Dhaka , Wednesday, 23 September 2026
শিরোনাম :
বৈধ বিদেশযাত্রা হোক সহজ, বন্ধ হোক অযথা হয়রানি বাংলায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রবাসীদের সাবধান করল সৌদি মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং শোকেসে অংশ নিয়েছে প্রাণ মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে হাইকমিশনারের মতবিনিময় ইরাকের নয়া প্রধানমন্ত্রী হলেন শিয়া আল- সুদানি পোস্টাল ভোটিং: প্রবাসীদের নিবন্ধনের সময় ৫ দিন—কোন দেশে কবে শুরু? বাহরাইন প্রবাসীদের জন্য সচেতনতামূলক মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্প দক্ষিণ আফ্রিকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১১, আহত ৩১ লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবি, নিহতদের সবাই বাংলাদেশি ‘প্রবাসীর ভোট প্রদান সহজ করা না হলে ভোটাধিকার মূল্যহীন’

সমুদ্রপথে ইউরোপযাত্রা: ৯ মাসে ২ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী মৃত-নিখোঁজ

সমুদ্রপথে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা করতে গিয়ে চলতি বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভূমধ্যসাগর ও আটলান্টিক মহাসাগরের বিভিন্ন রুটে অন্তত ২ হাজার ২৯২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী মারা গেছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) প্রকাশিত তথ্যে এ তথ্য উঠে এসেছে।

 

ভূমধ্যসাগর ও আটলান্টিকের বিভিন্ন সমুদ্রপথ বিশ্বের অন্যতম প্রাণঘাতী অভিবাসন রুট হিসেবে পরিচিত। প্রতিবছর ইউরোপে পৌঁছানোর আশায় হাজারো মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ নৌযানে এসব পথ পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করেন। চলতি বছর সমুদ্রপথে ইউরোপে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের আগমন কমলেও প্রাণহানির সংখ্যা বেড়েছে।

 

আইওএমের মহাপরিচালক অ্যামি পোপ বলেন, নিরাপদে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করতে গিয়ে মানুষ এখনও উদ্বেগজনক হারে মারা যাচ্ছে ও নিখোঁজ হচ্ছে। তার মতে, এসব পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, অভিবাসনপ্রত্যাশীরা ক্রমেই আরও ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রায় বাধ্য হচ্ছেন।

 

আইওএমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের একই সময়ে ভূমধ্যসাগর ও আটলান্টিকের এসব রুটে মৃত বা নিখোঁজ অভিবাসনপ্রত্যাশীর সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৯৯৯ জন। এক বছরের ব্যবধানে এ সংখ্যা বেড়েছে ২৯৩ জন।

 

প্রাণহানি সবচেয়ে বেশি বেড়েছে পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় রুটে। এই পথ দিয়ে মূলত গ্রিসসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে প্রবেশের চেষ্টা করেন অভিবাসনপ্রত্যাশীরা। আইওএমের হিসাবে, এ রুটে মৃত বা নিখোঁজের সংখ্যা গত বছরের ২৮৪ জন থেকে বেড়ে চলতি বছরে ৪১৭ জনে দাঁড়িয়েছে।

 

আইওএম জানিয়েছে, এই পরিসংখ্যানে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যাচাই করা নৌদুর্ঘটনা ও আগমনের ঘটনাগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে অনেক নৌকাডুবি ও নিখোঁজের ঘটনা নথিভুক্ত না হওয়ায় প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।

 

ইউরোপে পৌঁছানোর অন্যতম প্রধান সমুদ্রপথ হলো লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়া। লিবিয়ার কোস্টগার্ডের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত সমুদ্রে ১৭ হাজার ৬৭ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে আটক করে লিবিয়ায় ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

 

লিবিয়া থেকে ইতালি, গ্রিসসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যাওয়ার চেষ্টা করেন বিপুলসংখ্যক মানুষ। মানবপাচারকারীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা অনিরাপদ নৌযানে এসব যাত্রা করায় প্রায়ই নৌকাডুবি ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

 

চলতি বছরের শুরু থেকে সমুদ্রপথে ইউরোপে অভিবাসনপ্রত্যাশী ও শরণার্থীদের আগমন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। আইওএমের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত প্রায় ৬০ হাজার অভিবাসী ও শরণার্থী সমুদ্রপথে ইউরোপে পৌঁছেছেন। গত বছরের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ৯৮ হাজার ৪০ জন। অর্থাৎ এক বছরে সমুদ্রপথে ইউরোপে আসা অভিবাসী ও শরণার্থীর সংখ্যা প্রায় ৩৯ শতাংশ কমেছে।

 

তবে আইওএম বলছে, আগমন কমলেও বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রায় মৃত্যুর ঘটনা বাড়ছে। এ কারণে শুধু ইউরোপে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের আগমন কমানোর দিকে নজর না দিয়ে সমুদ্রপথে জীবন রক্ষা, মানবপাচার প্রতিরোধ এবং নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসনের সুযোগ তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

 

সংস্থাটির মতে, অভিবাসনের পেছনে থাকা ঝুঁকি ও প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়ে নিরাপদ, নিয়মিত ও বৈধ অভিবাসনের সুযোগ বাড়ানো গেলে বিপজ্জনক নৌযাত্রায় প্রাণহানি কমানো সম্ভব।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Rahman

সমুদ্রপথে ইউরোপযাত্রা: ৯ মাসে ২ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী মৃত-নিখোঁজ

সমুদ্রপথে ইউরোপযাত্রা: ৯ মাসে ২ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী মৃত-নিখোঁজ

আপডেট টাইম : 06:58:03 pm, Wednesday, 23 September 2026

সমুদ্রপথে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা করতে গিয়ে চলতি বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভূমধ্যসাগর ও আটলান্টিক মহাসাগরের বিভিন্ন রুটে অন্তত ২ হাজার ২৯২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী মারা গেছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) প্রকাশিত তথ্যে এ তথ্য উঠে এসেছে।

 

ভূমধ্যসাগর ও আটলান্টিকের বিভিন্ন সমুদ্রপথ বিশ্বের অন্যতম প্রাণঘাতী অভিবাসন রুট হিসেবে পরিচিত। প্রতিবছর ইউরোপে পৌঁছানোর আশায় হাজারো মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ নৌযানে এসব পথ পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করেন। চলতি বছর সমুদ্রপথে ইউরোপে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের আগমন কমলেও প্রাণহানির সংখ্যা বেড়েছে।

 

আইওএমের মহাপরিচালক অ্যামি পোপ বলেন, নিরাপদে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করতে গিয়ে মানুষ এখনও উদ্বেগজনক হারে মারা যাচ্ছে ও নিখোঁজ হচ্ছে। তার মতে, এসব পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, অভিবাসনপ্রত্যাশীরা ক্রমেই আরও ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রায় বাধ্য হচ্ছেন।

 

আইওএমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের একই সময়ে ভূমধ্যসাগর ও আটলান্টিকের এসব রুটে মৃত বা নিখোঁজ অভিবাসনপ্রত্যাশীর সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৯৯৯ জন। এক বছরের ব্যবধানে এ সংখ্যা বেড়েছে ২৯৩ জন।

 

প্রাণহানি সবচেয়ে বেশি বেড়েছে পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় রুটে। এই পথ দিয়ে মূলত গ্রিসসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে প্রবেশের চেষ্টা করেন অভিবাসনপ্রত্যাশীরা। আইওএমের হিসাবে, এ রুটে মৃত বা নিখোঁজের সংখ্যা গত বছরের ২৮৪ জন থেকে বেড়ে চলতি বছরে ৪১৭ জনে দাঁড়িয়েছে।

 

আইওএম জানিয়েছে, এই পরিসংখ্যানে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যাচাই করা নৌদুর্ঘটনা ও আগমনের ঘটনাগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে অনেক নৌকাডুবি ও নিখোঁজের ঘটনা নথিভুক্ত না হওয়ায় প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।

 

ইউরোপে পৌঁছানোর অন্যতম প্রধান সমুদ্রপথ হলো লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়া। লিবিয়ার কোস্টগার্ডের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত সমুদ্রে ১৭ হাজার ৬৭ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে আটক করে লিবিয়ায় ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

 

লিবিয়া থেকে ইতালি, গ্রিসসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যাওয়ার চেষ্টা করেন বিপুলসংখ্যক মানুষ। মানবপাচারকারীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা অনিরাপদ নৌযানে এসব যাত্রা করায় প্রায়ই নৌকাডুবি ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

 

চলতি বছরের শুরু থেকে সমুদ্রপথে ইউরোপে অভিবাসনপ্রত্যাশী ও শরণার্থীদের আগমন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। আইওএমের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত প্রায় ৬০ হাজার অভিবাসী ও শরণার্থী সমুদ্রপথে ইউরোপে পৌঁছেছেন। গত বছরের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ৯৮ হাজার ৪০ জন। অর্থাৎ এক বছরে সমুদ্রপথে ইউরোপে আসা অভিবাসী ও শরণার্থীর সংখ্যা প্রায় ৩৯ শতাংশ কমেছে।

 

তবে আইওএম বলছে, আগমন কমলেও বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রায় মৃত্যুর ঘটনা বাড়ছে। এ কারণে শুধু ইউরোপে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের আগমন কমানোর দিকে নজর না দিয়ে সমুদ্রপথে জীবন রক্ষা, মানবপাচার প্রতিরোধ এবং নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসনের সুযোগ তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

 

সংস্থাটির মতে, অভিবাসনের পেছনে থাকা ঝুঁকি ও প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়ে নিরাপদ, নিয়মিত ও বৈধ অভিবাসনের সুযোগ বাড়ানো গেলে বিপজ্জনক নৌযাত্রায় প্রাণহানি কমানো সম্ভব।