Dhaka , Saturday, 8 August 2026
শিরোনাম :
বাংলায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রবাসীদের সাবধান করল সৌদি মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং শোকেসে অংশ নিয়েছে প্রাণ মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে হাইকমিশনারের মতবিনিময় ইরাকের নয়া প্রধানমন্ত্রী হলেন শিয়া আল- সুদানি পোস্টাল ভোটিং: প্রবাসীদের নিবন্ধনের সময় ৫ দিন—কোন দেশে কবে শুরু? বাহরাইন প্রবাসীদের জন্য সচেতনতামূলক মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্প দক্ষিণ আফ্রিকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১১, আহত ৩১ লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবি, নিহতদের সবাই বাংলাদেশি ‘প্রবাসীর ভোট প্রদান সহজ করা না হলে ভোটাধিকার মূল্যহীন’ স্বল্প খরচে জনশক্তি রপ্তানির মাধ্যমে রেমিট্যান্স বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ

মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিন ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : 04:51:11 pm, Monday, 29 September 2025
  • 114 বার

প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে আগামী ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন দেশের সব নদী ও উপকূলে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, বিক্রি ও মজুদ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে।

সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার এ সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেন। তিনি জানান, এ সময়ে দেশের ৩৭ জেলার ১৬৫ উপজেলার ৬ লাখ ২০ হাজারের বেশি জেলে পরিবারকে খাদ্য সহায়তা হিসেবে পরিবারপ্রতি ২৫ কেজি চাল দেওয়া হবে।

 

উপদেষ্টা বলেন, “প্রজনন মৌসুমে আশ্বিনী পূর্ণিমা ও অমাবস্যা—উভয় সময়ই মা ইলিশ ডিম ছাড়ে। তাই পূর্ণিমার আগে ও অমাবস্যার পরের দিনগুলো মিলিয়ে টানা ২২ দিনের জন্য মাছ ধরা বন্ধ রাখা হচ্ছে। এ কর্মসূচি ‘মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান–২০২৫’ নামে বাস্তবায়ন করা হবে।”

এই সময়ে ইলিশ ধরা বন্ধে মৎস্য বিভাগ ছাড়াও নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ড, নৌ ও বিমান বাহিনীসহ সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে থাকবে। জলসীমার বাইরে বিদেশি ট্রলারের অনুপ্রবেশ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে এবং নদীতে ড্রেজিং কার্যক্রমও স্থগিত থাকবে।

সহায়তা কার্যক্রমে প্রায় ১৫ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হবে। ফরিদা আখতার জানান, গত বছর একই ধরনের অভিযানে ২,১৬৯টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে প্রায় ৫৫ মেট্রিক টন ইলিশ জব্দ, ৬১২ লাখ মিটার অবৈধ জাল ধ্বংস এবং ৭৫ লাখ টাকার বেশি জরিমানা আদায় হয়েছিল।

গবেষণা তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের অভিযানের ফলে প্রায় ৫৩ শতাংশ মা ইলিশ নিরাপদে ডিম ছাড়তে পেরেছিল। এর মাধ্যমে প্রায় ৪৪ হাজার কোটি জাটকা সংরক্ষণ সম্ভব হয়েছে। এবারের অভিযান আরও সংগঠিত ও কার্যকরভাবে পরিচালিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এছাড়া, এ বছর দুর্গাপূজা উপলক্ষে ভারতকে ১,২০০ মেট্রিক টন ইলিশ রফতানির অনুমোদন দেওয়া হলেও ১৬ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে মাত্র ৮১ মেট্রিক টনের মতো ইলিশ গেছে বলে জানান উপদেষ্টা।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইলিশ আহরণ কমে যাওয়ার প্রধান কারণ অবৈধ জালের ব্যবহার। বিশেষ করে কারেন্ট জাল, মশারী জাল ও ফাঁদ জালের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ জাটকা ধরা পড়ছে। মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন ১৯৫০ (সংশোধিত ২০২০) অনুযায়ী এসব জাল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Rahman

জনপ্রিয় সংবাদ

মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিন ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ

আপডেট টাইম : 04:51:11 pm, Monday, 29 September 2025

প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে আগামী ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন দেশের সব নদী ও উপকূলে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, বিক্রি ও মজুদ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে।

সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার এ সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেন। তিনি জানান, এ সময়ে দেশের ৩৭ জেলার ১৬৫ উপজেলার ৬ লাখ ২০ হাজারের বেশি জেলে পরিবারকে খাদ্য সহায়তা হিসেবে পরিবারপ্রতি ২৫ কেজি চাল দেওয়া হবে।

 

উপদেষ্টা বলেন, “প্রজনন মৌসুমে আশ্বিনী পূর্ণিমা ও অমাবস্যা—উভয় সময়ই মা ইলিশ ডিম ছাড়ে। তাই পূর্ণিমার আগে ও অমাবস্যার পরের দিনগুলো মিলিয়ে টানা ২২ দিনের জন্য মাছ ধরা বন্ধ রাখা হচ্ছে। এ কর্মসূচি ‘মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান–২০২৫’ নামে বাস্তবায়ন করা হবে।”

এই সময়ে ইলিশ ধরা বন্ধে মৎস্য বিভাগ ছাড়াও নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ড, নৌ ও বিমান বাহিনীসহ সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে থাকবে। জলসীমার বাইরে বিদেশি ট্রলারের অনুপ্রবেশ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে এবং নদীতে ড্রেজিং কার্যক্রমও স্থগিত থাকবে।

সহায়তা কার্যক্রমে প্রায় ১৫ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হবে। ফরিদা আখতার জানান, গত বছর একই ধরনের অভিযানে ২,১৬৯টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে প্রায় ৫৫ মেট্রিক টন ইলিশ জব্দ, ৬১২ লাখ মিটার অবৈধ জাল ধ্বংস এবং ৭৫ লাখ টাকার বেশি জরিমানা আদায় হয়েছিল।

গবেষণা তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের অভিযানের ফলে প্রায় ৫৩ শতাংশ মা ইলিশ নিরাপদে ডিম ছাড়তে পেরেছিল। এর মাধ্যমে প্রায় ৪৪ হাজার কোটি জাটকা সংরক্ষণ সম্ভব হয়েছে। এবারের অভিযান আরও সংগঠিত ও কার্যকরভাবে পরিচালিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এছাড়া, এ বছর দুর্গাপূজা উপলক্ষে ভারতকে ১,২০০ মেট্রিক টন ইলিশ রফতানির অনুমোদন দেওয়া হলেও ১৬ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে মাত্র ৮১ মেট্রিক টনের মতো ইলিশ গেছে বলে জানান উপদেষ্টা।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইলিশ আহরণ কমে যাওয়ার প্রধান কারণ অবৈধ জালের ব্যবহার। বিশেষ করে কারেন্ট জাল, মশারী জাল ও ফাঁদ জালের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ জাটকা ধরা পড়ছে। মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন ১৯৫০ (সংশোধিত ২০২০) অনুযায়ী এসব জাল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ বলে তিনি উল্লেখ করেন।