Dhaka , Wednesday, 23 September 2026
শিরোনাম :
বৈধ বিদেশযাত্রা হোক সহজ, বন্ধ হোক অযথা হয়রানি বাংলায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রবাসীদের সাবধান করল সৌদি মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং শোকেসে অংশ নিয়েছে প্রাণ মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে হাইকমিশনারের মতবিনিময় ইরাকের নয়া প্রধানমন্ত্রী হলেন শিয়া আল- সুদানি পোস্টাল ভোটিং: প্রবাসীদের নিবন্ধনের সময় ৫ দিন—কোন দেশে কবে শুরু? বাহরাইন প্রবাসীদের জন্য সচেতনতামূলক মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্প দক্ষিণ আফ্রিকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১১, আহত ৩১ লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবি, নিহতদের সবাই বাংলাদেশি ‘প্রবাসীর ভোট প্রদান সহজ করা না হলে ভোটাধিকার মূল্যহীন’

শহীদ মিনারে ভাষাসংগ্রামী আহমদ রফিককে শেষ শ্রদ্ধা

ভাষাসংগ্রামী, প্রাবন্ধিক ও রবীন্দ্রতত্ত্ববিদ আহমদ রফিকের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে সর্বস্তরের মানুষ সমবেত হয়েছেন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। শনিবার (৪ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে তার মরদেহ সেখানে পৌঁছালে ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতিপ্রেমীরা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

 

মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স শহীদ মিনারে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে শ্রদ্ধারত জনতা তাকে ঘিরে ফেলেন। পরে ‘আহমদ রফিক ফাউন্ডেশন’-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তার মরদেহ ইব্রাহিম মেডিকেল কলেজ (বারডেম) হাসপাতালে দান করা হবে, যা ছিল তার শেষ ইচ্ছা।

 

সংগঠনটির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, মরদেহ শোকযাত্রার মাধ্যমে হাসপাতালে নেওয়া হবে, যেখানে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ ও গবেষণায় এটি ব্যবহৃত হবে।

গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ১২ মিনিটে বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৯৬ বছর বয়সে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন আহমদ রফিক। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি জটিলতা, আলঝেইমার্স, পারকিনসন্সসহ নানা রোগে ভুগছিলেন।

১৯২৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জন্ম নেওয়া আহমদ রফিক স্ত্রী হারানোর পর রাজধানীর নিউ ইস্কাটনের গাউসনগরে একা বসবাস করতেন। নিঃসন্তান এই ভাষাসংগ্রামীর জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ ছিল তার বিশাল বইয়ের ভাণ্ডার।

 

 

ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও গবেষণায় তার অবদান অনন্য। শতাধিক গ্রন্থ রচনা ও সম্পাদনা করেছেন তিনি। একুশে পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কারসহ নানা সম্মাননায় ভূষিত হন। দুই বাংলায় রবীন্দ্রচর্চায় অসামান্য ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে কলকাতার টেগর রিসার্চ ইনস্টিটিউট তাকে ‘রবীন্দ্রতত্ত্বাচার্য’ উপাধি প্রদান করে।

 

২০১৯ সালে তার দৃষ্টিশক্তি কমতে শুরু করে, পরে তিনি প্রায় সম্পূর্ণ অন্ধ হয়ে পড়েন। ২০২১ সালে পড়ে গিয়ে পা ভাঙার পর তার শারীরিক অবস্থা আরও অবনতি হয়। জীবদ্দশায় সাহিত্য ও ভাষা আন্দোলনে তার অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে রাষ্ট্রীয় সহায়তার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছিলেন বুদ্ধিজীবী সমাজ।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Rahman

ফরাসি আভিজাত্যের রাজমুকুট ও পাথরে খোদাই করা সুরের প্রাসাদ

শহীদ মিনারে ভাষাসংগ্রামী আহমদ রফিককে শেষ শ্রদ্ধা

আপডেট টাইম : 01:26:13 pm, Saturday, 4 October 2025

ভাষাসংগ্রামী, প্রাবন্ধিক ও রবীন্দ্রতত্ত্ববিদ আহমদ রফিকের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে সর্বস্তরের মানুষ সমবেত হয়েছেন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। শনিবার (৪ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে তার মরদেহ সেখানে পৌঁছালে ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতিপ্রেমীরা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

 

মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স শহীদ মিনারে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে শ্রদ্ধারত জনতা তাকে ঘিরে ফেলেন। পরে ‘আহমদ রফিক ফাউন্ডেশন’-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তার মরদেহ ইব্রাহিম মেডিকেল কলেজ (বারডেম) হাসপাতালে দান করা হবে, যা ছিল তার শেষ ইচ্ছা।

 

সংগঠনটির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, মরদেহ শোকযাত্রার মাধ্যমে হাসপাতালে নেওয়া হবে, যেখানে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ ও গবেষণায় এটি ব্যবহৃত হবে।

গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ১২ মিনিটে বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৯৬ বছর বয়সে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন আহমদ রফিক। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি জটিলতা, আলঝেইমার্স, পারকিনসন্সসহ নানা রোগে ভুগছিলেন।

১৯২৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জন্ম নেওয়া আহমদ রফিক স্ত্রী হারানোর পর রাজধানীর নিউ ইস্কাটনের গাউসনগরে একা বসবাস করতেন। নিঃসন্তান এই ভাষাসংগ্রামীর জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ ছিল তার বিশাল বইয়ের ভাণ্ডার।

 

 

ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও গবেষণায় তার অবদান অনন্য। শতাধিক গ্রন্থ রচনা ও সম্পাদনা করেছেন তিনি। একুশে পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কারসহ নানা সম্মাননায় ভূষিত হন। দুই বাংলায় রবীন্দ্রচর্চায় অসামান্য ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে কলকাতার টেগর রিসার্চ ইনস্টিটিউট তাকে ‘রবীন্দ্রতত্ত্বাচার্য’ উপাধি প্রদান করে।

 

২০১৯ সালে তার দৃষ্টিশক্তি কমতে শুরু করে, পরে তিনি প্রায় সম্পূর্ণ অন্ধ হয়ে পড়েন। ২০২১ সালে পড়ে গিয়ে পা ভাঙার পর তার শারীরিক অবস্থা আরও অবনতি হয়। জীবদ্দশায় সাহিত্য ও ভাষা আন্দোলনে তার অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে রাষ্ট্রীয় সহায়তার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছিলেন বুদ্ধিজীবী সমাজ।