শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় নির্দিষ্ট কিছু গুরুত্বপূর্ণ খাতে বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে বিশেষ অনুমোদন সুবিধা চালু করেছে মালয়েশিয়া সরকার। এ উদ্যোগের আওতায় আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিদেশি কর্মী কোটা অনুমোদনের আবেদনগুলো ‘কেস বাই কেস’ ভিত্তিতে বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুশন ইসমাইল।
মঙ্গলবার প্রকাশিত এক সরকারি বিবৃতিতে তিনি জানান, সরকার তিনটি প্রধান খাত ও দশটি উপখাতে বিদেশি কর্মী নিয়োগের কোটা সহজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে উৎপাদনশীল খাতে শ্রম সংকট দূর হয় এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ব্যাহত না হয়।
সুবিধাপ্রাপ্ত প্রধান তিনটি খাত হলো, বৃক্ষরোপণ, কৃষি, খনি ও খনন। এছাড়াও দশটি উপখাত হলো- নিরাপত্তা পরিসেবা, ধাতু স্ক্র্যাপ সামগ্রী, পরিষ্কার- পরিচ্ছন্নতা ও ভবন রক্ষণাবেক্ষণ, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসা, লন্ড্রি, রেস্তোরাঁ, স্থল ভিত্তিক গুদামজাতকরণ, কার্গো হ্যান্ডলিং, সরকারি প্রকল্পের অধীনে নির্মাণ কাজ ও মালয়েশিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি কর্তৃক অনুমোদিত নতুন বিনিয়োগ।
নিরাপত্তা সেবা, ধাতব স্ক্র্যাপ সামগ্রী প্রক্রিয়াকরণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও ভবন রক্ষণাবেক্ষণ, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসা, লন্ড্রি, রেস্তোরাঁ, গুদামজাতকরণ, কার্গো হ্যান্ডলিং, সরকারি প্রকল্পের অধীনে নির্মাণ কাজ এবং মালয়েশিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (MIDA) অনুমোদিত নতুন বিনিয়োগ খাত।
মন্ত্রী জানান, এই নীতির মাধ্যমে সরকার শুধু শ্রম ঘাটতি পূরণ করছে না— বরং অর্থনৈতিক স্থিতি ও জনগণের স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার প্রতিশ্রুতিও রক্ষা করছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যারা বিদেশি কর্মী নিয়োগ করতে চান, তারা সরাসরি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়ান স্টপ সেন্টার (OSC for Foreign Worker Management)-এ আবেদন জমা দিতে পারবেন।
প্রতিটি আবেদন উপদ্বীপ মালয়েশিয়ার শ্রম বিভাগ (JTKSM) ও সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থা যাচাই-বাছাইয়ের পর অনুমোদন দেবে। আবেদনকারীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে এবং কোটা বরাদ্দ দেওয়া হবে প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত প্রয়োজন অনুসারে।
এ পদক্ষেপের ফলে শিল্পখাতগুলো দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা ও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখতে পারবে বলে মনে করছে মালয়েশিয়া সরকার।
একই সঙ্গে, আগামী বছর বিদেশি কর্মী নিয়োগ ও ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনারও সুযোগ পাবে সরকার, যা ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট শ্রমশক্তির মধ্যে বিদেশি কর্মীর সংখ্যা ১০ শতাংশে সীমিত রাখার জাতীয় লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
তবে এখনো কোন দেশ থেকে কতসংখ্যক কর্মী নেওয়া হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এ কারণে বাংলাদেশি কর্মীদের অযাচিত দালালচক্রে না পড়তে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রবাসী নেতারা।

প্রবাস ডেস্ক 

















