ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বিতাগুলোর একটি ব্রাজিল বনাম আর্জেন্টিনা। দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দলের লড়াই মানেই বিশ্বজুড়ে কোটি ভক্তের উন্মাদনা। আর সেই লড়াই যদি বিশ্বকাপের মঞ্চে হয়, তাহলে আগ্রহ পৌঁছে যায় ভিন্ন উচ্চতায়।
সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ১৯৯০ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে মুখোমুখি হতে পারে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। চলমান বিশ্বকাপের সম্ভাব্য সেমিফাইনালে দেখা হতে পারে দক্ষিণ আমেরিকার দুই পরাশক্তির।
গ্রুপ পর্বে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ‘জে’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হয়েছে আর্জেন্টিনা। শেষ ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ জর্ডান। সেই ম্যাচেও জয় পেলে নকআউটে আরও আত্মবিশ্বাস নিয়ে নামবে আলবিসেলেস্তেরা। দ্বিতীয় রাউন্ডে তাদের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ ‘এইচ’ গ্রুপের রানার্সআপ, যেখানে উরুগুয়ের নামই সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে।
অন্যদিকে, বিশ্বকাপের শুরুটা কিছুটা ধীরগতির হলেও হাইতি ও স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে ‘সি’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ব্রাজিল। দ্বিতীয় রাউন্ডে তাদের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হতে পারে জাপান।
টুর্নামেন্টের বর্তমান নকআউট সূচি অনুযায়ী, দুই দল নিজেদের দ্বিতীয় রাউন্ড, তৃতীয় রাউন্ড এবং কোয়ার্টার ফাইনালের বাধা পেরোতে পারলে সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা।
বিশ্বকাপের মূল পর্বে দুই দলের সর্বশেষ সাক্ষাৎ হয়েছিল ১৯৯০ সালের ২৪ জুন, ইতালির তুরিনে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে। সেই ম্যাচে ডিয়েগো ম্যারাডোনার অসাধারণ অ্যাসিস্ট থেকে ক্লদিও ক্যানিজিয়ার করা একমাত্র গোলে ১-০ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল আর্জেন্টিনা।
উল্লেখযোগ্যভাবে, বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে সেটিই এখন পর্যন্ত ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার একমাত্র মুখোমুখি লড়াই।
তাই সম্ভাব্য সেমিফাইনালে দেখা হলে ৩৬ বছর আগের সেই পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে চাইবে ব্রাজিল। অন্যদিকে লিওনেল মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা চাইবে নিজেদের বিশ্বকাপ স্বপ্নকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে।
ফুটবলপ্রেমীদের জন্য তাই অপেক্ষা করছে এক সম্ভাব্য ‘সুপার ক্লাসিকো’—যা বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় ম্যাচ হয়ে উঠতে পারে।

স্পোর্টস ডেস্ক 



















