মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, রাশিয়া, চীন এবং পাকিস্তান গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে।
রোববার সিবিএস টেলিভিশনের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘৬০ মিনিটস’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “রাশিয়া ও চীন গোপনে পরীক্ষা চালাচ্ছে, অথচ কেউ সে বিষয়ে কথা বলে না। তাই আমরাও পরীক্ষা করব, কারণ তারা করছে। অবশ্যই উত্তর কোরিয়াও পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে, পাকিস্তানও একই কাজ করছে।”
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পরপরই চীন এ দাবি সরাসরি অস্বীকার করে।
সোমবার (৩ নভেম্বর) বেইজিংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বলেন, “চীন একটি দায়িত্বশীল পারমাণবিক শক্তিধর দেশ হিসেবে সর্বদা আত্মরক্ষামূলক নীতি অনুসরণ করেছে এবং পারমাণবিক পরীক্ষায় নিষেধাজ্ঞার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে আসছে।”
তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে পরামর্শ দেন, “ওয়াশিংটনের উচিত পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ এবং নিরস্ত্রীকরণ চুক্তির লক্ষ্য অর্জনে বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া, যাতে বৈশ্বিক কৌশলগত ভারসাম্য ও স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।”
অন্যদিকে, রাশিয়ার পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত ট্রাম্পের বক্তব্যের কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের এই দাবি আসে এমন এক সময়ে, যখন তার মনোনীত মার্কিন স্ট্র্যাটকম প্রধান প্রার্থী কংগ্রেসে জানিয়েছেন যে রাশিয়া ও চীন কেউই বর্তমানে কোনো পারমাণবিক বিস্ফোরণ পরীক্ষা চালাচ্ছে না।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও বলেন, “তারা এসব বিষয় জনগণকে জানায় না। পৃথিবী অনেক বড়—আপনি জানেন না তারা কোথায় পরীক্ষা চালায়। তারা গভীর ভূগর্ভে এমনভাবে পরীক্ষা করে যে কোনো চিহ্ন থাকে না, শুধু সামান্য কম্পন অনুভূত হয়।”
উল্লেখ্য, ১৯৯০-এর দশক থেকে এখন পর্যন্ত বাস্তব পারমাণবিক বিস্ফোরণ চালিয়েছে একমাত্র উত্তর কোরিয়া। চীনের সর্বশেষ পারমাণবিক পরীক্ষা হয়েছিল ১৯৯৬ সালে, আর পাকিস্তানের সর্বশেষ পরীক্ষা হয় ১৯৯৮ সালে।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক 
























