Dhaka , Wednesday, 4 November 2026
শিরোনাম :
বৈধ বিদেশযাত্রা হোক সহজ, বন্ধ হোক অযথা হয়রানি বাংলায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রবাসীদের সাবধান করল সৌদি মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং শোকেসে অংশ নিয়েছে প্রাণ মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে হাইকমিশনারের মতবিনিময় ইরাকের নয়া প্রধানমন্ত্রী হলেন শিয়া আল- সুদানি পোস্টাল ভোটিং: প্রবাসীদের নিবন্ধনের সময় ৫ দিন—কোন দেশে কবে শুরু? বাহরাইন প্রবাসীদের জন্য সচেতনতামূলক মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্প দক্ষিণ আফ্রিকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১১, আহত ৩১ লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবি, নিহতদের সবাই বাংলাদেশি ‘প্রবাসীর ভোট প্রদান সহজ করা না হলে ভোটাধিকার মূল্যহীন’

স্বপ্নের ইউরোপযাত্রা যেন না হয় মৃত্যুর শেষ ঠিকানা

উন্নত জীবনের স্বপ্ন, পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা এবং দারিদ্র্য থেকে মুক্তির আশায় প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ পাড়ি জমাচ্ছেন ইউরোপের পথে। কিন্তু সেই স্বপ্নের যাত্রা যখন বৈধ অভিবাসনের পথ ছেড়ে দালালচক্রের হাত ধরে অবৈধ পথে পরিচালিত হয়, তখন তা পরিণত হয় এক ভয়াবহ জীবন-মৃত্যুর লড়াইয়ে। ভূমধ্যসাগরের উত্তাল ঢেউ, দুর্গম মরুভূমি, অনিরাপদ নৌযান এবং মানবপাচারকারীদের নিষ্ঠুরতার কাছে প্রতিনিয়ত হারিয়ে যাচ্ছে অসংখ্য তরুণের জীবন।

 

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, জেনেশুনেও অনেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই বিপজ্জনক পথ বেছে নিচ্ছেন। কেউ জমিজমা বিক্রি করছেন, কেউ ধারদেনা করে দালালদের হাতে তুলে দিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। পরিবারের স্বপ্ন পূরণের আশায় যাত্রা শুরু করলেও অনেকের শেষ ঠিকানা হচ্ছে সমুদ্রের গভীরতা কিংবা অজানা কোনো মরুভূমি। কেউ নিখোঁজ হচ্ছেন, কেউ বন্দিদশায় নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন, আবার কেউ জীবিত ফিরলেও বয়ে বেড়াচ্ছেন ভয়াবহ শারীরিক ও মানসিক ক্ষত।

 

প্রশ্ন হলো, কেন তরুণেরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অবৈধ পথে ইউরোপ যেতে বাধ্য হচ্ছেন? এর পেছনে রয়েছে দেশে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের অভাব, বেকারত্ব, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, সামাজিক বৈষম্য এবং দ্রুত ভাগ্য পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা। এসব বাস্তবতাকে পুঁজি করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে সংঘবদ্ধ মানবপাচারকারী ও দালালচক্র। তারা ইউরোপে উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে অসহায় পরিবারগুলোর কাছ থেকে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। অথচ যাত্রাপথের ভয়াবহতা কিংবা গন্তব্যে পৌঁছানোর নিশ্চয়তা—কোনোটিই তারা দেয় না।

 

এ পরিস্থিতিতে শুধু মানুষকে সতর্ক করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। মানবপাচারকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা, তাদের আর্থিক লেনদেন ও নেটওয়ার্ক অনুসন্ধান করা এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে আইনি সহায়তা দেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে বৈধ অভিবাসনের সুযোগ বাড়ানো, বিদেশে কর্মসংস্থানের নির্ভরযোগ্য তথ্য সহজলভ্য করা এবং দক্ষতা উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

 

পরিবারের সদস্যদেরও সচেতন হতে হবে। কোনো দালালের মুখের কথায় কিংবা ইউরোপে পৌঁছে দেওয়ার অবাস্তব প্রতিশ্রুতিতে জমিজমা বিক্রি বা ঋণ করে টাকা দেওয়া উচিত নয়। বিদেশে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর ও বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে তথ্য যাচাই করা জরুরি।

 

আমরা মনে করি, ইউরোপে যাওয়ার স্বপ্ন দেখা অপরাধ নয়; কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের জন্য নিজের জীবনকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। একটি পরিবারের আশা-ভরসা হয়ে ওঠা তরুণের জীবন সমুদ্রের ঢেউয়ে হারিয়ে যাওয়া শুধু একটি পরিবারের ক্ষতি নয়, এটি রাষ্ট্র ও সমাজেরও অপূরণীয় ক্ষতি।

 

মনে রাখতে হবে, বিদেশে গিয়ে ভাগ্য পরিবর্তনের আগে দেশে ফিরে আসার নিশ্চয়তাটুকুও গুরুত্বপূর্ণ। দালালের প্রলোভনে নয়, নিরাপদ ও বৈধ পথেই হোক অভিবাসন। জীবনের চেয়ে বড় কোনো স্বপ্ন হতে পারে না।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Rahman

নতুন ভিসা চালু করছে অস্ট্রেলিয়া, সুযোগ পাবেন বাংলাদেশিরাও

স্বপ্নের ইউরোপযাত্রা যেন না হয় মৃত্যুর শেষ ঠিকানা

আপডেট টাইম : 05:18:33 pm, Tuesday, 3 November 2026

উন্নত জীবনের স্বপ্ন, পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা এবং দারিদ্র্য থেকে মুক্তির আশায় প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ পাড়ি জমাচ্ছেন ইউরোপের পথে। কিন্তু সেই স্বপ্নের যাত্রা যখন বৈধ অভিবাসনের পথ ছেড়ে দালালচক্রের হাত ধরে অবৈধ পথে পরিচালিত হয়, তখন তা পরিণত হয় এক ভয়াবহ জীবন-মৃত্যুর লড়াইয়ে। ভূমধ্যসাগরের উত্তাল ঢেউ, দুর্গম মরুভূমি, অনিরাপদ নৌযান এবং মানবপাচারকারীদের নিষ্ঠুরতার কাছে প্রতিনিয়ত হারিয়ে যাচ্ছে অসংখ্য তরুণের জীবন।

 

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, জেনেশুনেও অনেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই বিপজ্জনক পথ বেছে নিচ্ছেন। কেউ জমিজমা বিক্রি করছেন, কেউ ধারদেনা করে দালালদের হাতে তুলে দিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। পরিবারের স্বপ্ন পূরণের আশায় যাত্রা শুরু করলেও অনেকের শেষ ঠিকানা হচ্ছে সমুদ্রের গভীরতা কিংবা অজানা কোনো মরুভূমি। কেউ নিখোঁজ হচ্ছেন, কেউ বন্দিদশায় নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন, আবার কেউ জীবিত ফিরলেও বয়ে বেড়াচ্ছেন ভয়াবহ শারীরিক ও মানসিক ক্ষত।

 

প্রশ্ন হলো, কেন তরুণেরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অবৈধ পথে ইউরোপ যেতে বাধ্য হচ্ছেন? এর পেছনে রয়েছে দেশে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের অভাব, বেকারত্ব, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, সামাজিক বৈষম্য এবং দ্রুত ভাগ্য পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা। এসব বাস্তবতাকে পুঁজি করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে সংঘবদ্ধ মানবপাচারকারী ও দালালচক্র। তারা ইউরোপে উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে অসহায় পরিবারগুলোর কাছ থেকে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। অথচ যাত্রাপথের ভয়াবহতা কিংবা গন্তব্যে পৌঁছানোর নিশ্চয়তা—কোনোটিই তারা দেয় না।

 

এ পরিস্থিতিতে শুধু মানুষকে সতর্ক করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। মানবপাচারকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা, তাদের আর্থিক লেনদেন ও নেটওয়ার্ক অনুসন্ধান করা এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে আইনি সহায়তা দেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে বৈধ অভিবাসনের সুযোগ বাড়ানো, বিদেশে কর্মসংস্থানের নির্ভরযোগ্য তথ্য সহজলভ্য করা এবং দক্ষতা উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

 

পরিবারের সদস্যদেরও সচেতন হতে হবে। কোনো দালালের মুখের কথায় কিংবা ইউরোপে পৌঁছে দেওয়ার অবাস্তব প্রতিশ্রুতিতে জমিজমা বিক্রি বা ঋণ করে টাকা দেওয়া উচিত নয়। বিদেশে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর ও বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে তথ্য যাচাই করা জরুরি।

 

আমরা মনে করি, ইউরোপে যাওয়ার স্বপ্ন দেখা অপরাধ নয়; কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের জন্য নিজের জীবনকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। একটি পরিবারের আশা-ভরসা হয়ে ওঠা তরুণের জীবন সমুদ্রের ঢেউয়ে হারিয়ে যাওয়া শুধু একটি পরিবারের ক্ষতি নয়, এটি রাষ্ট্র ও সমাজেরও অপূরণীয় ক্ষতি।

 

মনে রাখতে হবে, বিদেশে গিয়ে ভাগ্য পরিবর্তনের আগে দেশে ফিরে আসার নিশ্চয়তাটুকুও গুরুত্বপূর্ণ। দালালের প্রলোভনে নয়, নিরাপদ ও বৈধ পথেই হোক অভিবাসন। জীবনের চেয়ে বড় কোনো স্বপ্ন হতে পারে না।