Dhaka , Saturday, 8 August 2026
শিরোনাম :
বাংলায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রবাসীদের সাবধান করল সৌদি মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং শোকেসে অংশ নিয়েছে প্রাণ মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে হাইকমিশনারের মতবিনিময় ইরাকের নয়া প্রধানমন্ত্রী হলেন শিয়া আল- সুদানি পোস্টাল ভোটিং: প্রবাসীদের নিবন্ধনের সময় ৫ দিন—কোন দেশে কবে শুরু? বাহরাইন প্রবাসীদের জন্য সচেতনতামূলক মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্প দক্ষিণ আফ্রিকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১১, আহত ৩১ লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবি, নিহতদের সবাই বাংলাদেশি ‘প্রবাসীর ভোট প্রদান সহজ করা না হলে ভোটাধিকার মূল্যহীন’ স্বল্প খরচে জনশক্তি রপ্তানির মাধ্যমে রেমিট্যান্স বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ

মালয়েশিয়ায় মাকে হারানো মেয়েকে নিয়ে বিপাকে বাংলাদেশি

 

মালয়েশিয়ায় এক করুণ পরিস্থিতিতে পড়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশি মোহাম্মদ আলাউদ্দিন (৩৯)। সম্প্রতি তার স্ত্রী মারা গেছেন। রেখে গেছেন ৭ বছরের এক কন্যা সন্তান। স্ত্রীর শোক কাটতে না কাটতেই এবার ভিসা জটিলতায় পড়েছেন আলাউদ্দিন। যা তার জীবনকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

২০১৭ সালে মালয়েশিয়ার নাগরিক নূর শাইল্লাহ রেবতী আবদুল্লাহকে বিয়ে করেন আলাউদ্দিন। তাদের ঘর আলো করে জন্ম নেয় একমাত্র মেয়ে সিতি আমিনা (৭)। কন্যা সন্তান রেখে সম্প্রতি মারা যান রেবতী আবদুল্লাহ। মৃত্যুর আগে দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন তিনি।

স্ত্রীর মৃত্যুর পর একমাত্র মেয়ের দেখাশোনার দায়িত্ব সম্পূর্ণরূপে বাবা আলাউদ্দিনের কাঁধে এসে পড়ে। ফলে তিনি এখন আর কাজে যেতে পারেন না। মেয়ে আমিনা মালয়েশিয়ার নাগরিক হওয়ায় তার নামে সামাজিক কল্যাণ বিভাগ (জেভিএম) থেকে মাসে ৩০০ রিঙ্গিত সহায়তা আসে। সেটা দিয়েই অনেক কষ্টে সংসারের ব্যয়ভার চালিয়ে নিতে হচ্ছে।

আলাউদ্দিন জানান, মেয়ে আমিনারও অনেক শারীরিক সমস্যা রয়েছে। সে জরায়ু ছাড়াই জন্মগ্রহণ করেছে। রয়েছে শ্রবণ সমস্যা। এছাড়া তার একটি কিডনিতে সমস্যা এবং ডান হাতে একটু বিকৃতি রয়েছে। এজন্য তার অতিরিক্ত যত্ন নিতে হয়।

এর সঙ্গে সম্প্রতি যোগ হয়েছে আরও বড় একটা সমস্যা যা আলাউদ্দিনের জীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলেছে। সমস্যাটি হলো, আলাউদ্দিন বর্তমানে শুধুমাত্র একটি অস্থায়ী ভিজিট পাস (পিএলএস) নিয়ে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন। আগামী ২৭ মে যার মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। অর্থাৎ এরপর তিনি অবৈধ হয়ে যাবেন এবং তিনি মালয়েশিয়ায় আর কাজ করতে পারবেন না।

আলাউদ্দিন জানান, স্ত্রী মালয়েশিয়ার নাগরিক হওয়ায় তিনি আগেই দীর্ঘমেয়াদী ভিসার জন্য আবেদনের চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু প্রতারণার শিকার হন। তিনি জানান, ভিসার জন্য এক ব্যক্তির কাছে সাড়ে সাত হাজার রিঙ্গিত দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই ব্যক্তি প্রতারণা করে। ফলে অর্থের অভাবে তিনি আর নতুন করে ভিসার আবেদন করতে পারেননি।

এমন পরিস্থিতিতে এক চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন আলাউদ্দিন। তার এখন একটাই ভয়, যদি তাকে শেষ পর্যন্ত মালয়েশিয়া ছাড়তে হয়, তাহলে তার ছোট্ট মেয়েটির কী হবে? এখানে তাদের আত্মীয়-স্বজন বলতে তেমন কেউ নেই। স্থানীয় প্রতিবেশী ও কিছু সমাজসেবী অসহায় পরিবারের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। তারা আইনি পরামর্শ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের চেষ্টা করছেন।

স্থানীয় প্রতিবেশীদের পাশাপাশি আলাউদ্দিন মালয়েশিয়া সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, তার পরিস্থিতি বিবেচনা করে যেন ভিসার জটিলতা নিরসন করা হয় এবং মেয়েটিকে তার বাবার কাছে নিরাপদে থাকার সুযোগ দেয়া হয়। একজন প্রতিবেশী বলেন, ‘এই মানুষটি অনেক কষ্টের মধ্যদিয়ে যাচ্ছেন। তার উপর ছোট্ট মেয়েটিকে নিয়ে এই ভিসা সংকট। এটা সত্যিই হৃদয়বিদারক। আমরা আশা করছি, কর্তৃপক্ষ মানবিক দিক বিবেচনা করে দ্রুত এর সমাধান করবেন।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Rahman

জনপ্রিয় সংবাদ

মালয়েশিয়ায় মাকে হারানো মেয়েকে নিয়ে বিপাকে বাংলাদেশি

আপডেট টাইম : 06:42:50 pm, Sunday, 18 May 2025

 

মালয়েশিয়ায় এক করুণ পরিস্থিতিতে পড়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশি মোহাম্মদ আলাউদ্দিন (৩৯)। সম্প্রতি তার স্ত্রী মারা গেছেন। রেখে গেছেন ৭ বছরের এক কন্যা সন্তান। স্ত্রীর শোক কাটতে না কাটতেই এবার ভিসা জটিলতায় পড়েছেন আলাউদ্দিন। যা তার জীবনকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

২০১৭ সালে মালয়েশিয়ার নাগরিক নূর শাইল্লাহ রেবতী আবদুল্লাহকে বিয়ে করেন আলাউদ্দিন। তাদের ঘর আলো করে জন্ম নেয় একমাত্র মেয়ে সিতি আমিনা (৭)। কন্যা সন্তান রেখে সম্প্রতি মারা যান রেবতী আবদুল্লাহ। মৃত্যুর আগে দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন তিনি।

স্ত্রীর মৃত্যুর পর একমাত্র মেয়ের দেখাশোনার দায়িত্ব সম্পূর্ণরূপে বাবা আলাউদ্দিনের কাঁধে এসে পড়ে। ফলে তিনি এখন আর কাজে যেতে পারেন না। মেয়ে আমিনা মালয়েশিয়ার নাগরিক হওয়ায় তার নামে সামাজিক কল্যাণ বিভাগ (জেভিএম) থেকে মাসে ৩০০ রিঙ্গিত সহায়তা আসে। সেটা দিয়েই অনেক কষ্টে সংসারের ব্যয়ভার চালিয়ে নিতে হচ্ছে।

আলাউদ্দিন জানান, মেয়ে আমিনারও অনেক শারীরিক সমস্যা রয়েছে। সে জরায়ু ছাড়াই জন্মগ্রহণ করেছে। রয়েছে শ্রবণ সমস্যা। এছাড়া তার একটি কিডনিতে সমস্যা এবং ডান হাতে একটু বিকৃতি রয়েছে। এজন্য তার অতিরিক্ত যত্ন নিতে হয়।

এর সঙ্গে সম্প্রতি যোগ হয়েছে আরও বড় একটা সমস্যা যা আলাউদ্দিনের জীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলেছে। সমস্যাটি হলো, আলাউদ্দিন বর্তমানে শুধুমাত্র একটি অস্থায়ী ভিজিট পাস (পিএলএস) নিয়ে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন। আগামী ২৭ মে যার মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। অর্থাৎ এরপর তিনি অবৈধ হয়ে যাবেন এবং তিনি মালয়েশিয়ায় আর কাজ করতে পারবেন না।

আলাউদ্দিন জানান, স্ত্রী মালয়েশিয়ার নাগরিক হওয়ায় তিনি আগেই দীর্ঘমেয়াদী ভিসার জন্য আবেদনের চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু প্রতারণার শিকার হন। তিনি জানান, ভিসার জন্য এক ব্যক্তির কাছে সাড়ে সাত হাজার রিঙ্গিত দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই ব্যক্তি প্রতারণা করে। ফলে অর্থের অভাবে তিনি আর নতুন করে ভিসার আবেদন করতে পারেননি।

এমন পরিস্থিতিতে এক চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন আলাউদ্দিন। তার এখন একটাই ভয়, যদি তাকে শেষ পর্যন্ত মালয়েশিয়া ছাড়তে হয়, তাহলে তার ছোট্ট মেয়েটির কী হবে? এখানে তাদের আত্মীয়-স্বজন বলতে তেমন কেউ নেই। স্থানীয় প্রতিবেশী ও কিছু সমাজসেবী অসহায় পরিবারের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। তারা আইনি পরামর্শ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের চেষ্টা করছেন।

স্থানীয় প্রতিবেশীদের পাশাপাশি আলাউদ্দিন মালয়েশিয়া সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, তার পরিস্থিতি বিবেচনা করে যেন ভিসার জটিলতা নিরসন করা হয় এবং মেয়েটিকে তার বাবার কাছে নিরাপদে থাকার সুযোগ দেয়া হয়। একজন প্রতিবেশী বলেন, ‘এই মানুষটি অনেক কষ্টের মধ্যদিয়ে যাচ্ছেন। তার উপর ছোট্ট মেয়েটিকে নিয়ে এই ভিসা সংকট। এটা সত্যিই হৃদয়বিদারক। আমরা আশা করছি, কর্তৃপক্ষ মানবিক দিক বিবেচনা করে দ্রুত এর সমাধান করবেন।’