১৯৬৩–এর ধারা ৩৯(বি) অনুযায়ী গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই ধারায় পাসের শর্ত লঙ্ঘন করা একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়।
তিনি বলেন, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে আটক হওয়া অনেক প্রবাসী অস্থায়ী কর্ম ভিজিট পাস কিংবা সামাজিক ভিজিট পাস নিয়ে মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করলেও তারা এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন, যা তাদের পাসের শর্তের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। অনেক ক্ষেত্রে তারা অনুমতি ছাড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করা বা ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
পাসের শর্ত ভঙ্গের অভিযোগে আটক হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছেন। তাদের মধ্যে বাংলাদেশি ৫৩২ জন, থাইল্যান্ডের ২৪৮ জন, ইন্দোনেশিয়ার ১১১ জন, চীনের ৮৬ জন এবং পাকিস্তানের ৫১ জন নাগরিক রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এছাড়া পিএলএস অপব্যবহারের অভিযোগে আরও ৪৮২ জনকে আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে থাইল্যান্ডের ২৩৫ জন, বাংলাদেশের ৮৩ জন, চীনের ৬২ জন, ইন্দোনেশিয়ার ৬২ জন, পাকিস্তানের ১৩ জন এবং অন্যান্য দেশের ২৭ জন নাগরিক রয়েছেন।
ইমিগ্রেশন বিভাগের তদন্তে আরও জানা গেছে, আটক হওয়া কিছু বিদেশি নাগরিক অনুমতি ছাড়াই বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনায় যুক্ত ছিলেন, যা তাদের ব্যবহৃত পাসের শর্ত অনুযায়ী অনুমোদিত ছিল না। এ ধরনের কর্মকাণ্ড ইমিগ্রেশন রেগুলেশন ১৯৬৩–এর ধারা ৩৯(বি) অনুযায়ী পাসের শর্ত ভঙ্গ হিসেবে গণ্য হয়।
মহাপরিচালক জাকারিয়া শাবান বলেন, মালয়েশিয়ায় ইমিগ্রেশন আইন অপব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে এবং এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার, আদালতে মামলা, জরিমানা ও দেশ থেকে বহিষ্কারসহ বিভিন্ন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
এদিকে ইমিগ্রেশন বিভাগ জনসাধারণকেও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। কোনো বিদেশি নাগরিক অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা বা ভিসার শর্ত ভঙ্গ করে কাজ করলে সে তথ্য দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানাতে বলা হয়েছে। জনসাধারণের সহযোগিতা পেলে অবৈধ অভিবাসন ও ভিসা অপব্যবহারের বিরুদ্ধে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।

প্রবাসীর কথা ডেস্ক 

















