Dhaka , Wednesday, 23 September 2026
শিরোনাম :
বৈধ বিদেশযাত্রা হোক সহজ, বন্ধ হোক অযথা হয়রানি বাংলায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রবাসীদের সাবধান করল সৌদি মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং শোকেসে অংশ নিয়েছে প্রাণ মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে হাইকমিশনারের মতবিনিময় ইরাকের নয়া প্রধানমন্ত্রী হলেন শিয়া আল- সুদানি পোস্টাল ভোটিং: প্রবাসীদের নিবন্ধনের সময় ৫ দিন—কোন দেশে কবে শুরু? বাহরাইন প্রবাসীদের জন্য সচেতনতামূলক মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্প দক্ষিণ আফ্রিকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১১, আহত ৩১ লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবি, নিহতদের সবাই বাংলাদেশি ‘প্রবাসীর ভোট প্রদান সহজ করা না হলে ভোটাধিকার মূল্যহীন’

সিন্ডিকেটে আটকা পড়ছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার

সিন্ডিকেটের অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার এক বছরের বেশি সময় পর আংশিকভাবে পুনরায় চালুর ইঙ্গিত দিয়েছে দেশটির সরকার। তবে নতুন করে দেওয়া কঠোর শর্তাবলির কারণে বাজারটি আবারও পুরোনো সিন্ডিকেটের দখলে পড়তে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন অভিবাসন সংশ্লিষ্টরা।

 

সম্প্রতি মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় ১০টি শর্ত সংযোজন করে আগামী ৭ নভেম্বরের মধ্যে রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। এ শর্তের মধ্যে রয়েছে—অন্তত ৫ বছরের সফল কর্মতৎপরতার অভিজ্ঞতা,ন্যূনতম ৩ হাজার কর্মী বিদেশে পাঠানোর রেকর্ড,অন্তত ৩টি দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টির অভিজ্ঞতা এবং ১০ হাজার বর্গফুট আয়তনের স্থায়ী অফিস থাকার প্রমাণ।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব শর্তের অধিকাংশই পূরণ করা সম্ভব নয় এবং এতে পুরোনো সিন্ডিকেটভুক্ত কিছু প্রভাবশালী এজেন্সি ছাড়া অন্যদের সুযোগ থাকবে না। ফলে বাজার পুনরায় উন্মুক্ত না হয়ে আবারও একচেটিয়া গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

 

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিস (বায়রা)–এর সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ফখরুল ইসলাম বলেন, “মালয়েশিয়ার নতুন শর্তগুলো বাস্তবসম্মত নয়। বাংলাদেশে রিক্রুটিং এজেন্সি করতে ৬০০ বর্গফুটের অফিসই যথেষ্ট, সেখানে ১০ হাজার স্কয়ার ফুটের দাবি অযৌক্তিক। এতে কর্মী পাঠানোর খরচ বাড়বে এবং পুরোনো সিন্ডিকেটই লাভবান হবে।”

 

বর্তমানে মালয়েশিয়ায় প্রায় ১০ লাখ বাংলাদেশি শ্রমিক বিভিন্ন খাতে কর্মরত আছেন। ২০২২ সালের আগস্ট থেকে ২০২৩ সালের মে পর্যন্ত প্রায় ৪ লাখ ৭৫ হাজার কর্মী কলিং ভিসায় দেশটিতে যান। তবে সিন্ডিকেটের দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে ২০২৩ সালের ৩১ মে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ বন্ধ করে দেয় কুয়ালালামপুর।

 

এর আগে ২০১৮ সালেও একই অভিযোগে মালয়েশিয়া শ্রমবাজার বন্ধ করে দিয়েছিল, যা ২০২১ সালের ডিসেম্বরে নতুন সমঝোতা চুক্তির মাধ্যমে পুনরায় চালু হয়।

 

অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারও সরকার দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে বাজার পুনরায় দুর্নীতির ফাঁদে পড়বে। তাঁরা জোর দিচ্ছেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার সব রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য উন্মুক্ত রাখা এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কর্মী পাঠানোর নিশ্চয়তা দিতে হবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Rahman

ফরাসি আভিজাত্যের রাজমুকুট ও পাথরে খোদাই করা সুরের প্রাসাদ

সিন্ডিকেটে আটকা পড়ছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার

আপডেট টাইম : 11:12:47 am, Tuesday, 4 November 2025

সিন্ডিকেটের অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার এক বছরের বেশি সময় পর আংশিকভাবে পুনরায় চালুর ইঙ্গিত দিয়েছে দেশটির সরকার। তবে নতুন করে দেওয়া কঠোর শর্তাবলির কারণে বাজারটি আবারও পুরোনো সিন্ডিকেটের দখলে পড়তে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন অভিবাসন সংশ্লিষ্টরা।

 

সম্প্রতি মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় ১০টি শর্ত সংযোজন করে আগামী ৭ নভেম্বরের মধ্যে রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। এ শর্তের মধ্যে রয়েছে—অন্তত ৫ বছরের সফল কর্মতৎপরতার অভিজ্ঞতা,ন্যূনতম ৩ হাজার কর্মী বিদেশে পাঠানোর রেকর্ড,অন্তত ৩টি দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টির অভিজ্ঞতা এবং ১০ হাজার বর্গফুট আয়তনের স্থায়ী অফিস থাকার প্রমাণ।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব শর্তের অধিকাংশই পূরণ করা সম্ভব নয় এবং এতে পুরোনো সিন্ডিকেটভুক্ত কিছু প্রভাবশালী এজেন্সি ছাড়া অন্যদের সুযোগ থাকবে না। ফলে বাজার পুনরায় উন্মুক্ত না হয়ে আবারও একচেটিয়া গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

 

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিস (বায়রা)–এর সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ফখরুল ইসলাম বলেন, “মালয়েশিয়ার নতুন শর্তগুলো বাস্তবসম্মত নয়। বাংলাদেশে রিক্রুটিং এজেন্সি করতে ৬০০ বর্গফুটের অফিসই যথেষ্ট, সেখানে ১০ হাজার স্কয়ার ফুটের দাবি অযৌক্তিক। এতে কর্মী পাঠানোর খরচ বাড়বে এবং পুরোনো সিন্ডিকেটই লাভবান হবে।”

 

বর্তমানে মালয়েশিয়ায় প্রায় ১০ লাখ বাংলাদেশি শ্রমিক বিভিন্ন খাতে কর্মরত আছেন। ২০২২ সালের আগস্ট থেকে ২০২৩ সালের মে পর্যন্ত প্রায় ৪ লাখ ৭৫ হাজার কর্মী কলিং ভিসায় দেশটিতে যান। তবে সিন্ডিকেটের দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে ২০২৩ সালের ৩১ মে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ বন্ধ করে দেয় কুয়ালালামপুর।

 

এর আগে ২০১৮ সালেও একই অভিযোগে মালয়েশিয়া শ্রমবাজার বন্ধ করে দিয়েছিল, যা ২০২১ সালের ডিসেম্বরে নতুন সমঝোতা চুক্তির মাধ্যমে পুনরায় চালু হয়।

 

অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারও সরকার দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে বাজার পুনরায় দুর্নীতির ফাঁদে পড়বে। তাঁরা জোর দিচ্ছেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার সব রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য উন্মুক্ত রাখা এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কর্মী পাঠানোর নিশ্চয়তা দিতে হবে।