Dhaka , Wednesday, 30 September 2026
শিরোনাম :
বৈধ বিদেশযাত্রা হোক সহজ, বন্ধ হোক অযথা হয়রানি বাংলায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রবাসীদের সাবধান করল সৌদি মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং শোকেসে অংশ নিয়েছে প্রাণ মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে হাইকমিশনারের মতবিনিময় ইরাকের নয়া প্রধানমন্ত্রী হলেন শিয়া আল- সুদানি পোস্টাল ভোটিং: প্রবাসীদের নিবন্ধনের সময় ৫ দিন—কোন দেশে কবে শুরু? বাহরাইন প্রবাসীদের জন্য সচেতনতামূলক মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্প দক্ষিণ আফ্রিকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১১, আহত ৩১ লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবি, নিহতদের সবাই বাংলাদেশি ‘প্রবাসীর ভোট প্রদান সহজ করা না হলে ভোটাধিকার মূল্যহীন’
লাভবান হবেন বাংলাদেশি শ্রমিকরাও

মালয়েশিয়ায় ন্যূনতম মজুরি ২ হাজার রিঙ্গিত করার ভাবনা, শ্রমিকদের দাবি ৩১০০

মালয়েশিয়ায় স্বল্প বেতনভোগী শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি আরও বাড়ানোর বিষয়টি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ের আলোচনায় রয়েছে। ২০২৭ সালের বাজেট ঘোষণার আগে বর্তমান এক হাজার ৭০০ রিঙ্গিতের ন্যূনতম মজুরি বাড়িয়ে ২ হাজার রিঙ্গিত করার বিষয়টি বিবেচনা করছে সরকার। তবে শ্রমিক সংগঠনগুলো আরও বেশি মজুরি দাবি করছে।

 

বর্তমানে মালয়েশিয়ায় মাসিক ন্যূনতম মজুরি এক হাজার ৭০০ রিঙ্গিত। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৫০ হাজার টাকার কাছাকাছি। সরকার এটি বাড়িয়ে দুই হাজার রিঙ্গিত করার বিষয়ে আলোচনা করছে। তবে নতুন হার কত হবে এবং কবে থেকে কার্যকর হবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

 

মালয়েশিয়ার অর্থমন্ত্রী আকমান নাসরুল্লাহ মোহাম্মদ নাসির বলেছেন, ন্যূনতম মজুরি দুই হাজার রিঙ্গিত করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ২০২৭ সালের বাজেট ঘোষণার সময় জানাবেন। তবে মজুরি বাড়ানোর ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ওপর এর প্রভাবও বিবেচনায় নিতে হচ্ছে।

 

সোমবার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা এবং বিশেষ করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও এমএসএমই খাতের টিকে থাকা দুই দিকের মধ্যে ভারসাম্য রেখে ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়নের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

 

এর আগে গত ২৬ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর ইঙ্গিত দেন। ইউনিভার্সিটি টেকনোলজি মারার সাবেক শিক্ষার্থীদের এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, কোনো কোম্পানি বিলিয়ন বিলিয়ন রিঙ্গিত মুনাফা করবে, অথচ শ্রমিকরা এক হাজার ৭০০ রিঙ্গিত বেতন পাবেন এটি টেকসই নয়।

 

তিনি বলেন, উৎপাদনশীলতা ও কোম্পানির আয় বাড়লে শ্রমিকদেরও উচ্চ মজুরির মাধ্যমে তার সুফল পাওয়া উচিত। এ বিষয়ে বাজেটে কিছু উদ্যোগ ঘোষণা করা হবে বলেও জানান তিনি।

 

মালয়েশিয়ায় ন্যূনতম মজুরি ব্যবস্থা চালু হয় ২০১৩ সালে। তখন মাসিক ন্যূনতম মজুরি ছিল ৯০০ রিঙ্গিত। এরপর ২০১৬ সালে ১ হাজার, ২০১৯ সালে ১ হাজার ১০০, ২০২০ সালে ১ হাজার ২০০, ২০২২ সালে ১ হাজার ৫০০ এবং ২০২৫ সালে তা বাড়িয়ে ১ হাজার ৭০০ রিঙ্গিত করা হয়।

 

অর্থাৎ ২০১৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ন্যূনতম মজুরি বেড়েছে প্রায় ৮৮ দশমিক ৯ শতাংশ।

 

বর্তমান ১ হাজার ৭০০ রিঙ্গিতের হার ২০২৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে নির্দিষ্ট শ্রেণির নিয়োগকর্তার ক্ষেত্রে কার্যকর হয়। পরে ১ আগস্ট থেকে কর্মীর সংখ্যা নির্বিশেষে দেশজুড়ে তা কার্যকর করা হয়। তবে গৃহকর্মীরা এর আওতাভুক্ত নন।

 

বিদেশি শ্রমিকরাও পাবেন সুবিধা

 

মালয়েশিয়ার ন্যূনতম মজুরি আইন বিদেশি শ্রমিকদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। ফলে বাংলাদেশ, নেপাল, ইন্দোনেশিয়াসহ অন্যান্য দেশের যোগ্য বিদেশি শ্রমিকরাও স্থানীয় আইনে নির্ধারিত ন্যূনতম মৌলিক মজুরি পাওয়ার অধিকারী।

 

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী বিদেশি শ্রমিকরাও অন্তত এক হাজার ৭০০ রিঙ্গিত ন্যূনতম বেসিক বেতন পাওয়ার অধিকার রাখেন। নতুন হার দুই হাজার রিঙ্গিত হলে যোগ্য বিদেশি শ্রমিকদের বেসিক বেতনও সেই হারে বাড়বে।

 

মালয়েশিয়ায় প্রায় ৪ লাখ নেপালি শ্রমিক কাজ করেন। ন্যূনতম মজুরি বাড়লে তারাও সরাসরি উপকৃত হবেন।

 

মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি ও নেপালের কয়েকজন কর্মীদের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়তে থাকায় সঞ্চয় করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

 

তারা বলেন, খাবারের দাম বাড়ায় খরচ মেটানোর পর প্রতি মাসে অবশিষ্ট টাকা/ রুপি দেশে পাঠাতে পারেন। তবে ওভারটাইম না থাকলে সঞ্চয় করা কঠিন।

 

শ্রমিক ইউনিয়নের দাবি ৩,১০০ রিঙ্গিত

 

ন্যূনতম মজুরি দুই হাজার রিঙ্গিত করার আলোচনা চললেও মালয়েশিয়ান ট্রেডস ইউনিয়ন কংগ্রেস (এমটিইউসি) দাবি করেছে, ন্যূনতম মজুরি তিন হাজার ১০০ রিঙ্গিত করা হোক। বর্তমান এক হাজার ৭০০ রিঙ্গিতের তুলনায় এটি ৮২ শতাংশেরও বেশি।

 

ইতোমধ্যে কিছু সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানি ও সরকারি বিনিয়োগ-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান মাসে ৩ হাজার ১০০ রিঙ্গিতকে ‘লিভিং ওয়েজ’ বা জীবনযাপনের উপযোগী মজুরির মানদণ্ড হিসেবে গ্রহণ করেছে। তবে এটিকে এখনো নতুন আইনগত ন্যূনতম মজুরি হিসেবে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব করেনি।

 

এক হাজার ৭০০ থেকে সরাসরি তিন হাজার ১০০ রিঙ্গিতে মজুরি বাড়ালে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের শ্রম ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। বিশেষ করে সীমিত মুনাফায় পরিচালিত ছোট ব্যবসাগুলোতে অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ তৈরি হতে পারে বলে ব্যবসায়ী মহল উদ্বেগ জানিয়েছে। এর প্রভাব পণ্যের দাম ও নতুন নিয়োগের ওপরও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

 

অর্থমন্ত্রী আকমান নাসির বলেছেন, দীর্ঘমেয়াদে টেকসই মজুরি বৃদ্ধির জন্য শ্রমিকদের উৎপাদনশীলতা, দক্ষতা ও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। তার মতে, মজুরি বৃদ্ধির সঙ্গে উৎপাদনশীলতারও সমন্বয় থাকা প্রয়োজন।

 

মালয়েশিয়ার আইনে অন্তত দুই বছর পরপর ন্যূনতম মজুরি পর্যালোচনার বিধান রয়েছে। এ সময় জাতীয় মজুরি পরামর্শ কাউন্সিলকে ন্যূনতম মজুরির সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ওপর প্রভাব মূল্যায়ন করতে হয়।

 

২০২৭ সালের বাজেটের প্রাক-বাজেট বিবৃতিতেও সরকারের ‘ডিসেন্ট ওয়েজ এজেন্ডা’ বা মর্যাদাপূর্ণ মজুরি কর্মসূচির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, দেশে ন্যূনতম মজুরি বর্তমানে ১ হাজার ৭০০ রিঙ্গিত। একই সঙ্গে সরকারি মালিকানাধীন বিনিয়োগ কোম্পানি ও সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানিগুলো ৩ হাজার ১০০ রিঙ্গিতকে জীবনযাপনের উপযোগী মজুরির মানদণ্ড হিসেবে গ্রহণ করেছে।

 

মালয়েশিয়ার ১৩তম পরিকল্পনাতেও ২০৩০ সালের মধ্যে অর্থনীতিকে উচ্চ আয় ও উচ্চ উৎপাদনশীলতার দিকে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

এদিকে বিদেশি শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ব্যয়ের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন এসেছে। ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে বেতনের ওপর মালয়েশিয়ার কর্মচারী ভবিষ্যৎ তহবিল (ইপিএফ)-এ নিয়োগকর্তা ও বিদেশি শ্রমিক উভয়কেই ২ শতাংশ করে অবদান রাখতে হচ্ছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Rahman

লাভবান হবেন বাংলাদেশি শ্রমিকরাও

মালয়েশিয়ায় ন্যূনতম মজুরি ২ হাজার রিঙ্গিত করার ভাবনা, শ্রমিকদের দাবি ৩১০০

আপডেট টাইম : 10:22:43 am, Tuesday, 29 September 2026

মালয়েশিয়ায় স্বল্প বেতনভোগী শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি আরও বাড়ানোর বিষয়টি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ের আলোচনায় রয়েছে। ২০২৭ সালের বাজেট ঘোষণার আগে বর্তমান এক হাজার ৭০০ রিঙ্গিতের ন্যূনতম মজুরি বাড়িয়ে ২ হাজার রিঙ্গিত করার বিষয়টি বিবেচনা করছে সরকার। তবে শ্রমিক সংগঠনগুলো আরও বেশি মজুরি দাবি করছে।

 

বর্তমানে মালয়েশিয়ায় মাসিক ন্যূনতম মজুরি এক হাজার ৭০০ রিঙ্গিত। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৫০ হাজার টাকার কাছাকাছি। সরকার এটি বাড়িয়ে দুই হাজার রিঙ্গিত করার বিষয়ে আলোচনা করছে। তবে নতুন হার কত হবে এবং কবে থেকে কার্যকর হবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

 

মালয়েশিয়ার অর্থমন্ত্রী আকমান নাসরুল্লাহ মোহাম্মদ নাসির বলেছেন, ন্যূনতম মজুরি দুই হাজার রিঙ্গিত করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ২০২৭ সালের বাজেট ঘোষণার সময় জানাবেন। তবে মজুরি বাড়ানোর ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ওপর এর প্রভাবও বিবেচনায় নিতে হচ্ছে।

 

সোমবার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা এবং বিশেষ করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও এমএসএমই খাতের টিকে থাকা দুই দিকের মধ্যে ভারসাম্য রেখে ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়নের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

 

এর আগে গত ২৬ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর ইঙ্গিত দেন। ইউনিভার্সিটি টেকনোলজি মারার সাবেক শিক্ষার্থীদের এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, কোনো কোম্পানি বিলিয়ন বিলিয়ন রিঙ্গিত মুনাফা করবে, অথচ শ্রমিকরা এক হাজার ৭০০ রিঙ্গিত বেতন পাবেন এটি টেকসই নয়।

 

তিনি বলেন, উৎপাদনশীলতা ও কোম্পানির আয় বাড়লে শ্রমিকদেরও উচ্চ মজুরির মাধ্যমে তার সুফল পাওয়া উচিত। এ বিষয়ে বাজেটে কিছু উদ্যোগ ঘোষণা করা হবে বলেও জানান তিনি।

 

মালয়েশিয়ায় ন্যূনতম মজুরি ব্যবস্থা চালু হয় ২০১৩ সালে। তখন মাসিক ন্যূনতম মজুরি ছিল ৯০০ রিঙ্গিত। এরপর ২০১৬ সালে ১ হাজার, ২০১৯ সালে ১ হাজার ১০০, ২০২০ সালে ১ হাজার ২০০, ২০২২ সালে ১ হাজার ৫০০ এবং ২০২৫ সালে তা বাড়িয়ে ১ হাজার ৭০০ রিঙ্গিত করা হয়।

 

অর্থাৎ ২০১৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ন্যূনতম মজুরি বেড়েছে প্রায় ৮৮ দশমিক ৯ শতাংশ।

 

বর্তমান ১ হাজার ৭০০ রিঙ্গিতের হার ২০২৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে নির্দিষ্ট শ্রেণির নিয়োগকর্তার ক্ষেত্রে কার্যকর হয়। পরে ১ আগস্ট থেকে কর্মীর সংখ্যা নির্বিশেষে দেশজুড়ে তা কার্যকর করা হয়। তবে গৃহকর্মীরা এর আওতাভুক্ত নন।

 

বিদেশি শ্রমিকরাও পাবেন সুবিধা

 

মালয়েশিয়ার ন্যূনতম মজুরি আইন বিদেশি শ্রমিকদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। ফলে বাংলাদেশ, নেপাল, ইন্দোনেশিয়াসহ অন্যান্য দেশের যোগ্য বিদেশি শ্রমিকরাও স্থানীয় আইনে নির্ধারিত ন্যূনতম মৌলিক মজুরি পাওয়ার অধিকারী।

 

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী বিদেশি শ্রমিকরাও অন্তত এক হাজার ৭০০ রিঙ্গিত ন্যূনতম বেসিক বেতন পাওয়ার অধিকার রাখেন। নতুন হার দুই হাজার রিঙ্গিত হলে যোগ্য বিদেশি শ্রমিকদের বেসিক বেতনও সেই হারে বাড়বে।

 

মালয়েশিয়ায় প্রায় ৪ লাখ নেপালি শ্রমিক কাজ করেন। ন্যূনতম মজুরি বাড়লে তারাও সরাসরি উপকৃত হবেন।

 

মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি ও নেপালের কয়েকজন কর্মীদের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়তে থাকায় সঞ্চয় করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

 

তারা বলেন, খাবারের দাম বাড়ায় খরচ মেটানোর পর প্রতি মাসে অবশিষ্ট টাকা/ রুপি দেশে পাঠাতে পারেন। তবে ওভারটাইম না থাকলে সঞ্চয় করা কঠিন।

 

শ্রমিক ইউনিয়নের দাবি ৩,১০০ রিঙ্গিত

 

ন্যূনতম মজুরি দুই হাজার রিঙ্গিত করার আলোচনা চললেও মালয়েশিয়ান ট্রেডস ইউনিয়ন কংগ্রেস (এমটিইউসি) দাবি করেছে, ন্যূনতম মজুরি তিন হাজার ১০০ রিঙ্গিত করা হোক। বর্তমান এক হাজার ৭০০ রিঙ্গিতের তুলনায় এটি ৮২ শতাংশেরও বেশি।

 

ইতোমধ্যে কিছু সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানি ও সরকারি বিনিয়োগ-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান মাসে ৩ হাজার ১০০ রিঙ্গিতকে ‘লিভিং ওয়েজ’ বা জীবনযাপনের উপযোগী মজুরির মানদণ্ড হিসেবে গ্রহণ করেছে। তবে এটিকে এখনো নতুন আইনগত ন্যূনতম মজুরি হিসেবে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব করেনি।

 

এক হাজার ৭০০ থেকে সরাসরি তিন হাজার ১০০ রিঙ্গিতে মজুরি বাড়ালে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের শ্রম ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। বিশেষ করে সীমিত মুনাফায় পরিচালিত ছোট ব্যবসাগুলোতে অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ তৈরি হতে পারে বলে ব্যবসায়ী মহল উদ্বেগ জানিয়েছে। এর প্রভাব পণ্যের দাম ও নতুন নিয়োগের ওপরও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

 

অর্থমন্ত্রী আকমান নাসির বলেছেন, দীর্ঘমেয়াদে টেকসই মজুরি বৃদ্ধির জন্য শ্রমিকদের উৎপাদনশীলতা, দক্ষতা ও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। তার মতে, মজুরি বৃদ্ধির সঙ্গে উৎপাদনশীলতারও সমন্বয় থাকা প্রয়োজন।

 

মালয়েশিয়ার আইনে অন্তত দুই বছর পরপর ন্যূনতম মজুরি পর্যালোচনার বিধান রয়েছে। এ সময় জাতীয় মজুরি পরামর্শ কাউন্সিলকে ন্যূনতম মজুরির সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ওপর প্রভাব মূল্যায়ন করতে হয়।

 

২০২৭ সালের বাজেটের প্রাক-বাজেট বিবৃতিতেও সরকারের ‘ডিসেন্ট ওয়েজ এজেন্ডা’ বা মর্যাদাপূর্ণ মজুরি কর্মসূচির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, দেশে ন্যূনতম মজুরি বর্তমানে ১ হাজার ৭০০ রিঙ্গিত। একই সঙ্গে সরকারি মালিকানাধীন বিনিয়োগ কোম্পানি ও সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানিগুলো ৩ হাজার ১০০ রিঙ্গিতকে জীবনযাপনের উপযোগী মজুরির মানদণ্ড হিসেবে গ্রহণ করেছে।

 

মালয়েশিয়ার ১৩তম পরিকল্পনাতেও ২০৩০ সালের মধ্যে অর্থনীতিকে উচ্চ আয় ও উচ্চ উৎপাদনশীলতার দিকে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

এদিকে বিদেশি শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ব্যয়ের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন এসেছে। ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে বেতনের ওপর মালয়েশিয়ার কর্মচারী ভবিষ্যৎ তহবিল (ইপিএফ)-এ নিয়োগকর্তা ও বিদেশি শ্রমিক উভয়কেই ২ শতাংশ করে অবদান রাখতে হচ্ছে।