Dhaka , Saturday, 8 August 2026
শিরোনাম :
বাংলায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রবাসীদের সাবধান করল সৌদি মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং শোকেসে অংশ নিয়েছে প্রাণ মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে হাইকমিশনারের মতবিনিময় ইরাকের নয়া প্রধানমন্ত্রী হলেন শিয়া আল- সুদানি পোস্টাল ভোটিং: প্রবাসীদের নিবন্ধনের সময় ৫ দিন—কোন দেশে কবে শুরু? বাহরাইন প্রবাসীদের জন্য সচেতনতামূলক মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্প দক্ষিণ আফ্রিকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১১, আহত ৩১ লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবি, নিহতদের সবাই বাংলাদেশি ‘প্রবাসীর ভোট প্রদান সহজ করা না হলে ভোটাধিকার মূল্যহীন’ স্বল্প খরচে জনশক্তি রপ্তানির মাধ্যমে রেমিট্যান্স বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ

সমুদ্রপথে ইউরোপ যাত্রার স্বপ্ন ভঙ্গ, লিবিয়ায় বাংলাদেশিসহ আটক ১২১

লিবিয়ার বিভিন্ন শহরে অভিযান চালিয়ে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের ১২১ জন অনিয়মিত অভিবাসীকে আটক করেছে দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় প্রশাসন। আটক ব্যক্তিদের বর্তমানে বিশেষ আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছে এবং দ্রুতই তাদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

 

লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলভিত্তিক সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির ‘অ্যান্টি-ইলিগ্যাল মাইগ্রেশন এজেন্সি’ (এআইএমএ) দুই দফায় এই অভিযান পরিচালনা করে।

 

গত ৮ মার্চ আল-বাইদা শহর থেকে ১৬ জন বাংলাদেশিকে আটক করা হয়। তারা সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইউরোপে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এরপর ১২ মার্চ সির্তে শহর থেকে আরও ১০৫ জন অনিয়মিত অভিবাসীকে আটক করা হয়। এই দলে বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি নাগরিক থাকলেও তাদের পৃথক সংখ্যা জানানো হয়নি।

 

আটকদের বেনগাজি গ্রেটার ও গনফুদা আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে। সংস্থাটির প্রধান মেজর জেনারেল সালাহ আল-খাফিফি এক নিরাপত্তা বৈঠকে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে অনিয়মিত অভিবাসীদের দ্রুত প্রত্যাবাসনের নির্দেশ দেন।

 

তিনি জানান, অভিবাসন ব্যবস্থা সুশৃঙ্খল রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

 

২০১১ সালে গাদ্দাফি শাসনের পতনের পর থেকে রাজনৈতিক অস্থিরতায় জর্জরিত লিবিয়া বর্তমানে দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রশাসনের অধীনে বিভক্ত। দুর্বল সীমান্ত ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে মানবপাচারকারী চক্র।

 

এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে উন্নত জীবনের আশায় আসা অভিবাসীরা প্রায়ই পাচারকারীদের মাধ্যমে লিবিয়ায় এসে বিপদের মুখে পড়ছেন।

 

জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, লিবিয়ায় অভিবাসীদের অপহরণ, নির্যাতন ও জোরপূর্বক শ্রমে বাধ্য করার মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে।

 

এদিকে জাতিসংঘ মহাসচিব সম্প্রতি রাজনৈতিক স্বার্থে অভিবাসীদের অমানবিক আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তবুও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার আশায় বহু মানুষ লিবিয়াকে ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহার করছেন।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Rahman

জনপ্রিয় সংবাদ

সমুদ্রপথে ইউরোপ যাত্রার স্বপ্ন ভঙ্গ, লিবিয়ায় বাংলাদেশিসহ আটক ১২১

আপডেট টাইম : 04:08:18 pm, Sunday, 15 March 2026

লিবিয়ার বিভিন্ন শহরে অভিযান চালিয়ে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের ১২১ জন অনিয়মিত অভিবাসীকে আটক করেছে দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় প্রশাসন। আটক ব্যক্তিদের বর্তমানে বিশেষ আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছে এবং দ্রুতই তাদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

 

লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলভিত্তিক সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির ‘অ্যান্টি-ইলিগ্যাল মাইগ্রেশন এজেন্সি’ (এআইএমএ) দুই দফায় এই অভিযান পরিচালনা করে।

 

গত ৮ মার্চ আল-বাইদা শহর থেকে ১৬ জন বাংলাদেশিকে আটক করা হয়। তারা সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইউরোপে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এরপর ১২ মার্চ সির্তে শহর থেকে আরও ১০৫ জন অনিয়মিত অভিবাসীকে আটক করা হয়। এই দলে বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি নাগরিক থাকলেও তাদের পৃথক সংখ্যা জানানো হয়নি।

 

আটকদের বেনগাজি গ্রেটার ও গনফুদা আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে। সংস্থাটির প্রধান মেজর জেনারেল সালাহ আল-খাফিফি এক নিরাপত্তা বৈঠকে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে অনিয়মিত অভিবাসীদের দ্রুত প্রত্যাবাসনের নির্দেশ দেন।

 

তিনি জানান, অভিবাসন ব্যবস্থা সুশৃঙ্খল রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

 

২০১১ সালে গাদ্দাফি শাসনের পতনের পর থেকে রাজনৈতিক অস্থিরতায় জর্জরিত লিবিয়া বর্তমানে দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রশাসনের অধীনে বিভক্ত। দুর্বল সীমান্ত ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে মানবপাচারকারী চক্র।

 

এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে উন্নত জীবনের আশায় আসা অভিবাসীরা প্রায়ই পাচারকারীদের মাধ্যমে লিবিয়ায় এসে বিপদের মুখে পড়ছেন।

 

জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, লিবিয়ায় অভিবাসীদের অপহরণ, নির্যাতন ও জোরপূর্বক শ্রমে বাধ্য করার মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে।

 

এদিকে জাতিসংঘ মহাসচিব সম্প্রতি রাজনৈতিক স্বার্থে অভিবাসীদের অমানবিক আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তবুও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার আশায় বহু মানুষ লিবিয়াকে ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহার করছেন।