Dhaka , Friday, 23 October 2026
শিরোনাম :
বৈধ বিদেশযাত্রা হোক সহজ, বন্ধ হোক অযথা হয়রানি বাংলায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রবাসীদের সাবধান করল সৌদি মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং শোকেসে অংশ নিয়েছে প্রাণ মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে হাইকমিশনারের মতবিনিময় ইরাকের নয়া প্রধানমন্ত্রী হলেন শিয়া আল- সুদানি পোস্টাল ভোটিং: প্রবাসীদের নিবন্ধনের সময় ৫ দিন—কোন দেশে কবে শুরু? বাহরাইন প্রবাসীদের জন্য সচেতনতামূলক মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্প দক্ষিণ আফ্রিকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১১, আহত ৩১ লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবি, নিহতদের সবাই বাংলাদেশি ‘প্রবাসীর ভোট প্রদান সহজ করা না হলে ভোটাধিকার মূল্যহীন’

ইউরোপে ভয়াবহ গরমে ৫০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু

ইউরোপে ২০২৬ সালের গ্রীষ্মে ভয়াবহ তাপপ্রবাহের কারণে ৫০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে নতুন এক গবেষণায় ধারণা করা হয়েছে। গবেষকদের মতে, তাপজনিত মৃত্যুর হিসাবে এটি ইউরোপের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী গ্রীষ্মগুলোর একটি হতে পারে।

 

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, এসব মৃত্যুর মধ্যে ৩২ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুর জন্য জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করা হচ্ছে। জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর ফলে নির্গত গ্রিনহাউস গ্যাস বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়াচ্ছে, যার প্রভাবে তাপপ্রবাহ আরও তীব্র ও প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে।

 

গবেষণার ফলাফল নেচার হেলথ সাময়িকীতে প্রকাশিত দুটি গবেষণাপত্রে তুলে ধরা হয়েছে। গবেষণার অন্যতম লেখক ও লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের চরম আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক গবেষক ক্লেয়ার বার্নস বলেন, ইউরোপের বড় একটি অংশে ২০২৬ সালের গ্রীষ্ম তাপজনিত মৃত্যুর দিক থেকে রেকর্ডের সবচেয়ে ভয়াবহ সময় হয়ে থাকতে পারে।

 

জাতিসংঘের বার্ষিক জলবায়ু সম্মেলনে অংশ নিতে আন্তর্জাতিক নেতাদের তুরস্কে সমবেত হওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগে এই গবেষণার ফল সামনে এল। এর কয়েক দিন আগে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়, প্রাক্‌-শিল্প যুগের তুলনায় বৈশ্বিক উষ্ণতা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখার লক্ষ্য অর্জনের সুযোগ কার্যত শেষ হয়ে যাচ্ছে।

 

বার্নসের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ভয়াবহ প্রভাব এড়াতে বিশ্ব এখনও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের তুলনায় অনেক পিছিয়ে রয়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো না গেলে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে।

 

ইউরোপ বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হয়ে ওঠা মহাদেশ। চরম আবহাওয়াজনিত ঘটনাগুলোর মধ্যে তাপপ্রবাহ অন্যতম প্রাণঘাতী দুর্যোগ। চলতি বছরের মে মাসের শেষ দিক থেকে আগস্টের শেষ পর্যন্ত ইউরোপের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে নজিরবিহীন উচ্চ তাপমাত্রা বিরাজ করে।

 

গবেষণায় বলা হয়েছে, পশ্চিম ইউরোপে এ বছর রেকর্ডে সবচেয়ে উষ্ণ গ্রীষ্ম দেখা গেছে। এ সময় তাপমাত্রা ১৯৯১ থেকে ২০২০ সালের গড়ের তুলনায় প্রায় ২ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ৫ দশমিক ২ ডিগ্রি ফারেনহাইট বেশি ছিল। কোনো কোনো দেশে নির্দিষ্ট দিনে তাপমাত্রার পার্থক্য স্বাভাবিকের তুলনায় ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি ছিল।

 

গবেষকদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তাপপ্রবাহের তীব্রতা ও স্থায়িত্ব বাড়ছে। এর ফলে বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি, আগে থেকে অসুস্থ মানুষ এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাপজনিত প্রাণহানি কমাতে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ হ্রাসের পাশাপাশি তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় আগাম সতর্কতা, স্বাস্থ্যসেবা প্রস্তুতি এবং ঝুঁকিতে থাকা মানুষের সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Rahman

ইউরোপে ভয়াবহ গরমে ৫০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু

আপডেট টাইম : 02:21:34 pm, Friday, 23 October 2026

ইউরোপে ২০২৬ সালের গ্রীষ্মে ভয়াবহ তাপপ্রবাহের কারণে ৫০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে নতুন এক গবেষণায় ধারণা করা হয়েছে। গবেষকদের মতে, তাপজনিত মৃত্যুর হিসাবে এটি ইউরোপের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী গ্রীষ্মগুলোর একটি হতে পারে।

 

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, এসব মৃত্যুর মধ্যে ৩২ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুর জন্য জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করা হচ্ছে। জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর ফলে নির্গত গ্রিনহাউস গ্যাস বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়াচ্ছে, যার প্রভাবে তাপপ্রবাহ আরও তীব্র ও প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে।

 

গবেষণার ফলাফল নেচার হেলথ সাময়িকীতে প্রকাশিত দুটি গবেষণাপত্রে তুলে ধরা হয়েছে। গবেষণার অন্যতম লেখক ও লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের চরম আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক গবেষক ক্লেয়ার বার্নস বলেন, ইউরোপের বড় একটি অংশে ২০২৬ সালের গ্রীষ্ম তাপজনিত মৃত্যুর দিক থেকে রেকর্ডের সবচেয়ে ভয়াবহ সময় হয়ে থাকতে পারে।

 

জাতিসংঘের বার্ষিক জলবায়ু সম্মেলনে অংশ নিতে আন্তর্জাতিক নেতাদের তুরস্কে সমবেত হওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগে এই গবেষণার ফল সামনে এল। এর কয়েক দিন আগে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়, প্রাক্‌-শিল্প যুগের তুলনায় বৈশ্বিক উষ্ণতা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখার লক্ষ্য অর্জনের সুযোগ কার্যত শেষ হয়ে যাচ্ছে।

 

বার্নসের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ভয়াবহ প্রভাব এড়াতে বিশ্ব এখনও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের তুলনায় অনেক পিছিয়ে রয়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো না গেলে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে।

 

ইউরোপ বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হয়ে ওঠা মহাদেশ। চরম আবহাওয়াজনিত ঘটনাগুলোর মধ্যে তাপপ্রবাহ অন্যতম প্রাণঘাতী দুর্যোগ। চলতি বছরের মে মাসের শেষ দিক থেকে আগস্টের শেষ পর্যন্ত ইউরোপের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে নজিরবিহীন উচ্চ তাপমাত্রা বিরাজ করে।

 

গবেষণায় বলা হয়েছে, পশ্চিম ইউরোপে এ বছর রেকর্ডে সবচেয়ে উষ্ণ গ্রীষ্ম দেখা গেছে। এ সময় তাপমাত্রা ১৯৯১ থেকে ২০২০ সালের গড়ের তুলনায় প্রায় ২ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ৫ দশমিক ২ ডিগ্রি ফারেনহাইট বেশি ছিল। কোনো কোনো দেশে নির্দিষ্ট দিনে তাপমাত্রার পার্থক্য স্বাভাবিকের তুলনায় ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি ছিল।

 

গবেষকদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তাপপ্রবাহের তীব্রতা ও স্থায়িত্ব বাড়ছে। এর ফলে বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি, আগে থেকে অসুস্থ মানুষ এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাপজনিত প্রাণহানি কমাতে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ হ্রাসের পাশাপাশি তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় আগাম সতর্কতা, স্বাস্থ্যসেবা প্রস্তুতি এবং ঝুঁকিতে থাকা মানুষের সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।