Dhaka , Saturday, 8 August 2026
শিরোনাম :
বাংলায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রবাসীদের সাবধান করল সৌদি মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং শোকেসে অংশ নিয়েছে প্রাণ মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে হাইকমিশনারের মতবিনিময় ইরাকের নয়া প্রধানমন্ত্রী হলেন শিয়া আল- সুদানি পোস্টাল ভোটিং: প্রবাসীদের নিবন্ধনের সময় ৫ দিন—কোন দেশে কবে শুরু? বাহরাইন প্রবাসীদের জন্য সচেতনতামূলক মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্প দক্ষিণ আফ্রিকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১১, আহত ৩১ লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবি, নিহতদের সবাই বাংলাদেশি ‘প্রবাসীর ভোট প্রদান সহজ করা না হলে ভোটাধিকার মূল্যহীন’ স্বল্প খরচে জনশক্তি রপ্তানির মাধ্যমে রেমিট্যান্স বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ

পর্তুগালের নতুন অভিবাসন আইন অনুমোদন করলেন রাষ্ট্রপতি

বহু বিতর্ক ও জল্পনার পর অবশেষে পর্তুগালের রাষ্ট্রপতি মার্সেলো রেবেলো দে সোজা দেশের নতুন অভিবাসন আইনের অনুমোদন দিয়েছেন। জাতীয় সংসদে বিপুল ভোটে পাস হওয়া এই আইনটি শিগগিরই কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে সরকার।

নতুন আইনে বিদেশিদের থাকা, কাজ করা ও পারিবারিক পুনর্মিলনের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে—যা নিয়ে ইতোমধ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিসহ অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

জাতীয় সংসদে প্রায় ৭০ শতাংশ সদস্য এই আইনটির পক্ষে ভোট দেন। এটি ২০০৭ সালের আইন নম্বর ২৩-এর সংশোধিত সংস্করণ, যেখানে অভিবাসীদের প্রবেশ, অবস্থান, বহিষ্কার ও নাগরিকত্ব অর্জনের বিধানগুলো পুনর্লিখিত হয়েছে।

কঠোরতা বাড়ল কর্মসংস্থান ভিসায়

নতুন আইনে জব ভিসা প্রাপ্তিতে কঠোরতা আরোপ করা হয়েছে। এখন থেকে কেবল নির্দিষ্ট যোগ্যতা ও পেশাগত দক্ষতা সম্পন্ন আবেদনকারীরাই কর্মসংস্থানের অনুমতি পাবেন। সাধারণ বা অদক্ষ শ্রমিকদের জন্য ভিসা প্রাপ্তি প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

পারিবারিক পুনর্মিলনে কঠিন শর্ত

পারিবারিক পুনর্মিলনের ক্ষেত্রেও নতুন শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। আবেদনকারীর কমপক্ষে দুই বছর বৈধভাবে পর্তুগালে অবস্থান থাকতে হবে, এবং দম্পতিদের যৌথভাবে অন্তত ১৮ মাস একসঙ্গে বসবাসের প্রমাণ দেখাতে হবে—যা পূর্বে প্রয়োজন ছিল না।

পর্তুগিজ ভাষাভাষীদের জন্যও বাড়তি শর্ত

পর্তুগিজ ভাষাভাষী দেশগুলোর নাগরিকদের জন্যও এবার অতিরিক্ত যাচাই ও অনুমোদনের শর্ত আরোপ করা হয়েছে। যদিও অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তান বা শারীরিক-মানসিকভাবে অক্ষম ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে কিছুটা ছাড় থাকছে, তবে সেটি সম্পূর্ণ সরকারি অনুমতির ওপর নির্ভর করবে।

রাষ্ট্রপতি দে সোজা জানিয়েছেন, আইনটির প্রস্তাবিত সংস্করণে আগে থাকা সংবিধানবিরোধী ধারাগুলো সংশোধন করা হয়েছে। এর আগে পর্তুগালের সাংবিধানিক আদালত পাঁচটি ধারা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল, যা নতুন সংস্করণে সংশোধন করা হয়েছে।

অভিবাসন-বিরোধী নীতির প্রভাব

বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কট্টর ডানপন্থি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই অভিবাসনবিরোধী নীতির প্রভাব বেড়েছে। মানবিক অভিবাসন ব্যবস্থার জন্য পরিচিত পর্তুগাল এবার তার অবস্থান বদলাচ্ছে, যা ইউরোপে অভিবাসী নিয়ন্ত্রণ নীতির নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Rahman

জনপ্রিয় সংবাদ

পর্তুগালের নতুন অভিবাসন আইন অনুমোদন করলেন রাষ্ট্রপতি

আপডেট টাইম : 12:41:13 pm, Sunday, 19 October 2025

বহু বিতর্ক ও জল্পনার পর অবশেষে পর্তুগালের রাষ্ট্রপতি মার্সেলো রেবেলো দে সোজা দেশের নতুন অভিবাসন আইনের অনুমোদন দিয়েছেন। জাতীয় সংসদে বিপুল ভোটে পাস হওয়া এই আইনটি শিগগিরই কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে সরকার।

নতুন আইনে বিদেশিদের থাকা, কাজ করা ও পারিবারিক পুনর্মিলনের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে—যা নিয়ে ইতোমধ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিসহ অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

জাতীয় সংসদে প্রায় ৭০ শতাংশ সদস্য এই আইনটির পক্ষে ভোট দেন। এটি ২০০৭ সালের আইন নম্বর ২৩-এর সংশোধিত সংস্করণ, যেখানে অভিবাসীদের প্রবেশ, অবস্থান, বহিষ্কার ও নাগরিকত্ব অর্জনের বিধানগুলো পুনর্লিখিত হয়েছে।

কঠোরতা বাড়ল কর্মসংস্থান ভিসায়

নতুন আইনে জব ভিসা প্রাপ্তিতে কঠোরতা আরোপ করা হয়েছে। এখন থেকে কেবল নির্দিষ্ট যোগ্যতা ও পেশাগত দক্ষতা সম্পন্ন আবেদনকারীরাই কর্মসংস্থানের অনুমতি পাবেন। সাধারণ বা অদক্ষ শ্রমিকদের জন্য ভিসা প্রাপ্তি প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

পারিবারিক পুনর্মিলনে কঠিন শর্ত

পারিবারিক পুনর্মিলনের ক্ষেত্রেও নতুন শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। আবেদনকারীর কমপক্ষে দুই বছর বৈধভাবে পর্তুগালে অবস্থান থাকতে হবে, এবং দম্পতিদের যৌথভাবে অন্তত ১৮ মাস একসঙ্গে বসবাসের প্রমাণ দেখাতে হবে—যা পূর্বে প্রয়োজন ছিল না।

পর্তুগিজ ভাষাভাষীদের জন্যও বাড়তি শর্ত

পর্তুগিজ ভাষাভাষী দেশগুলোর নাগরিকদের জন্যও এবার অতিরিক্ত যাচাই ও অনুমোদনের শর্ত আরোপ করা হয়েছে। যদিও অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তান বা শারীরিক-মানসিকভাবে অক্ষম ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে কিছুটা ছাড় থাকছে, তবে সেটি সম্পূর্ণ সরকারি অনুমতির ওপর নির্ভর করবে।

রাষ্ট্রপতি দে সোজা জানিয়েছেন, আইনটির প্রস্তাবিত সংস্করণে আগে থাকা সংবিধানবিরোধী ধারাগুলো সংশোধন করা হয়েছে। এর আগে পর্তুগালের সাংবিধানিক আদালত পাঁচটি ধারা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল, যা নতুন সংস্করণে সংশোধন করা হয়েছে।

অভিবাসন-বিরোধী নীতির প্রভাব

বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কট্টর ডানপন্থি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই অভিবাসনবিরোধী নীতির প্রভাব বেড়েছে। মানবিক অভিবাসন ব্যবস্থার জন্য পরিচিত পর্তুগাল এবার তার অবস্থান বদলাচ্ছে, যা ইউরোপে অভিবাসী নিয়ন্ত্রণ নীতির নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।