Dhaka , Saturday, 7 November 2026
শিরোনাম :
বৈধ বিদেশযাত্রা হোক সহজ, বন্ধ হোক অযথা হয়রানি বাংলায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রবাসীদের সাবধান করল সৌদি মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং শোকেসে অংশ নিয়েছে প্রাণ মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে হাইকমিশনারের মতবিনিময় ইরাকের নয়া প্রধানমন্ত্রী হলেন শিয়া আল- সুদানি পোস্টাল ভোটিং: প্রবাসীদের নিবন্ধনের সময় ৫ দিন—কোন দেশে কবে শুরু? বাহরাইন প্রবাসীদের জন্য সচেতনতামূলক মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্প দক্ষিণ আফ্রিকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১১, আহত ৩১ লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবি, নিহতদের সবাই বাংলাদেশি ‘প্রবাসীর ভোট প্রদান সহজ করা না হলে ভোটাধিকার মূল্যহীন’

অঙ্গীকার ভঙ্গ করা কি মুনাফিকের আলামত?

মুমিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য প্রতিজ্ঞা বা ওয়াদা রক্ষা করা। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনগণ, তোমরা অঙ্গীকারসমূহ পূর্ণ করো’ (সুরা মায়েদা ১)। অপর আয়াতে এসেছে, ‘আর তোমরা ওয়াদা পূর্ণ করো, ওয়াদা সম্পর্কে অবশ্যই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে (সুরা বনি ইসরাঈল ৩৪)।কারও মধ্যে ওয়াদা ভঙ্গ করার বৈশিষ্ট্য থাকলে তাকে মুনাফিক হিসেবে গণ্য করা হয়।

 

কারও মধ্যে ওয়াদা ভঙ্গ করার বৈশিষ্ট্য থাকলে তাকে মুনাফিক হিসেবে গণ্য করা হয়।

 

ওয়াদা ভঙ্গ করা মুনাফিকের আলামত। হাদিসে এসেছে, আবূ হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মুনাফিকের আলামত তিনটি- যখন কথা বলে মিথ্যা বলে, আমানত রাখলে তা খেয়ানত করে এবং প্রতিশ্রুতি দিলে তা ভঙ্গ করে। (বুখারি ২৫৬২)

 

অপর হাদিসে এসেছে, আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কেয়ামতের দিন প্রত্যেক বিশ্বাসঘাতকের জন্য একটি করে পতাকা স্থাপন করা হবে এবং বলা হবে, এটা অমুকের বিশ্বাসঘাতকতার পতাকা। (ইবনে মাজাহ ২৮৭২)

 

কারও মধ্যে ওয়াদা ভঙ্গ করার বৈশিষ্ট্য থাকলে তাকে মুনাফিক হিসেবে গণ্য করা হয়। আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, চারটি স্বভাব যার মধ্যে পাওয়া যাবে, সে খালিস মুনাফিক গণ্য হবে।

যে কথা বলার সময় মিথ্যা বলে, আর যখন অঙ্গীকার করে ভঙ্গ করে, প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিশ্বাসঘাতকতা করে, যখন ঝগড়া করে গালমন্দ করে। যার মধ্যে এগুলোর কোনো একটি স্বভাব পাওয়া যাবে, তার মধ্যে নিফাকের একটি স্বভাব পাওয়া গেল, যে পর্যন্ত না সে পরিত্যাগ করে। (বুখারি ২৯৫৪)

অন্যদিকে, ওয়াদা ভঙ্গকারীর ওপর স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা লানত করেছেন। পবিত্র কোরআনে তিনি বলেন, ‘সুতরাং তারা তাদের অঙ্গীকার ভঙ্গের কারণে আমি তাদের লানত দিয়েছি এবং তাদের অন্তরসমূহকে করেছি কঠোর। তারা শব্দগুলোকে আপন স্থান থেকে বিকৃত করে এবং তাদেরকে যে উপদেশ দেয়া হয়েছে, তার একটি অংশ তারা ভুলে গিয়েছে এবং তুমি তাদের থেকে খেয়ানত সম্পর্কে অবগত হতে থাকবে, তাদের অল্প সংখ্যক ছাড়া। সুতরাং, তুমি তাদেরকে ক্ষমা করো এবং এড়িয়ে যাও। নিশ্চয়ই আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন। (সুরা মায়েদা ১৩)

মুনাফিকের শাস্তি

মুনাফিকের শাস্তি সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে রয়েছে, ‘নিশ্চয়ই মুনাফিকরা জাহান্নামের সর্বনিকৃষ্ট স্তরে থাকবে এবং তাদের জন্য তুমি কখনও কোনো সাহায্যকারী পাবে না|’ (সুরা নিসা ১৪৫)

কোরআনে মুনাফিক সম্পর্কে আরও বলা হয়, আল্লাহ মুনাফিক পুরুষ, মুনাফিক নারী ও কাফেরদেরকে জাহান্নামের আগুনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে, এটা তাদের জন্য যথেষ্ট। আল্লাহ তাদেরকে অভিশাপ করেছেন। আর তাদের জন্য রয়েছে চিরস্থায়ী শাস্তি। (সুরা তওবা ৬৮)।

About Author Information

News Update

জনপ্রিয় সংবাদ

অঙ্গীকার ভঙ্গ করা কি মুনাফিকের আলামত?

আপডেট টাইম : 04:35:45 pm, Thursday, 2 July 2026

মুমিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য প্রতিজ্ঞা বা ওয়াদা রক্ষা করা। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনগণ, তোমরা অঙ্গীকারসমূহ পূর্ণ করো’ (সুরা মায়েদা ১)। অপর আয়াতে এসেছে, ‘আর তোমরা ওয়াদা পূর্ণ করো, ওয়াদা সম্পর্কে অবশ্যই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে (সুরা বনি ইসরাঈল ৩৪)।কারও মধ্যে ওয়াদা ভঙ্গ করার বৈশিষ্ট্য থাকলে তাকে মুনাফিক হিসেবে গণ্য করা হয়।

 

কারও মধ্যে ওয়াদা ভঙ্গ করার বৈশিষ্ট্য থাকলে তাকে মুনাফিক হিসেবে গণ্য করা হয়।

 

ওয়াদা ভঙ্গ করা মুনাফিকের আলামত। হাদিসে এসেছে, আবূ হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মুনাফিকের আলামত তিনটি- যখন কথা বলে মিথ্যা বলে, আমানত রাখলে তা খেয়ানত করে এবং প্রতিশ্রুতি দিলে তা ভঙ্গ করে। (বুখারি ২৫৬২)

 

অপর হাদিসে এসেছে, আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কেয়ামতের দিন প্রত্যেক বিশ্বাসঘাতকের জন্য একটি করে পতাকা স্থাপন করা হবে এবং বলা হবে, এটা অমুকের বিশ্বাসঘাতকতার পতাকা। (ইবনে মাজাহ ২৮৭২)

 

কারও মধ্যে ওয়াদা ভঙ্গ করার বৈশিষ্ট্য থাকলে তাকে মুনাফিক হিসেবে গণ্য করা হয়। আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, চারটি স্বভাব যার মধ্যে পাওয়া যাবে, সে খালিস মুনাফিক গণ্য হবে।

যে কথা বলার সময় মিথ্যা বলে, আর যখন অঙ্গীকার করে ভঙ্গ করে, প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিশ্বাসঘাতকতা করে, যখন ঝগড়া করে গালমন্দ করে। যার মধ্যে এগুলোর কোনো একটি স্বভাব পাওয়া যাবে, তার মধ্যে নিফাকের একটি স্বভাব পাওয়া গেল, যে পর্যন্ত না সে পরিত্যাগ করে। (বুখারি ২৯৫৪)

অন্যদিকে, ওয়াদা ভঙ্গকারীর ওপর স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা লানত করেছেন। পবিত্র কোরআনে তিনি বলেন, ‘সুতরাং তারা তাদের অঙ্গীকার ভঙ্গের কারণে আমি তাদের লানত দিয়েছি এবং তাদের অন্তরসমূহকে করেছি কঠোর। তারা শব্দগুলোকে আপন স্থান থেকে বিকৃত করে এবং তাদেরকে যে উপদেশ দেয়া হয়েছে, তার একটি অংশ তারা ভুলে গিয়েছে এবং তুমি তাদের থেকে খেয়ানত সম্পর্কে অবগত হতে থাকবে, তাদের অল্প সংখ্যক ছাড়া। সুতরাং, তুমি তাদেরকে ক্ষমা করো এবং এড়িয়ে যাও। নিশ্চয়ই আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন। (সুরা মায়েদা ১৩)

মুনাফিকের শাস্তি

মুনাফিকের শাস্তি সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে রয়েছে, ‘নিশ্চয়ই মুনাফিকরা জাহান্নামের সর্বনিকৃষ্ট স্তরে থাকবে এবং তাদের জন্য তুমি কখনও কোনো সাহায্যকারী পাবে না|’ (সুরা নিসা ১৪৫)

কোরআনে মুনাফিক সম্পর্কে আরও বলা হয়, আল্লাহ মুনাফিক পুরুষ, মুনাফিক নারী ও কাফেরদেরকে জাহান্নামের আগুনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে, এটা তাদের জন্য যথেষ্ট। আল্লাহ তাদেরকে অভিশাপ করেছেন। আর তাদের জন্য রয়েছে চিরস্থায়ী শাস্তি। (সুরা তওবা ৬৮)।