পর্তুগালের মন্তিজো শহরে একটি রাজনৈতিক বিলবোর্ড ঘিরে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে স্থানীয় বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে। বিতর্কিত ওই পোস্টারে দেশটির ডানপন্থী রাজনৈতিক দল ‘শেগা’ (Chega)–র নেতা আন্দ্রে ভেনচুরার ছবি ব্যবহার করে বড় অক্ষরে লেখা হয়েছে, “Isto não é Bangladesh”—বাংলায় অর্থ, “এটা বাংলাদেশ নয়।”
এই স্লোগানকে ঘিরে পর্তুগালে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসী ও অভিবাসনপন্থী সংগঠনগুলো একে বাংলাদেশকে অপমান এবং অভিবাসীবিরোধী প্রচারণার অংশ হিসেবে দেখছেন।
শেগা দলের নেতা আন্দ্রে ভেনচুরা বর্তমানে পর্তুগালের প্রধান বিরোধী দলের নেতৃত্বে রয়েছেন। আসন্ন ২০২৬ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি অভিবাসনবিরোধী অবস্থানকে রাজনৈতিক মূলধারায় তুলে ধরছেন। তার দলের নির্বাচনি বার্তায় “This is not Bangladesh” স্লোগানটি ব্যবহার করা হচ্ছে—যা বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ এশীয় শ্রমিকদের, বিশেষত বাংলাদেশি অভিবাসীদের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব উসকে দিতে ব্যবহৃত হচ্ছে।
“অপমানজনক ও বর্ণবাদী প্রচারণা”
পর্তুগালে বাংলাদেশি সংগঠন ‘কাজা দো বাংলাদেশ’–এর সাধারণ সম্পাদক শহীদ আহমদ (প্রিন্স) বলেন,“এই বিলবোর্ডে বাংলাদেশকে অবমাননা করা হয়েছে। আন্দ্রে ভেনচুরা বর্ণবাদী রাজনীতির প্রতীক হয়ে উঠেছেন। এমন বার্তা প্রবাসীদের হৃদয়ে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।”
তিনি আরও জানান, বিষয়টি ইতোমধ্যে বাংলাদেশ দূতাবাস ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নজরে এসেছে, এবং প্রবাসীরা চান “কূটনৈতিক পর্যায়ে এই অপমানজনক প্রচারণার জবাব দেওয়া হোক।”
বিলবোর্ডের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশটির নাগরিকদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ শেগার স্লোগানটিকে “অভিবাসন নীতির প্রতিচ্ছবি” হিসেবে সমর্থন করেছেন, তবে অনেকেই একে “বিদ্বেষমূলক ও লজ্জাজনক রাজনৈতিক প্রচারণা” বলে সমালোচনা করেছেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইউরোপজুড়ে অভিবাসনবিরোধী রাজনীতির ঢেউ এখন পর্তুগালেও প্রভাব ফেলছে, আর এই বিলবোর্ড সেই প্রবণতারই সাম্প্রতিক উদাহরণ।

প্রবাস ডেস্ক 





















