
দেশজুড়ে প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। । গরমে হাঁসফাঁস করছে জনজীবন। তীব্র উষ্ণতার পর প্রাকৃতিক নিয়মে বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মে মাসের ২৩ থেকে ২৮ তারিখের মধ্যে এ ঘূর্ণিঝড়টি সৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদ মোস্তফা কামাল পলাশ। ঘূর্ণিঝড়টির সম্ভাব্য নাম ‘শক্তি’। এটি শ্রীলঙ্কার প্রস্তাবিত নাম।
জ্যৈষ্ঠের প্রথম দিনে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে রোদ-বৃষ্টির যে আনাগোনা দেখা যাচ্ছে, সে প্রবণতা সপ্তাহ খানেক থাকতে পারে বলে আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আবহাওয়াবিদ শাহীনুল ইসলাম বৃহস্পতিবার (১৫ মে) দুপুরে জানিয়েছেন, এখন যে বৃষ্টি আর রোদ পরপর আসছে- আপাতত এরকমই চলবে। আগামী ৮-১০ দিন পর্যন্ত। সেই সঙ্গে যেসব জায়গায় তাপপ্রবাহ চলমান, কিছু-কিছু জায়গায় তা প্রশমিত হবে।”
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সকালের বুলেটিনে বলা হয়েছে, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বিদ্যুৎ চমকানো বা বৃষ্টি কিংবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেইসঙ্গে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। সারাদেশের দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
এদিকে ফরিদপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, চাঁদপুর জেলার পাশাপাশি খুলনা ও বরিশাল বিভাগের উপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে কিছু কিছু জায়গায় দাবদাহ প্রশমিত হতে পারে বলে আবহাওয়া অধিপ্তরের পূর্ভাবাসে বলা হয়েছে।
তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উঠলে তাকে মৃদু তাপপ্রবাহ ধরা হয়। ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসকে বলা হয় মাঝারি এবং ৪০ থেকে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাকে তীব্র তাপপ্রবাহ বলা হয়।
গত রোববার (১১ মে) আবহাওয়াবিদ মোস্তফা কামাল তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে লিখেছেন, মে মাসের ২৩ থেকে ২৮ তারিখের মধ্যে বঙ্গোপসাগরে একটি ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির প্রবল আশঙ্কা করা যাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়টি ভারতের ওড়িশা উপকূল ও বাংলাদেশের চট্টগ্রাম উপকূলের মধ্যবর্তী যে কোনো স্থানের ওপর দিয়ে স্থলভাগে আঘাত হানার প্রবল আশঙ্কা করা যাচ্ছে – ২৪ থেকে ২৬ মের মধ্যে। তবে ঘূর্ণিঝড়টি পশ্চিমবঙ্গ ও খুলনা বিভাগের উপর দিয়ে স্থলভাগে আঘাত হানার সম্ভাবনা অনেকটাই বেশি।
ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাসের মধ্যে ভারতের আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি) জানিয়েছে, দক্ষিণপূর্ব মৌসুমী বায়ু বঙ্গোপসাগর, দক্ষিণ আন্দামান সাগর, নিকোবার দ্বীপ এবং উত্তর আন্দামানের কিছু জায়গায় গতো মঙ্গলবার অগ্রসর হয়েছে।
তবে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জাগরণ জানিয়েছে, ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ এখনও ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। এই মৌসুমী ঝড়টি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে কি না সেটিও নিশ্চিত নয়।
বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম (বিডব্লিউওটি) জানিয়েছিল, ১৬ থেকে ১৮ মের মধ্যে সাগরে একটি সার্কুলেশন তৈরি হতে পারে। এরপর সেটি ধাপে ধাপে লঘুচাপ, নিম্নচাপ, গভীর নিম্নচাপ হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে।

প্রবাসীর কথা/নিউজডেস্ক 





















