প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. নেয়ামত উল্যা ভূঁইয়া আজ (৫ নভেম্বর ২০২৫) জাপানের কৃষি, বন ও মৎস্য মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক বিষয়ক ভাইস-মিনিস্টার ওয়াতানাবে ইয়োইচি-এর সঙ্গে টোকিওতে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাৎকালে সিনিয়র সচিব বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং বিশেষ করে কারিগরি প্রশিক্ষণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে জাপান সরকারের অব্যাহত সহযোগিতার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বৈদেশিক কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশের বিভিন্ন আইনগত সংস্কার এবং অভিবাসন ব্যবস্থার ডিজিটালাইজেশনের অগ্রগতি সম্পর্কে ভাইস-মিনিস্টারকে অবহিত করেন।
সাম্প্রতিক উদ্যোগের প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে ইতোমধ্যে দুটি সহযোগিতা স্মারক (MoC) এবং দুই শতাধিকেরও বেশি পিয়ার-টু-পিয়ার (P2P) সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর লক্ষ্য—জাপানের শ্রমবাজারে ২০৪০ সালের মধ্যে যে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ শ্রমিকের প্রয়োজন হবে, সে সুযোগের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করা।
তিনি আরও জানান, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে একটি বিশেষ ‘জাপান সেল’ প্রতিষ্ঠা করেছে। জাপানি প্রতিষ্ঠান ও কোম্পানিগুলোর সহযোগিতায় জাপানি ভাষা শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও সম্প্রসারিত হচ্ছে।
সিনিয়র সচিব বাংলাদেশে স্পেসিফায়েড স্কিল্ড ওয়ার্কার (SSW) কর্মসূচির অধীনে পাঁচটি ক্ষেত্রে দক্ষতা পরীক্ষা শুরু করায় জাপান সরকারকে ধন্যবাদ জানান। তিনি এই পরীক্ষার পরিধি খাদ্য ও পানীয় উৎপাদন, খাদ্য পরিবেশন শিল্প এবং বন শিল্পসহ আরও কিছু ক্ষেত্রে সম্প্রসারণের অনুরোধ জানান।
ভাইস-মিনিস্টার সিনিয়র সচিবের অনুরোধের প্রেক্ষিতে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানান এবং বলেন, বাংলাদেশে অবস্থিত জাপান দূতাবাস ইতোমধ্যে নতুন খাত অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে।
সাক্ষাৎ শেষে সিনিয়র সচিব ভাইস-মিনিস্টারকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান, যাতে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদার হয়।
পরে, সিনিয়র সচিব জাপানের শীর্ষস্থানীয় জনশক্তি গ্রহণকারী সংস্থা আইএম জাপান অফিস পরিদর্শন করেন এবং সংস্থার প্রধান নির্বাহী কানামোরি হিতোশি-এর সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে আইএম জাপানের প্রধান নির্বাহী আশ্বাস দেন যে, ২০২৬ সালে বাংলাদেশ থেকে প্রেরিত টেকনিক্যাল ইন্টার্ন ট্রেইনি ও এসএসডব্লিউ কর্মীর সংখ্যা অন্তত ৩০০ জনে উন্নীত করা হবে।
এর আগে, ৪ নভেম্বর সন্ধ্যায় সিনিয়র সচিব টোকিওতে বাংলাদেশের দূতাবাসের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত বাংলাদেশি জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করেন।

প্রবাসীর কথা ডেস্ক 



















