Dhaka , Saturday, 8 August 2026
শিরোনাম :
বাংলায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রবাসীদের সাবধান করল সৌদি মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং শোকেসে অংশ নিয়েছে প্রাণ মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে হাইকমিশনারের মতবিনিময় ইরাকের নয়া প্রধানমন্ত্রী হলেন শিয়া আল- সুদানি পোস্টাল ভোটিং: প্রবাসীদের নিবন্ধনের সময় ৫ দিন—কোন দেশে কবে শুরু? বাহরাইন প্রবাসীদের জন্য সচেতনতামূলক মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্প দক্ষিণ আফ্রিকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১১, আহত ৩১ লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবি, নিহতদের সবাই বাংলাদেশি ‘প্রবাসীর ভোট প্রদান সহজ করা না হলে ভোটাধিকার মূল্যহীন’ স্বল্প খরচে জনশক্তি রপ্তানির মাধ্যমে রেমিট্যান্স বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ

আমদানির ‘ভুলে’ কিট সংকট

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : 06:47:48 am, Monday, 22 June 2020
  • 767 বার

করোনা টেস্টিং কিট-এর সংকট দেখা দিয়েছে৷ এ কারণে করোনার হটস্পট নারায়ণগঞ্জের খানপুর হাসপাতালে চার দিন ধরে পরীক্ষা বন্ধ আছে৷ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরও সংকটের বিষয়টি স্বীকার করেছে৷

বাংলাদেশে এখন গড়ে ১৫ হাজার নমুনা পরীক্ষা করা হয়৷ ৬২টি টেস্টিং সেন্টারের সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে চাহিদা আছে ২০ হাজার কিটের৷ তবে এর চেয়ে আরো চার-পাঁচগুণ বেশি মানুষ টেস্ট করাতে চান৷

নারায়ণগঞ্জের খানপুর তিনশ শয্যা হাসপাতালে ১৮ জুন থেকে পিসিআর পদ্ধতিতে করোনা টেস্ট বন্ধ আছে৷  এই চার দিনে কয়েক হাজার রোগী টেস্ট করাতে না পেরে ফিরে গেছেন৷ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আগ্রহীদের জানিয়ে দিয়েছে কিট না আসা পর্যন্ত আর কোনো টেস্টের সিরিয়াল দেয়া হবে না৷ আর কবে এই কিট পাওয়া যাবে তা কেউই বলতে পারছেন না৷

 

হাসপাতালের রেসিডেন্ট ফিজিশিয়ান (আরপি) ডা. শামসুদ্দোহা সরকার জানান, কিট শেষ হওয়ার আগেই তারা সিভিল সার্জনের মাধ্যমে সাত দিন আগে কিটের জন্য আবেদন করেছেন৷ কিন্তু কিট এখনো পাননি৷ কবে পাবেন তাও জানেন না৷ তাই পরীক্ষা বন্ধ করে দিয়েছেন৷ তিনি বলেন, ‘‘কিটতো আমাদের হাতে নাই৷ এটা আমরা মন্ত্রণালয় হয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছ থেকে পাই৷ জানতে পেরেছি কিট আমদানিতে সমস্যা হচেছ৷ তাই সংকট তৈরি হয়েছে৷’’

এই সংকট এখন সারাদেশেই৷ এই হাসপাতালটিতে প্রতিদিন ২৮২টি নমুনা পরীক্ষার সক্ষমতা আছে৷ অন্যদিকে পরীক্ষা করাতে আসেন এক হাজারেও বেশি৷ ফলে কিট থাকলেও অধিকাংশ মানুষকেই ফিরে যেতে হয়৷

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসাপতালের অধ্যক্ষ শামীম হাসান জানান তারা প্রতিদিন তিনশ টেস্ট করতে পারেন৷ কিন্তু সেই পরিমান কিট তারা সব সময় পান না৷ এদিক সেদিক হয়৷ কিছু পরীক্ষা থেকে যায়৷ এদিকে কুষ্টিয়া এবং রংপুরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে সেখানেও কিটের সংকট আছে৷ তবে টেস্ট চলছে৷

রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. কামরুজ্জামান ইবনে তাজ জানান, ‘‘রংপুর সিটি এলাকা থেকে প্রতিদিন ৫৮টি নমুনার বেশি টেস্ট করা যায় না৷ কোটা করে দিয়েছে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল৷ এরমধ্যে পুলিশের ৩০, পুরাতন রোগীর ১৫৷ আর বাকি ১৩টি নতুন রোগীর টেস্ট৷’’ তিনি বলেন, ‘‘ক্যাপাসিটি কম এবং তারমধ্যে আবার টেস্টিং কিট কম৷ সব মিলিয়ে সংকট তৈরি হয়েছে৷’’

জানা গেছে পিসিআর যন্ত্র দুই ধরনের৷ এরমধ্যে একটিতে লাল এবং অন্যটিতে হলুদ কিট ব্যবহার করা হয়৷ হলুদ কিটের সরবরাহ একদমই নাই৷ আমাদানিকারকরা গত কয়েক সপ্তাহে হলুদ কিট আনেননি৷ নারায়ণগঞ্জের খানপুর তিনশ শয্যা হাসপাতালে হলুদ কিট ব্যবহার করা হয়৷

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডা. নাসিমা সুলাতানা জানান, কিটের জন্য বাংলাদেশ পুরোপুরিই চীনের ওপর  নির্ভরশীল৷ আমদানিকারকরা ঠিক সময় আমদানি করতে না পারায় কিট নিয়ে মাঝেমধ্যে ঝামেলা হয়৷ তিনি বলেন, ‘‘আমরা চেষ্টা করছি যাতে কিটের কোনো সংকট না হয়৷’’

আর অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ দাবি করেন, কিটের কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো সংকট নাই৷ স্থানীয়ভাবে কোথাও কোথাও হতে পারে৷ তিনি বলেন, ‘‘যেখানে কিটের সংকট হচেছ সেখানকার নমুনা আমরা ঢাকায় এনে পরীক্ষা করছি৷ পরীক্ষা বন্ধ নাই৷’’

তিনি দাবি করেন, সবশেষ সংকট তৈরি হয়েছে আমদানিকারকদের ভুলের কারণে৷ তারা সবই লাল কিট এনেছেন৷ ফলে হলুদ কিট ব্যবহারকারী পিসিআর মেশিনগুলোতে পরীক্ষা করা যাচ্ছে না বলে জানান ডা. আবুল কালাম আজাদ৷

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

আমদানির ‘ভুলে’ কিট সংকট

আপডেট টাইম : 06:47:48 am, Monday, 22 June 2020

করোনা টেস্টিং কিট-এর সংকট দেখা দিয়েছে৷ এ কারণে করোনার হটস্পট নারায়ণগঞ্জের খানপুর হাসপাতালে চার দিন ধরে পরীক্ষা বন্ধ আছে৷ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরও সংকটের বিষয়টি স্বীকার করেছে৷

বাংলাদেশে এখন গড়ে ১৫ হাজার নমুনা পরীক্ষা করা হয়৷ ৬২টি টেস্টিং সেন্টারের সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে চাহিদা আছে ২০ হাজার কিটের৷ তবে এর চেয়ে আরো চার-পাঁচগুণ বেশি মানুষ টেস্ট করাতে চান৷

নারায়ণগঞ্জের খানপুর তিনশ শয্যা হাসপাতালে ১৮ জুন থেকে পিসিআর পদ্ধতিতে করোনা টেস্ট বন্ধ আছে৷  এই চার দিনে কয়েক হাজার রোগী টেস্ট করাতে না পেরে ফিরে গেছেন৷ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আগ্রহীদের জানিয়ে দিয়েছে কিট না আসা পর্যন্ত আর কোনো টেস্টের সিরিয়াল দেয়া হবে না৷ আর কবে এই কিট পাওয়া যাবে তা কেউই বলতে পারছেন না৷

 

হাসপাতালের রেসিডেন্ট ফিজিশিয়ান (আরপি) ডা. শামসুদ্দোহা সরকার জানান, কিট শেষ হওয়ার আগেই তারা সিভিল সার্জনের মাধ্যমে সাত দিন আগে কিটের জন্য আবেদন করেছেন৷ কিন্তু কিট এখনো পাননি৷ কবে পাবেন তাও জানেন না৷ তাই পরীক্ষা বন্ধ করে দিয়েছেন৷ তিনি বলেন, ‘‘কিটতো আমাদের হাতে নাই৷ এটা আমরা মন্ত্রণালয় হয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছ থেকে পাই৷ জানতে পেরেছি কিট আমদানিতে সমস্যা হচেছ৷ তাই সংকট তৈরি হয়েছে৷’’

এই সংকট এখন সারাদেশেই৷ এই হাসপাতালটিতে প্রতিদিন ২৮২টি নমুনা পরীক্ষার সক্ষমতা আছে৷ অন্যদিকে পরীক্ষা করাতে আসেন এক হাজারেও বেশি৷ ফলে কিট থাকলেও অধিকাংশ মানুষকেই ফিরে যেতে হয়৷

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসাপতালের অধ্যক্ষ শামীম হাসান জানান তারা প্রতিদিন তিনশ টেস্ট করতে পারেন৷ কিন্তু সেই পরিমান কিট তারা সব সময় পান না৷ এদিক সেদিক হয়৷ কিছু পরীক্ষা থেকে যায়৷ এদিকে কুষ্টিয়া এবং রংপুরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে সেখানেও কিটের সংকট আছে৷ তবে টেস্ট চলছে৷

রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. কামরুজ্জামান ইবনে তাজ জানান, ‘‘রংপুর সিটি এলাকা থেকে প্রতিদিন ৫৮টি নমুনার বেশি টেস্ট করা যায় না৷ কোটা করে দিয়েছে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল৷ এরমধ্যে পুলিশের ৩০, পুরাতন রোগীর ১৫৷ আর বাকি ১৩টি নতুন রোগীর টেস্ট৷’’ তিনি বলেন, ‘‘ক্যাপাসিটি কম এবং তারমধ্যে আবার টেস্টিং কিট কম৷ সব মিলিয়ে সংকট তৈরি হয়েছে৷’’

জানা গেছে পিসিআর যন্ত্র দুই ধরনের৷ এরমধ্যে একটিতে লাল এবং অন্যটিতে হলুদ কিট ব্যবহার করা হয়৷ হলুদ কিটের সরবরাহ একদমই নাই৷ আমাদানিকারকরা গত কয়েক সপ্তাহে হলুদ কিট আনেননি৷ নারায়ণগঞ্জের খানপুর তিনশ শয্যা হাসপাতালে হলুদ কিট ব্যবহার করা হয়৷

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডা. নাসিমা সুলাতানা জানান, কিটের জন্য বাংলাদেশ পুরোপুরিই চীনের ওপর  নির্ভরশীল৷ আমদানিকারকরা ঠিক সময় আমদানি করতে না পারায় কিট নিয়ে মাঝেমধ্যে ঝামেলা হয়৷ তিনি বলেন, ‘‘আমরা চেষ্টা করছি যাতে কিটের কোনো সংকট না হয়৷’’

আর অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ দাবি করেন, কিটের কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো সংকট নাই৷ স্থানীয়ভাবে কোথাও কোথাও হতে পারে৷ তিনি বলেন, ‘‘যেখানে কিটের সংকট হচেছ সেখানকার নমুনা আমরা ঢাকায় এনে পরীক্ষা করছি৷ পরীক্ষা বন্ধ নাই৷’’

তিনি দাবি করেন, সবশেষ সংকট তৈরি হয়েছে আমদানিকারকদের ভুলের কারণে৷ তারা সবই লাল কিট এনেছেন৷ ফলে হলুদ কিট ব্যবহারকারী পিসিআর মেশিনগুলোতে পরীক্ষা করা যাচ্ছে না বলে জানান ডা. আবুল কালাম আজাদ৷