Dhaka , Sunday, 11 October 2026
শিরোনাম :
বৈধ বিদেশযাত্রা হোক সহজ, বন্ধ হোক অযথা হয়রানি বাংলায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রবাসীদের সাবধান করল সৌদি মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং শোকেসে অংশ নিয়েছে প্রাণ মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে হাইকমিশনারের মতবিনিময় ইরাকের নয়া প্রধানমন্ত্রী হলেন শিয়া আল- সুদানি পোস্টাল ভোটিং: প্রবাসীদের নিবন্ধনের সময় ৫ দিন—কোন দেশে কবে শুরু? বাহরাইন প্রবাসীদের জন্য সচেতনতামূলক মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্প দক্ষিণ আফ্রিকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১১, আহত ৩১ লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবি, নিহতদের সবাই বাংলাদেশি ‘প্রবাসীর ভোট প্রদান সহজ করা না হলে ভোটাধিকার মূল্যহীন’

আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম বাংলাদেশের এহতিশামুল হক হিরা

ঢাকার মারকাযু ফয়জিল কোরআন আল ইসলামী প্রতিষ্ঠানের এই প্রতিযোগী ৯৭ নম্বর পেয়ে যৌথভাবে প্রথম হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। একই নম্বর পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন সিরিয়ার আবদুল রহমান জামাল ইব্রাহিম। এ বিভাগে মালয়েশিয়ার মুহাম্মদ ইজ্জুল আফনান সাজালি ৯৬.৩৩ নম্বর পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন।

 

পাঁচ দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক কোরআন তেলাওয়াত ও হিফজ প্রতিযোগিতা। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) শুরু হওয়া এ আয়োজন চলে শুক্রবার পর্যন্ত। কুয়ালালামপুরের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে (ডব্লিউটিসি) ৬৬তম আন্তর্জাতিক কোরআন তেলাওয়াত ও হিফজ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। শনিবার ১০ অক্টোবর বিজয়ীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় পুরস্কার। হিরার সাফল্যে উচ্চসিত মালয়েশিয়া প্রবাসী বাংলাদেশিরা। জানিয়েছেন হিরাকে অভিনন্দন।

এদিকে আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের সাফল্যের ইতিহাসও দীর্ঘ। ১৯৮২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৩৫ জন বাংলাদেশি হাফেজ বিভিন্ন দেশের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় মোট ৪৩টি প্রথম স্থান অর্জন করেছেন। একই হাফেজ একাধিক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় বিজয়ীর সংখ্যা ৩৫ হলেও প্রথম স্থান অর্জনের সংখ্যা ৪৩।

 

মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় নারীদের তিলাওয়াত বিভাগে স্বাগতিক দেশের নুর শাকুরা মোহাম্মদ মুসা ৯১.৮৩ নম্বর পেয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। তিনি সারাওয়াকের বাসিন্দা। এ বিভাগে সিঙ্গাপুরের আতিকাহ বিনতে সুহাইমি ৯১ নম্বর পেয়ে দ্বিতীয় এবং ব্রুনেইয়ের দায়াংকু সিতি উম্মি শায়জানা বিনতে পেঙ্গিরান হাজি মারজুকি ৯০.৮৩ নম্বর পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন।

 

পুরুষদের তিলাওয়াত বিভাগে ইন্দোনেশিয়ার মুহাম্মদ ফাউজি রিদওয়ান ৯৪.৬৭ নম্বর পেয়ে প্রথম হয়েছেন। মালয়েশিয়ার সিক হাসনুল তাকিয়ুদ্দিন সিক সাজালি ৯২.৯৯ নম্বর পেয়ে দ্বিতীয় এবং বেলজিয়ামের ব্রাহিম বুগালাব ৯২.১৭ নম্বর পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন।

নারীদের হিফজ বিভাগে নাইজারের চাফাতু ইসুফু ৯৬.১৭ নম্বর পেয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। লিবিয়ার মিন্নাহ আলী আলসুদানি আগনাইয়াহ ৯৫.৫০ নম্বর পেয়ে দ্বিতীয় এবং মিয়ানমারের থেইন গি মোন ৯৫ নম্বর পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন।

 

আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের সাফল্যের সূচনা হিসেবে ১৯৮২ সালে লিবিয়ায় কারি আবদুল হকের প্রথম স্থান অর্জনের তথ্য পাওয়া যায়। হুফ্ফাজুল কোরআন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক হিফজ প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ থেকে প্রথম স্থান অর্জনকারী প্রথম হাফেজ তিনি।

 

এরপর ১৯৯৪ সালে ইরানে সাখাওয়াত হোসাইন এবং ১৯৯৬ সালে একই দেশে মাহমুদুল হাসান প্রথম স্থান অর্জন করেন। ১৯৯৯ সালে মিশরে ইমদাদুল্লাহ এবং ইরানে ফরিদ আহমদ চ্যাম্পিয়ন হন। ২০০০ সালে মিশরে নাবিল ওয়ালিদ, ২০০১ সালে ইব্রাহিম বিন হেলাল, ২০০২ সালে জর্ডানে হোসাইন আহমাদ এবং ২০০৩ সালে মিশরে আবদুল কাদির প্রথম স্থান অর্জন করেন।

 

২০০৭ সালে দুবাইয়ে প্রথম হন ফজলে রাব্বি আদেল। ২০০৯ সালে মিশরেও প্রথম স্থান অর্জন করেন তিনি। ২০১০ সালে জর্ডানে মো. সাইফুল ইসলাম এবং ২০১১ সালে ইরানে হাফেজ সালাহউদ্দিন চ্যাম্পিয়ন হন।

 

২০১২ সালে সৌদি আরবে পৃথক বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেন মো. তানভীর হোসাইন, এহসান উদ্দিন নোমান ও মুহাম্মদ সাদ সুরাইল। ২০১৩ সালে সৌদি আরবে মো. ইমাদুল্লাহ, জর্ডানে ফারিয়া তাসলিম এবং দুবাইয়ে হাফেজ নাজমুস সাকিব প্রথম হন। পরের বছর সৌদি আরবেও প্রথম স্থান অর্জন করেন নাজমুস সাকিব। একই বছর মিশরে অনুষ্ঠিত ২১তম আন্তর্জাতিক হিফজ প্রতিযোগিতায় প্রথম হন হাফেজ মোহাম্মদ জাকারিয়া।

২০১৫ সালে সুদানে প্রথম হন নাজমুস সাকিব। একই বছর মিশরে পৃথক বিভাগে নাহিয়ান কায়সার ও মুহিব্বুল্লাহ এবং জর্ডানে সাঈদ হাসান প্রথম স্থান অর্জন করেন। ২০১৬ সালে তুরস্কে আবদুল আখের এবং বাহরাইনে হাফেজ মোহাম্মদ জাকারিয়া চ্যাম্পিয়ন হন।

২০১৭ সালে সৌদি আরব ও মিশরে আবদুল্লাহ আল মামুন এবং দুবাইয়ে তারিকুল ইসলাম প্রথম স্থান অর্জন করেন। ২০১৮ সালে মিশরে মুজাহিদুল ইসলাম এবং ২০১৯ সালে জর্ডানে মো. সাইফুর রহমান ত্বাকী চ্যাম্পিয়ন হন।

 

২০২১ সালে ইরান এবং ২০২৩ সালে দুবাইয়ে প্রথম স্থান অর্জন করেন হাফেজ সালেহ আহমদ তাকরিম। ২০২৪ সালে ইরানে বশির আহমদ, সৌদি আরবে আনাস বিন আতিক, তুরস্কে মুআজ মাহমুদ, কুয়েতে আনাস মাহফুজ এবং সেনেগালে অনুষ্ঠিত ১১তম আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় হাফেজ আবু রাইহান প্রথম হন। একই বছর সৌদি আরবে হিফজুল কোরআনের ১৫ পারা বিভাগেও প্রথম স্থান অর্জন করেন মুআজ মাহমুদ।

 

২০২৫ সালে মিশরে প্রথম হন আনাস বিন আতিক। ২০২৬ সালে মালয়েশিয়ায় হাফেজ ইব্রাহিম শেখ এবং সৌদি আরবে ১৫ পারা হিফজ বিভাগে হাফেজ মোহাম্মদ নুরুদ্দিন জাকারিয়া প্রথম স্থান অর্জন করেন।

 

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দ্বীনি দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগের সংরক্ষিত তথ্যে ১৯৯৪ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের হাফেজদের ৩৭টি প্রথম স্থান অর্জনের তথ্য রয়েছে। এর বাইরে ১৯৮২ সালের কারি আবদুল হকের সাফল্য এবং ২০১৪, ২০১৫, ২০২৪ ও ২০২৬ সালের কয়েকটি বিজয়ের তথ্য হুফ্ফাজুল কোরআন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক কিরাত সংস্থা বাংলাদেশ থেকে পাওয়া গেছে। বিভিন্ন উৎসের তথ্য সমন্বয় করে ১৯৮২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত মোট ৪৩টি প্রথম স্থান অর্জন বাংলাদেশের।

 

১৯৮২ সালে লিবিয়ায় কারি আবদুল হকের প্রথম স্থান অর্জনের মধ্য দিয়ে যে সাফল্যের ধারাবাহিকতার তথ্য পাওয়া যায়, তা ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিস্তৃত। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ৩৫ জন বাংলাদেশি হাফেজের ৪৩টি প্রথম স্থান অর্জনের এই হিসাব দেশের হিফজ শিক্ষার দীর্ঘদিনের সাফল্যের চিত্র তুলে ধরে। এখন এই অর্জন ধরে রাখার পাশাপাশি তাজবিদ, ওয়াকফ-ইবতিদা, প্রশিক্ষণ ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Rahman

আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম বাংলাদেশের এহতিশামুল হক হিরা

আপডেট টাইম : 11:13:15 pm, Saturday, 10 October 2026

ঢাকার মারকাযু ফয়জিল কোরআন আল ইসলামী প্রতিষ্ঠানের এই প্রতিযোগী ৯৭ নম্বর পেয়ে যৌথভাবে প্রথম হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। একই নম্বর পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন সিরিয়ার আবদুল রহমান জামাল ইব্রাহিম। এ বিভাগে মালয়েশিয়ার মুহাম্মদ ইজ্জুল আফনান সাজালি ৯৬.৩৩ নম্বর পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন।

 

পাঁচ দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক কোরআন তেলাওয়াত ও হিফজ প্রতিযোগিতা। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) শুরু হওয়া এ আয়োজন চলে শুক্রবার পর্যন্ত। কুয়ালালামপুরের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে (ডব্লিউটিসি) ৬৬তম আন্তর্জাতিক কোরআন তেলাওয়াত ও হিফজ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। শনিবার ১০ অক্টোবর বিজয়ীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় পুরস্কার। হিরার সাফল্যে উচ্চসিত মালয়েশিয়া প্রবাসী বাংলাদেশিরা। জানিয়েছেন হিরাকে অভিনন্দন।

এদিকে আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের সাফল্যের ইতিহাসও দীর্ঘ। ১৯৮২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৩৫ জন বাংলাদেশি হাফেজ বিভিন্ন দেশের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় মোট ৪৩টি প্রথম স্থান অর্জন করেছেন। একই হাফেজ একাধিক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় বিজয়ীর সংখ্যা ৩৫ হলেও প্রথম স্থান অর্জনের সংখ্যা ৪৩।

 

মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় নারীদের তিলাওয়াত বিভাগে স্বাগতিক দেশের নুর শাকুরা মোহাম্মদ মুসা ৯১.৮৩ নম্বর পেয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। তিনি সারাওয়াকের বাসিন্দা। এ বিভাগে সিঙ্গাপুরের আতিকাহ বিনতে সুহাইমি ৯১ নম্বর পেয়ে দ্বিতীয় এবং ব্রুনেইয়ের দায়াংকু সিতি উম্মি শায়জানা বিনতে পেঙ্গিরান হাজি মারজুকি ৯০.৮৩ নম্বর পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন।

 

পুরুষদের তিলাওয়াত বিভাগে ইন্দোনেশিয়ার মুহাম্মদ ফাউজি রিদওয়ান ৯৪.৬৭ নম্বর পেয়ে প্রথম হয়েছেন। মালয়েশিয়ার সিক হাসনুল তাকিয়ুদ্দিন সিক সাজালি ৯২.৯৯ নম্বর পেয়ে দ্বিতীয় এবং বেলজিয়ামের ব্রাহিম বুগালাব ৯২.১৭ নম্বর পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন।

নারীদের হিফজ বিভাগে নাইজারের চাফাতু ইসুফু ৯৬.১৭ নম্বর পেয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। লিবিয়ার মিন্নাহ আলী আলসুদানি আগনাইয়াহ ৯৫.৫০ নম্বর পেয়ে দ্বিতীয় এবং মিয়ানমারের থেইন গি মোন ৯৫ নম্বর পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন।

 

আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের সাফল্যের সূচনা হিসেবে ১৯৮২ সালে লিবিয়ায় কারি আবদুল হকের প্রথম স্থান অর্জনের তথ্য পাওয়া যায়। হুফ্ফাজুল কোরআন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক হিফজ প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ থেকে প্রথম স্থান অর্জনকারী প্রথম হাফেজ তিনি।

 

এরপর ১৯৯৪ সালে ইরানে সাখাওয়াত হোসাইন এবং ১৯৯৬ সালে একই দেশে মাহমুদুল হাসান প্রথম স্থান অর্জন করেন। ১৯৯৯ সালে মিশরে ইমদাদুল্লাহ এবং ইরানে ফরিদ আহমদ চ্যাম্পিয়ন হন। ২০০০ সালে মিশরে নাবিল ওয়ালিদ, ২০০১ সালে ইব্রাহিম বিন হেলাল, ২০০২ সালে জর্ডানে হোসাইন আহমাদ এবং ২০০৩ সালে মিশরে আবদুল কাদির প্রথম স্থান অর্জন করেন।

 

২০০৭ সালে দুবাইয়ে প্রথম হন ফজলে রাব্বি আদেল। ২০০৯ সালে মিশরেও প্রথম স্থান অর্জন করেন তিনি। ২০১০ সালে জর্ডানে মো. সাইফুল ইসলাম এবং ২০১১ সালে ইরানে হাফেজ সালাহউদ্দিন চ্যাম্পিয়ন হন।

 

২০১২ সালে সৌদি আরবে পৃথক বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেন মো. তানভীর হোসাইন, এহসান উদ্দিন নোমান ও মুহাম্মদ সাদ সুরাইল। ২০১৩ সালে সৌদি আরবে মো. ইমাদুল্লাহ, জর্ডানে ফারিয়া তাসলিম এবং দুবাইয়ে হাফেজ নাজমুস সাকিব প্রথম হন। পরের বছর সৌদি আরবেও প্রথম স্থান অর্জন করেন নাজমুস সাকিব। একই বছর মিশরে অনুষ্ঠিত ২১তম আন্তর্জাতিক হিফজ প্রতিযোগিতায় প্রথম হন হাফেজ মোহাম্মদ জাকারিয়া।

২০১৫ সালে সুদানে প্রথম হন নাজমুস সাকিব। একই বছর মিশরে পৃথক বিভাগে নাহিয়ান কায়সার ও মুহিব্বুল্লাহ এবং জর্ডানে সাঈদ হাসান প্রথম স্থান অর্জন করেন। ২০১৬ সালে তুরস্কে আবদুল আখের এবং বাহরাইনে হাফেজ মোহাম্মদ জাকারিয়া চ্যাম্পিয়ন হন।

২০১৭ সালে সৌদি আরব ও মিশরে আবদুল্লাহ আল মামুন এবং দুবাইয়ে তারিকুল ইসলাম প্রথম স্থান অর্জন করেন। ২০১৮ সালে মিশরে মুজাহিদুল ইসলাম এবং ২০১৯ সালে জর্ডানে মো. সাইফুর রহমান ত্বাকী চ্যাম্পিয়ন হন।

 

২০২১ সালে ইরান এবং ২০২৩ সালে দুবাইয়ে প্রথম স্থান অর্জন করেন হাফেজ সালেহ আহমদ তাকরিম। ২০২৪ সালে ইরানে বশির আহমদ, সৌদি আরবে আনাস বিন আতিক, তুরস্কে মুআজ মাহমুদ, কুয়েতে আনাস মাহফুজ এবং সেনেগালে অনুষ্ঠিত ১১তম আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় হাফেজ আবু রাইহান প্রথম হন। একই বছর সৌদি আরবে হিফজুল কোরআনের ১৫ পারা বিভাগেও প্রথম স্থান অর্জন করেন মুআজ মাহমুদ।

 

২০২৫ সালে মিশরে প্রথম হন আনাস বিন আতিক। ২০২৬ সালে মালয়েশিয়ায় হাফেজ ইব্রাহিম শেখ এবং সৌদি আরবে ১৫ পারা হিফজ বিভাগে হাফেজ মোহাম্মদ নুরুদ্দিন জাকারিয়া প্রথম স্থান অর্জন করেন।

 

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দ্বীনি দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগের সংরক্ষিত তথ্যে ১৯৯৪ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের হাফেজদের ৩৭টি প্রথম স্থান অর্জনের তথ্য রয়েছে। এর বাইরে ১৯৮২ সালের কারি আবদুল হকের সাফল্য এবং ২০১৪, ২০১৫, ২০২৪ ও ২০২৬ সালের কয়েকটি বিজয়ের তথ্য হুফ্ফাজুল কোরআন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক কিরাত সংস্থা বাংলাদেশ থেকে পাওয়া গেছে। বিভিন্ন উৎসের তথ্য সমন্বয় করে ১৯৮২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত মোট ৪৩টি প্রথম স্থান অর্জন বাংলাদেশের।

 

১৯৮২ সালে লিবিয়ায় কারি আবদুল হকের প্রথম স্থান অর্জনের মধ্য দিয়ে যে সাফল্যের ধারাবাহিকতার তথ্য পাওয়া যায়, তা ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিস্তৃত। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ৩৫ জন বাংলাদেশি হাফেজের ৪৩টি প্রথম স্থান অর্জনের এই হিসাব দেশের হিফজ শিক্ষার দীর্ঘদিনের সাফল্যের চিত্র তুলে ধরে। এখন এই অর্জন ধরে রাখার পাশাপাশি তাজবিদ, ওয়াকফ-ইবতিদা, প্রশিক্ষণ ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।