থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার উপকূলে মিয়ানমারের নির্যাতিত রোহিঙ্গা মুসলিমদের বহনকারী একটি নৌকা ডুবে গেছে। এতে অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সোমবার নিশ্চিত করেছে। নৌকাটিতে প্রায় ৭০ জন আরোহী ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মালয়েশীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আরেকটি নৌকায় প্রায় ২৩০ জন যাত্রী ছিলেন, যার অবস্থান এখনো অজানা। এখন পর্যন্ত ১৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই রোহিঙ্গা। থাইল্যান্ড কর্তৃপক্ষ চারটি মৃতদেহ উদ্ধার করেছে, যার মধ্যে দুটি শিশু রয়েছে। অপরদিকে, মালয়েশিয়ার সামুদ্রিক সংস্থা সাতটি মরদেহ উদ্ধার করেছে।
মিয়ানমারে চলমান সহিংসতা ও বাংলাদেশে শরণার্থী শিবিরগুলোর কঠিন জীবনযাপনের কারণে রোহিঙ্গারা নিয়মিতভাবেই সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় পাড়ি দেওয়ার ঝুঁকিপূর্ণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
রাখাইন রাজ্য বহু বছর ধরে দারিদ্র্য, সংঘাত ও জাতিগত সহিংসতার শিকার। ২০১৭ সালের সামরিক দমন অভিযানের পর প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।
মালয়েশিয়ার লাংকাবি দ্বীপে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দেশটির সামুদ্রিক সংস্থা জানিয়েছে, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া যৌথভাবে উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে। এতে বিমান ও নৌ-উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে। “আমাদের থাই সংস্থার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক ও তথ্য বিনিময়ের ব্যবস্থা রয়েছে,” বলেন মালয়েশিয়ার কেদাহ ও পেরলিস সামুদ্রিক সংস্থার পরিচালক রমলি মুস্তাফা।
তিনি আরও জানান, উদ্ধার অভিযান সাত দিন পর্যন্ত চলতে পারে।
প্রাপ্ত তথ্যানুসারে, ডুবে যাওয়া নৌকাটি প্রায় দুই সপ্তাহ আগে মিয়ানমার ও বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। পরে কিছু যাত্রী গত বৃহস্পতিবার অন্য একটি নৌকায় উঠে যায়। উদ্ধার হওয়া ১৩ জনের মধ্যে ১১ জন রোহিঙ্গা ও দুইজন বাংলাদেশি নাগরিক।
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) জানিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে নভেম্বরের প্রথম দিক পর্যন্ত প্রায় ৫ হাজার ১০০ রোহিঙ্গা সমুদ্রপথে পালানোর চেষ্টা করেছে। এর মধ্যে প্রায় ৬০০ জন নিহত বা নিখোঁজ হয়েছে।

প্রবাসীর কথা ডেস্ক 
















