Dhaka , Saturday, 8 August 2026
শিরোনাম :
বাংলায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রবাসীদের সাবধান করল সৌদি মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং শোকেসে অংশ নিয়েছে প্রাণ মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে হাইকমিশনারের মতবিনিময় ইরাকের নয়া প্রধানমন্ত্রী হলেন শিয়া আল- সুদানি পোস্টাল ভোটিং: প্রবাসীদের নিবন্ধনের সময় ৫ দিন—কোন দেশে কবে শুরু? বাহরাইন প্রবাসীদের জন্য সচেতনতামূলক মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্প দক্ষিণ আফ্রিকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১১, আহত ৩১ লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবি, নিহতদের সবাই বাংলাদেশি ‘প্রবাসীর ভোট প্রদান সহজ করা না হলে ভোটাধিকার মূল্যহীন’ স্বল্প খরচে জনশক্তি রপ্তানির মাধ্যমে রেমিট্যান্স বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ

সেপ্টেম্বর মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ৪১৭ জনের

গত সেপ্টেম্বর মাসে দেশের সড়কে ৪৪৬টি দুর্ঘটনায় ৪১৭ জনের মৃত্যু এবং ৬৮২ জনের আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। নিহতদের মধ্যে নারী ৬৩ জন ও শিশু ৪৭ জন বলে জানিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।

শনিবার (৪ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি জানায়, দেশের জাতীয় দৈনিক, অনলাইন সংবাদমাধ্যম, টেলিভিশন এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে।

 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাই ছিল সবচেয়ে বেশি—১৫১টি ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৪৩ জন, যা মোট নিহতের প্রায় ৩৪ শতাংশ। এছাড়া ১১২ জন পথচারী এবং ৫৬ জন চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন। শিক্ষার্থীদের মৃত্যুও উদ্বেগজনক—মাত্র এক মাসে প্রাণ হারিয়েছেন ৪৯ জন।

দুর্ঘটনার অবস্থান বিশ্লেষণে দেখা যায়, জাতীয় মহাসড়কে সবচেয়ে বেশি ১৬১টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। আঞ্চলিক সড়কে ১৩৯টি, গ্রামীণ সড়কে ৫৭টি এবং শহুরে সড়কে ৮৯টি দুর্ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।

 

প্রকারভেদে দেখা যায়, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সংঘটিত দুর্ঘটনা সবচেয়ে বেশি—১৭১টি। এরপর পথচারীকে চাপা বা ধাক্কা দেওয়ার ঘটনা ১১৯টি, মুখোমুখি সংঘর্ষ ৯২টি এবং পেছন দিক থেকে ধাক্কার ঘটনা ৫৮টি।

ভৌগোলিকভাবে, ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে—১২৮টি দুর্ঘটনায় ১২৪ জনের মৃত্যু। সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে বরিশাল বিভাগে, যেখানে ১৬টি ঘটনায় ১৪ জন নিহত হয়েছেন। চট্টগ্রাম জেলায় ৫২টি দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ৪৫ জনের, আর রাজধানী ঢাকায় ৪২টি দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত ও ৩৩ জন আহত হয়েছেন।

 

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের বিশ্লেষণে সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে—ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও সড়ক, অতিরিক্ত গতি, চালকদের অদক্ষতা ও বেপরোয়া মানসিকতা, মহাসড়কে ধীরগতির যান চলাচল এবং দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা।

সংস্থাটি বলছে, বেশিরভাগ দুর্ঘটনা ঘটে গতি নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে। তাই প্রযুক্তিনির্ভর গতি পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু করা, চালকদের প্রশিক্ষণ জোরদার করা এবং গণমাধ্যমে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে জনসচেতনতামূলক প্রচারণা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে তারা।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Rahman

জনপ্রিয় সংবাদ

সেপ্টেম্বর মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ৪১৭ জনের

আপডেট টাইম : 04:52:18 pm, Saturday, 4 October 2025

গত সেপ্টেম্বর মাসে দেশের সড়কে ৪৪৬টি দুর্ঘটনায় ৪১৭ জনের মৃত্যু এবং ৬৮২ জনের আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। নিহতদের মধ্যে নারী ৬৩ জন ও শিশু ৪৭ জন বলে জানিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।

শনিবার (৪ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি জানায়, দেশের জাতীয় দৈনিক, অনলাইন সংবাদমাধ্যম, টেলিভিশন এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে।

 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাই ছিল সবচেয়ে বেশি—১৫১টি ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৪৩ জন, যা মোট নিহতের প্রায় ৩৪ শতাংশ। এছাড়া ১১২ জন পথচারী এবং ৫৬ জন চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন। শিক্ষার্থীদের মৃত্যুও উদ্বেগজনক—মাত্র এক মাসে প্রাণ হারিয়েছেন ৪৯ জন।

দুর্ঘটনার অবস্থান বিশ্লেষণে দেখা যায়, জাতীয় মহাসড়কে সবচেয়ে বেশি ১৬১টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। আঞ্চলিক সড়কে ১৩৯টি, গ্রামীণ সড়কে ৫৭টি এবং শহুরে সড়কে ৮৯টি দুর্ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।

 

প্রকারভেদে দেখা যায়, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সংঘটিত দুর্ঘটনা সবচেয়ে বেশি—১৭১টি। এরপর পথচারীকে চাপা বা ধাক্কা দেওয়ার ঘটনা ১১৯টি, মুখোমুখি সংঘর্ষ ৯২টি এবং পেছন দিক থেকে ধাক্কার ঘটনা ৫৮টি।

ভৌগোলিকভাবে, ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে—১২৮টি দুর্ঘটনায় ১২৪ জনের মৃত্যু। সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে বরিশাল বিভাগে, যেখানে ১৬টি ঘটনায় ১৪ জন নিহত হয়েছেন। চট্টগ্রাম জেলায় ৫২টি দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ৪৫ জনের, আর রাজধানী ঢাকায় ৪২টি দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত ও ৩৩ জন আহত হয়েছেন।

 

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের বিশ্লেষণে সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে—ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও সড়ক, অতিরিক্ত গতি, চালকদের অদক্ষতা ও বেপরোয়া মানসিকতা, মহাসড়কে ধীরগতির যান চলাচল এবং দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা।

সংস্থাটি বলছে, বেশিরভাগ দুর্ঘটনা ঘটে গতি নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে। তাই প্রযুক্তিনির্ভর গতি পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু করা, চালকদের প্রশিক্ষণ জোরদার করা এবং গণমাধ্যমে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে জনসচেতনতামূলক প্রচারণা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে তারা।