গ্রিসের উত্তরাঞ্চলে আশ্রয়প্রার্থীদের একটি আটককেন্দ্র থেকে পালিয়ে যাওয়া ১০ বাংলাদেশির মধ্যে সাতজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বাকি তিনজন এখনো পলাতক রয়েছেন।
সোমবার গ্রিসের সংবাদমাধ্যম ‘কাথিমেরিনি’তে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তবে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, রোববার বিকেলে গ্রিসের সেরেস অঞ্চলের ক্লেইদি গ্রামের কাছে সিনতিকি এলাকায় আশ্রয়প্রার্থীদের অস্থায়ী আবাসনের জন্য নির্ধারিত নিয়ন্ত্রিত প্রবেশাধিকার কেন্দ্র থেকে ওই ১০ বাংলাদেশি পালিয়ে যান। তাদের বয়স ২১ থেকে ৩৭ বছরের মধ্যে।
আটককেন্দ্রে তাদের অনুপস্থিতি টের পাওয়ার পর আশপাশের এলাকায় তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। পরে সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়। বাকি তিনজনকে ধরতে অভিযান চলছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। রোববার পর্যন্ত ওই কেন্দ্রে মোট ১২৫ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী আটক ছিলেন।
এদিকে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এই আটককেন্দ্রে একের পর এক ঘটনা ও উত্তেজনা দেখা দেওয়ায় এর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কেন্দ্রটির নিরাপত্তা জোরদারের দাবিও জানানো হয়েছে।
গ্রিসের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ‘এলিনিকি রাদিওফোনিয়া তিলিওরাসি’কে (ইআরটি) সেরেস পুলিশ কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি ইয়ানিস কুনিওস জানান, কেন্দ্রটির বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বারবার অবহিত করা হয়েছে। তিনি অবকাঠামোগত দুর্বলতা, নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতি এবং সেখানে দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যদের অনিরাপদ কর্মপরিবেশের কথা তুলে ধরেন।
কুনিওস কেন্দ্রটি বন্ধ করে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তার ভাষ্য, সেখানে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোকে আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং সমস্যাগুলো দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলেও যথাযথভাবে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
১০ বাংলাদেশির পালিয়ে যাওয়ার এই ঘটনা গ্রিসের উত্তরাঞ্চলের আটককেন্দ্রটির নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে চলমান উদ্বেগকে আবারও সামনে এনেছে।

প্রবাস ডেস্ক 








